লাকাদ ক-না ফী ইঊছুফা ওয়া ইখওয়াতিহীআ-য়া-তুল লিছছাইলীন।উচ্চারণ
আসলে ইউসুফ ও তাঁর ভাইদের ঘটনার মধ্যে এ প্রশ্নকারীদের জন্য বড় বড় নিদর্শন রয়েছে। তাফহীমুল কুরআন
প্রকৃতপক্ষে যারা (তোমার কাছে এ ঘটনা) জিজ্ঞেস করছে, তাদের জন্য ইউসুফ ও তাঁর ভাইদের ঘটনায় আছে বহু নিদর্শন। মুফতী তাকী উসমানী
ইউসুফ ও তার ভাইদের ঘটনায় জিজ্ঞাসুদের জন্য নিদর্শন রয়েছে।মুজিবুর রহমান
অবশ্য ইউসুফ ও তাঁর ভাইদের কাহিনীতে জিজ্ঞাসুদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
ইউসুফ এবং তার ভাইদের ঘটনায় জিজ্ঞাসুদের জন্যে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
ইউসুফ ও তার ভাইদের কাহিনীতে জিজ্ঞাসুদের জন্য অবশ্যই অনেক নিদর্শন রয়েছে।আল-বায়ান
ইউসুফ আর তার ভাইদের ঘটনায় সত্য সন্ধানীদের জন্য অবশ্যই নিদর্শনাবলী আছে।তাইসিরুল
ইউসুফ ও তাঁর ভাইদের মধ্যে নিশ্চয়ই নিদর্শন রয়েছে জিজ্ঞাসুদের জন্যে।মাওলানা জহুরুল হক
বাহ্যত এর দ্বারা সেই কাফেরদের প্রতি ইশারা করা হয়েছে, যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেছিল, বনী ইসরাঈল ফিলিস্তিন ছেড়ে মিসরের অভিবাসী হয়েছিল কেন? তাদের এ প্রশ্নের আসল উদ্দেশ্য তো ছিল মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে লা-জবাব করা। তারা মনে করেছিল তিনি উত্তর দিতে সক্ষম হবেন না। আল্লাহ তাআলা বোঝাচ্ছেন যে, তাদের প্রশ্ন দূরভিসন্ধিমূলক হলেও এ ঘটনার ভেতর তাদের জন্য বহু শিক্ষা রয়েছে যদি তারা আকল-বুদ্ধিকে কাজে লাগায়। (এক) প্রথমত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র মুখে এ ঘটনাটি বিবৃত হওয়া তাঁর নবুওয়াতের এক সাক্ষাৎ প্রমাণ। এটাই কি কিছু কম শিক্ষা? (দুই) হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের বিরুদ্ধে যত চক্রান্ত করা হয়েছে, সে চক্রান্তের হোতা তাঁর ভাইয়েরা হোক বা যুলায়খা ও তার সখীরা, শেষ পর্যন্ত প্রত্যেকটিরই মুখোশ খুলে গেছে এবং চূড়ান্ত বিজয় ও অভাবিতপূর্ব সম্মান হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামেরই নসীব হয়েছে।
৭. অবশ্যই ইউসুফ এবং তার ভাইদের(১) ঘটনায় জিজ্ঞাসুদের জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে।(২)
(১) আলোচ্য আয়াতে ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর ভাইদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ইউসুফসহ ইয়াকুব আলাইহিস সালাম-এর বারজন পুত্র সন্তান ছিল। তাদের প্রত্যেকেরই সন্তান-সন্ততি হয় এবং বংশ বিস্তার লাভ করে। ইয়াকুব আলাইহিস সালাম-এর উপাধি ছিল ইসরাঈল। তাই বারটি পরিবার সবাই ‘বনী-ইসরাঈল’ নামে খ্যাত হয়। ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর একমাত্র সহোদর ভাই ছিলেন বিনইয়ামীন এবং অবশিষ্ট দশজন বৈমাত্রেয় ভাই। (বাগভী; কুরতুবী; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ১/৪৫৫)
(২) এ আয়াতে বর্ণিত নিদর্শনসমূহ কি? এ ব্যাপারে কয়েকটি মত রয়েছে। এক. এতে রয়েছে উপদেশ ও শিক্ষা। দুই. আশ্চর্যজনক কথাসমূহ। তিন. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াতের প্রমাণ। কারণ, তিনি এ ঘটনা জানতেন না, যদি তার কাছে ওহী না আসে তো তিনি তা কিভাবে জানালেন? চার. এর অর্থ হচ্ছে, যারা প্রশ্ন করে জানতে চায় এবং যারা জানতে চায় না তাদের সবার জন্যই রয়েছে নিদর্শন। কোন কোন মুফাসসির বলেন, এর দ্বারা উদ্দেশ্য এ কাহিনীর মধ্যে অনেক প্রকার শিক্ষা রয়েছে। যেমন, এতে রয়েছে ভাইদের হিংসা, তাদের হিংসার পরিণতি, ইউসুফের স্বপ্ন এবং এর বাস্তবায়ন, কুপ্রবৃত্তি থেকে, দাসত্ব অবস্থা, বন্দিত্ব অবস্থা ইত্যাদিতে ইউসুফের সবর, বাদশাহী প্রাপ্তি, ইয়াকুবের পেরেশনী, তার ধৈর্য। শেষ পর্যন্ত প্রার্থিত অবস্থায় উপনীত হওয়া ইত্যাদি সবই এখানে নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হবে। (বাগভী) তাই এ সূরায় বর্ণিত ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর কাহিনীকে শুধুমাত্র একটি কাহিনীর নিরিখে দেখা উচিত নয়; বরং এতে জিজ্ঞাসু ও অনুসন্ধিৎসু ব্যক্তিবর্গের জন্য আল্লাহ তা'আলার অপার শক্তির বড় বড় নিদর্শন ও নির্দেশাবলী রয়েছে।
(৭) নিশ্চয়ই ইউসুফ ও তাঁর ভাইদের কাহিনীতে জিজ্ঞাসুদের জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে। (1)
(1) অর্থাৎ, এই ঘটনাতে আল্লাহর অসীম ক্ষমতা এবং নবী (সাঃ)-এর নবুঅতের সত্যবাদিতার বড় নিদর্শন রয়েছে। কোন কোন তফসীরবিদ এখানে ইউসুফ (আঃ)-এর ভাইদের নাম এবং তাঁদের বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।