ইয়াকদুমুকাওমাহূইয়াওমাল কিয়া-মাতি ফাআওরদা হুমুন্না-রু ওয়া বি‘ছাল বিরদুল মাওরূদ।উচ্চারণ
কিয়ামতের দিন সে নিজের কওমের অগ্রবর্তী হবে এবং নিজের নেতৃত্বে তাদেরকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাবে। ১০৪ অবস্থানের জন্য কেমন নিকৃষ্ট স্থান সেটা! তাফহীমুল কুরআন
কিয়ামতের দিন সে নিজ সম্প্রদায়ের অগ্রভাগে থাকবে এবং তাদের সকলকে নিয়ে জাহান্নামে নামাবে আর তা কত নিকৃষ্ট ঘাট, যাতে তারা নামবে।মুফতী তাকী উসমানী
কিয়ামাত দিবসে সে নিজ সম্প্রদায়ের আগে আগে থাকবে, অতঃপর তাদেরকে উপনীত করবেন জাহান্নামে, আর তা অতি নিকৃষ্ট স্থান, যাতে তারা উপনীত হবে।মুজিবুর রহমান
কেয়ামতের দিন সে তার জাতির লোকদের আগে আগে থাকবে এবং তাদেরকে জাহান্নামের আগুনে পৌঁছে দিবে। আর সেটা অতীব নিকৃষ্ট স্থান, সেখানে তারা পৌঁছেছে।।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
সে কিয়ামতের দিন তার সম্প্রদায়ের অগ্রভাগে থাকবে এবং সে এদেরকে নিয়ে দোজখে প্রবেশ করবে। যেখানে প্রবেশ করানো হবে তা কত নিকৃষ্ট স্থান! ইসলামিক ফাউন্ডেশন
কিয়ামত দিবসে সে তার কওমের অগ্রভাগে থাকবে এবং তাদেরকে আগুনে উপনীত করে দেবে। যেখানে তারা উপনীত হবে সেটা উপনীত হওয়ার কতইনা নিকৃষ্ট স্থান!আল-বায়ান
ক্বিয়ামাতের দিন সে তার সম্প্রদায়ের পুরোভাগে থাকবে আর তাদেরকে জাহান্নামে নিয়ে যেতে নেতৃত্ব দেবে, কতই না নিকৃষ্ট এ অবতরণ স্থল যাতে তারা উপনীত হবে।তাইসিরুল
সে কিয়ামতের দিন তার লোকদের চালিত করবে আর তাদের নামিয়ে দেবে আগুনে। আর নিকৃষ্ট সেই খাদ সেখানে তাদের নামান হবে!মাওলানা জহুরুল হক
১০৪
এ আয়াত ও কুরআনের অন্য কিছু বক্তব্য থেকে জানা যায়, যারা দুনিয়ায় কোন জাতির বা দলের নেতৃত্ব দেয় কিয়ামতের দিনও তারাই তাদের নেতা হবে। যদি তারা দুনিয়ায় নেকী, সততা ও সত্যের পথে নেতৃত্ব দিয়ে থাকে তাহলে এখানে যারা তাদের অনুসরণ করেছে তারা কিয়ামতের দিনও তাদেরই পতাকাতলে সমবেত হবে এবং তাদের নেতৃত্বে জান্নাতের দিকে এগিয়ে যাবে। আর যদি তারা দুনিয়ায় কোন ভ্রষ্টতা, নৈতিকতা বিরোধী কার্যকলাপ ও এমন কোন পথের দিকে মানুষকে আহবান জানিয়ে থাকে যা সত্য দ্বীনের পথ নয়, তাহলে যারা এখানে তাদের পথে চলেছে তারা সেখানেও তাদেরই পেছনে থাকবে এবং তাদের নেতৃত্বে জাহান্নামের দিকে এগিয়ে যাবে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিম্নোক্ত হাদীসটি এ একই বক্তব্যের প্রতিধ্বনি করছেঃ
امرو القيس حامل لواء شعراء الجاهلية الى النار
“কিয়ামতের দিন কবি ইমরাউল কয়েসের হাতে থাকবে জাহেলী কাব্যচর্চার ঝাণ্ডা এবং আরবের জাহেলিয়াত পন্থী সমস্ত কবি তার নেতৃত্বে জাহান্নামের পথে এগিয়ে যাবে।”
এ দু’ধরনের শোভাযাত্রা কোন্ ধরনের জৌলুম ও জাঁক জমকের সাথে তাদের গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাবে তার চিত্র এখন প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের চিন্তা ও কল্পনার পটে এঁকে নিতে পারে। যেসব নেতা দুনিয়ায় লোকদেরকে গোমরাহ করেছে এবং সত্য বিরোধী পথে চালিয়েছে তাদের অনুসারীরা যখন নিজেদের চোখে দেখে নেবে এ জালেমরা কী ভয়াবহ পরিণতির দিকে তাদেরকে টেনে এনেছে তখন তারা নিজেদের সমস্ত বিপদ-মুসীবতের জন্য তাদেরকে দায়ী মনে করবে এবং তাদের শোভাযাত্রা তাদেরকে নিয়ে এমন অবস্থায় জাহান্নামের দিকে রওয়ানা দেবে যে, আগে আগে তাদের নেতারা চলবে এবং তারা পেছনে পেছনে তাদেরকে গালি দিতে দিতে এবং তাদের প্রতি লানত বর্ষণ করতে করতে চলতে থাকবে। অন্যদিকে যাদের নেতৃত্ব মানুষকে নিয়ামতপূর্ণ জান্নাতের অধিকারী করবে তাদের অনুসারীরা নিজেদের শুভ পরিণাম দেখে তাদের নেতাদের জন্য দোয়া করতে থাকবে এবং তাদের ওপর প্রশংসা ও শুভেচ্ছার পুষ্প বর্ষণ করতে করতে এগিয়ে যাবে।
৯৮. সে কিয়ামতের দিনে তার সম্প্রদায়ের সামনে থাকবে।(১) অতঃপর সে তাদেরকে আগুনে উপনীত করবে। আর যেখানে তারা উপনীত হবে তা উপনীত হওয়ার কত নিকৃষ্ট স্থান!
(১) অর্থাৎ সে তাদের সামনে সামনে জাহান্নামে যাবে। কারণ সে তাদের নেতা। (কুরতুবী)
(৯৮) কিয়ামতের দিন সে নিজ সম্প্রদায়ের অগ্রভাগে থাকবে, অতঃপর তাদেরকে উপনীত করবে দোযখে।(1) আর তা অতি নিকৃষ্ট স্থান যাতে তারা উপনীত হবে।(2)
(1) অর্থাৎ ফিরআউন, যেমন দুনিয়াতে তাদের পথপ্রদর্শনকারী ও অগ্রবর্তী ছিল, কিয়ামতের দিনও সে তাদের অগ্রবর্তীই থাকবে এবং নিজ জাতিকে নিজের নেতৃত্যে জাহান্নামে নিয়ে যাবে।
(2) وِرْدٌ পানির ঘাটকে বলা হয়, যেখানে পিপাসিতরা আপন পিপাসা নিবৃত্ত করে। কিন্তু এখানে জাহান্নামকে وِرْد বলা হয়েছে।مورود সেই স্থান বা ঘাট অর্থাৎ জাহান্নাম; যেখানে মানুষকে নিয়ে যাওয়া হবে। অর্থাৎ স্থানও নিকৃষ্ট এবং যারা যাবে তারাও নিকৃষ্ট। আল্লাহ আমাদেরকে পানাহ দিন।