ওয়া লাম্মা-ফাসালাতিল ‘ঈরু ক-লা আবূহুম ইন্নী লাআজিদুরীহাইঊছুফা লাওলাআন তুফান্নিদূন।উচ্চারণ
কাফেলাটি যখন (মিসর থেকে) রওয়ানা দিল তখন তাদের বাপ (কেনানে) বললো, “আমি ইউসুফের গন্ধ পাচ্ছি, ৬৬ তোমরা যেন আমাকে একথা বলো না যে, বুড়ো বয়সে আমার বুদ্ধিভ্রষ্ট হয়েছে।” তাফহীমুল কুরআন
যখন এ যাত্রীদল (মিসর থেকে কিনআনের দিকে) রওয়ানা হল, তখন (কিনআনে) তাদের পিতা (আশেপাশের লোকদেরকে) বলল, তোমরা যদি আমাকে না বল যে, বুড়ো অপ্রকৃতিস্থ হয়ে পড়েছে, তবে বলি, আমি ইউসুফের ঘ্রাণ পাচ্ছি। #%৬০%#মুফতী তাকী উসমানী
অতঃপর যাত্রীদল যখন বের হয়ে পড়ল তখন তাদের পিতা বললঃ তোমরা যদি আমাকে অপ্রকৃতিস্থ মনে না কর তাহলে বলিঃ আমি ইউসুফের ঘ্রাণ পাচ্ছি।মুজিবুর রহমান
যখন কাফেলা রওয়ানা হল, তখন তাদের পিতা বললেনঃ যদি তোমরা আমাকে অপ্রকৃতিস্থ না বল, তবে বলিঃ আমি নিশ্চিতরূপেই ইউসুফের গন্ধ পাচ্ছি।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এরপর যাত্রীদল যখন বের হয়ে পড়ল তখন এদের পিতা বলল, ‘তোমরা যদি আমাকে অপ্রকৃতিস্থ মনে না কর তবে বলি, আমি ইউসুফের ঘ্রাণ পাচ্ছি।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর যখন কাফেলা বের হল, তাদের পিতা বলল, ‘নিশ্চয় আমি ইউসুফের ঘ্রাণ পাচ্ছি, যদি তোমরা আমাকে নির্বোধবৃদ্ধ মনে না কর’।আল-বায়ান
যাত্রীদল যখন (মিসর থেকে) বেরিয়ে পড়ল এমন সময়ে তাদের পিতা (বাড়ীর লোকজনকে) বলল, ‘তোমরা আমাকে বয়োবৃদ্ধ দিশেহারা মনে না করলে (তোমরা জেনে রাখ) আমি অবশ্যই ইউসুফের ঘ্রাণ পাচ্ছি।’তাইসিরুল
আর যখন যাত্রীদল বেরিয়ে পড়ল তখন তাদের পিতা লোকজনকে বললেন, "নিঃসন্দেহ আমি আলবৎ ইউসুফের হাওয়া-বাতাস টের পাচ্ছি, যদিও তোমরা আমাকে মতিচ্ছন্ন মনে কর।"মাওলানা জহুরুল হক
৬৬
আল্লাহর নবীগণ কেমন অসাধারণ শক্তির অধিকারী হয়ে থাকেন, এ ঘটনা থেকে সে সম্পর্কে ধারণা জন্মে। একদিকে হযরত ইউসুফের (আ) জামা নিয়ে মিসর থেকে কাফেলা সবেমাত্র রওয়ানা দিচ্ছে আর অন্যদিকে শত শত মাইল দূরে হযরত ইয়াকূব (আ) তার গন্ধ পাচ্ছেন। কিন্তু এ থেকে একথাও জানা যায় যে, নবীগণের এ শক্তিগুলো আসলে তাঁদের সহজাত ছিল না বরং এগুলো আল্লাহ তাঁদেরকে দান করেছিলেন এবং আল্লাহ যখন ও যে পরিমাণ চাইতেন এ শক্তিকে কাজে লাগানোর সুযোগ দিতেন। হযরত ইউসুফ (আ) বহু বছর যাবত মিসরে রয়েছেন এবং সে সময় হযরত ইয়াকূব (আ) কখনো তাঁর গন্ধ পাননি। কিন্তু এখন হঠাৎ ঘ্রাণ শক্তি এত তীব্র হয়ে গেলো যে, তাঁর জামা মিসর থেকে চলা শুরু হওয়ার সাথে সাথেই তিনি তার সুগন্ধ পেতে শুরু করলেন।
এখানে এ আলোচনাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয় যে, একদিকে কুরআন হযরত ইয়াকূব আলাইহিস সালামকে এভাবে পয়গম্বরের বিপুল মর্যাদা সহকারে পেশ করছে কিন্তু অন্যদিকে বনী ইসরাঈল তাঁকে পেশ করছে আরবের একজন সাধারণ বেদুইনের মতো করে। বাইবেলের বর্ণনা মতে, যখন ছেলেরা এসে খবর দিল, “ইউসুফ এখনো বেঁচে আছে এবং সেই-ই সারা মিসর দেশের শাসনকর্তা তখন ইয়াকূব হতভম্ব হয়ে গেলেন। কেননা তিনি এটা বিশ্বাস করতে পারছিলেন না... পরে যখন তিনি তাঁদের নিয়ে যাবার জন্য ইউসুফের পাঠানো শকটগুলো দেখলেন তখন তাঁর ধড়ে প্রাণ এলো।” (আদি পুস্তক ৪৫: ২৬-২৭)
হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম তাঁর ভাইদেরকে বলে দিয়েছিলেন, তারা যেন পরিবারের সকলকে মিসরে নিয়ে আসে। সুতরাং তারা মিসর থেকে একটি যাত্রীদল আকারে রওয়ানা হল। এদিকে তো তারা মিসর থেকে রওয়ানা হল, ওদিকে হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের ঘ্রাণ পেতে লাগলেন। এটা ছিল উভয় নবীর মুজিযা এবং হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালামের জন্য এই সুসংবাদ যে, তার পরীক্ষার কাল আশু সমাপ্তির পথে। এস্থলে লক্ষ্যণীয় বিষয় হল যে, হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম যখন কিনআনে খুব কাছেই কুয়ার ভেতর ছিলেন, তখন তো হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম তাঁর কোন সুবাস পাননি, তাছাড়া তাঁর মিসর অবস্থানকালীন সময়েও ইতঃপূর্বে এ জাতীয় কোনও অনুভূতির কথা প্রকাশ করেননি। এর দ্বারা বোঝা গেল, মুজিযা কোন নবীর নিজের এখতিয়ারাধীন বিষয় নয়। আল্লাহ তাআলাই যখন চান তা প্রকাশ করেন।
৯৪. আর যখন যাত্রীদল বের হয়ে পড়ল তখন তাদের পিতা বললেন, তোমরা যদি আমাকে বৃদ্ধ-অপ্রকৃতস্থ মনে না কর তবে বলি, আমি ইউসুফের ঘ্ৰাণ পাচ্ছি।(১)
(১) অর্থাৎ কাফেলা শহর থেকে বের হতেই ইয়াকুব আলাইহিস সালাম নিকটস্থ লোকদেরকে বললেনঃ তোমরা যদি আমাকে বোকা না মনে কর, তবে আমি বলছি যে, আমি ইউসুফের গন্ধ পাচ্ছি। মিসর থেকে কেনান পর্যন্ত ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমার বর্ণনা অনুযায়ী আট দিনের দূরত্ব ছিল। (তাবারী) হাসান বসরীর বর্ণনা মতে দশ দিনের, অপর বর্ণনায় একমাসের রাস্তা ছিল। (কুরতুবী) ইবন জুরাইজ বলেন, আশি ফারসাখের রাস্তা ছিল। (ইবন কাসীর)
(৯৪) অতঃপর যাত্রীদল যখন বের হয়ে পড়ল, তখন তাদের পিতা বলল, ‘তোমরা যদি আমাকে ভারসাম্যহীন মনে না কর, তাহলে বলি, আমি ইউসুফের ঘ্রাণ পাচ্ছি।’ (1)
(1) এদিকে উক্ত জামা নিয়ে মিসর থেকে কাফেলা রওনা হল এবং ওদিকে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ইয়াকূব (আঃ)-এর কাছে মু’জিযা স্বরূপ ইউসুফ (আঃ)-এর সুগন্ধি আসতে লাগল। এটা যেন এ কথার ঘোষণা ছিল যে, যতক্ষণ না আল্লাহর পক্ষ থেকে সংবাদ আসে রসূলও অনবগত থাকেন, যদিও পুত্র নিজ শহরের কোন কূপে থাকে (তবুও তিনি জানতে পারেন না)। পক্ষান্তরে মহান আল্লাহ যখন ব্যবস্থা করে দেন, তখন মিসরের মত দূর দূরান্ত এলাকা থেকেও পুত্রের সুগন্ধি চলে আসে।