وَجَعَلۡنَا لَكُمۡ فِيهَا مَعَٰيِشَ وَمَن لَّسۡتُمۡ لَهُۥ بِرَٰزِقِينَ

ওয়া জা‘আলনা-লাকুম ফীহা-মা‘আ-ইশা ওয়ামাল লাছতুম লাহূবির-ঝিকীন।উচ্চারণ

এবং তার মধ্যে জীবিকার উপকরণাদি সরবরাহ করেছি তোমাদের জন্যও এবং এমন বহু সৃষ্টির জন্যও যাদের আহারদাতা তোমরা নও। তাফহীমুল কুরআন

আর তাতে জীবিকার উপকরণ সৃষ্টি করেছি তোমাদের জন্য এবং তাদের (অর্থাৎ সেই সকল মাখলুকের) জন্যও যাদের রিযক তোমরা দাও না। #%১০%#মুফতী তাকী উসমানী

আর আমি ওতে জীবিকার ব্যবস্থা করেছি তোমাদের জন্য, আর তোমরা যাদের জীবিকাদাতা নও তাদের জন্যও।মুজিবুর রহমান

আমি তোমাদের জন্যে তাতে জীবিকার উপকরন সৃষ্টি করছি এবং তাদের জন্যেও যাদের অন্নদাতা তোমরা নও।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং এতে জীবিকার ব্যবস্থা করেছি তোমাদের জন্যে, আর তোমরা যাদের জীবিকাদাতা নও তাদের জন্যেও। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর তাতে তোমাদের জন্য এবং তোমরা যার রিয্ক দাতা নও তাদের জন্য রেখেছি জীবনোপকরণ ।আল-বায়ান

আর তাতে তোমাদের জীবন ধারণের ব্যবস্থা করেছি আর তাদেরও যাদের রিযকদাতা তোমরা নও।তাইসিরুল

আর তোমাদের জন্য তাতে সৃষ্টি করেছি খাদ্যবস্তু, আর তোমরা যাদের জীবিকাদাতা নও তাদের জন্যেও।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তাআলাই সকল সৃষ্টির রিযিকদাতা। কোন কোন গৃহপালিত পশু-পাখি এমন আছে, বাহ্যিকভাবে মানুষ তাদের দানা-পানির যোগান দেয়, কিন্তু অধিকাংশ সৃষ্টিই এমন, যাদের জীবিকা সরবরাহে মানুষের কোন ভূমিকা নেই। এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলছেন, আমি মানুষের জন্যও জীবিকার উপকরণ সৃষ্টি করেছি এবং মানুষ বাহ্যিকভাবেও যাদের খাদ্যের বন্দোবস্ত করে না, তাদের জন্যও। আরবী ব্যাকরণ অনুযায়ী এ আয়াতের অন্য রকম তরজমারও অবকাশ আছে, যেমন ‘আমি তোমাদের কল্যাণার্থে এতে (ভূমিতে) জীবিকার উপকরণও সৃষ্টি করেছি এবং সেই সব মাখলুকও সৃষ্টি করেছি, তোমরা যাদের জীবিকার ব্যবস্থা কর না’। অর্থাৎ, মানুষ বাহ্যিকভাবেও যাদের জীবিকার ব্যবস্থা করে না, অথচ তাদের দ্বারা উপকৃত হয়, যেমন শিকারের জন্তু, সেগুলোও আল্লাহ তাআলা মানুষের কল্যাণার্থে সৃষ্টি করেছেন।

তাফসীরে জাকারিয়া

২০. আর আমরা তাতে জীবিকার ব্যবস্থা করেছি তোমাদের জন্য এবং তোমরা যাদের রিযিকদাতা নও তাদের জন্যও।(১)

(১) আর তিনি সেখানে তাদেরকেও সৃষ্টি করেছেন যাদেরকে তোমরা রিযিক দাও না। যেমন দাস-দাসী, কর্মচারী, সন্তান-সন্তুতি তাদের রিযিক তো আল্লাহ্‌ই প্রদান করেন। অথবা আয়াতের অর্থ, আর এ যমীনের মধ্যে আমরা তোমাদের জন্য যেমন রিযিক রেখেছি তেমনি তাদের জন্যও রিযিক রেখেছি। তখন যমীনে যেগুলো আছে সবই এর অন্তর্ভুক্ত হবে, যেমন, সমস্ত প্রাণী। (ফাতহুল কাদীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২০) আর আমি ওতে জীবিকার অনেক ব্যবস্থা করেছি তোমাদের জন্য(1) আর তোমরা যাদের জীবিকাদাতা নও তাদের জন্যেও। (2)

(1) معايش শব্দটি معيشة এর বহুবচন, অর্থ তোমাদের জন্য পৃথিবীতে জীবিকার অসংখ্য পথ ও উপায় সৃষ্টি করেছি।

(2) অর্থাৎ, দাস-দাসী চাকর-ভৃত্য ও জীবজন্তু। অর্থাৎ, পশুকে তোমাদের অধীনস্থ করে দিয়েছি, যাকে তোমরা বাহনরূপে ব্যবহার কর, যার উপর মালপত্র বহন কর এবং কিছুকে তোমরা ভক্ষণও কর। দাস-দাসী থেকে তোমরা তোমাদের কাজ নিয়ে থাক। যদিও এরা তোমাদের অধীনস্থ, তোমরা তাদের খাবারের ব্যবস্থা করে থাক, কিন্তু তাদের আসল জীবিকা নির্বাহকারী আমিই। তোমরা এটা মনে করো না যে, তোমরাই তাদের রুযীদাতা, তোমরা তাদেরকে খেতে না দিলে তারা মারা যাবে।