ওয়াছতাফতাহূওয়াখা-বা কুল্লুজাব্বা-রিন ‘আনীদ।উচ্চারণ
তারা ফায়সালা চেয়েছিল (ফলে এভাবে তাদের ফায়সালা হলো) এবং প্রত্যেক উদ্ধত সত্যের দুশমন ব্যর্থ মনোরথ হলো। ২৪ তাফহীমুল কুরআন
এবং কাফেরগণ নিজেরাই মীমাংসা প্রার্থনা করেছিল, #%১৩%# (আর তার পরিণাম হয়েছিল এই যে,) প্রত্যেক উদ্ধ্যত হঠকারী অকৃতকার্য হয়ে গেল।মুফতী তাকী উসমানী
তারা বিচার কামনা করল এবং প্রত্যেক উদ্ধত স্বৈরাচারী ব্যর্থ মনোরথ হল।মুজিবুর রহমান
পয়গম্বরগণ ফয়সালা চাইতে লাগলেন এবং প্রত্যেক অবাধ্য, হঠকারী ব্যর্থ কাম হল।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এরা বিজয় কামনা করল এবং প্রত্যেক উদ্ধত স্বৈরাচারী ব্যর্থমনোরথ হল। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর তারা বিজয় কামনা করল, আর ব্যর্থ হল সকল স্বেচ্ছাচারী, হঠকারী।আল-বায়ান
তারা (অর্থাৎ কাফিররা) চূড়ান্ত বিজয়ের ফায়সালা কামনা করেছিল, কিন্তু (আল্লাহ ও তাঁর রসূলদের বিরোধিতা করার কারণে) প্রত্যেক উদ্ধত সীমালঙ্ঘনকারী ব্যর্থ হয়ে গেল।তাইসিরুল
আর তারা বিজয়কামনা করেছিল, আর প্রত্যেক দুরাচারী বিরুদ্ধাচারী ব্যর্থ মনোরথ হল।মাওলানা জহুরুল হক
২৪
মনে রাখা দরকার, এখানে এ ঐতিহাসিক ধারা বিবরণীর আকারে আসলে মক্কার কাফেরদের কথার জবাব দেয়া হচ্ছে, যা তারা নবী (সা.) কে বলতো। আপাতদৃষ্টিতে অতীতের নবীগণ এবং তাঁদের সম্প্রদায়ের ঘটনাবলী উল্লেখ করা হচ্ছে, কিন্তু তা প্রযুক্ত হচ্ছে এ সূরা নাযিলের সময় যেসব ঘটনা ঘটে চলছিল তার ওপর। এ স্থানে মক্কার কাফেরদেরকে বরং আরবের মুশরিকদেরকে যেন পরিষ্কার ভাষায় সতর্ক করে দেয়া হয়েছে যে, তোমাদের ভবিষ্যত এখন নির্ভর করবে তোমরা মুহাম্মাদী দাওয়াতের মোকাবেলায় যে মনোভাব ও কর্মনীতি অবলম্বন করবে তার ওপর। যদি এ দাওয়াত গ্রহণ করো তাহলে আরব ভূখণ্ডে থাকতে পারবে আর যদি তা প্রত্যাখ্যান করো তাহলে এখান থেকে তোমাদের নাম-নিশানা মুছে যাবে। কার্যত ঐতিহাসিক ঘটনাবলী একথাটিকে একটি প্রমাণিত সত্যে পরিণত করে দিয়েছে। এ ভবিষ্যত বাণীর পর পুরো পনের বছর পার হতে না হতেই দেখা গেলো সমগ্র আরব ভূখণ্ডে একজন মুশরিকেরও অস্তিত্ব নেই।
অর্থাৎ, তারা নবীগণের কাছে দাবী করেছিল, তোমরা সত্যবাদী হলে আল্লাহ তাআলাকে বল, তিনি যেন আমাদের উপর এমন এক শাস্তি অবতীর্ণ করেন, যা দ্বারা সত্য-মিথ্যার মীমাংসা হয়ে যায়। প্রকৃতপক্ষে একথা বলে তারা ঔদ্ধত্যপূর্ণভাবে নবীদের সঙ্গে তামাশা করছিল।
১৫. আর তারা বিজয় কামনা করলো(১) আর প্রত্যেক উদ্ধত স্বৈরাচারী ব্যর্থ মনোরথ হল(২)।
(১) এ আয়াতে কারা বিজয় কামনা করল এ ব্যাপারে দুটি মত রয়েছে। এক. এখানে রাসূলগণই বিজয় কামনা করেছিলেন। দুই. কাফেরগণ উদ্ধত ও কুফর এবং শির্কী ব্যবস্থাপনার উপর থাকা সত্ত্বেও নিজেদের জন্য বিজয় কামনা করল। (ফাতহুল কাদীর) এ অর্থের সমর্থনে অন্যত্র বর্ণিত একটি আয়াত পেশ করা যায় যেখানে বলা হয়েছে যে, কাফেররা তাদের দো'আয় বলেছিলঃ “হে আল্লাহ! এগুলো যদি আপনার কাছ থেকে সত্য হয়, তবে আমাদের উপর আকাশ থেকে পাথর বর্ষণ করুন কিংবা আমাদেরকে মর্মন্তদ শাস্তি দিন।” (সূরা আল-আনফালঃ ৩২) আবার কোন কোন মুফাসসিরের মতে, এটি উভয় সম্প্রদায়েরই কামনা হতে পারে। (কুরতুবী; ফাতহুল কাদীর)
(২) جبار অর্থ, নিজের মতকে প্রাধান্যদানকারী এবং অপরের উপর নিজের মত চাপানোর প্রয়াস যিনি চালান। হক্ক গ্রহণের মানসিকতা যার নেই। অন্যত্র আল্লাহ তা'আলা এ ধরনের লোকদের পরিণতি সম্পর্কে বলেছেনঃ “আদেশ করা হবে, তোমরা উভয়ে নিক্ষেপ কর প্রত্যেক উদ্ধত কাফিরকে, যে কল্যাণকর কাজে প্রবল বাধাদানকারী, সীমালংঘনকারী ও সন্দেহ পোষণকারী। যে ব্যক্তি আল্লাহর সংগে অন্য ইলাহ গ্রহণ করত তাকে কঠিন শাস্তিতে নিক্ষেপ কর (সূরা ক্কাফঃ ২৪–২৬) তদ্রুপ হাদীসেও এসেছে, “কিয়ামতের দিন জাহান্নামকে নিয়ে আসা হবে তখন সে সমস্ত সৃষ্টিজগতকে ডেকে বলবে, আমাকে প্রত্যেক সীমালঙ্ঘনকারী, উদ্ধতের ব্যাপারে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।” (তিরমিযীঃ ২৫৭৪)
(১৫) তারা ফায়সালা কামনা করল(1) এবং প্রত্যেক উদ্ধত হঠকারী ব্যর্থকাম হল।
(1) ‘তারা’ বলতে অত্যাচারী মুশরিকরাও হতে পারে। অর্থাৎ, তারা শেষ পর্যন্ত আল্লাহর কাছে ফায়সালা তলব করল যে, এই রসূল যদি সত্য হন, তাহলে হয় আল্লাহ আমাদেরকে আযাব দিয়ে ধ্বংস করে দিন; যেমন মক্কার মুশরিকরা বলেছিল, اللَّهُمَّ إِن كَانَ هَذَا هُوَ الْحَقَّ مِنْ عِندِكَ فَأَمْطِرْ عَلَيْنَا حِجَارَةً مِّنَ السَّمَاء أَوِ ائْتِنَا بِعَذَابٍ أَلِيمٍ অর্থাৎ, হে আল্লাহ! এই কুরআন যদি তোমার পক্ষ হতে সত্য হয় তবে আকাশ থেকে আমাদের উপর প্রস্তর বর্ষণ কর অথবা আমাদের উপর কঠিন পীড়াদায়ক শাস্তি এনে দাও! (সূরা আনফাল ৩২) আর না হয় যেমন বদর যুদ্ধের সময়েও মক্কার মুশরিকরা এই ধরনেরই কামনা করেছিল, যার উল্লেখ মহান আল্লাহ সূরা আনফালের ১৯নং আয়াতে করেছেন। অথবা ‘তারা’ বলতে রসূলগণ হতে পারেন। অর্থাৎ, তাঁরা আল্লাহর কাছে বিজয় ও সাহায্য চেয়ে দু’আ করলেন, যা মহান আল্লাহ কবুল করলেন।