ক-লা হাউলাই বানা-তীইন কুনতুম ফা-‘ইলীন।উচ্চারণ
লূত লাচার হয়ে বললো, “যদি তোমাদের একান্তই কিছু করতেই হয় তাহলে এই যে আমার মেয়েরা রয়েছে।” ৪০ তাফহীমুল কুরআন
লূত বলল, তোমরা যদি আমার কথা অনুযায়ী কাজ কর, তবে এই যে আমার কন্যাগণ (তোমাদের বিবাহাধীন) রয়েছে। #%২৬%#মুফতী তাকী উসমানী
লূত বললঃ একান্তই যদি তোমরা কিছু করতে চাও তাহলে আমার এই কন্যাগণ রয়েছে।মুজিবুর রহমান
তিনি বললেনঃ যদি তোমরা একান্ত কিছু করতেই চাও, তবে আমার কন্যারা উপস্থিত আছে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
লূত বলল, ‘একান্তই যদি তোমরা কিছু করতে চাও তবে আমার এই কন্যাগণ রয়েছে।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সে বলল, ‘ওরা আমার মেয়ে* , যদি তোমরা করতেই চাও (তবে বিবাহের মাধ্যমে বৈধ উপায়ে কর)।আল-বায়ান
(লূত (আ.)) বলল, ‘তোমরা যদি কিছু করতেই চাও তাহলে এই আমার (জাতির) কন্যারা আছে।’তাইসিরুল
তিনি বললেন -- "এরা আমার কন্যা, যদি তোমরা করতে চাও!"মাওলানা জহুরুল হক
৪০
সূরা হূদের ৮৭ টীকায় এর ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এখানে কেবল এতটুকুন ইঙ্গিতই যথেষ্ট যে, একথাগুলো একজন ভদ্রলোকের মুখ থেকে এমন সময় বের হয়েছে যখন তিনি একবারেই লাচার হয়ে গিয়েছিলেন এবং বদমায়েশরা তাঁর কোন ফরিয়াদ ও আবেদন নিবেদনে কান না দিয়ে তাঁর মেহমানদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে যাচ্ছিল।
এ সুযোগে একটি কথা পরিষ্কার করে দেয়া প্রয়োজন। সূরা হূদে ঘটনাটি যে ধারাবাহিকতার সাথে বর্ণনা করা হয়েছে তা থেকে জানা যায় যে, বদমায়েশদের এ হামলার সময় পর্যন্তও হযরত লূত (আ) একথা জনাতেন না যে, তাঁর মেহমানরা আসলে আল্লাহর ফেরেশতা। তখনো পর্যন্ত তিনি মনে করছিলেন, এ ছেলে কয়টি মুসাফির এবং এরা তাঁর বাড়িতে এসে আশ্রয় নিয়েছে। বদমায়েশদের দল যখনই মেহমানদের অবস্থান স্থলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লো এবং হযরত লূত (আ) অস্থির হয়ে বলে উঠলেন
لَوْ أَنَّ لِي بِكُمْ قُوَّةً أَوْ آوِي إِلَى رُكْنٍ شَدِيدٍ
(হায়, যদি আমার তোমাদের মোকাবিলা করার শক্তি থাকতো অথবা আমার সাহায্য-সহযোগিতা গ্রহণ করার মতো কোন সহায় থাকতো!) তখনই মেহমানরা নিজেদের ফেরেশতা হবার কথা প্রকাশ করলো। এরপর ফেরেশতারা তাঁকে বললো, এখন আপনি নিজের পরিবারবর্গকে নিয়ে এখান থেকে বের হয়ে যান এবং এদের সাথে বোঝাপড়া করার জন্য আমাদের ছেড়ে দেন। ঘটনাবলীর এ ধারাবহিকতা সামনে রাখার পর কোন্ সংকটপূর্ণ অবস্থায় একেবারে লাচার হয়ে হযরত লূত (আ) একথা বলেছিলেন তা পুরোপুরি অনুমান করা যেতে পারে। ঘটনাগুলো যে ধারাবাহিকতায় সংঘটিত হয়েছিল এ সূরায় সেগুলো বর্ণনা করার সময় যেহেতু সেই ধারাবহিকতা অক্ষুণ্ণ রাখা হয়নি বরং যে বিশেষ দিকটি শ্রোতাদের মনে বদ্ধমূল করার জন্য এ কাহিনীটি এখানে উদ্ধৃত করা হয়েছে সেটিকে বিশেষভাবে সুস্পষ্ট করাই এখানে কাম্য। তাই একজন সাধারণ পাঠক এ ভুল ধারণা পোষণ করতে পারে যে, ফেরেশতারা শুরুতেই হযরত লূতের কাছে নিজেদের পরিচয় দিয়েছিল এবং এখন নিজের মেহমানদের ইজ্জত-আব্রু বাঁচাবার জন্য তাঁর এ সমস্ত ফরিয়াদ ও আবেদন নিবেদন নিছক নাটুকেপনা ছাড়া আর কিছুই নয়।
উম্মতের নারীগণ সংশ্লিষ্ট নবীর রূহানী কন্যা হয়ে থাকে। হযরত লূত আলাইহিস সালাম সেই দুর্বৃত্তদেরকে নম্রতার সাথে বোঝানোর চেষ্টা করলেন, তোমাদের ঘরে তো তোমাদের স্ত্রীরা রয়েছে, যারা আমার রূহানী কন্যা। তোমরা তোমাদের কামেচ্ছা তাদের দ্বারাই পূরণ করতে পার আর সেটাই এ কাজের স্বভাবসিদ্ধ ও পবিত্র পন্থা।
৭১. লুত বললেন, একান্তই যদি তোমরা কিছু করতে চাও তবে আমার এ কন্যারা রয়েছে।(১)
(১) সূরা হুদ-এর ৮৭ নং আয়াতের ব্যাখ্যায় এ আয়াতের কিছু ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
(৭১) লূত বলল, ‘একান্তই যদি তোমরা কিছু করতে চাও, তবে আমার এই কন্যাগণ রয়েছে।’ (1)
(1) অর্থাৎ, তোমরা এদেরকে বিবাহ করে নাও। তিনি নিজ জাতির মহিলাদেরকে নিজের কন্যা বললেন। উদ্দেশ্য, তোমরা মেয়েদেরকে বিবাহ কর অথবা যাদের স্ত্রী আছে তারা তাদের নিকট নিজ নিজ যৌনকামনা পূর্ণ কর।