وَقَالَ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ لِرُسُلِهِمۡ لَنُخۡرِجَنَّكُم مِّنۡ أَرۡضِنَآ أَوۡ لَتَعُودُنَّ فِي مِلَّتِنَاۖ فَأَوۡحَىٰٓ إِلَيۡهِمۡ رَبُّهُمۡ لَنُهۡلِكَنَّ ٱلظَّـٰلِمِينَ

ওয়া ক-লাল্লাযীনা কাফারূ লিরুছুলিহিম লানুখরিজান্নাকুম মিন আর দিনাআও লাতা‘ঊদুন্না ফী মিল্লাতিনা- ফাআওহাইলাইহিম রব্বুহুম লানুহলিকান্নাজ্জা-লিমীন।উচ্চারণ

শেষ পর্যন্ত অস্বীকারকারীরা তাদের রসূলদের বলে দিল, “হয় তোমাদের ফিরে আসতে হবে আমাদের মিল্লাতে ২২ আর নয়তো আমরা তোমাদের বের করে দেবো আমাদের দেশ থেকে।” তখন তাদের রব তাদের কাছে অহী পাঠালেন, “আমি এ জালেমদের ধ্বংস করে দেবো তাফহীমুল কুরআন

যারা কুফর অবলম্বন করেছিল, তারা তাদের নবীগণকে বলেছিল, আমরা তোমাদেরকে আমাদের দেশ থেকে বের করে ছাড়ব। অথবা তোমাদেরকে আমাদের দীনে ফিরে আসতে হবে। #%১১%# অতঃপর তাদের প্রতিপালক তাদের প্রতি ওহী পাঠালেন, আমি অবশ্যই এ জালেমদেরকে ধ্বংস করব।মুফতী তাকী উসমানী

কাফিরেরা তাদের রাসূলদেরকে বলেছিলঃ আমরা তোমাদেরকে অবশ্যই আমাদের দেশ হতে বহিস্কার করব, অথবা তোমাদেরকে আমাদের ধর্মাদর্শে ফিরে আসতেই হবে। অতঃপর রাসূলদেরকে তাদের রাব্ব অহী প্রেরণ করলেন; যালিমদেরকে আমি অবশ্যই বিনাশ করব।মুজিবুর রহমান

কাফেররা পয়গম্বরগণকে বলেছিলঃ আমরা তোমাদেরকে দেশ থেকে বের করে দেব অথবা তোমরা আমাদের ধর্মে ফিরে আসবে। তখন তাদের কাছে তাদের পালনকর্তা ওহী প্রেরণ করলেন যে, আমি জালিমদেরকে অবশ্যই ধ্বংস করে দেব।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

কাফিররা এদের রাসূলগণকে বলেছিল, ‘আমরা তোমাদেরকে আমাদের দেশ হতে অবশ্যই বহিষ্কার করব বা তোমাদেরকে আমাদের ধর্মাদর্শে ফিরে আসতেই হবে।’ এরপর রাসূলগণকে তাদের প্রতিপালক ওহী প্রেরণ করলেন, জালিমদেরকে আমি অবশ্যই বিনাশ করব; ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর যারা কুফরী করেছে, তারা তাদের রাসূলদের বলল, ‘আমরা তোমাদেরকে আমাদের ভূ-খন্ড থেকে অবশ্যই বের করে দেব, অথবা তোমরা অবশ্যই আমাদের মিল্লাতে ফিরে আসবে’। অতঃপর তাদের রব তাদের নিকট ওহী পাঠালেন, ‘আমি অবশ্যই যালিমদের ধ্বংস করে দেব’।আল-বায়ান

কাফিরগণ তাদের রসূলদের বলেছিল, ‘আমরা তোমাদেরকে আমাদের দেশ থেকে অবশ্য অবশ্যই বের করে দেব, অন্যথায় তোমাদেরকে অবশ্য অবশ্যই আমাদের ধর্মমতে ফিরে আসতে হবে।’ এমতাবস্থায় রসূলদের প্রতি তাদের প্রতিপালক এ মর্মে ওয়াহী করলেন যে, ‘আমি যালিমদেরকে অবশ্য অবশ্যই ধ্বংস করব।তাইসিরুল

আর যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তারা তাদের রসূলগণকে বলেছিল -- "আমাদের দেশ থেকে আমরা নিশ্চয়ই তোমাদের বের করে দেবো, অথবা আমাদের ধর্মমতে তোমাদের ফিরে আসতেই হবে।" তখন তাঁদের প্রভু তাঁদের কাছে প্রত্যাদেশ দিয়েছিলেন -- "আমরা নিশ্চয়ই অন্যায়কারীদের বিধ্বস্ত করব,মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

২২

এর মানে এ নয় যে, নবুওয়াতের মর্যাদায় সমাসীন হবার আগে নবী গণ নিজেদের পথভ্রষ্ট সম্প্রদয়ের মিল্লাত বা ধর্মের অন্তর্ভুক্ত হতেন। বরং এর মানে হচ্ছে, নবুওয়াত লাভের পূর্বে যেহেতু তাঁরা এক ধরনের নীরব জীবন যাপন করতেন, কোন ধর্ম প্রচার করতেন না এবং প্রচলিত কোন ধর্মের প্রতিবাদও করতেন না তাই তাঁদের সম্প্রদায় মনে করতো তাঁরা তাদেরই ধর্মের অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। তারপর নবুওয়াতের কাজ শুরু করে দেয়ার পর তাঁদের বিরুদ্ধে দোষারোপ করা হতো যে, তাঁর বাপ-দাদার ধর্ম ত্যাগ করেছেন। অথচ নবুওয়াত লাভের আগেও তাঁরা কখনো মুশরিকদের ধর্মের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। যার ফলে তাঁদের বিরুদ্ধে ধর্মচ্যুতির অভিযোগ করা যেতে পারে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এটাই সব যুগের বেদীন সর্দারদের চরিত্র। যখন দলীল-প্রমাণ ও যুক্তি-তর্কে হেরে যায় তখন পেশিশক্তি প্রদর্শন করে এবং সত্যের অনুসারীদেরকে তাদের মিথ্যার কাছে নতি স্বীকারে বাধ্য করতে চায় নয়ত হত্যা করা বা দেশ থেকে উৎখাত করার ভয় দেখায় কিন্তু তাতে শেষ রক্ষা হয় না। শেষ পর্যন্ত তাদের উপর আল্লাহর গযব নেমে আসে এবং তাদের স্থানে বিশ্বাসীদেরকেই প্রতিষ্ঠিত করা হয়। -অনুবাদক

তাফসীরে জাকারিয়া

১৩. আর কাফিররা তাদের রাসূলদেরকে বলেছিল, আমরা তোমাদেরকে আমাদের দেশ হতে অবশ্যই বহিস্কৃত করব অথবা তোমরা আমাদের ধর্মাদর্শে ফিরে আসবে।(১) অতঃপর রাসূলগণকে তাদের রব ওহী পাঠালেন, যালিমদেরকে আমি অবশ্যই বিনাশ করব;

(১) এর মানে এ নয় যে, নবুওয়াতের মর্যাদায় সমাসীন হবার আগে নবীগণ নিজেদের পথভ্রষ্ট সম্প্রদায়ের মিল্লাত বা দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত হতেন। বরং এর মানে হচ্ছে, নবুওয়াত লাভের পূর্বে যেহেতু তারা এক ধরনের নীরব জীবন যাপন করতেন, তাই তাদের সম্প্রদায় মনে করতো তারা তাদেরই দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। (আত-তাহরীর ওয়াত তানওয়ীর) তারপর নবুওয়াতের কাজ শুরু করে দেয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে দোষারোপ করা হতো যে, তারা বাপ-দাদার দ্বীন ত্যাগ করেছেন। অথচ নবুওয়াত লাভের আগেও তারা কখনো মুশরিকদের দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। যার ফলে তাদের বিরুদ্ধে দ্বীনচ্যুতির অভিযোগ করা যেতে পারে। অথবা আয়াতের অর্থ, তোমরা আমাদের ধর্মাদর্শের অনুসারী হয়ে যাবে। অথবা কাফেররা এটা দ্বারা নবীদের অনুসারীদের উদ্দেশ্য নিয়েছে। যারা নবীর উপর ঈমান আনার আগে তাদের ধর্মাদর্শে ছিল। নবীকেও তারা নবীর অনুসারীদের সাথে একসাথে সম্বোধন করে নিয়েছে। (বাগভী; ফাতহুল কাদীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১৩) অবিশ্বাসীগণ তাদের রসূলদেরকে বলেছিল, ‘আমরা তোমাদেরকে অবশ্যই আমাদের দেশ হতে বহিষ্কৃত করব, অথবা তোমাদেরকে আমাদের ধর্মে ধর্মান্তরিত হতেই হবে।’(1) অতঃপর রসূলদের প্রতিপালক তাদের প্রতি অহী (প্রত্যাদেশ) প্রেরণ করলেন, ‘সীমালংঘনকারীদেরকে আমি অবশ্যই বিনাশ করব।(2)

(1) এখানে অনেকে ধর্মাদর্শে ফিরে আসার অনুবাদ করেছেন। কিন্তু নবীগণ আদৌ কুফরী ধর্মাদর্শে ছিলেন না। অতএব ফিরে আসার অনুবাদ না করাই উত্তম। (ফাতহুল কাদীর) (সূরা আ’রাফ ৮৮নং আয়াতের টীকা দ্রঃ)

(2) যেমন আরো কয়েক জায়গাতে মহান আল্লাহ বলেছেন, وَلَقَدْ سَبَقَتْ كَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا الْمُرْسَلِينَ. إِنَّهُمْ لَهُمُ الْمَنصُورُونَ. وَإِنَّ جُندَنَا لَهُمُ الْغَالِبُونَ অর্থাৎ, আমার প্রেরিত বান্দাদের সম্পর্কে আমার এই বাক্য পূর্বেই স্থির হয়েছে যে, অবশ্যই তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে, এবং আমার বাহিনীই হবে বিজয়ী। (সূরা সাফ্ফাত ১৭১-১৭৩) كَتَبَ اللَّهُ لَأَغْلِبَنَّ أَنَا وَرُسُلِي  অর্থাৎ, আল্লাহ সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছেন যে, আমি এবং আমার রসূল অবশ্যই বিজয়ী হব। (সূরা মুজাদালা ২১)