قَالَ لَوۡ أَنَّ لِي بِكُمۡ قُوَّةً أَوۡ ءَاوِيٓ إِلَىٰ رُكۡنٖ شَدِيدٖ

ক-লা লাও আন্না লী বিকুম কুওওয়াতান আও আ-বীইলা-রুকনিন শাদীদ।উচ্চারণ

লূত বললোঃ “হায়! যদি আমার এতটা শক্তি থাকতো যা দিয়ে আমি তোমাদের সোজা করে দিতে পারতাম অথবা কোন শক্তিশালী আশ্রয় থাকতো সেখানে আশ্রয় নিতে পারতাম।” তাফহীমুল কুরআন

লূত বলল, হায়! তোমাদের মুকাবেলা করার কোন শক্তি যদি আমার থাকত অথবা আমি যদি গ্রহণ করতে পারতাম কোন শক্তিশালী আশ্রয়! #%৫৪%#মুফতী তাকী উসমানী

সে বললঃ কি উত্তম হত যদি তোমাদের উপর আমার কিছু ক্ষমতা চলত, অথবা আমি কোন দৃঢ় স্তম্ভের আশ্রয় নিতাম!মুজিবুর রহমান

লূত (আঃ) বললেন-হায়, তোমাদের বিরুদ্ধে যদি আমার শক্তি থাকত অথবা আমি কোন সূদৃঢ় আশ্রয় গ্রহণ করতে সক্ষম হতাম।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

সে বলল, ‘তোমাদের ওপর যদি আমার শক্তি থাকত বা যদি আমি আশ্রয় নিতে পারতাম কোন সৃদৃঢ় স্তম্ভের!’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলল, ‘তোমাদের প্রতিরোধে যদি আমার কোন শক্তি থাকত অথবা আমি কোন সুদৃঢ় স্তম্ভের আশ্রয় নিতে পারতাম’*!আল-বায়ান

সে বলল, ‘তোমাদেরকে দমন করার ক্ষমতা আমার যদি থাকত! অথবা কোন মজবুত আশ্রয়ে যদি আশ্রয় নিতে পারতাম!’তাইসিরুল

তিনি বললেন -- "হায়, তোমাদের বাধা দেবার যদি আমার ক্ষমতা থাকতো, অথবা যদি কোনো জোরালো অবলন্বন পেতাম!"মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

সাদূমের সে জনপদে হযরত লূত আলাইহিস সালামের খান্দান বা গোত্রের কোন লোক ছিল না। তিনি ছিলেন ইরাকের বাসিন্দা। সাদূমেবাসীর কাছে তাঁকে নবী করে পাঠানো হয়েছিল। সাদূমবাসী যেহেতু তাঁর উম্মত ছিল, সে হিসেবেই তাদেরকে তাঁর কওম বলা হয়েছে। অতিথিদের ব্যাপারে তারা যখন এ রকম উৎপাত করছিল তখন তিনি দারুণ অসহায়ত্ব বোধ করছিলেন। তাই আক্ষেপ করে বলছিলেন, আমার খান্দানের কোন লোক এখানে থাকলে হয়ত আমার কিছুটা সাহায্য করতে পারত, যেমন পরের আয়াতে বলা হয়েছে। অবশেষে ফিরিশতাগণ নিজেদের পরিচয় ফাঁস করলেন। বললেন, আমরা ফিরিশতা। আপনি একটুও ঘাবড়াবেন না। ওরা আপনার বা আমাদের কিছুমাত্র ক্ষতি করতে পারবে না। আমাদেরকে পাঠানো হয়েছে তাদেরকে শাস্তি দেওয়ার জন্য। ভোর হলেই তাদেরকে নির্মূল করে ফেলা হবে। আপনি আপনার পরিবারবর্গসহ এ জনপদ থেকে রাতের ভেতর বের হয়ে পড়ুন। তা হলে এ আযাব থেকে রক্ষা পাবেন। তবে হযরত লূত আলাইহিস সালামের স্ত্রী ছিল কাফের। সে তাঁর সম্প্রদায়ের কুকর্মে তাদের সাহায্য করত। তাই হুকুম দেওয়া হল যে, সে আপনার সাথে যাবে না; বরং অন্যদের সাথে সেও শাস্তিতে নিপতিত হবে।

তাফসীরে জাকারিয়া

৮০. তিনি বললেন, তোমাদের উপর যদি আমার শক্তি থাকত অথবা যদি আমি আশ্রয় নিতে পারতাম কোন সুদৃঢ় স্তম্ভের(১)!

(১) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “আল্লাহ তা'আলা লুত আলাইহিস সালামের উপর রহমত করুন। তিনি নিরুপায় হয়ে সুদৃঢ় জামাতের আশ্রয় কামনা করেছিলেন।” (বুখারীঃ ৩৩৮৭, মুসলিমঃ ১৫১) আর তাই লুত আলাইহিস সালামের পরবর্তী প্রত্যেক নবী সম্ভ্রান্ত শক্তিশালী বংশে জন্মগ্রহন করেছিলেন। স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধে কোরাইশ কাফেরগণ হাজার রকম অপচেষ্টা করেছিল কিন্তু তার হাশেমী গোত্রের লোকেরা সম্মিলিতভাবে তাকে আশ্রয় ও পৃষ্ঠপোষকতা দান করেছে, যদিও ধর্মমতের দিক দিয়ে তাদের অনেকেই ভিন্নমত পোষন করত। এ জন্যই সম্পূর্ন বনি হাশেম গোত্র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে শামিল ছিল। যখন কোরাইশ কাফেররা তাদের সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করে তাদের দানা পানি বন্ধ করে দিয়েছিল।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৮০) সে বলল, ‘হায়! যদি তোমাদের উপর আমার শক্তি থাকত, অথবা আমি কোন দৃঢ় স্তম্ভের (শক্তিশালী দলের) আশ্রয় নিতে পারতাম।’(1)

(1) শক্তি থেকে উদ্দেশ্য হল নিজ দৈহিক বল ও উপকরণ-শক্তি অথবা সন্তান-সন্ততিদের ক্ষমতা। ‘দৃঢ় স্তম্ভ’ থেকে উদ্দেশ্য হল বংশ, গোত্র বা অনুরূপ কোন সুদৃঢ় আশ্রয়। অর্থাৎ, নিরুপায় হয়ে তিনি আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেছিলেন যে, ‘হায়! যদি আমার নিজের শক্তি থাকত বা কোন আত্মীয়-স্বজন ও আমার গোত্রের আশ্রয় ও সাহায্য-সহযোগিতা হত, তাহলে আজ আমাকে মেহমানদের জন্য এই অস্থিরতার শিকার ও অপমানিত হতে হত না। আমি ঐ দুর্বৃত্তদেরকে সামলে নিতাম এবং মেহমানদের হিফাযত করতে পারতাম।’ লূত (আঃ)-এর উক্ত আশা আল্লাহর উপর ভরসার পরিপন্থী নয়। যেহেতু বাহ্যিক উপায়-উপকরণ ব্যবহার করা বৈধ। আর ‘আল্লাহর উপর ভরসা’র সহীহ অর্থও এই যে, প্রথমে সকল বাহ্যিক উপায়-উপকরণ প্রয়োগ করতে হবে, তারপর আল্লাহর উপর ভরসা করতে হবে। হাত-পা বেঁধে বসে থাকা এবং মুখে ‘আল্লাহর উপর ভরসা আছে’ বলা একেবারে ভুল ব্যাখ্যা। সুতরাং বাহ্যিক উপকরণের দিকে লক্ষ্য রেখে লূত (আঃ) যা বলেছেন, বিলকুল ঠিকই বলেছেন। যাতে এই কথা প্রমাণ হয় যে, আল্লাহর পয়গম্বরগণ যেমন ‘আ-লিমুল গায়ব’ হন না, অনুরূপ তাঁরা ইচ্ছাময়ও হন না (যেমন বর্তমানে মানুষ অনেকের ব্যাপারে এরূপ বিশ্বাস রাখে)। যদি দুনিয়াতে নবীদের কোন এখতিয়ার থাকত, তবে অবশ্যই লূত (আঃ) নিজ অক্ষমতা ও সেই আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করতেন না, যা তিনি উল্লিখিত শব্দে ব্যক্ত করেছেন।