আলাম ইয়া’তিকুম নাবাউল্লাযীনা মিন কাবলিকুম কাওমি নূহিওঁ ওয়া ‘আ-দিওঁ ওয়া ছামূদা ওয়াল্লাযীনা মিম বা‘দিহিম লা-ইয়া‘লামুহুম ইল্লাল্লা-হুজাআতহুম রুছুলূহুম বিলবাইয়িনা-তি ফারদ্দুআইদিইয়াহুম ফীআফওয়া-হিহিম ওয়াক-লূইন্না-কাফারনা-বিমাউরছিলতুম বিহী ওয়া ইন্না-লাফী শাক্কিম মিম্মা-তাদ‘ঊনানাইলাইহি মুরীব।উচ্চারণ
তোমাদের কাছে কি ১৪ তোমাদের পূর্বে অতিক্রান্ত জাতিগুলোর বৃত্তান্ত পৌঁছেনি? নূহের জাতি, আদ, সামূদ এবং তাদের পরে আগমনকারী বহু জাতি, যাদের সংখ্যা একমাত্র আল্লাহ জানেন? তাদের রসূলরা যখন তাদের কাছে দ্ব্যর্থহীন কথা ও সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী নিয়ে আসেন তখন তারা নিজেদের মুখে হাত চাপা দেয় ১৫ এবং বলে, “যে বার্তা সহকারে তোমাদের পাঠানো হয়েছে আমরা তা মানি না এবং তোমরা আমাদের যে জিনিসের দাওয়াত দিচ্ছো তার ব্যাপারে আমরা যুগপৎ উদ্বেগ ও সংশয়ের মধ্যে আছি।” ১৬ তাফহীমুল কুরআন
(হে মক্কার কাফেরগণ!) তোমাদের কাছে কি তোমাদের পূর্বে যারা গত হয়েছে তাদের সংবাদ পৌঁছেনি নূহের সম্প্রদায়ের এবং আদ, ছামুদ ও তাদের পরবর্তী সম্প্রদায়সমূহের, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না? তাদের কাছে তাদের রাসূলগণ সুস্পষ্ট দলীল-প্রমাণ নিয়ে এসেছিল। কিন্তু তারা তাদের মুখে হাত রেখে দিয়েছিল এবং বলেছিল, যে বার্তা দিয়ে তোমাদেরকে পাঠানো হয়েছে, আমরা তা প্রত্যাখ্যান করেছি আর তোমরা যে বিষয়ের দাওয়াত দিচ্ছ, সে সম্পর্কে আমাদের গভীর সন্দেহ আছে।মুফতী তাকী উসমানী
তোমাদের কাছে কি সংবাদ আসেনি তোমাদের পূর্ববর্তীদের; নূহের সম্প্রদায়ের, ‘আদ ও ছামূদের এবং তাদের পূর্ববর্তীদের? তাদের বিষয় আল্লাহ ছাড়া অন্য কেহ জানেনা; তাদের কাছে স্পষ্ট নিদর্শনসহ তাদের রাসূল এসেছিল; তারা তাদের হাত তাদের মুখে স্থাপন করত এবং বলতঃ যা নিয়ে তোমরা প্রেরিত হয়েছ তা আমরা প্রত্যাখ্যান করি এবং আমরা অবশ্যই বিভ্রান্তিকর সন্দেহ পোষণ করি সেই বিষয়ে, যার প্রতি তোমরা আমাদেরকে আহবান করছ।মুজিবুর রহমান
তোমাদের কাছে কি তোমাদের পূর্ববর্তী কওমে নূহ, আদ ও সামুদের এবং তাদের পরবর্তীদের খবর পৌছেনি? তাদের বিষয়ে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। তাদের কাছে তাদের পয়গম্বর প্রমানাদি নিয়ে আগমন করেন। অতঃপর তারা নিজেদের হাত নিজেদের মুখে রেখে দিয়েছে এবং বলেছে, যা কিছু সহ তোমাদেরকে প্রেরণ করা হয়েছে, আমরা তা মানি না এবং যে পথের দিকে তোমরা আমাদেরকে দাওয়াত দাও, সে সম্পর্কে আমাদের মনে সন্দেহ আছে, যা আমাদেরকে উৎকন্ঠায় ফেলে রেখেছে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
‘তোমাদের নিকট কি সংবাদ আসে নাই তোমাদের পূর্ববর্তীদের, নূহের সম্প্রদায়ের, ‘আদের ও সামূদের এবং তাদের পরবর্তীদের? এদের বিষয় আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কেউ জানে না।’ এদের নিকট স্পষ্ট নিদর্শনসহ এদের রাসূল এসেছিল, এরা এদের হাত এদের মুখে স্থাপন করত এবং বলত, ‘যাসহ তোমরা প্রেরিত হয়েছ তা আমরা অবশ্যই অস্বীকার করি এবং আমরা অবশ্যই বিভ্রান্তিকর সন্দেহে রয়েছি সে বিষয়ে, যার প্রতি তোমরা আমাদেরকে আহ্বান করছো।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তোমাদের কাছে কি তোমাদের পূর্বের লোকদের সংবাদ পৌছেনি? নূহ, আদ ও সামূদ জাতির এবং যারা তাদের পরের, যাদেরকে আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। তাদের রাসূলগণ তাদের নিকট স্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে এসেছিল, ফলে তারা ফিরিয়ে দিল তাদের হাত তাদের মুখে এবং বলল, ‘নিশ্চয় তোমাদেরকে যা দিয়ে প্রেরণ করা হয়েছে, তা আমরা অস্বীকার করলাম। আর তোমরা আমাদের যে বিষয়ের প্রতি দাওয়াত দিচ্ছ, সে বিষয়ে আমরা ঘোর সন্দেহে রয়েছি’।আল-বায়ান
তোমাদের পূর্বেকার লোকেদের খবর কি তোমাদের কাছে পৌঁছেনি? নূহ, ‘আদ আর সামূদ সম্প্রদায়ের, আর তাদের পরবর্তীদের; তাদের সম্পর্কে আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। রসূলগণ তাদের কাছে স্পষ্ট নিদর্শনাসমূহ নিয়ে এসেছিল, তখন তারা নিজেদের মুখে হাত চেপে ধরল আর বলল, ‘যে জিনিস দিয়ে তোমাদেরকে পাঠানো হয়েছে তা আমরা অস্বীকার করি আর যে বিষয়ের প্রতি তোমরা আমাদেরকে আহবান জানাচ্ছ সে সম্পর্কে আমরা বিভ্রান্তিকর সন্দেহের মধ্যে রয়েছি।’তাইসিরুল
তোমাদের নিকট কি পৌঁছেনি তোমাদের পূর্বে যারা ছিল তাদের ইতিহাস -- নূহ্ ও 'আদ ও ছামূদের সম্প্রদায়ের আর যারা ওদের পরে ছিল? আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কেউ তাদের জানে না। তাদের রসূলগণ তাদের কাছে এসেছিলেন স্পষ্ট প্রমাণাবলী নিয়ে, কিন্তু তারা তাদের হাত দিয়েছিল তাদের মুখের ভেতরে, আর তারা বলেছিল, "আমরা অবশ্যই অবিশ্বাস করি যা নিয়ে তোমরা প্রেরিত হয়েছ, আর আমরা তো নিশ্চয়ই সন্দেহের মধ্যে রয়েছি যার দিকে তোমরা আমাদের ডাকছ সে-সন্বন্ধে, কিংকর্তব্যবিমূঢ়।"মাওলানা জহুরুল হক
১৪
হযরত মূসার (আ) ভাষণ ওপরে শেষ হয়ে গেছে। এখন সরাসরি মক্কার কাফেরদেরকে সম্বোধন করা হচ্ছে।
১৫
এ শব্দগুলোর ব্যাখ্যার তাফসীরকারদের মধ্যে বেশ কিছু মতবিরোধ দেখা গেছে। বিভিন্ন জন বিভিন্ন অর্থ বর্ণনা করেছেন। আমাদের মতে এর সবচেয়ে নিকবর্তী অর্থ তাই হতে পারে যা প্রকাশ করার জন্য আমরা বলে থাকি, “কানে হাত চাপা দিয়েছে, বা মুখে হাত চাপা দিয়েছে।” কারণ পরবর্তী বাক্যের বক্তব্যের মধ্যে পরিষ্কার অস্বীকৃতি ও এ সাথে হতবাক হয়ে যাওয়ার ভাব প্রকাশ পেয়েছে এবং এর মধ্যে কিছু ক্রোধের ভাবধারাও মিশে আছে।
১৬
অর্থাৎ এমন সংশয় যার ফলে প্রশান্তি বিদায় নিয়েছে। সত্যের দাওয়াতের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এই যে, এ দাওয়াত যখন শুরু হয় তখন তার কারণে চতুর্দিক ে অবশ্যি একটা ব্যাকুলতা, হৈ চৈ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়ে যায় ঠিকই এবং অস্বীকার ও বিরোধিতাকারীরাও ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা-ভাবনা করে পূর্ণ প্রশান্তির সাথে তা অস্বীকার বা তার বিরোধিতা করতে পারে না। তারা যত প্রবলভাবেই তাকে প্রত্যাখ্যান করুক এবং যতই শক্তি প্রয়োগ করে তার বিরোধিতা করুক না কেন দাওয়াতের সত্যতা, তার ন্যায় সঙ্গত যুক্তি সমূহ, তার সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন কথা, তাহার মনোমুগ্ধকর ভাষা, তার আহবায়কের নিখুঁত চরিত্র, তার প্রতি বিশ্বাসীদের জীবনধারায় সূচিত সুস্পষ্ট বিপ্লব এবং তাদের নিজেদের সত্য কথা অনুযায়ী পরিচ্ছন্ন কার্যাবলী-এসব জিনিস মিলেমিশে অতীব কট্টর বিরোধীর মনেও অস্থিরতার তরংগ সৃষ্টি করে দেয়। সত্যের আহবায়কদেরকে যারা অস্থির ও ব্যাকুল করে দেয় তারা নিজেরাও স্থিরতা ও মানসিক প্রশান্তি থেকে বঞ্চিত হয়।
এটা একটা প্রবচন। এর অর্থ হল, তারা জোরপূর্বক তাদেরকে বাকরুদ্ধ করে দিল এবং তাদের প্রচারকার্যে বাধা সৃষ্টি করল। (অথবা এর অর্থ তারা বিদ্রূপাত্মক হাসিতে নিজেদের মুখে হাতচাপা দিত)।
৯. তোমাদের কাছে কি সংবাদ আসেনি তোমাদের পূর্ববর্তীদের, নূহের সম্প্রদায়ের, আদের ও সামূদের এবং যারা তাদের পরের? যাদেরকে আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কেউ জানে না। তাদের কাছে স্পষ্ট প্রমাণাদিসহ তাদের রাসূলগণ এসেছিলেন, অতঃপর তারা তাদের হাত তাদের মুখে স্থাপন করেছিল।(১) এবং বলেছিল, যা সহ তোমরা প্রেরিত হয়েছ তা আমরা অবশ্যই অস্বীকার করলাম। আর নিশ্চয় আমরা বিভ্রান্তিকর সন্দেহে রয়েছি সে বিষয়ে(২), যার দিকে তোমরা আমাদেরকে ডাকছ।
(১) এ শব্দগুলোর ব্যাখ্যার ব্যাপারে তাফসীরকারদের মধ্যে বেশ কিছু মত দেখা গেছে। কারো কারো মতে, এর অর্থ তারা নবীদেরকে চুপ থাকতে বলেছে। (ইবন কাসীর) অথবা মুখ দিয়ে সেগুলো উড়িয়ে দিয়েছে। (ইবন কাসীর) আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি এর অর্থ করেছেনঃ তারা তাদের আঙ্গুলে কামড় দিয়েছে। অর্থাৎ তারা যাতে বিশ্বাসী ছিল তাতে কামড়ে পড়ে ছিল, নবীরাসূলদের কথা শুনেনি। (কুরতুবী) কাতাদা ও মুজাহিদ এখানে এর অর্থঃ রাসূলগণ যা নিয়ে এসেছে তারা তাদের কথা প্রত্যাখ্যান করেছে আর মুখে তাদের উপর মিথ্যারোপ করেছে। (কুরতুবী) (ইবন কাসীর)
(২) অর্থাৎ এমন সংশয় যার ফলে প্রশান্তি বিদায় নিয়েছে। অর্থাৎ তোমরা যা নিয়ে এসেছ তাতে আমরা বিশ্বাস স্থাপন করবো না। কারণ, তোমাদের দাওয়াতের ব্যাপারে আমরা শক্তিশালী সন্দেহে নিপতিত। (ইবন কাসীর) আমরা মনে করছি তোমরা রাজত্ব অথবা দুনিয়ার কোন উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টায় আছ। (কুরতুবী) কিন্তু পরবর্তী আয়াত থেকে বুঝা যায় যে, তারা সম্ভবত: ঈমান ও তাওহীদের ব্যাপারেই সন্দেহ করছিল। (দেখুন, মুয়াসসার) কারণ, রাসূলগণ তাদের কথার উত্তরে বলেছিলেন যে, তোমরা কি আল্লাহর ব্যাপারে সন্দেহ করতে পার? অথচ তিনিই আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন।
(৯) তোমাদের কাছে কি সংবাদ আসেনি তোমাদের পূর্ববর্তীদের; নূহের সম্প্রদায়ের, আ’দের ও সামূদের এবং তাদের পরবর্তীদের? তাদের বিষয় আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ জানে না; তাদের কাছে স্পষ্ট নিদর্শনাবলীসহ তাদের রসূলগণ এসেছিল; তারা তাদের হাত তাদের মুখে স্থাপন করল(1) এবং বলল, ‘যা নিয়ে তোমরা প্রেরিত হয়েছ, তা আমরা প্রত্যাখ্যান করি এবং যার প্রতি তোমরা আমাদেরকে আহবান করছ, তাতে আমরা অবশ্যই বিভ্রান্তিকর সন্দেহ পোষণ করি।’ (2)
(1) ব্যাখ্যাকারিগণ এর বিভিন্ন অর্থ বর্ণনা করেছেন, যেমন
(ক) তারা নিজ হাত নিজ মুখে রেখে বলল, আমাদের তো শুধু একটিই উত্তর যে, আমরা তোমার রিসালাতকে অস্বীকার করি।
(খ) তারা নিজ আঙ্গুল দ্বারা নিজ মুখের দিকে ইঙ্গিত করে বলল, চুপ থাকো এবং এই লোক যে পয়গাম নিয়ে এসেছে সেদিকে ধ্যান দিও না।
(গ) তারা নিজ হাত নিজ মুখে বিদ্রূপ বা বিস্ময় প্রকাশ করে রেখে নিল, যেমন কোন ব্যক্তি হাসি দমানোর জন্য এমনটি করে থাকে।
(ঘ) তারা নিজ হাত রসূলদের মুখে রেখে বলল, চুপ থাকো।
(ঙ) তারা ক্রোধান্বিত হয়ে নিজ হাত মুখে রেখে নিল, যেমন মুনাফিকদের সম্পর্কে দ্বিতীয় স্থানে এসেছে, عَضُّواْ عَلَيْكُمُ الأَنَامِلَ مِنَ الْغَيْظِ তারা তোমাদের প্রতি আক্রোশে আঙ্গুলসমূহ দংশন করে। (সূরা আলে ইমরান ১১৯) ইমাম শওকানী ও ইমাম ত্বাবারী এই শেষ অর্থটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
(2) مُرِيْبٌ অর্থাৎ এমন সন্দেহ, যাতে মন অত্যন্ত ব্যাকুলতা ও চাঞ্চল্যের শিকার হয়।