উকতুলূইঊছুফা আবিতরহূহুআরদাইঁ ইয়াখলুলাকুম ওয়াজহু আবীকুম ওয়াতাকূনূমিম বা‘দিহী কাওমান সা-লিহীন।উচ্চারণ
চলো আমরা ইউসুফকে মেরে ফেলি অথবা তাকে কোথাও ফেলে দেই, যাতে আমাদের পিতার দৃষ্টি কেবল আমাদের দিকেই ফিরে আসে। এ কাজটি শেষ করে তারপর তোমরা ভালো লোক হয়ে যাবে।” ১০ তাফহীমুল কুরআন
(সুতরাং এর সমাধান এই যে,) তোমরা ইউসুফকে হত্যা করে ফেল অথবা তাকে অন্য কোনও স্থানে ফেলে আস, যাতে তোমাদের পিতার সবটা মনোযোগ কেবল তোমাদেরই দিকে চলে আসে। আর এসব করার পর তোমরা (তাওবা করে) ভালো লোক হয়ে যাবে। মুফতী তাকী উসমানী
ইউসুফকে হত্যা কর অথবা তাকে কোন স্থানে ফেলে এসো। ফলে তোমাদের পিতার দৃষ্টি শুধু তোমাদের প্রতি নিবিষ্ট হবে এবং তারপর তোমরা ভাল লোক হয়ে যাবে।মুজিবুর রহমান
হত্যা কর ইউসুফকে কিংবা ফেলে আস তাকে অন্য কোন স্থানে। এতে শুধু তোমাদের প্রতিই তোমাদের পিতার মনোযোগ নিবিষ্ট হবে এবং এরপর তোমরা যোগ্য বিবেচিত হয়ে থাকবে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তোমরা ইউসুফকে হত্যা কর বা তাকে কোন স্থানে ফেলিয়া আস, ফলে তোমাদের পিতার দৃষ্টি শুধু তোমাদের প্রতিই নিবিষ্ট হবে এবং তার পর তোমরা ভাল লোক হয়ে যাবে।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘তোমরা ইউসুফকে হত্যা কর অথবা তাকে কোন যমীনে ফেলে আস, তাহলে তোমাদের পিতার আনুকূল্য কেবল তোমাদের জন্য থাকবে এবং তোমরা সৎ লোক হয়ে যাবে’।আল-বায়ান
তোমরা ইউসুফকে হত্যা করে ফেল কিংবা তাকে কোন ভূমিতে ফেলে আস, তাহলে তোমাদের পিতার দৃষ্টি তোমাদের প্রতিই নিবদ্ধ হবে, তার পর তোমরা (তাওবাহ করে) ভাল লোক হয়ে যাবে।তাইসিরুল
ইউসুফকে মেরে ফেল অথবা কোনো দেশে নির্বাসন দাও, তাহলে তোমাদের আব্বার মুখ তোমাদের দিকেই নিবিষ্ট হবে, এবং তার পরে তোমরা ভাল লোক হতে পারবে।মাওলানা জহুরুল হক
১০
যারা নিজেদেরকে প্রবৃত্তির কামনা-বাসনার হাতে সোর্পদ করে দেবার সাথে সাথে ঈমানদারী ও সততার সাথেও কিছুটা সম্পর্ক রেখে চলে এ বাক্যটির মধ্যে তাদের মানসিকতার একটি চমৎকার অভিব্যক্তি ঘটেছে। এ ধরনের লোকদের রীতি হচ্ছে, যখনই প্রবৃত্তি তাদের কাছে কোন খারাপ কাজ করার তাগিদ দেয় তখনই ঈমানের তাগিদ মুলতবি রেখে তারা প্রথমে প্রবৃত্তির তাগিদ পূর্ণ করার জন্য উঠে পড়ে লাগে। এ সময় বিবেক ভেতর থেকে দংশন করতে থাকলে তাকে এ বলে সান্তনা দেবার চেষ্টা করে যে, একটুখানি সময় করো, এ অনিবার্য গুনাহটি না করলে আমার কাজ আটকে থাকে, কাজেই এটা করে নিতে দাও, তারপর ইনশাআল্লাহ তাওবা করে আমি তেমনি সৎ হয়ে যাবো যেমনটি তুমি আমাকে দেখতে চাও।
এ তরজমা করা হয়েছে আয়াতের একটি তাফসীর অনুযায়ী। যেন তাদের ধারণা ছিল গুনাহ তো বড়জোর একটাই হবে! আর তাওবা দ্বারা যে-কোনও গুনাহই মাফ হয়ে যায়। সুতরাং এটা করার পর তোমরা তাওবা করে নিও, তারপর সারা জীবন ভালো হয়ে চলো। অথচ কারও উপর জুলুম করা হলে সে গুনাহ কেবল তাওবা দ্বারাই মাফ হয় না; বরং স্বয়ং মজলুম কর্তৃক ক্ষমা করাও জরুরী। এ বাক্যটির আরও এক তাফসীরও হতে পারে। তা এই যে, এর দ্বারা তারা পরে তাওবা করে ভালো হয়ে যাওয়ার কথা বোঝাতে চায়নি; বরং এর অর্থ হচ্ছে এসব করার পর তোমাদের সব ব্যাপার ঠিক হয়ে যাবে। অর্থাৎ, পিতার পক্ষ হতে কারও প্রতি পৃথক আচরণের কোনও সম্ভাবনা থাকবে না। কুরআন মাজীদের শব্দমালার প্রতি লক্ষ্য করলে এ তরজমারও অবকাশ আছে।
৯. তোমরা ইউসুফকে হত্যা কর অথবা কোন স্থানে তাকে ফেলে আস, তাহলে তোমাদের পিতার দৃষ্টি শুধু তোমাদের দিকেই নিবিষ্ট হবে এবং তারপর তোমরা ভাল লোক হয়ে যাবে।(১)
(১) এ আয়াতে ভাইদের পরামর্শ বর্ণিত হয়েছে। কেউ কেউ মত প্রকাশ করল যে, ইউসুফকে হত্যা করা হোক। কেউ বললঃ তাকে কোন অন্ধকূপের গভীরে নিক্ষেপ করা হোক- যাতে মাঝখান থেকে এ কন্টক দূর হয়ে যায় এবং পিতার সমগ্র মনোযোগ তোমাদের প্রতিই নিবদ্ধ হয়ে যায়। হত্যা কিংবা কুপে নিক্ষেপ করার কারণে যে গোনাহ হবে, তার প্রতিকার এই যে, পরবর্তীকালে তাওবা করে তোমরা সাধু হয়ে যেতে পারবে। আয়াতের (وَتَكُونُوا مِنْ بَعْدِهِ قَوْمًا صَالِحِينَ) বাক্যের এক অর্থ তাই বর্ণনা করা হয়েছে। এছাড়া এরূপ অর্থও হতে পারে যে, ইউসুফকে হত্যা করার পর তোমাদের অবস্থা ঠিক হয়ে যাবে। (কুরতুবী) অথবা অর্থ এই যে, হত্যার পর পিতা-মাতার কাছে তোমরা আবার পূর্বাবস্থায় ফিরে আসবে। কাউকে আর প্রাধান্য দেয়ার বিষয় থাকবে না। (কুরতুবী)
ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর ভ্রাতারা যে নবী ছিল না, উপরোক্ত পরামর্শ তার প্রমাণ। কেননা, এ ঘটনায় তারা অনেকগুলো কবীরা গোনাহ করেছে। একজন নিরপরাধকে হত্যার সংকল্প, পিতার অবাধ্যতা এবং তাকে কষ্ট প্রদান, চুক্তির বিরুদ্ধাচরণ ও অসৎ চক্রান্ত ইত্যাদি। (কুরতুবী; ইবন কাসীর)
(৯) ইউসুফকে হত্যা কর অথবা তাকে কোন (দূরবর্তী) স্থানে ফেলে এস, তাহলে তোমাদের পিতার দৃষ্টি শুধু তোমাদের প্রতিই নিবিষ্ট হবে এবং তারপরে তোমরা (তওবা করে) ভাল লোক হয়ে যাবে।’ (1)
(1) অর্থাৎ, তওবা করে নেবে। অর্থাৎ, কূপে নিক্ষেপ করা অথবা হত্যা করার পর সেই গোনাহ থেকে আল্লাহর নিকট তওবা করে নেবে।