قَالُواْ جَزَـٰٓؤُهُۥ مَن وُجِدَ فِي رَحۡلِهِۦ فَهُوَ جَزَـٰٓؤُهُۥۚ كَذَٰلِكَ نَجۡزِي ٱلظَّـٰلِمِينَ

ক-লূজাঝাউহূমাওঁউজিদা ফী রহলিহী ফাহুওয়া জাঝাউহূ কাযা-লিকা নাজঝিজ্জা-লিমীন।উচ্চারণ

তারা জবাব দিল, “তার শাস্তি” যার মালপত্রের মধ্যে ঐ জিনিস পাওয়া যাবে তার শাস্তি হিসেবে তাকেই রেখে দেয়া হবে। আমাদের এখানে তো এটাই এ ধরনের জালেমদের শাস্তির পদ্ধতি।” ৫৮ তাফহীমুল কুরআন

তারা বলল, তার শাস্তি এই যে, যার মালপত্রের মধ্যে সেটি (পেয়ালাটি) পাওয়া যাবে শাস্তি স্বরূপ সেই ধৃত হবে। যারা জুলুম করে, আমরা তাদেরকে এ রকমই শাস্তি দিয়ে থাকি। #%৫০%#মুফতী তাকী উসমানী

তারা বললঃ এর শাস্তি এই যে, যার মালপত্রের মধ্যে পাত্রটি পাওয়া যাবে, সে’ই তার বিনিময়, এভাবে আমরা সীমালংঘনকারীদের শাস্তি দিয়ে থাকি।মুজিবুর রহমান

তারা বললঃ এর শাস্তি এই যে, যার রসদপত্র থেকে তা পাওয়া যাবে, এর প্রতিদানে সে দাসত্বে যাবে। আমরা যালেমদেরকে এভাবেই শাস্তি দেই।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এরা বলল, ‘এটার শাস্তি যার মালপত্রের মধ্যে পাত্রটি পাওয়া যাবে, সে-ই তার বিনিময়।’ এভাবে আমরা সীমালংঘনকারীদেরকে শাস্তি দিয়ে থাকি। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তারা বলল, ‘তার শাস্তি হবে, যার মালপত্রের ভিতর ওটি পাওয়া যাবে, সে-ই হবে তার বিনিময়। এভাবেই আমরা যালেমদেরকে শাস্তি দিয়ে থাকি’।আল-বায়ান

তারা বলল, ‘তার শাস্তি হল যার মালের ভিতর ওটা পাওয়া যাবে তাকেই ধরে রাখা হবে। সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে আমরা এভাবেই শাস্ত দিয়ে থাকি।’তাইসিরুল

তারা বললে -- "এর প্রতিফল হবে -- যার মালপত্রের মধ্যে এটি পাওয়া যাবে সেই হবে এর প্রতিফলের পাত্র। এইভাবেই আমরা অন্যায়কারীদের শাস্তি দিই।"মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৫৮

উল্লেখ্য, এ ভাইয়েরা ছিল ইবরাহিমী পরিবারের সন্তান। কাজেই চুরির ব্যাপারে তারা যে আইনের কথা বলে তা ছিল ইবরাহিমী শরীয়াতের আইন। এ আইন অনুযায়ী চোরের শাস্তি ছিল, যে ব্যক্তির সম্পদ সে চুরি করেছে তাকে তার দাসত্ব করতে হবে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ, হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালামের শরীয়তে চুরির শাস্তি এটাই যে, যে ব্যক্তি চুরি করবে তাকে গ্রেফতার করে রেখে দেওয়া হবে। এভাবে আল্লাহ তাআলা হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের ভাইদের দ্বারাই বলিয়ে দিলেন যে, চোরের এ রকম শাস্তিই প্রাপ্য। সুতরাং যে শাস্তি দেওয়া হল তা হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালামের শরীয়ত মোতাবেকই দেওয়া হল। না হয় বাদশাহর আইনে এ শাস্তি দেওয়ার সুযোগ ছিল না। কেননা তার আইন অনুযায়ী চোরকে বেত্রাঘাত করা হত এবং তার উপর জরিমানা আরোপ করা হত। হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম শাস্তি সম্পর্কে তাঁর ভাইদের কাছে জিজ্ঞেস করেছিলেন এ লক্ষ্যেই, যাতে তাকে হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালামের শরীয়তের বিপরীতে ফায়সালা দিতে না হয়। আবার সেই সঙ্গে ভাইকেও নিজের কাছে রাখার সুযোগ মিলে যায়।

তাফসীরে জাকারিয়া

৭৫. তারা বলল, এর শাস্তি যার মালপত্রের মধ্যে পাত্রটি পাওয়া যাবে, সে-ই তার বিনিময়। এভাবে আমরা যালেমদেরকে শাস্তি দিয়ে থাকি।(১)

(১) অর্থাৎ ইউসুফ ভ্রাতাগণ বললঃ যার আসবাবপত্র থেকে চোরাই মাল বের হবে; সে নিজেই দাসত্ব বরণ করবে। আমরা চোরকে এমনি ধরণের সাজা দেই। উল্লেখ্য, এ ভাইয়েরা ছিল ইবরাহিমী পরিবারের সন্তান। কাজেই চুরির ব্যাপারে তারা যে আইনের কথা বলে তা ছিল ইবরাহিমী শরীয়াতের আইন। এ আইন অনুযায়ী চোরের শাস্তি ছিল, যে ব্যক্তির সম্পদ সে চুরি করেছে তাকে তার দাসত্ব করতে হবে। উদ্দেশ্য, ইয়াকুব আলাইহিস সালাম-এর শরীআতেও চোরের শাস্তি এই যে, যার মাল চুরি করে সে চোরকে গোলাম করে রাখবে। (কুরতুবী; ইবন কাসীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৭৫) তারা বলল, ‘এর শাস্তি এই যে, যার মালপত্রের মধ্যে পাত্রটি পাওয়া যাবে, সেই হবে তার বিনিময়।(1) এভাবে আমরা সীমালংঘনকারীদের শাস্তি দিয়ে থাকি।’ (2)

(1) অর্থাৎ চোরকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ঐ ব্যক্তির হাতে দাসরূপে সঁপে দেওয়া হতো, যার সে চুরি করতো। এটা ইয়াকূব (আঃ)-এর শরীয়তে শাস্তি ছিল, তাই সেই মোতাবেক ইউসুফ (আঃ)-এর ভায়েরা এই শাস্তির প্রস্তাব পেশ করলেন।

(2) এই উক্তিটিও ইউসুফ (আঃ)-এর ভাইদের। কতক ব্যাখ্যাকারীদের নিকট এ উক্তি ইউসুফ (আঃ)-এর কর্মচারীদের। তারা বলেছিল, আমরাও যালিম (অপরাধী)-দেরকে এ ধরনেরই সাজা দিয়ে থাকি। কিন্তু পরবর্তী আয়াতের এই অংশ ‘রাজার আইনে তার সহোদরকে সে (দাস বানিয়ে) আটক করতে পারত না’ এ কথার খন্ডন করছে।