يَٰقَوۡمِ لَآ أَسۡـَٔلُكُمۡ عَلَيۡهِ أَجۡرًاۖ إِنۡ أَجۡرِيَ إِلَّا عَلَى ٱلَّذِي فَطَرَنِيٓۚ أَفَلَا تَعۡقِلُونَ

ইয়া-কাওমি লাআছআলুকুম ‘আলাইহি আজরন ইন আজরিয়া ইল্লা-‘আলাল্লাযী ফাতারনী আফালা- তা‘কিলূন।উচ্চারণ

হে আমার কওমের ভাইয়েরা! এ কাজের বিনিময়ে আমি তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না। আমার পারিশ্রমিক তো তাঁরই জিম্মায় যিনি আমাকে পয়দা করেছেন। তোমরা কি একটুও বুদ্ধি-বিবেচনা করে কাজ করো না? ৫৬ তাফহীমুল কুরআন

হে আমার কওম! আমি এর (অর্থাৎ এই প্রচার কার্যের) বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোনও পারিশ্রমিক চাই না। আমার পারিতোষিক তো অন্য কেউ নয়; বরং সেই সত্তাই নিজ দায়িত্বে রেখেছেন, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। তারপরও কি তোমরা বুদ্ধিকে কাজে লাগাবে না?মুফতী তাকী উসমানী

হে আমার কাওম! আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোন বিনিময় চাইনা; আমার বিনিময় শুধু তাঁরই জিম্মায় রয়েছে যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। তবুও কি তোমরা বুঝনা?মুজিবুর রহমান

হে আমার জাতি! আমি এজন্য তোমাদের কাছে কোন মজুরী চাই না; আমার মজুরী তাঁরই কাছে যিনি আমাকে পয়দা করেছেন; তবু তোমরা কেন বোঝ না?মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

‘হে আমার সম্প্রদায় ! আমি এটার পরিবর্তে তোমাদের নিকট পারিশ্রমিক যাচ্ঞা করি না। আমার পারিশ্রমিক আছে তাঁরই নিকট, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। তোমরা কি তবুও অনুধাবন করবে না ? ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘হে আমার কওম, আমি তোমাদের কাছে এর বিনিময়ে কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান তো কেবল তাঁরই কাছে যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। এরপরও কি তোমরা বুঝবে না’?আল-বায়ান

হে আমার সম্প্রদায়! এর বিনিময়ে আমি তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না। আমার পারিশ্রমিক তো তাঁর জিম্মায় যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, তবুও কি তোমরা জ্ঞান-বুদ্ধি খাটাবে না?তাইসিরুল

"হে আমার সম্প্রদায়! আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাইছি না। আমার শ্রমফল কেবল তাঁর কাছে যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। তোমরা কি তবে বুঝবে না?মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৫৬

এটি একটি চমৎকার অলংকার সমৃদ্ধ বাক্য। এর মধ্যে একটি শক্তিশালী যুক্তি পেশ করা হয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে, আমার কথাকে তোমরা হালকাভাবে গ্রহণ করে উপেক্ষা করে যাচ্ছো এবং এ নিয়ে গুরুত্ব সহকারে চিন্তা-ভাবনা করছো না। ফলে তোমরা যে বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ করো না এটি তার একটি প্রমাণ। নয়তো যদি তোমরা বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ করতে তাহলে অবশ্যি একথা চিন্তা করতে যে, নিজের কোন ব্যক্তিগত স্বার্থ ছাড়াই যে ব্যক্তি দাওয়াত, প্রচার, উপদেশ, নসীহতের ক্ষেত্রে এহেন কষ্ট, ক্লেশ ও পরিশ্রম করে যাচ্ছে, যার এ প্রচেষ্টা ও সংগ্রাম তোমরা কোন ব্যক্তিগত বা পারিবারিক স্বার্থের গন্ধই পেতে পারো না, সে নিশ্চয়ই বিশ্বাস ও প্রত্যয়ের এমন কোন বুনিয়াদ এবং মানসিক প্রশান্তির এমন কোন উপকরণের অধিকারী যার ভিত্তিতে সে নিজের আরাম-আয়েশ পরিত্যাগ করে এবং নিজের বৈষয়িক স্বার্থ উদ্ধারের চিন্তা থেকে বেপরোয়া হয়ে নিজেকে মারাত্মক ঝুঁকি ও বিপদের মধ্যে নিক্ষেপ করেছে। যার ফলে শত শত বছরের রচিত জমাট বাঁধা আকীদা-বিশ্বাস, রসম-রেওয়াজ ও জীবনধারার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে এবং তার কারণে সারা দুনিয়ার শত্রুতার মুখোমুখি হয়েছে। এ ধরনের মানুষের কথা আর যাই হোক এতটা হালকা হতে পারে না যে, না জেনে বুঝেই তা প্রত্যাখ্যান করা যায়। একটু বিবেচনা সহকারে তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করার জন্য মন-মস্তিষ্ককে সামান্যতম কষ্ট না দেবার মতো গুরুত্বহীন তা কোনক্রমেই হতে পারে না।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

৫১. হে আমার সম্প্রদায় আমি এর পরিবর্তে তোমাদের কাছে পরিশ্রমিক চাই না। আমার পারিশ্রমিক আছে তাঁরই কাছে যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। এরপরও কি তোমরা বুঝবে না?(১)

(১) অর্থাৎ তোমরা কি বিবেক বুদ্ধি খাটাবে না যে, আমি যে দিকে আহবান করছি তা ভেবে দেখা দরকার এবং তা কবুল করার অধিক উপযোগী, একে বাদ দেয়ার কোন বাঁধা নেই। (সা’দী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৫১) হে আমার সম্প্রদায়! আমি এর বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না, আমার পারিশ্রমিক শুধু তাঁরই দায়িত্বে রয়েছে যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন; তবুও কি তোমরা বুঝ না? (1)

(1) এটা কি বুঝ না যে, যে ব্যক্তি (তোমাদের নিকট থেকে) কোন পারিশ্রমিক ও লোভ ছাড়াই তোমাদেরকে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিচ্ছে, সে আসলে তোমাদের মঙ্গলকামী? আয়াতে ‘হে আমার সম্প্রদায়!’ শব্দ দ্বারা দাওয়াতের একটি সুন্দর পদ্ধতি বুঝা যাচ্ছে। অর্থাৎ, ‘হে কাফেরদল!’ বা ‘হে মুশরিকদল!’ শব্দ ব্যবহার না করে ‘হে আমার সম্প্রদায়’ বলে স্নেহের সাথে সম্বোধন করা হয়েছে।