قُلۡ أَتُحَآجُّونَنَا فِي ٱللَّهِ وَهُوَ رَبُّنَا وَرَبُّكُمۡ وَلَنَآ أَعۡمَٰلُنَا وَلَكُمۡ أَعۡمَٰلُكُمۡ وَنَحۡنُ لَهُۥ مُخۡلِصُونَ

কুলআতুহাজ্জূনানা-ফিল্লা-হি ওয়াহুওয়া রব্বুনা-ওয়ারব্বুকুম ওয়ালানাআ‘মা-লূনা-ওয়ালাকুম আ‘মা-লুকুম ওয়ানাহনূ লাহূ মুখলিসূন।উচ্চারণ

হে নবী! এদেরকে বলে দাওঃ“তোমরা কি আল্লাহর ব্যাপারে আমাদের সাথে ঝগড়া করছো? অথচ তিনিই আমাদের রব এবং তোমাদেরও। ১৩৮ আমাদের কাজ আমাদের জন্য, তোমাদের কাজ তোমাদের জন্য। আর আমরা নিজেদের ইবাদাতকে একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্ধারিত করেছি। ১৩৯ তাফহীমুল কুরআন

বলে দাও, তোমরা কি আল্লাহ সম্পর্কে আমাদের সাথে বিতর্ক করছ? অথচ তিনি আমাদের প্রতিপালক এবং তোমাদেরও প্রতিপালক তবে (এটা অন্য কথা যে,) আমাদের কর্ম আমাদের জন্য এবং তোমাদের কর্ম তোমাদের জন্য, আর আমরা তো (আমাদের ইবাদতকে) তাঁরই জন্য খালেস করে নিয়েছি। #%৯৬%#মুফতী তাকী উসমানী

তুমি বলঃ তোমরা কি আল্লাহ সম্বন্ধে আমাদের সঙ্গে বিরোধ করছ? অথচ তিনিই আমাদের রাব্ব ও তোমাদের রাব্ব, এবং আমাদের জন্য আমাদের কার্যসমূহ এবং তোমাদের জন্য তোমাদের কার্যসমূহ এবং আমরা তাঁরই প্রতি বিশ্বস্ত।মুজিবুর রহমান

আপনি বলে দিন, তোমরা কি আমাদের সাথে আল্লাহ সম্পর্কে তর্ক করছ? অথচ তিনিই আমাদের পালনকর্তা এবং তোমাদের ও পালনকর্তা। আমাদের জন্যে আমাদের কর্ম তোমাদের জন্যে তোমাদের কর্ম। এবং আমরা তাঁরই প্রতি একনিষ্ঠ।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

বল, ‘আল্লাহ্ সম্বন্ধে তোমরা কি আমাদের সঙ্গে বিতর্কে লিপ্ত হতে চাও-যখন তিনি আমাদের প্রতিপালক এবং তোমাদেরও প্রতিপালক। আমাদের কর্ম আমাদের আর তোমাদের কর্ম তোমাদের; এবং আমরা তাঁর প্রতি একনিষ্ঠ।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘তোমরা কি আমাদের সাথে আল্লাহর ব্যাপারে বিতর্ক করছ অথচ তিনি আমাদের রব ও তোমাদের রব? আর আমাদের জন্য রয়েছে আমাদের আমলসমূহ এবং তোমাদের জন্য রয়েছে তোমাদের আমলসমূহ এবং আমরা তাঁর জন্যই একনিষ্ঠ।আল-বায়ান

বল, ‘তোমরা কি আল্লাহর সম্বন্ধে আমাদের সাথে ঝগড়া করছ? অথচ তিনি আমাদেরও প্রতিপালক এবং তোমাদেরও প্রতিপালক এবং আমাদের জন্য আমাদের কৃতকর্ম এবং তোমাদের জন্য তোমাদের কৃতকর্ম এবং আমরা তাঁর প্রতি একনিষ্ঠ।’তাইসিরুল

বলো -- “তোমরা কি আমাদের সঙ্গে আল্লাহ্‌র সন্বন্ধে হুজ্জত করছ অথচ তিনি আমাদের প্রভু, তোমাদেরও প্রভু? আর আমাদের কাজ আমাদের হবে, ও তোমাদের কাজ তোমাদের হবে। আর আমরা তাঁরই প্রতি একান্ত অনুরক্ত।”মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১৩৮

অর্থাৎ আমরাও তো এই একই কথাই বলি, আল্লাহ‌ আমাদের সবার রব এবং তাঁরই আনুগত্য করতে হবে। এটা কি এমন বিষয়, যা নিয়ে তোমরা আমাদের সাথে ঝগড়া করতে পারো? ঝগড়া যদি করতে হয় তাহলে তা আমরা করতে পারি, তোমরা নও। কারণ তোমরাই আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরীক করছো এবং তার বন্দেগী করছো। আমরা এ কাজ করছি না।

اتحاجوننافى الله বাক্যটির আর একটি অনুবাদ হতে পারেঃ “আমাদের সাথে তোমাদের ঝগড়াটি কি আল্লাহর পথে? এর অর্থ এই হবে, যদি তোমরা সত্যিই লালসার বশবর্তী না হয়ে বরং আল্লাহর জন্য ঝগড়া করে থাকো, তাহলে অতি সহজেই এর মীমাংসা করা যেতে পারে।

১৩৯

তোমাদের কাজের জন্য তোমরা দায়ী আর আমাদের কাজের জন্য আমরা দায়ী। তোমরা যদি তোমাদের বন্দেগীকে বিভক্ত করে থাকো এবং অন্য কাউকে আল্লাহর সাথে শরীক করে তার পূজা-উপাসনা ও আনুগত্য করো, তাহলে তোমাদের তা করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। কিন্তু এর পরিণাম তোমাদের ভোগ করতে হবে। আমরা বলপূর্বক তোমাদেরকে এ কাজ থেকে বিরত রাখতে চাই না। কিন্তু আমরা নিজেদের বন্দেগী, আনুগত্য ও উপাসনা –আরাধনা সবকিছুই একমাত্র আল্লাহর জন্যই নির্দিষ্ট করে দিয়েছি। যদি তোমরা একথা স্বীকার করে নাও যে, আমাদেরও এ কাজ করার ক্ষমতা ও অধিকার আছে তাহলে তো ঝগড়াই মিটে যায়।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ তোমরা কি এই দাবিতে আল্লাহ সম্পর্কে আমাদের সাথে বিবাদ করছ যে, তোমরা তাঁর সন্তান ও প্রিয়পাত্র, কাজেই তাঁর নবী কেবল তোমাদের মধ্যেই পাঠানোর কথা অন্যদের মধ্যে নয়, তার রহমত লাভের উপযুক্ত কেবল তোমরাই অন্য কেউ নয় এবং জান্নাতেও যাবে কেবল তোমরা অন্য কেউ নয়? প্রকৃত পক্ষে এটা তোমাদের অবান্তর দাবি ও অযৌক্তিক তর্ক। কেননা তিনি আমাদেরও রব, তোমাদেরও রব। তাঁর বান্দা হিসেবে আমরা সকলেই সমান। বান্দা হিসেবে আমাদের উপর তোমাদের কোন শ্রেষ্ঠত্ব নেই, যে কারণে এসব মর্যাদা কেবল তোমরাই লাভ করবে। বরং এ বিষয়টা কেবলই তাঁর এখতিয়ারাধীন। তিনি যে কাউকেই বিশেষ কোন সম্মান দিতে পারেন। হ্যাঁ তাঁর নীতি হল বান্দার কর্ম অনুযায়ী সম্মান ও মর্যাদা দান করা। সুতরাং তোমাদেরকে মর্যাদা দান করা না করার ব্যাপারে যেমন তোমাদের কর্ম বিবেচ্য হবে, তেমনি আমাদের ক্ষেত্রেও একই রকম বিবেচনা করা হবে। প্রত্যেকে আপন-আপন কর্মের ফল ভোগ করবে। তোমরা নিজেরাই চিন্তা কর তোমরা কেমন আমল করছ। তওহীদের বিষয়টাই দেখ, নবীগণ আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরীক না করার শিক্ষা দেওয়া সত্ত্বেও তোমরা উভয় সম্প্রদায় শিরকে লিপ্ত হয়ে পড়েছ, কিন্তু আমাদেরকে দেখ, আলহামদুলিল্লাহ আমরা আমাদের আকীদা-বিশ্বাসেও সর্বপ্রকার শিরককে পরিহার করে চলছি এবং আমাদের সমস্ত আমলও খালেস আল্লাহরই জন্য করছি। আমরা তাঁর সাথে কাউকে শরীক করছি না। এতদসত্ত্বেও এটা কেমন কথা যে, তাঁর রহমত লাভের অধিকার তোমাদেরই জন্য সংরক্ষিত। আর আমরা তা থেকে বঞ্চিত থাকব? -অনুবাদক

তাফসীরে জাকারিয়া

১৩৯. বলুন, 'আল্লাহ সম্বন্ধে তোমরা কি আমাদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হতে চাও? অথচ তিনি আমাদের রব এবং তোমাদেরও রব! আমাদের জন্য আমাদের আমল। আর তোমাদের জন্য তোমাদের আমল(১), এবং আমরা তাঁরই প্রতি একনিষ্ঠ(২)।

(১) তোমাদের কাজের জন্য তোমরা দায়ী আর আমাদের কাজের জন্য আমরা দায়ী। তোমরা যদি তোমাদের ইবাদাতকে বিভক্ত করে থাক এবং অন্য কাউকে আল্লাহর সাথে শরীক করে তার ইবাদাত ও আনুগত্য কর, তাহলে তোমাদেরকে তা করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। কিন্তু এর পরিণাম তোমাদেরকে ভোগ করতে হবে। আমরা বলপূর্বক তোমাদেরকে এ কাজ থেকে বিরত রাখতে চাই না। কিন্তু আমরা নিজেদের যাবতীয় ইবাদাত ও আনুগত্য একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট করে দিয়েছি। যদি তোমরা এ কথা স্বীকার করে নাও যে, আমাদেরও এ কাজ করার ক্ষমতা ও অধিকার আছে, তাহলে তো ঝগড়াই মিটে যায়।

(২) এখানে মুসলিম সম্প্রদায়ের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়েছে যে, তারা আল্লাহর ব্যাপারে নিষ্ঠাবান। নিষ্ঠা বা ইখলাসের অর্থ, আল্লাহর সাথে কাউকে অংশীদার না করা এবং একমাত্র আল্লাহর জন্য সৎকর্ম করা; মানুষকে দেখানোর জন্য অথবা মানুষের প্রশংসা অর্জনের জন্য নয়।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

১৩৯। বল, ‘আল্লাহ সম্বন্ধে তোমরা কি আমাদের সঙ্গে বিতর্কে লিপ্ত হতে চাও? অথচ তিনি আমাদের প্রতিপালক এবং তোমাদেরও প্রতিপালক। আমাদের কর্ম আমাদের এবং তোমাদের কর্ম তোমাদের জন্য; আর আমরা তাঁর প্রতি অকপট।’ (1)

(1) তোমরা কি এই কারণেই আমাদের সাথে বিবাদে লিপ্ত যে, আমরা এক আল্লাহরই ইবাদত করি। তাঁরই জন্য নিষ্ঠা ও আনুগত্যের উদ্যম রাখি। তাঁর আদেশাবলী পালন করি এবং নিষেধাবলী থেকে বিরত থাকি। অথচ তিনি যে কেবল আমাদের প্রতিপালক তা নয়, বরং তিনি তোমাদেরও প্রতিপালক। তোমাদেরকেও তাঁর সাথে ঐরূপ আচরণ করা দরকার যেরূপ আমরা করি। তোমরা যদি এমনটি না কর, তবে তোমাদের জন্য তোমাদের কর্ম এবং আমাদের জন্য আমাদের কর্ম। আমরা তো তাঁর জন্য নিষ্ঠার সাথে আমল করার প্রতি যত্নবান।