وَأَنذِرِ ٱلنَّاسَ يَوۡمَ يَأۡتِيهِمُ ٱلۡعَذَابُ فَيَقُولُ ٱلَّذِينَ ظَلَمُواْ رَبَّنَآ أَخِّرۡنَآ إِلَىٰٓ أَجَلٖ قَرِيبٖ نُّجِبۡ دَعۡوَتَكَ وَنَتَّبِعِ ٱلرُّسُلَۗ أَوَلَمۡ تَكُونُوٓاْ أَقۡسَمۡتُم مِّن قَبۡلُ مَا لَكُم مِّن زَوَالٖ

ওয়াআনযিরিন্না-ছা ইয়াওমা ইয়া’তীহিমুল ‘আযা-বুফাইয়াকূলুল্লাযীনা জালামূ রব্বানাআখখিরনাইলাআজালিন কারীবিন নুজিব দা‘ওয়াতাকা ওয়া নাত্তাবি‘ইররুছুলা আওয়ালাম তাকূনূআকছামতুম মিন কাবলুমা-লাকুম মিন ঝাওয়া-ল।উচ্চারণ

হে মুহাম্মাদ! সেই দিন সম্পর্কে এদেরকে সতর্ক করো, যে দিন আযাব এসে এদেরকে ধরবে। সে সময় এ জালেমরা বলবে, “হে আমাদের রব! আমাদের একটুখানি অবকাশ দাও, আমরা তোমার ডাকে সাড়া দেবো এবং রসূলদের অনুসরণ করবো।” কিন্তু তাদেরকে পরিষ্কার জবাব দেয়া হবেঃ “তোমরা কি তারা নও যারা ইতিপূর্বে কসম খেয়ে খেয়ে বলতো, আমাদের কখনো পতন হবে না?” তাফহীমুল কুরআন

এবং (হে নবী!) তুমি মানুষকে সেই দিন সম্পর্কে সতর্ক কর, যেদিন তাদের উপর আযাব আপতিত হবে আর তখন জালেমগণ বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে অল্পকালের জন্য সুযোগ দিন, তাহলে আমরা আপনার ডাকে সাড়া দেব এবং রাসূলগণের অনুসরণ করব। #%৩৫%# (তখন তাদেরকে বলা হবে) আরে, তোমরা কি কসম করে বলনি তোমাদের কোন লয় নেই?মুফতী তাকী উসমানী

যেদিন তাদের শাস্তি আসবে সেদিন সম্পর্কে তুমি মানুষকে সতর্ক কর। তখন যালিমরা বলবেঃ হে আমাদের রাব্ব! আমাদের কিছুকালের জন্য অবকাশ দিন, আমরা আপনার আহবানে সাড়া দিব এবং রাসূলদের অনুসরণ করবই। তোমরা কি পূর্বে শপথ করে বলতে না যে, তোমাদের পতন নেই?মুজিবুর রহমান

মানুষকে ঐ দিনের ভয় প্রদর্শন করুন, যেদিন তাদের কাছে আযাব আসবে। তখন জালেমরা বলবেঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদেরকে সামান্য মেয়াদ পর্যন্ত সময় দিন, যাতে আমরা আপনার আহবানে সাড়া দিতে এবং পয়গম্বরগণের অনুসরণ করতে পারি। তোমরা কি ইতোপূর্বে কসম খেতে না যে, তোমাদেরকে দুনিয়া থেকে যেতে হবে না?মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যেদিন তাদের শাস্তি আসবে সেই দিন সম্পর্কে তুমি মানুষকে সতর্ক কর, তখন জালিমরা বলবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে কিছু কালের জন্যে অবকাশ দাও, আমরা তোমার আহ্বানে সাড়া দিব এবং রাসূলগণের অনুসরণ করব।’ তোমরা কি পূর্বে শপথ করে বলিতে না যে, তোমাদের পতন নেই ? ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর তুমি মানুষদেরকে সতর্ক কর, যেদিন তাদের উপর আযাব নেমে আসবে। অতঃপর তখন যারা যুলম করেছে তারা বলবে, ‘হে আমাদের রব, তুমি আমাদেরকে কিছু সময়ের জন্য অবকাশ দাও, আমরা তোমার ডাকে সাড়া দেব এবং রাসূলদের অনুসরণ করব’। ইতঃপূর্বে তোমরা কি কসম করনি যে, তোমাদের কোন পতন নেই?আল-বায়ান

কাজেই মানুষকে সতর্ক কর সেদিনের ব্যাপারে যেদিন তাদের উপর ‘আযাব আসবে। যারা যুলম করেছিল তারা তখন বলবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে অল্পদিনের জন্য সময় দাও, আমরা তোমার আহবানে সাড়া দিব আর রসূলদের কথা মেনে চলব।’ (তখন তাদেরকে বলা হবে) তোমরা কি পূর্বে শপথ করে বলনি যে, তোমাদের কক্ষনো পতন ঘটবে না?তাইসিরুল

আর লোকজনকে সতর্ক কর সেইদিন সন্বন্ধে যখন তাদের উপরে শাস্তি ঘনিয়ে আসবে, যারা অন্যায় করেছিল তারা তখন বলবে, "আমাদের প্রভু! আমাদের অবকাশ দাও অল্প কিছুকাল পর্যন্ত যেন আমরা তোমার ডাকে সাড়া দিতে পারি এবং রসূলগণকে অনুসরণ করতে পারি।" "কি! তোমরা কি ইতিপূর্বে শপথ করতে থাক নি যে তোমাদের জন্য কোনো পড়ন্ত অবস্থা নেই?মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাদের একথা মৃত্যুকালেও হতে পারে কিংবা কিয়ামতেও হতে পারে, মৃত্যুকালে হলে এর অর্থ হল, মৃত্যুর অসহনীয় যন্ত্রণা দেখে তারা বলবে, আমাদেরকে আরও কিছুদিন দুনিয়ায় থাকার সুযোগ দিন। আমরা ওয়াদা করছি, আমরা দীন ও ঈমান কবুল করে নিজেদেরকে শুধরে নেব, যেমন সূরা মুমিনুনে আছে, যখন তাদের কারও মৃত্যু উপস্থিত হয় তখন সে বলে, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে পুনরায় প্রেরণ কর, যাতে আমি সৎকর্ম করতে পারি’। (সূরা মুমিনুন ২৩ : ৯৯-১০০) এবং সূরা মুনাফিকূনে আছে, ‘মৃত্যু আসলে সে বলবে, হে আমার প্রতিপালক, আমাকে আরও কিছুকালের জন্য অবকাশ দিলে আমি সদাকা দিতাম এবং সৎর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। (সূরা মুনাফিকূন ৬৩ : ১১) আর এটা যদি তাদের কিয়ামত দিবসের কথা হয় তবে এর অর্থ হবে, আমাদের কিছুদিনের জন্য ফের দুনিয়ায় পাঠিয়ে দিন আমরা ওয়াদা করছি আপনার অনুগত হয়ে চলব, যেমন সূরা সাজদায় আছে, ‘তুমি যদি দেখতে, যখন অপরাধীরা তাদের প্রতিপালকের সামনে অধোবদন হয়ে বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা দেখলাম ও শুনলাম। এখন তুমি আমাদের ফের পাঠাও আমরা সৎকাজ করব।’ (সূরা সাজদা ৩২ : ১২) -অনুবাদক

তাফসীরে জাকারিয়া

৪৪. আর যেদিন তাদের শাস্তি আসবে সেদিন সম্পর্কে আপনি মানুষকে সতর্ক করুন, তখন যারা যুলুম করেছে তারা বলবে, হে আমাদের রব! আপনি আমাদেরকে কিছু কালের জন্য অবকাশ দিন, আমরা আপনার ডাকে সাড়া দেব এবং রাসূলগণের অনুসরণ করব। তোমরা কি আগে শপথ করে বলতে না যে, তোমাদের পতন নেই।(১)

(১) এসব অবস্থা বর্ণনা করার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলা হয়েছে যে, আপনি আপনার জাতিকে ঐ দিনের শাস্তির ভয় প্রদর্শন করুন, যেদিন যালিম ও অপরাধীরা অপারগ হয়ে বলবেঃ হে আমাদের রব! আমাদেরকে আরো কিছুদিন সময় দিন। অর্থাৎ দুনিয়াতে কয়েকদিনের জন্য পাঠিয়ে দিন, যাতে আমরা আপনার দাওয়াত কবুল করতে পারি এবং আপনার প্রেরিত নবীগণের অনুসরণ করে এ আযাব থেকে মুক্তি পেতে পারি। অন্য আয়াতেও আল্লাহ তা'আলা কাফেরদের এ অবস্থা বর্ণনা করে বলছেন, “আর আপনি যদি দেখতেন। যখন অপরাধীরা তাদের রবের নিকট অবনত মস্তকে বলবে, হে আমাদের রব! আমরা দেখলাম ও শুনলাম, সুতরাং আপনি আমাদেরকে ফেরত পাঠান, আমরা সৎকাজ করব, নিশ্চয় আমরা দৃঢ় বিশ্বাসী। (সূরা আস-সাজদাহঃ ১২)

আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে তাদের আবেদনের জবাবে বলা হবেঃ এখন তোমরা একথা বলছ কেন? তোমরা কি ইতিপূর্বে কসম খেয়ে বলনি যে, তোমাদের ধন-সম্পদ ও শান-শওকতের পতন হবে না এবং তোমরা সর্বদাই দুনিয়াতে এমনিভাবে বিলাস-ব্যসনে মত্ত থাকবে? তোমরা পুনর্জীবন ও আখেরাত অস্বীকার করে আসছিলে। অন্য আয়াতেও কাফেরদের এ আবদার ও তার জবাব বর্ণিত হয়েছে। বলা হয়েছে, “অবশেষে যখন তাদের কারো মৃত্যু আসে, সে বলে, হে আমার রব! আমাকে আবার ফেরত পাঠান, যাতে আমি সৎকাজ করতে পারি যা আমি আগে করিনি। না, এটা হবার নয়। এটা তো তার একটি বাক্য মাত্র যা সে বলবেই।” (সূরা আল-মুমিনুন: ৯৯–১০০)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৪৪) সেদিন সম্পর্কে তুমি মানুষকে সতর্ক কর যেদিন তাদের শাস্তি আসবে, যখন সীমালংঘনকারীরা বলবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে কিছু কালের জন্য অবকাশ দাও; আমরা তোমার আহবানে সাড়া দিব এবং রসূলদের অনুসরণ করব।’ (তখন তাদেরকে বলা হবে,) ‘তোমরা কি পূর্বে শপথ করে বলতে না যে, তোমাদের কোন পতন নেই? (1)

(1) অর্থাৎ, পৃথিবীতে তোমরা কসম খেয়ে বলতে যে, কোন হিসাব-নিকাশ এবং জান্নাত-জাহান্নাম নেই এবং পুনর্বার কে জীবিত হবে?