وَٱمۡرَأَتُهُۥ قَآئِمَةٞ فَضَحِكَتۡ فَبَشَّرۡنَٰهَا بِإِسۡحَٰقَ وَمِن وَرَآءِ إِسۡحَٰقَ يَعۡقُوبَ

ওয়ামর’আতুহূ কাইমাতুনফাদাহিকাত ফাবাশশারনা-হা- বিইছহা-কা ওয়ামিওঁ ওয়ারই ইছহা-কা ইয়া‘কূব।উচ্চারণ

ইবরাহীমের স্ত্রীও দাঁড়িয়ে ছিল, সে একথা শুনে হেসে ফেললো। ৭৮ তারপর আমি তাকে ইসহাকের এবং ইসহাকের পরে ইয়াকুবের সুখবর দিলাম। ৭৯ তাফহীমুল কুরআন

আর ইবরাহীমের স্ত্রী দাঁড়ানো ছিল। সে হেসে দিল। #%৪৮%# আমি তাকে (পুনরায়) ইসহাকের এবং ইসহাকের পর ইয়াকূবের জন্মের সুসংবাদ দিলাম।মুফতী তাকী উসমানী

আর তার স্ত্রী দন্ডায়মান ছিল, সে হেসে উঠলো। তখন আমি তাকে (ইবরাহীমের স্ত্রীকে) সুসংবাদ দিলাম ইসহাকের এবং ইসহাকের পর ইয়াকূবের।মুজিবুর রহমান

তাঁর স্ত্রীও নিকটেই দাড়িয়েছিল, সে হেসে ফেলল। অতঃপর আমি তাকে ইসহাকের জন্মের সুখবর দিলাম এবং ইসহাকের পরের ইয়াকুবেরও।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আর তার স্ত্রী দণ্ডায়মান এবং সে হেসে ফেলল। এরপর আমি তাকে ইস্হাকের ও ইস্হাকের পরবর্তী ইয়া‘ক‚বের সুসংবাদ দিলাম। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর তার স্ত্রী দাঁড়ানো ছিল, সে হেসে উঠল। অতঃপর আমি তাকে সুসংবাদ দিলাম ইসহাকের ও ইসহাকের পরে ইয়া‘কূবের।আল-বায়ান

(ইবরাহীমের) স্ত্রী দাঁড়িয়েছিল, সে হেসে ফেলল। তখন আমি তাকে ইসহাকের আর ইসহাকের পর ইয়া‘কূবের সুসংবাদ দিলাম।তাইসিরুল

আর তাঁর স্ত্রী দাঁড়িয়ে রয়েছেন এবং তিনি হাসলেন, আমরা তখন তাঁকে সুসংবাদ দিলাম ইসহাকের এবং ইসহাকের পরে ইয়াকুবের।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৭৮

এ থেকে বুঝা যায়, ফেরেশতার মানুষের আকৃতিতে আসার খবর শুনেই পরিবারের সবাই পেরেশান হয়ে পড়েছিল। এ খবর শুনে হযরত ইবরাহীমের স্ত্রীও ভীত হয়ে বাইরে বের হয়ে এসেছিলেন। তারপর যখন তিনি শুনলেন, তাদের গৃহের বা পরিবারের ওপর কোন বিপদ আসছে না। তখনই তার ধড়ে প্রাণ এলো এবং তিনি আনন্দিত হলেন।

৭৯

ফেরেশতাদের হযরত ইবরাহীমের পরিবর্তে তাঁর স্ত্রী হযরত সারাহকে এ খবর শুনাবার কারণ এই ছিল যে, ইতিপূর্বে হযরত ইবরাহীম একটি পুত্র সন্তান লাভ করেছিলেন। তাঁর দ্বিতীয়া স্ত্রী হযরত হাজেরার গর্ভে সাইয়্যিদিনা ইসমাইল আলাইহিস সালামের জন্ম হয়েছিল। কিন্তু এ পর্যন্ত হযরত সারাহ ছিলেন সন্তানহীনা। তাই তাঁর মনটিই ছিল বেশী বিষন্ন। তাঁর মনের এ বিষন্নতা দূর করার জন্য তাঁকে শুধু ইসহাকের মতো মহান গৌরবান্বিত পুত্রের জন্মের সুসংবাদ দিয়ে ক্ষান্ত হননি বরং এ সঙ্গে এ সুসংবাদও দেন যে, এ পুত্রের পরে আসছে ইয়াকূবের মতো নাতি, যিনি হবেন বিপুল মর্যাদা সম্পন্ন পয়গম্বর।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

কোনও কোনও মুফাসসির তাঁর হাসির কারণ এই ব্যাখ্যা করেছেন যে, যখন তিনি নিশ্চিত হলেন, তাঁরা ফিরিশতা এবং ভয়ের কিছু নেই, তখন খুশী হয়ে গেলেন এবং সেই খুশীতেই হেসে দিলেন। কিন্তু বেশি সঠিক মনে হচ্ছে এই যে, তিনি পুত্র জন্মের সুসংবাদ শুনে হেসেছিলেন। সূরা হিজর (১৫ : ৫৩) ও সূরা যারিয়াত (৫১ : ২৯-৩০)-এ বলা হয়েছে, ফিরিশতাগণ প্রথমে তাঁকে পুত্রের সুসংবাদ দিয়েছিলেন এবং তারপর হযরত লূত আলাইহিস সালামের সম্প্রদায়কে শাস্তি দানের কথা উল্লেখ করেন। এতে তিনি বিস্ময়ও বোধ করেন এবং খুশীও হন। তাঁকে হাসতে দেখে ফিরিশতাগণ পুনরায় সুসংবাদ দেন।

তাফসীরে জাকারিয়া

৭১. আর তার স্ত্রী দাঁড়ানো ছিলেন, অতঃপর তিনি হেসে ফেললেন।(১) অতঃপর আমরা তাকে ইসহাকের ও ইসহাকের পরবর্তী ইয়াকুবের সুসংবাদ দিলাম।(২)

(১) এ থেকে বুঝা যায় ফেরেশতার মানুষের আকৃতিতে আসার খবর শুনেই পরিবারের সবাই পেরেশান হয়ে পড়েছিল। এ খবর শুনে ইবরাহীমের স্ত্রীও ভীত হয়েছিলেন। তারপর যখন তিনি শুনলেন, তাদের গৃহের বা পরিবারের ওপর কোন বিপদ আসছে না। তখনই তার ধড়ে প্রাণ এলো এবং তিনি আনন্দিত হলেন। (বাগভী; কুরতুবী) অথবা তিনি আযাব নাযিল হওয়া এবং কাওমে লুতের গাফিলতির ব্যাপারটি জেনে হেসে দিলেন (বাগভী) অথবা তিনি হেসেছিলেন সন্তানের সুসংবাদ শোনার পর। তখন অবশ্য আয়াতের শব্দের মধ্যে আগ-পিছ হয়েছে ধরে নিতে হবে। (বাগভী; কুরতুবী) অথবা তিনি ও তার স্বামী উভয়েই মেহমানের খিদমতে নিয়োজিত আছেন তারপরও তারা খাচ্ছেন না, এ কথাটি তিনি হেসে হেসেই বলেছিলেন। (ইবন কাসীর)

(২) ফেরেশতাদের ইবরাহীমের পরিবর্তে তাঁর স্ত্রী সারাকে এ খবর শুনাবার কারণ এই ছিল যে, ইতিপূর্বে ইবরাহীম একটি পুত্র সন্তান লাভ করেছিলেন। তার দ্বিতীয়া স্ত্রী হাজেরার গর্ভে সাইয়্যিদিনা ইসমাঈল আলাইহিস সালামের জন্ম হয়েছিল। কিন্তু এ পর্যন্ত সারা ছিলেন সন্তানহীনা। তাই তাঁর মনটিই ছিল বেশী বিষন্ন। তাঁর মনের এ বিষন্নতা দূর করার জন্য তাঁকে শুধু ইসহাকের মতো মহান গৌরবান্বিত পুত্রের জন্মের সুসংবাদ দিয়ে ক্ষান্ত হননি বরং এ সংগে এ সুসংবাদও দেন যে, এ পুত্রের পরে আসছে ইয়াকুবের মতো নাতি, যিনি হবেন বিপুল মর্যাদা সম্পন্ন পয়গম্বর। (কুরতুবী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৭১) সে সময় তার স্ত্রী দন্ডায়মান ছিল, সে হেসে উঠল।(1) তখন আমি তাকে (ইব্রাহীমের স্ত্রীকে) সুসংবাদ দিলাম ইসহাকের এবং ইসহাকের পর ইয়াকূবের।

(1) ইবরাহীম (আঃ)-এর স্ত্রী কেন হেসেছিলেন? অনেকে বলেন, লূত (আঃ)-এর সম্প্রদায়ের ফিতনা-ফাসাদ সম্পর্কে তিনিও অবগত ছিলেন, তাই তাদের ধ্বংসের সংবাদ শুনে তিনি আনন্দ অনুভব করেছিলেন। কেউ কেউ বলেন, এই জন্য হেসেছিলেন যে, দেখো! আকাশে তাদের ধ্বংসের ফায়সালা হয়ে গেছে, আর এই সম্প্রদায় এখনো বেখবর হয়ে বসে আছে। অনেকে বলেন, বাক্যটি অগ্র-পশ্চাৎ হয়ে আছে এবং হাসির সম্পর্ক সেই সুসংবাদের সাথে আছে, যে সুসংবাদ ফিরিশতাগণ উভয় বৃদ্ধকে দিয়েছিলেন। আর আল্লাহই অধিক জানেন।