وَلَمَّا جَآءَتۡ رُسُلُنَا لُوطٗا سِيٓءَ بِهِمۡ وَضَاقَ بِهِمۡ ذَرۡعٗا وَقَالَ هَٰذَا يَوۡمٌ عَصِيبٞ

ওয়া লাম্মা-জাআত রুছুলুনা-লূতান ছীআ বিহিম ওয়াদা-কাবিহিমযারআওঁ ওয়া ক-লা হা-যা-ইয়াওমুন ‘আসীব।উচ্চারণ

আর যখন আমার ফেরেশতারা লূতের কাছে পৌঁছে গেলো ৮৫ তখন তাদের আগমনে সে খুব ঘাবড়ে গেলো এবং তার মন ভয়ে জড়সড় হয়ে গেলো। সে বলতে লাগলো, আজ বড় বিপদের দিন। ৮৬ তাফহীমুল কুরআন

যখন আমার ফিরিশতাগণ লূতের কাছে পৌঁছল, সে তাদের কারণে ঘাবড়ে গেল, তার অন্তরে উদ্বেগ দেখা দিল এবং সে বলতে লাগল, আজকের এ দিনটি বড় কঠিন। #%৫২%#মুফতী তাকী উসমানী

আর যখন আমার ঐ মালাইকাগণ লূতের নিকট উপস্থিত হল তখন সে তাদের জন্য চিন্তিত হয়ে পড়ল এবং সেই কারণে অন্তর সংকুচিত হল, আর বললঃ আজকের দিনটি অতি কঠিন।মুজিবুর রহমান

আর যখন আমার প্রেরিত ফেরেশতাগণ লূত (আঃ) এর নিকট উপস্থিত হল। তখন তাঁদের আগমনে তিনি দুচিন্তাগ্রস্ত হলেন এবং তিনি বলতে লাগলেন, আজ অত্যন্ত কঠিন দিন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং যখন আমার প্রেরিত ফেরেশতাগণ লূতের নিকট এলো তখন তাদের আগমনে সে বিষণ্ণ হল এবং নিজেকে তাদের রক্ষায় অসমর্থ মনে করল এবং বলল, ‘এটা নিদারুণ দিন!’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর যখন লূতের কাছে আমার ফেরেশতা আসল, তখন তাদের (আগমনের) কারণে তার অস্বস্তিবোধ হল এবং তার অন্তর খুব সঙ্কুচিত হয়ে গেল। আর সে বলল, ‘এ তো কঠিন দিন’।আল-বায়ান

আমার প্রেরিত বার্তাবাহকগণ যখন লূতের কাছে আসলো, তাদের আগমনে সে ঘাবড়ে গেল। (তাদেরকে রক্ষায়) নিজেকে অসমর্থ মনে করল, আর বলল, ‘আজ বড়ই বিপদের দিন।তাইসিরুল

আর যখন আমাদের বাণীবাহকরা লূত-এর কাছে এসেছিল তখন তিনি ব্যতিব্যস্ত হলেন, এবং তিনি তাদের রক্ষা করতে নিজেকে অসহায় বোধ করছিলেন, তাই তিনি বলেছিলেন -- "এ এক নিদারুণ দিন!"মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৮৫

সূরা আ’রাফের ১০ রুকূ’র টীকাগুলো দেখুন।

৮৬

এ ঘটনার যে বিস্তারিত বিবরণ কুরআন মজীদে দেয়া হয়েছে তার বক্তব্যের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য থেকে একথা সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, ফেরেশতারা সুন্দর ছেলেদের ছদ্মবেশে হযরত লূতের গৃহে এসেছিলেন। তারা যে ফেরেশতা একথা হযরত লূত জানতেন না। এ কারণে এ মেহমানদের আগমনে তিনি খুব বেশী মানসিক উৎকন্ঠা অনুভব করছিলেন এবং তাঁর মনও সংকুচিত হয়ে গিয়েছিল। তিনি নিজের সম্প্রদায়কে জানতেন। তারা কেমন ব্যভিচারী এবং কী পর্যায়ের নির্লজ্জ হয়ে গেছে তা তাঁর জানা ছিল।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

ফিরিশতাগণ হযরত লূত আলাইহিস সালামের কাছে সুদর্শন যুবকের বেশে হাজির হয়েছিল। তখনও তিনি বুঝতে পারেননি তারা ফিরিশতা। অন্য দিকে নিজ সম্প্রদায়ের বিকৃত যৌনাচার ও তাদের চরম অশ্লীলতা সম্বন্ধে তিনি অবগত ছিলেন। সঙ্গত কারণেই তিনি অত্যন্ত বিচলিত হয়ে পড়েন। তাঁর আশঙ্কা ছিল তার সম্প্রদায় এই অতিথিদেরকে তাদের লালসার নিশানা বানাতে চাইবে। তাঁর সে আশঙ্কাই সত্য হয়েছিল, যেমন পরবর্তী আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। তারা একদল সুদর্শন যুবকের আগমন সংবাদ শোনামাত্র তাদের কাছে ছুটে আসল এবং হযরত লূত আলাইহিস সালামের কাছে দাবী জানাল, তিনি যেন তার অতিথিদেরকে তাদের হাতে ছেড়ে দেন।

তাফসীরে জাকারিয়া

৭৭. আর যখন আমাদের প্রেরিত ফিরিশতাগণ লুতের কাছে আসল তখন তাদের আগমনে তিনি বিষন্ন হলেন এবং নিজকে তাদের রক্ষায় অসমর্থ মনে করলেন এবং বললেন, এটা বড়ই বিপদের দিন।(১)

(১) আলোচ্য আয়াতসমূহে লুত আলাইহিস সালাম ও তার দেশবাসীর অবস্থা ও দেশবাসীর উপর কঠিন আযাবের বর্ণনা দেয়া হয়েছে। লুত আলাইহিস সালামের কাওম একে তো কাফের ছিল অধিকন্তু এমন এক জঘন্য অপকর্ম ও লজ্জাকর অনাচারে লিপ্ত ছিল যা পূর্বে কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মধ্যে পাওয়া যায়নি, বন্য পশুরাও যা ঘৃনা করে। অর্থাৎ পুরুষ কর্তৃক অন্য পুরুষের মৈথুন করা। ব্যাভিচারের চেয়েও ইহা জঘন্য অপরাধ। এ জন্যই তাদের উপর এমন কঠিন আযাব নাযিল হয়েছে যা অন্য কোন অপকর্মকারীদের উপর কখনো নাযিল হয়নি।

লুত আলাইহিস সালামের ঘটনা যা আলোচ্য আয়াতসমূহে বর্ণিত হয়েছে তা হচ্ছে এই যে, আল্লাহ তা'আলা জিবরীল আলাইহিস সালাম সহ কতিপয় ফেরেশতাকে কওমে লুতের উপর আযাব নাযিল করার জন্য প্রেরণ করেন। যাত্রাপথে তারা ফিলিস্তানে প্রথমে ইবরাহীম আলাইহিস সালামের সমীপে উপস্থিত হন। আল্লাহ তা'আলা যখন কোন জাতিকে আযাব দ্বারা ধ্বংস করেন তখন তাদের কার্যকলাপের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আযাবই নাযিল করে থাকেন। এ ক্ষেত্রেও ফেরেশতাগণকে নওজোয়ানরূপে প্রেরণ করেন।

লুত আলাইহিস সালাম ও তাদেরকে মানুষ মনে করে তাদের নিরাপত্তার জন্য উদ্বিগ্ন হলেন। কারণ মেহমানের আতিথেয়তা নবীর নৈতিক দায়িত্ব। পক্ষান্তরে দেশবাসীর কু-স্বভাব তার অজানা ছিল না। উভয় সংকটে পড়ে তিনি স্বগতোক্তি করলেন “আজেকের দিনটি বড় সংকটময়।” লুত আলাইহিস সালামের স্ত্রী নবীর বিরুদ্ধাচারন করে কাফেরদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করত। সম্মানিত ফেরেশতাগণ সুদৰ্শন নওজোয়ান আকৃতিতে যখন লুত আলাইহিস সালামের গৃহে উপনীত হলেন তখন তার স্ত্রী সমাজের দুষ্ট লোকদের খবর দিল যে আজ আমাদের গৃহে এরূপ মেহমান আগমন করেছেন। (কুরতুবী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৭৭) আর যখন আমার ফিরিশতারা লূতের নিকট উপস্থিত হল, তখন সে তাদের ব্যাপারে চিন্তাবৃত হল এবং তাদের কারণে তার হৃদয় সঙ্কুচিত হয়ে গেল। আর বলল, ‘আজকের দিনটি অতি কঠিন।’ (1)

(1) লূত (আঃ)-এর অস্থিরতার কারণ তফসীরবিদগণ এই লিখেছেন যে, উক্ত ফিরিশতাগণ দাঁড়িবিহীন তরুণের আকৃতিতে এসেছিলেন, ফলে লূত (আঃ) নিজ সম্প্রদায়ের নোংরা স্বভাবের কারণে এই পরিস্থিতিকে বড় সংকটজনক ভাবছিলেন। কারণ তিনি জানতেন না যে, আগত উক্ত তরুণগুলি, (মানুষ) মেহমান নয়; বরং আল্লাহর প্রেরিত ফিরিশতা, যাঁরা এই সম্প্রদায়কে ধ্বংস করার জন্যই এসেছেন।