ওয়া মা-ক-না লিনাফছিন আন তু’মিনা ইল্লা-বিইযনিল্লা-হি ওয়া ইয়াজ‘আলুর রিজছা ‘আলাল্লাযীনা লা-ইয়া‘কিলূন।উচ্চারণ

আল্লাহর হুকুম ছাড়া কেউই ঈমান আনতে পারে না। ১০৩ আর আল্লাহর রীতি হচ্ছে, যারা বুদ্ধি প্রয়োগ করে কাজ করে না তাদের ওপর কলুষতা চাপিয়ে দেন। ১০৪ তাফহীমুল কুরআন

এটা কারও পক্ষেই সম্ভব নয় যে, আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতিরেকে মুমিন হয়ে যাবে। যারা তাদের বুদ্ধি কাজে লাগায় না আল্লাহ তাদের উপর কলুষ চাপিয়ে দেন। #%৫২%#মুফতী তাকী উসমানী

অথচ আল্লাহর হুকুম ছাড়া কারও ঈমান আনা সম্ভব নয়; আর আল্লাহ নির্বোধ লোকদের উপর (কুফরীর) অপবিত্রতা স্থাপন করে দেন।মুজিবুর রহমান

আর কারো ঈমান আনা হতে পারে না, যতক্ষণ না আল্লাহর হুকুম হয়। পক্ষান্তরে তিনি অপবিত্রতা আরোপ করেন যারা বুদ্ধি প্রয়োগ করে না তাদের উপর।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আল্লাহ্ র অনুমতি ব্যতীত ঈমান আনা কারও সাধ্য নয় আর যারা অনুধাবন করে না আল্লাহ্ তাদেরকে কলুষলিপ্ত করেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর কারও পক্ষে সম্ভব নয় যে, আল্লাহর অনুমতি ছাড়া ঈমান আনবে এবং যারা বুঝে না তিনি আযাব চাপিয়ে দেবেন তাদের উপর।আল-বায়ান

আল্লাহর অনুমতি ব্যতিরেকে কেউ ঈমান আনতে পারবে না, আর যারা বিবেক বুদ্ধি খাটায় না, আল্লাহ তাদের উপর গুমরাহী চাপিয়ে দেন।তাইসিরুল

আর কোনো প্রাণীর পক্ষে বিশ্বাস করা সম্ভবপর নয় আল্লাহ্‌র অনুমতি ব্যতীত। আর তিনি কলুষতা নিক্ষেপ করেন তাদের উপরে যারা বুঝে না।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১০৩

অর্থাৎ সমস্ত নিয়ামত যেমন আল্লাহর একচ্ছত্র মালিকানাধীন এবং আল্লাহর হুকুম ছাড়া কোন ব্যক্তি কোন নেয়ামতও নিজে লাভ করতে বা অন্যকে দান করতে পারে না ঠিক তেমনভাবে এ ঈমানের নিয়ামতও আল্লাহর একচ্ছত্র মালিকানাধীন। অর্থাৎ কোন ব্যক্তির ঈমানদার হওয়া এবং তার সত্য সঠিক পথের সন্ধান লাভ করাও আল্লাহর অনুমতির ওপর নির্ভরশীল। আল্লাহর হুকুম ছাড়া কোন ব্যক্তি এ নিয়ামতটি নিজে লাভ করতে পারে না এবং কোন মানুষ ইচ্ছা করলে কাউকে এ নিয়ামতটি দান করতেও পারে না। কাজেই নবী যদি লোকদেরকে মু’মিন বানাবার জন্য একান্ত আন্তরিকভাবে কামনাও করেন তাহলেও তার জন্য আল্লাহর হুকুম এবং তার পক্ষ থেকে এ কাজের জন্য সুযোগ দানেরও প্রয়োজন হয়।

১০৪

এখানে পরিষ্কার বলে দেয়া হয়েছে, আল্লাহর অনুমতি ও তার সুযোগ দান অন্ধভাবে বিচার-বিবেচনা ছাড়াই সম্পন্ন হয় না। কোন রকম মহৎ উদ্দেশ্য ছাড়া এবং কোন প্রকার যুক্তিসঙ্গত নিয়ম কানুন ছাড়াই যেভাবে ইচ্ছা এবং যাকে ইচ্ছা এ নিয়ামতটি লাভ করার সুযোগ দেয়াও হয় না এবং যাকে ইচ্ছা এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত ও করা হয় না। বরং এর একটি অত্যন্ত জ্ঞানগর্ভ নিয়ম হচ্ছে, যে ব্যক্তি সত্যের সন্ধানে নিজের বুদ্ধিবৃত্তিকে নির্দ্বিধায় যথাযথভাবে ব্যবহার করে তার জন্য তো আল্লাহর পক্ষ থেকে সত্যে পৌঁছে যাবার কার্যকরণ ও উপায়-উপকরণ তার নিজের প্রচেষ্টা ও চাহিদার অনুপাতে সরবরাহ করে দেয়া হয় এবং তাকেই সঠিক জ্ঞান লাভ করার ঈমান আনার সুযোগ দান করা হয়। আর যারা সত্যসন্ধানি নয় এবং নিজেদের বুদ্ধিকে অন্ধগোষ্ঠী প্রীতি ও সংকীর্ণ স্বার্থ-বিদ্বেষের ফাঁদে আটকে রাখে অথবা আদৌ তাকে সত্যের সন্ধানে ব্যবহারই করে না তাদের জন্য আল্লাহর নিয়তির ভাণ্ডারে মূর্খতা, অজ্ঞতা, ভ্রষ্টতা, ত্রুটিপূর্ণ দৃষ্টি ও ত্রুটিপূর্ণ কর্মের আবর্জনা ছাড়া আর কিছুই নেই। তারা নিজেদেরকে এ ধরনের আবর্জনা ও অপবিত্রতার যোগ্য করে এবং এটিই হয়ে যায় তাদের নিয়তির লিখন।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

আল্লাহ তাআলার হুকুম ছাড়া বিশ্ব জগতের কোথাও কিছু হতে পারে না। সুতরাং তার হুকুম ছাড়া কারও পক্ষে ঈমান আনাও সম্ভব নয়। তবে আল্লাহ তাআলা ঈমান আনার তাওফীক তাকেই দেন, যে নিজ বুদ্ধি-বিবেচনাকে কাজে লাগিয়ে ঈমান আনতে চেষ্টা করে। যে ব্যক্তি বুদ্ধি-বিবেচনাকে কাজে লাগায় না তার উপর কুফুরের কলুষ চাপিয়ে দেওয়া হয়।

তাফসীরে জাকারিয়া

১০০. আর আল্লাহর অনুমতি ছাড়া ঈমান আনা কারো সাধ্য নয় এবং যারা বোঝে না আল্লাহ তাদেরকেই কলুষলিপ্ত করেন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১০০) অথচ আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কারো বিশ্বাস স্থাপন করার সাধ্য নেই; আর আল্লাহ নির্বোধ লোকদের উপর (কুফরীর) অপবিত্রতা স্থাপন করে দেন। (1)

(1) ‘অপবিত্রতা’ থেকে উদ্দেশ্য হল আযাব বা কুফরী। অর্থাৎ, যারা আল্লাহর নিদর্শনাবলী নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে না, তারা কুফরীতেই নিমজ্জিত থাকে এবং এই ভাবেই আযাবের উপযুক্ত হয়ে যায়।