وَشَرَوۡهُ بِثَمَنِۭ بَخۡسٖ دَرَٰهِمَ مَعۡدُودَةٖ وَكَانُواْ فِيهِ مِنَ ٱلزَّـٰهِدِينَ

ওয়া শারওহু বিছামানিম বাখছিন দার-হিমা মা‘দূদাতিওঁ ওয়া ক-নূফীহি মিনাঝঝাহিদীন।উচ্চারণ

শেষে তারা তাঁকে সামান্য দামে কয়েক দিরহামের বিনিময়ে বিক্রি করে দিল। ১৫ আর তার দামের ব্যাপারে তারা বেশী আশা করছিল না। তাফহীমুল কুরআন

এবং (তারপর) তারা ইউসুফকে অতি অল্প দামে বিক্রি করে দিল- যা ছিল মাত্র কয়েক দিরহাম। বস্তুত ইউসুফের প্রতি তাদের বিশেষ আগ্রহ ছিল না। #%১২%#মুফতী তাকী উসমানী

আর তারা তাকে বিক্রি করল স্বল্প মূল্যে, মাত্র কয়েক দিরহামের বিনিময়ে, তারা এতে ছিল নির্লোভ।মুজিবুর রহমান

ওরা তাকে কম মূল্যে বিক্রি করে দিল গনাগুণতি কয়েক দেরহাম এবং তাঁর ব্যাপারে নিরাসক্ত ছিল।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং এরা তাকে বিক্রয় করল স্বল্প মূল্যে-মাত্র কয়েক দিরহামের বিনিময়ে, এরা ছিল তার ব্যাপারে নির্লোভ। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর তারা তাকে অতি নগণ্য মূল্যে কয়েক দিরহামের বিনিময়ে বিক্রি করে দিল এবং তারা তার ব্যাপারে ছিল অনাগ্রহী।আল-বায়ান

তারা তাকে স্বল্প মূল্যে- মাত্র কয়টি দিরহামের বিনিময়ে বিক্রি করে দিল, তারা ছিল তাকে তুচ্ছ জ্ঞানকারী!তাইসিরুল

আর তারা তাঁকে বিক্রি করল সামান্য মূল্যে -- গুণতির কয়েকটি দিরহামে, আর তাঁর প্রতি তারা ছিল অনাসক্ত।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১৫

ঘটনাটা সহজভাবে বলতে গেলে এরূপ বলা যায় যে, ইউসুফের ভাইয়েরা হযরত ইউসুফকে কূপের মধ্যে ফেলে দিয়ে চলে যায়। পরে কাফেলার লোকজন এসে তাঁকে সেখান থেকে বের করে আনে। তারা তাঁকে মিসরে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে। কিন্তু বাইবেলের বর্ণনা হচ্ছে, ইউসুফের ভাইয়েরা পরে ইসমাঈলীদের একটি কাফেলা দেখে ইউসুফকে কূয়া থেকে বের করে তাদের হাতে বিক্রি করে দিতে চায়। কিন্তু তার আগেই মাদয়ানের সওদাগর তাঁকে কূয়া থেকে বের করে ফেলে। এ সওদাগরেরা বিশ দিরহামে ইউসুফকে ইসমাঈলীদের হাতে বিক্রি করে দেয়। সামনের দিকে গিয়ে বাইবেল লেখকরা একথা ভুলে যান যে, ইতিপূর্বে তারা ইউসুফকে ইসমাঈলীদের হাতে বিক্রি করে দিয়ে এসেছেন। তাই তারা ইসমাঈলীদের পরিবর্তে আবার মাদয়ানের সওদাগরদের দ্বারা তাঁকে মিসরীয়দের হাতে বিক্রি করাচ্ছেন। (দেখুন, আদি পুস্তক ৩৭: ২৫-২৮ এবং ৩৬) অন্যদিকে তালমূদের বর্ণনা হচ্ছে, মাদয়ানের সওদাগরেরা ইউসুফকে কূয়া থেকে বের করে এনে নিজেদের গোলামে পরিণত করে। অবশেষে তারা বিশ দিরহাম মূল্য পরিশোধ করে ইউসুফের ভাইদেরকে রাজি করে। তারপর তারা বিশ দিরহামের বিনিময়েই ইউসুফকে ইসমাঈলীদের হাতে বিক্রি করে। আর ইসমাঈলীরা মিসরে গিয়ে তাঁকে বিক্রি করে। এখান থেকেই মুসলমানদের মধ্যে এ বর্ণনার প্রচলন হয়েছে যে, ইউসুফের ভাইয়েরা ইউসুফকে বিক্রি করে কিন্তু জানা উচিত, কুরআন এ সমস্ত বর্ণনা সমর্থন করেনি।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

কুরআন মাজীদের বর্ণনাভঙ্গি দ্বারা বাহ্যত এটাই বোঝা যায় যে, বিক্রেতা ছিল যাত্রীদলের লোক এবং হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামকে নিজেদের কাছে রাখার কোন আগ্রহ তাদের ছিল না; বরং তাকে বিক্রি করে যা-ই পাওয়া যায় সেটাকেই তারা লাভ মনে করেছিল, যেহেতু তা মুফতে অর্জিত হচ্ছিল। তাই যখন ক্রেতা পাওয়া গেল তখন নামমাত্র মূল্যে তাঁকে বিক্রি করে দিল। অবশ্য কোন কোন রিওয়ায়াতে ঘটনার যে বিবরণ দেওয়া হয়েছে, তাতে প্রকাশ, হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামকে তাঁর ভাইয়েরা কুয়ায় ফেলে যাওয়ার পর বড় ভাই ইয়াহুদা রোজ তাঁর খবর নিতে আসত। কিছু খাবার-দাবারও দিয়ে যেত। তৃতীয় দিন তাঁকে কুয়ায় না পেয়ে চারদিকে খোঁজাখুঁজি করতে লাগল। শেষ পর্যন্ত যাত্রীদলের কাছে তাঁকে পেয়ে গেল। এ সময় অন্যান্য ভাইয়েরাও সেখানে উপস্থিত হল। তারা যাত্রীদলকে বলল, এ বালক আমাদের গোলাম। সে পালিয়ে গিয়েছিল। তোমাদের আগ্রহ থাকলে আমরা একে তোমাদের কাছে বিক্রি করতে পারি। ভাইদের আসল উদ্দেশ্য তো ছিল কোনও উপায়ে তাকে পিতার কাছ থেকে সরিয়ে দেওয়া। তাকে বিক্রি করে মুনাফা অর্জন তাদের লক্ষ্য ছিল না। তাই তারা হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামকে যাত্রীদলের কাছে নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে দিল। বাইবেলেও বলা হয়েছে তাঁর বিক্রেতা ছিল ভাইয়েরাই। তারা হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামকে যাত্রীদলের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিল।

তাফসীরে জাকারিয়া

২০. আর তারা তাকে বিক্রি করল স্বল্প মূল্যে, মাত্র কয়েক দিরহামের বিনিময়ে(১) এবং তারা ছিল তার ব্যাপারে অনাগ্রহী(২)।

(১) আরবী ভাষায় شَراء শব্দ ক্রয় করা ও বিক্রয় করা উভয় অর্থে ব্যবহৃত হয়। এ স্থলেও উভয় অর্থের সম্ভাবনা রয়েছে। যদি সর্বনামকে ইউসুফ ভ্রাতাদের দিকে ফেরানো হয়, তবে বিক্রয় করার অর্থ হবে এবং কাফেলার লোকদের দিকে ফেরানো হলে ক্রয় করার অর্থ হবে। (ইবন কাসীর) উদ্দেশ্য এই যে, ইউসুফ ভ্রাতারা বিক্রয় করে দিল কিংবা কাফেলার লোকেরা ইউসুফকে খুব সস্তা মূল্যে অর্থাৎ নামে মাত্র কয়েকটি দিরহামের বিনিময়ে ক্রয় করল। আয়াতে বর্ণিত بَخْسٍ এর দুটি অর্থ হতে পারেঃ (এক) খুব কম মূল্যে; (তাবারী) কারণ তারা বাস্তবিকই তাকে খুব কম মূল্যে বিক্রয় করেছিল। (দুই) অন্যায় বা নিকৃষ্ট বিক্রয় সম্পন্ন করল; কারণ তারা স্বাধীন মানুষকে বিক্রয় করেছিল। স্বাধীন মানুষকে বিক্রয় করা হারাম। (কুরতুবী) ইমাম কুরতুবী আরও বলেনঃ আরব বণিকদের অভ্যাস ছিল, তারা মোটা অঙ্কের লেন-দেন পরিমাপের মাধ্যমে করত এবং চল্লিশের উর্ধ্বে নয়, এমন লেন-দেন গণনার মাধ্যমে করত। তাই دَرَاهِمَ শব্দের সাথে مَعْدُودَةٍ (গুণাগুনতি) শব্দের প্রয়োগ থেকে বোঝা যায় যে, দিরহামের পরিমাণ চল্লিশের কম ছিল। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের বর্ণনায় এসেছে, বিশ দিরহামের বিনিময়ে ক্রয়-বিক্রয় হয়েছিল এবং দশ ভাই দুই দিরহাম করে নিজেদের মধ্যে তা বন্টন করে নিয়েছিল। (কুরতুবী)

(২) এর দুটি অর্থ হতে পারে-

(এক) ইউসুফের ভাইয়েরা ইউসুফ-এর ব্যাপারে সম্পূর্ণ নিরাসক্ত ছিল, তাই তারা এত কম দামে বিক্রয় করে দিয়েছিল। (ইবন কাসীর) ইউসুফকে কম মূল্যে বিক্রয় করার কারণ আবার দুটি হতে পারে। প্রথমতঃ এ কারণে যে, তারা এ মহাপুরুষের সঠিক মূল্য সম্পর্কে অজ্ঞ ছিল। দ্বিতীয়তঃ তাদের আসল লক্ষ্য তার দ্বারা টাকা-পয়সা উপার্জন করা ছিল না; বরং পিতার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়াই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। তাই শুধু বিক্রয় করে দিয়েই তারা ক্ষান্ত হয়নি; বরং তারা আশংকা করছিল যে, কাফেলার লোকেরা তাকে এখানেই ছেড়ে যাবে এবং অতঃপর সে কোন রকমে পিতার কাছে পৌছে আগাগোড়া চক্রান্ত ফাঁস করে দেবে। তাই তাফসীরবিদ মুজাহিদের বর্ণনা অনুযায়ী, তারা কাফেলা রওয়ানা হয়ে যাওয়া পর্যন্ত সেখানেই অপেক্ষা করল। যখন কাফেলা রওয়ানা হয়ে গেল, তখন তারা কিছুদূর পর্যন্ত কাফেলার পিছনে পিছনে গেল এবং তাদেরকে বললঃ দেখ, এর পলায়নের অভ্যাস রয়েছে। একে মুক্ত ছেড়ে দিও না; বরং বেঁধে রাখ। (কুরতুবী; সাদী)

(দুই) এ আয়াতের আরেকটি অর্থ হতে পারে যে, কাফেলার লোকেরা ইউসুফের ব্যাপারে খুব গুরুত্ব দিচ্ছিল না, কেননা, কুড়িয়ে পাওয়া বস্তুর মূল্য আর কতই হতে পারে? (ফাতহুল কাদীর) কাফেলা বিভিন্ন মনযিল অতিক্রম করে মিশর পর্যন্ত পৌছে ইউসুফ আলাইহিস সালাম-কে বিক্রি করে দিল।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২০) আর তারা তাকে স্বল্প মূল্যে মাত্র কয়েক দিরহামের বিনিময়ে বিক্রি করে দিল।(1) তারা ছিল এতে নির্লোভ। (2)

(1) ভাইরা অথবা অন্য ব্যাখ্যা অনুযায়ী কাফেলার লোকেরা বিক্রি করেছিল।

(2) কারণ কুড়িয়ে পাওয়া বস্তু, যা মানুষ বিনা পরিশ্রমে অর্জন করে, তা যতই দামী হোক না কেন, তার সঠিক মূল্য মানুষের নিকট পরিষ্ফুটিত হয় না।