وَٱلَّذِينَ ءَاتَيۡنَٰهُمُ ٱلۡكِتَٰبَ يَفۡرَحُونَ بِمَآ أُنزِلَ إِلَيۡكَۖ وَمِنَ ٱلۡأَحۡزَابِ مَن يُنكِرُ بَعۡضَهُۥۚ قُلۡ إِنَّمَآ أُمِرۡتُ أَنۡ أَعۡبُدَ ٱللَّهَ وَلَآ أُشۡرِكَ بِهِۦٓۚ إِلَيۡهِ أَدۡعُواْ وَإِلَيۡهِ مَـَٔابِ

ওয়াল্লাযীনা আ-তাইনা-হুমুল কিতা-বা ইয়াফরহূনা বিমাউনঝিলা ইলাইকা ওয়া মিনাল আহঝা-বি মাইঁ ইউনকিরু বা‘দাহূ কুল ইন্নামাউমিরতুআন আ‘বুদাল্লা-হা ওয়ালাউশরিকা বিহী ইলাইহি আদ‘ঊ ওয়া ইলাইহি মাআ-ব।উচ্চারণ

হে নবী! যাদেরকে আমি আগে কিতাব দিয়েছিলাম তারা তোমার প্রতি আমি যে কিতাব নাযিল করেছি তাতে আনন্দিত। আর বিভিন্ন দলে এমন কিছু লোক আছে যারা এর কোন কোন কথা মানে না। তুমি পরিষ্কার বলে দাও, “আমাকে তো শুধুমাত্র আল্লাহর বন্দেগী করার হুকুম দেয়া হয়েছে এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক করা থেকে নিষেধ করা হয়েছে। কাজেই আমি তাঁরই দিকে আহবান জানাচ্ছি এবং তাঁরই কাছে আমার প্রত্যাবর্তন।” ৫৫ তাফহীমুল কুরআন

(হে নবী!) আমি যাদেরকে কিতাব দিয়েছি, তারা তোমার প্রতি যে কালাম নাযিল করা হয়েছে, তা শুনে আনন্দিত হয়। আবার তাদেরই কোন কোন দল এমন, যারা এর কিছু কথা মানতে অস্বীকার করে। #%৩৬%# বল, আমাকে তো এই আদেশ করা হয়েছে যে, আমি আল্লাহর ইবাদত করব এবং প্রভুত্বে তাঁর সাথে কাউকে শরীক করব না। এ কথারই আমি দাওয়াত দিয়ে থাকি আর তারই (অর্থাৎ আল্লাহরই) দিকে আমাকে ফিরে যেতে হবে। #%৩৭%#মুফতী তাকী উসমানী

আমি যাদেরকে কিতাব দিয়েছি তারা যা তোমার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে তাতে আনন্দ পায়, কিন্তু কোন কোন দল ওর কতক অংশ অস্বীকার করে। তুমি বলঃ আমিতো আল্লাহরই ইবাদাত করতে ও তাঁর কোন শরীক না করতে আদিষ্ট হয়েছি; আমি তাঁরই প্রতি আহবান করি এবং তাঁরই নিকট আমার প্রত্যাবর্তন।মুজিবুর রহমান

এবং যাদেরকে আমি গ্রন্থ দিয়েছি, তারা আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে, তজ্জন্যে আনন্দিত হয় এবং কোন কোন দল এর কোন কোন বিষয় অস্বীকার করে। বলুন, আমাকে এরূপ আদেশই দেয়া হয়েছে যে, আমি আল্লাহর এবাদত করি। এবং তাঁর সাথে অংশীদার না করি। আমি তাঁর দিকেই দাওয়াত দেই এবং তাঁর কাছেই আমার প্রত্যাবর্তন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি যাদেরকে কিতাব দিয়েছি তারা যা তোমার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে তাতে আনন্দ পায়, কিন্তু কোন কোন দল এর কতক অংশ অস্বীকার করে। বল, ‘আমি তো আল্লাহ্ র ‘ইবাদত করতে ও তাঁর কোন শরীক না করতে আদিষ্ট হয়েছি। আমি তাঁরই প্রতি আহ্বান করি এবং তাঁরই নিকট আমার প্রত্যাবর্তন।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর আমি যাদেরকে কিতাব দিয়েছি, তোমার উপর যা নাযিল হয়, তাতে তারা উৎফুল্ল হয়। আর দলগুলোর মধ্যে কেউ কেউ এর কিছু অংশকে অস্বীকার করে। বল, ‘আমাকে কেবল আদেশ দেয়া হয়েছে, যেন আমি আল্লাহর ইবাদাত করি এবং তাঁর সাথে শরীক না করি। আমি তাঁরই দিকে দাওয়াত দেই এবং তাঁরই নিকট আমার প্রত্যাবর্তনস্থল’।আল-বায়ান

আমি যাদেরকে কিতাব দিয়েছিলাম তারা তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে উৎফুল্ল, কিন্তু কতক দল তার কোন কোন কথা মানে না। বল, ‘আমি আল্লাহর ‘ইবাদাত করার জন্য এবং তাঁর সাথে কোন কিছু শারীক না করার জন্য নির্দেশপ্রাপ্ত হয়েছি, আমি তাঁর দিকেই আহবান জানাই, আর আমার প্রত্যাবর্তন তাঁর দিকেই।তাইসিরুল

আর যাদের আমরা ধর্মগ্রন্থ দিয়েছি তারা আনন্দ বোধ করে যা তোমার কাছে অবতীর্ণ হয়েছে তাতে, আর গোত্রদের মধ্যে এমনও আছে যে এর কিছুটা অস্বীকার করে। তুমি বলো -- "নিঃসন্দেহ আমি আদিষ্ট হয়েছি যে আমি আল্লাহ্‌রই উপাসনা করবো এবং তাঁর সাথে কোন অংশী দাঁড় করাবো না। তাঁরই প্রতি আমি আহ্বান করি এবং তাঁরই নিকট আমার প্রত্যাবর্তন।"মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৫৫

এ সময় বিরোধীদের পক্ষ থেকে যে একটি বিশেষ কথা বলা হচ্ছিল এটি তার জবাব। তারা বলতো, এ ব্যক্তি নিজের দাবী অনুযায়ী যদি সত্যিসত্যিই সেই একই শিক্ষা নিয়ে এসে থাকেন যা ইতিপূর্বেকার সকল নবী এনেছিলেন, তাহলে আগের নবীদের অনুসারী ইহুদী ও খৃস্টানরা অগ্রবর্তী হয়ে এঁকে অভ্যর্থনা জানাচ্ছে না কেন? এর জবাবে বলা হচ্ছে, তাদের মধ্য থেকে কেউ এতে খুশী এবং কেউ অখুশী, কিন্তু হে নবী! কেউ খুশী হোক বা অখুশী, তুমি পরিষ্কার বলে দাও, আমাকে তো আল্লাহর পক্ষ থেকে এ শিক্ষা দান করা হয়েছে এবং আমি সর্বাবস্থায় এর অনুসারী থাকবো।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এ আয়াতে ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদের বিভিন্ন দলের অবস্থা ব্যক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে কতক এমন যারা কুরআন মাজীদের আয়াত শুনে খুশী হয়। তারা উপলব্ধি করতে পারে পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহে যার ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে, এটাই আল্লাহ তাআলা সেই আখেরী কিতাব। ফলে তাদের মধ্যে অনেকেই মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ঈমান এনেছিল, যেমন খৃষ্টানদের মধ্যে, তেমনি ইয়াহুদীদের মধ্যে। এ বাস্তবতা তুলে ধরার মাধ্যমে একদিকে তো মক্কার কাফেরদেরকে লজ্জা দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, যাদের কাছে আসমানী কিতাব আছে তারা তো ঈমান আনছে, অথচ যাদের কাছে না আছে কোন আসমানী কিতাব এবং না কোন ঐশী নির্দেশনা, তারা ঈমান আনতে গড়িমসি করছে। অন্য দিকে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও অন্যান্য মুসলিমদেরকে সান্তনা দেওয়া হয়েছে যে, যারা ইসলামের সাথে শত্রুতা করে তাদের মধ্যে বহু লোক তো হিদায়াতের এ বাণী গ্রহণও করছে! ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদের মধ্যে অপর দলটি হচ্ছে কাফেরদের। তাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তারা কুরআন মাজীদের কিছু অংশ অস্বীকার করে। ‘কিছু অংশ’ বলে ইশারা করা হয়েছে যে, ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদের মধ্যে যারা ঈমান আনেনি, তারাও কুরআন মাজীদের সকল কথা অস্বীকার করতে পারে না। কেননা এর বহু কথা এমন, যা তাওরাত ও ইনজীলেও আছে, যেমন তাওহীদ, পূর্ববর্তী নবীদের প্রতি ঈমান, তাদের ঘটনাবলী, আখেরাতের প্রতি ঈমান ইত্যাদি। এর দাবী তো ছিল এই যে, তারা চিন্তা করবে, এসব বিষয় জানার বাহ্যিক কোন মাধ্যম তো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নেই। তা সত্ত্বেও তিনি এগুলো বলছেন কি করে? নিঃসন্দেহে তিনি এসব ওহীর মাধ্যমেই জেনেছেন। কাজেই তিনি একজন সত্য রাসূল। তাঁর রিসালাতকে স্বীকার করে নেওয়া উচিত।

তাফসীরে জাকারিয়া

৩৬. আর আমরা যাদেরকে কিতাব দিয়েছি তারা যা আপনার প্রতি নাযিল হয়েছে তাতে আনন্দ পায়(১)। আর দলগুলোর(২) মধ্যে কেউ কেউ তার কিছু অংশকে অস্বীকার করে। বলুন, আমি তো আল্লাহর ইবাদাত করতে ও তার কোন শরীক না করতে আদেশপ্রাপ্ত হয়েছি। আমি তারই দিকে ডাকি এবং তারই কাছে আমার ফিরে যাওয়া।

(১) আল্লাহ তা'আলা এখানে জানাচ্ছেন যে, যাদের কিতাব দেয়া হয়েছে, তারা যা নাযিল হয়েছে তা দেখে খুশী হয়। এখানে ‘যাদের কিতাব দেয়া হয়েছে’ বলে কি বোঝানো হয়েছে সে ব্যাপারে দু’টি মত রয়েছে। এক. কিতাবধারী বলে আহলে কিতাব তথা ইয়াহুদী ও নাসারাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে তাদের উদ্দেশ্য নেয়া হয়েছে। তখন অর্থ হবে, কিতাবীদের মধ্যে যারা কিতাবের বিধানকে আঁকড়ে আছে, তার উপর প্রতিষ্ঠিত, তারা আপনার কাছে যা নাযিল হয়েছে অর্থাৎ কুরআন সেটা দেখলে খুশী হয়। কারণ, তাদের কিতাবে এ রাসূলের সত্যতা ও সুসংবাদ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সন্নিবেশিত আছে। (ইবন কাসীর) যেমন, আব্দুল্লাহ ইবন সালাম, সালমান প্রমুখ। (কুরতুবী) দুই. কাতাদা বলেন, এখানে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথী তথা সাহাবীদের কথা বলা হয়েছে। তারা কুরআনের আলো নাযিল হতে দেখলেই খুশী হত। (তাবারী; কুরতুবী)

(২) দলগুলো বলে এখানে কাদের উদ্দেশ্য নেয়া হয়েছে সে ব্যাপারে কয়েকটি মত রয়েছে, এক. তারা মক্কার মুশরিক কুরাইশরা এবং ইয়াহুদী ও নাসারাদের মধ্যে যারা ঈমান আনেনি তারা। (কুরতুবী) দুই. অথবা এখানে শুধু ইয়াহুদী ও নাসারাদেরকেই উদ্দেশ্য নেয়া হয়েছে। (ইবন কাসীর) তিন. অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিরুদ্ধে যারা জোট বেঁধেছিল তারা সবাই এখানে উদ্দেশ্য। (কুরতুবী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৩৬) আমি যাদেরকে কিতাব দিয়েছি তারা(1) যা তোমার প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে তাতে আনন্দিত হয়,(2) আর কোন কোন দল ওর কতক অংশকে অস্বীকার করে।(3) তুমি বল, ‘আমি তো কেবল আল্লাহরই ইবাদত করতে এবং তাঁর কোন শরীক না করতে আদিষ্ট হয়েছি। আমি তাঁরই প্রতি আহবান করি এবং তাঁরই নিকট আমার প্রত্যাবর্তন।’

(1) এর অর্থ মুসলমান; যারা কুরআনের আদেশ মোতাবেক আমল করে।

(2) অর্থাৎ কুরআনের সত্যতার দলীল-প্রমাণ দেখে অধিক আনন্দিত হয়।

(3) এ থেকে ইয়াহুদী, খ্রিষ্টান, কাফের ও মুশরিকদেরকে বুঝানো হয়েছে। কতিপয় উলামার নিকট কিতাবের অর্থ তাওরাত ও ইঞ্জীল। তাদের মধ্যে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছে তারা আনন্দিত হয়। অস্বীকারকারী সেই ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানরা, যারা ইসলাম গ্রহণ করেনি।