আম তাকূলূনা ইন্না ইবর-হীমা ওয়াইছমা-‘ঈলা ওয়াইছহা-কাওয়া ইয়া‘কূবা ওয়াল আছবা-তা ক-নূ হূদান আও নাসা-র-কুল আআনতুম ‘আলামুআমিল্লা-হু ওয়ামান আজলামু মিম্মান কাতামা শাহা-দাতান ‘ইনদাহূ মিনাল্লা-হি ওয়ামাল্লা-হু বিগা-ফিলিন ‘আম্মা-তা‘মালূন।উচ্চারণ
অথবা তোমরা কি একথা বলতে চাও যে, ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব ও ইয়াকুব-সন্তানরা সবাই ইহুদি বা খৃস্টান ছিল?” বলো, “তোমরা বেশী জানো, না আল্লাহ বেশী জানেন? ১৪০ তার চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে, যার কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি সাক্ষ্য রয়েছে এবং সে তা গোপন করে চলে? তোমাদের কর্মকান্ডের ব্যাপারে আল্লাহ গাফেল নন। ১৪১ তাফহীমুল কুরআন
তোমরা কি বল, ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাঁদের বংশধরগণ ইয়াহুদী বা নাসারা ছিল? (হে মুসলিমগণ! তাদেরকে) বলে দাও, তোমরাই কি বেশি জান, না আল্লাহ? আর সেই ব্যক্তি অপেক্ষা বড় জালেম আর কে হতে পারে, যে তার নিকট আল্লাহ হতে যে সাক্ষ্য পৌঁছেছে তা গোপন করে? #%৯৭%# তোমরা যা-কিছু কর, সে সম্পর্কে আল্লাহ গাফেল নন।মুফতী তাকী উসমানী
তোমরা কি বলছ - ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকূব ও তদীয় বংশধরগণ ইয়াহুদী ও খৃষ্টান ছিল? তুমি বলঃ তোমরাই সঠিক জ্ঞানী না আল্লাহ এবং আল্লাহর নিকট হতে প্রাপ্ত সাক্ষ্য যে ব্যক্তি গোপন করছে সে অপেক্ষা কে বেশি অত্যাচারী? এবং তোমরা যা করছ তা হতে আল্লাহ অমনোযোগী নন।মুজিবুর রহমান
অথবা তোমরা কি বলছ যে, নিশ্চয়ই ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব (আঃ) ও তাদের সন্তানগন ইহুদী অথবা খ্রীষ্টান ছিলেন? আপনি বলে দিন, তোমরা বেশী জান, না আল্লাহ বেশী জানেন?মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তোমরা কি বল, ‘ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়া‘ক‚ব ও তার বংশধরগণ অবশ্যই ইয়াহ‚দী কিংবা খ্রিস্টান ছিল ?’ বল, ‘তোমরা কি বেশি জান, না আল্লাহ্?’ আল্লাহ্ র নিকট হতে তার কাছে যে প্রমাণ আছে তা যে গোপন করে তার অপেক্ষা অধিকতর জালিম আর কে হতে পারে ? তোমরা যা কর আল্লাহ্ সে সম্বন্ধে অনবহিত নন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
নাকি তোমরা বলছ, ‘নিশ্চয় ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকূব ও তাদের সন্তানেরা ছিল ইয়াহূদী কিংবা নাসারা? বল, ‘তোমরা অধিক জ্ঞাত নাকি আল্লাহ’? আর তার চেয়ে অধিক যালিম কে, যে আল্লাহর পক্ষ থেকে তার কাছে যে সাক্ষ্য রয়েছে তা গোপন করে? আর তোমরা যা কর, আল্লাহ সে সম্পর্কে গাফিল নন।আল-বায়ান
তোমরা কি বলছ, ইবরাহীম ও ইসমাঈল এবং ইসহাক ও ইয়াকূব এবং তার বংশধর সকলেই ইয়াহূদী কিংবা নাসারা ছিল’? বল,‘ তোমরাই বেশী জান নাকি আল্লাহ’? ঐ ব্যক্তি হতে বড় যালিম আর কে হবে, যে আল্লাহর পক্ষ হতে আগত সাক্ষ্যকে গোপন করে? তোমরা যা কিছু করছ, আল্লাহ সে বিষয়ে গাফিল নন।তাইসিরুল
অথবা তোমরা কি বলো যে ইব্রাহীম ও ইসমাইল ও ইসহাক ও ইয়াকুব এবং বিভিন্ন গোত্রেরা ইহুদী অথবা খ্রীষ্টান ছিলেন? বলো -- “তোমরা কি বেশি জানো, না আল্লাহ্? আর তাঁর চাইতে কে বেশি অন্যায় করছে যে গোপন করছে সেই সাক্ষ্য যা আল্লাহ্র কাছ থেকে সে পেয়েছে? আর তোমরা যা করছ সে সন্বন্ধে আল্লাহ্ বেখেয়াল নন।মাওলানা জহুরুল হক
১৪০
যেসব মুর্খ ইহুদি ও খৃস্টান জনতা যথার্থই মনে করতো, এ বড় বড় মহান নবীদের সকলেই ইহুদি বা খৃস্টান ছিলেন, তাদেরকে সম্বোধন করে এখানে একথা বলা হয়েছে।
১৪১
এখানে ইহুদি ও খৃস্টান আলেমদেরকে সম্বোধন করা হয়েছে। তারা নিজেরাও এ সত্যটি জানতো যে, ইহুদিবাদ ও খৃস্টবাদ সে সময় যে বৈশিষ্ট্য ও চেহারাসহ বিরাজ করছিল তা অনেক পরবর্তীকালের সৃষ্টি। কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা সত্যকে একমাত্র তাদের নিজেদের সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ মনে করছিল। তারা জনগণকে ভুল ধারণা দিয়ে আসছিল যে, নবীদের অতিক্রান্ত হয়ে যাবার দীর্ঘকাল পর তাদের ফকীহ, ন্যায়শাস্ত্রবিদ ও সুফীরা যে সমস্ত আকীদা-বিশ্বাস, পদ্ধতি, রীতি-নীতি ও ইজতিহাদী নিয়ম-কানুন রচনা করেছে, সেগুলোর আনুগত্যের মধ্যেই মানুষের কল্যাণ ও মুক্তি নিহিত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট আলেমদেরকে জিজ্ঞেস করা হতো, তোমাদের একথাই যদি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে হযরত ইবরাহীম, ইসহাক, ইয়াকূব ইত্যাদি নবীগণ তোমাদের এই সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে কোন্ সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন? তারা এ জবাব এড়িয়ে যেতো। কারণ ঐ নবীগণ তাদের সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, নিজেদের জ্ঞান অনুযায়ী তারা একথা দাবী করতে পারতো না। কিন্তু নবীগণ ইহুদিও ছিলেন না এবং খৃস্টানও ছিলেন না, একথা যদি তারা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলে দিতো তাহলে তো তাদের সব যুক্তিই শেষ হয়ে যেতো।
অর্থাৎ এই বাস্তবতা মূলত তারাও জানে যে, এ সকল নবী খালেস তাওহীদের শিক্ষা দিতেন এবং তাদের ভিত্তিহীন আকীদা-বিশ্বাসের সঙ্গে এ পুণ্যাত্মাদের কোনও সম্পর্ক ছিল না। খোদ তাদের কিতাবেই এ সত্য সুস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ আছে। তাতে শেষনবী সম্পর্কিত সুসংবাদও লেখা রয়েছে, যা আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে তাদের নিকট আগত সাক্ষ্যের মর্যাদা রাখে, কিন্তু এ জালিমগণ তা গোপন করে রেখেছে।
১৪০. তোমরা কি বল যে, অবশ্যই ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাঁর বংশধরগণ ইয়াহুদী বা নাসারা ছিল? বলুন, তোমরা কি বেশী জান, না আল্লাহ? তার চেয়ে বেশী যালিম আর কে হতে পারে যে আল্লাহর কাছ থেকে তার কাছে যে সাক্ষ্য আছে তা গোপন করে? আর তোমরা যা কর সে সম্পর্কে আল্লাহ গাফেল নন।
১৪০। তোমরা কি বল যে, ‘ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাঁর বংশধরগণ ইয়াহুদী বা খ্রিষ্টান ছিল?’ বল, ‘তোমরা কি বেশী জান, না আল্লাহ?’(1) আল্লাহর নিকট থেকে প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ যে গোপন করে, তার অপেক্ষা অধিকতর সীমালংঘনকারী আর কে হতে পারে? আর তোমরা যা কর, সে সম্বন্ধে আল্লাহ বেখবর নন। (2)
(1) তোমরা বলছ যে, ঐ সকল আম্বিয়া ও তাঁদের সন্তানরা ইয়াহুদী অথবা খ্রিষ্টান ছিলেন, অথচ মহান আল্লাহ তা খন্ডন করছেন। এখন তোমরাই বল যে, আল্লাহ বেশী জানেন, না তোমরা?
(2) তোমরা জানো যে, এই নবীগণ ইয়াহুদী বা খ্রিষ্টান ছিলেন না। অনুরূপ তোমাদের কিতাবে রসূল (সাঃ)-এর নিদর্শনসমূহ বিদ্যমান, কিন্তু এই প্রমাণগুলো লোকদের কাছে গোপন করে তোমরা যে বড় যুলুম করছো তা আল্লাহর নিকট গুপ্ত নয়।