وَإِن كَانَ أَصۡحَٰبُ ٱلۡأَيۡكَةِ لَظَٰلِمِينَ

ওয়া ইন ক-না আছহা-বুল আইকাতি লাজা-লিমীন।উচ্চারণ

আর আইকাবাসীরা ৪৩ জালেম ছিল। তাফহীমুল কুরআন

আয়কার বাসিন্দাগণ (-ও) বড় জালেম ছিল। #%২৮%#মুফতী তাকী উসমানী

আর ‘আয়কা’বাসীরাওতো ছিল সীমা লংঘনকারী।মুজিবুর রহমান

নিশ্চয় গহীন বনের অধিবাসীরা পাপী ছিল।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আর ‘আয়কা’বাসীরাও তো ছিল সীমালংঘনকারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর নিশ্চয় আইকার* অধিবাসীরা ছিল যালিম।আল-বায়ান

আর আয়কাহবাসীরাও অবশ্যই যালিম ছিল।তাইসিরুল

আর আসহাবুল আইকাহ্ অবশ্যই ছিল অন্যায়াচারী।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৪৩

অর্থাৎ হযরত শো’আয়েবের (আ) সম্প্রদায়ের লোক। এ সম্প্রদায়টির নাম ছিল বনী মাদ্ইয়ান। তাদের এলাকার কেন্দ্রীয় শহরেরও নাম ছিল মাদ্ইয়ান এবং সমগ্র এলাকাটিকেও মাদ্ইয়ান বলা হতো। আর “আইকা” ছিল তাবুকের প্রাচীন নাম। এ শব্দটির শাব্দিক অর্থ হচ্ছে ঘন জংগল। বর্তমানে একটি পাহাড়ী ঝরণার নাম আইকা। এটি জাবালে নূরে উৎপন্ন হয়ে আফাল উপত্যকায় এসে পড়েছে। (ব্যাখ্যার জন্য সূরা শূ’আরার ১১৫ টীকা দেখুন)

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

‘আয়কা’ অর্থ নিবিড় বনভূমি। হযরত শুআইব আলাইহিস সালামকে যে সম্প্রদায়ের কাছে পাঠানো হয়েছিল তাদের বসতি এ রকমই একটি বন-সংলগ্ন ছিল। কোন কোন মুফাসসির বলেন, জনপদটির নাম ছিল ‘মাদয়ান’। কেউ বলেন, মাদয়ান ও আয়কা দু’টি পৃথক জনপদ। হযরত শুআইব আলাইহিস সালাম উভয় এলাকারই নবী ছিলেন। আয়কাবাসীদের ঘটনা সূরা আরাফে (৭ : ৮৫-৯৩) গত হয়েছে। (বিস্তারিত জানার জন্য সেখানকার টীকাসমূহ দ্রষ্টব্য)।

তাফসীরে জাকারিয়া

৭৮. আর আইকা'বাসীরা(১)ও তো ছিল সীমালংঘনকারী,

(১) আইকাবাসীগণ শু'আইব আলাইহিস সালামের উম্মত। তাদের প্রকৃত পরিচয় কি তা পূর্বে বর্ণনা করা হয়েছে। সূরা আস-শু'আরাতে তাদের কর্মকাণ্ড ও তাদের উপর আপতিত আযাবের বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। (সূরা আস-শু'আরাঃ ১৭৬–১৯১)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৭৮) আর আয়কাবাসীরাও তো ছিল সীমালংঘনকারী। (1)

(1) أيكة ঘন গাছপালাকে বলা হয়। এ জনপদে ঘন গাছপালা ছিল বলে তার বাসিন্দাদেরকে আয়কাবাসী বলা হয়েছে। এ থেকে শুআইব (আঃ)-এর জাতিকে বুঝানো হয়েছে। তাঁর নবুঅতের সময়কাল লূত (আঃ)-এর পর এবং তাঁর এলাকা ছিল হিজায ও সিরিয়ার মাঝে লূত-সম্প্রদায়ের জনপদের সন্নিকটে; যাকে মাদয়্যান বলা হয়। এটি ছিল ইবরাহীমের পুত্রের বা পৌত্রের নাম, যাঁর নামে সেই এলাকার নামকরণ হয়। তাদের পাপ ছিল, তারা আল্লাহর সাথে শিরক করত, রাহাজানি তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। আর ওজনে কম দেওয়া ছিল তাদের মজ্জাগত ব্যাপার। মেঘের ছায়ারূপে তাদের উপর আযাব এলো। তারপর এক বিকট শব্দ ও ভূমিকম্প এসে তাদেরকে নিশ্চিহ্ন করে দিল।