ফাইন তাওয়াল্লাইতুম ফামা-ছাআলতুকুম মিন আজরিন ইন আজরিয়া ইল্লা-‘আলাল্লা-হি ওয়া উমিরতুআন আকূনা মিনাল মুছলিমীন।উচ্চারণ
তোমরা আমার নসীহত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছো। (এতে আমার কি ক্ষতি করছো) , আমি তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাইনি। আমার প্রতিদান তো আল্লাহর কাছে। আমাকে হুকুম দেয়া হয়েছে (কেউ স্বীকার করুক বা না করুক) আমি যেন মুসলিম হিসেবে থাকি। তাফহীমুল কুরআন
তথাপি তোমরা যদি মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে এর (অর্থাৎ এই প্রচার কার্যের) বিনিময়ে আমি তো তোমাদের কাছে কোনও পারিশ্রমিক চাইনি। #%৩৮%# আমার পারিশ্রমিক অন্য কেউ নয়; কেবল আল্লাহই নিজ দায়িত্বে রেখেছেন। আর আমাকে হুকুম দেওয়া হয়েছে, আমি যেন অনুগত লোকদের মধ্যে শামিল থাকি।মুফতী তাকী উসমানী
অতঃপর যদি তোমরা পরোম্মুখই থাক তাহলে আমিতো তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাইনা, আমার পারিশ্রমিকতো শুধু আল্লাহরই যিম্মায় রয়েছে। আর আমাকে হুকুম করা হয়েছে, আমি যেন মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত থাকি।মুজিবুর রহমান
তারপরও যদি বিমুখতা অবলম্বন কর, তবে আমি তোমাদের কাছে কোন রকম বিনিময় কামনা করি না। আমার বিনিময় হল আল্লাহর দায়িত্বে। আর আমার প্রতি নির্দেশ রয়েছে যেন আমি আনুগত্য অবলম্বন করি।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
‘অতঃপর তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিলে নিতে পার, তোমাদের নিকট আমি তো কোন পারিশ্রমিক চাই নাই, আমার পারিশ্রমিক আছে আল্লাহ্ র নিকট, আমি তো আত্মসমর্পণকারীদের অন্তর্ভুক্ত হতে আদিষ্ট হয়েছি।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘অতঃপর তোমরা যদি বিমুখ হও, তবে আমি তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান তো কেবল আল্লাহর দায়িত্বে। আর আমি আদিষ্ট হয়েছি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার’।আল-বায়ান
আর যদি তোমরা (আমার আহবান থেকে) মুখ ফিরিয়ে নাও (তাতে আমার কোন ক্ষতি হবে না), আমি তো তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাচ্ছি না, আমার পারিশ্রমিক আছে কেবল আল্লাহরই নিকট, আমাকে আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে শামিল হওয়ারই আদেশ দেয়া হয়েছে।তাইসিরুল
কিন্তু যদি তোমরা ফিরে যাও তবে আমি তোমাদের কাছ থেকে কোনো পারিশ্রমিক চাইনি। আমার পারিশ্রমিক কেবল আল্লাহ্র কাছেই রয়েছে, আর আমাকে আদেশ করা হয়েছে যেন আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হই।মাওলানা জহুরুল হক
অর্থাৎ, তাবলীগের বিনিময়ে যদি তোমাদের থেকে কোনও পারিশ্রমিক নিতে হত, তবে তোমাদের প্রত্যাখ্যান দ্বারা আমার ক্ষতি হতে পারত। অর্থাৎ, আশঙ্কা থাকত যে, আমার পারিশ্রমিক আটকে দেওয়া হবে। কিন্তু আমি তো পারিশ্রমিক চাইই না। কাজেই তোমরা প্রত্যাখ্যান করলে তাতে আমার ব্যক্তিগত কোনও ক্ষতি নেই।
৭২. অতঃপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও তবে তোমাদের কাছে আমি তো কোন পারিশ্রমিক চাইনি, আমার পারিশ্রমিক আছে তো কেবল আল্লাহ্র কাছে, আর আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হতে আদেশপ্রাপ্ত হয়েছি।(১)
(১) অর্থাৎ আমাকে যে ইসলামের আনুগত্য করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে তার আনুগত্য আমি করছি। এর দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যে, ইসলাম সমস্ত নবী-রাসূলদের দ্বীন। তাদের শরীআত বিভিন্ন ছিল কিন্তু দ্বীন একই ছিল। নূহ আলাইহিস সালামের দ্বীন যে ইসলাম ছিল তা এ আয়াতে তার কথা থেকে আমরা তা জানতে পারলাম। অনুরূপভাবে ইবরাহীম আলাইহিস সালামও ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, “আমি রাব্বুল আলামীনের জন্য আত্মসমৰ্পন তথা ইসলাম গ্রহণ করেছি। (সূরা আল-বাকারাহঃ ১৩১) তাছাড়া ইয়াকুব আলাইহিস সালামও তার দ্বীনকে ইসলাম বলে ঘোষণা করেছিলেন। (দেখুন সূরা আল-বাকারাহঃ ১৩২) আর ইউসুফ ও মূসা আলাইহিমাস সালামও সেটা ঘোষণা করেছিলেন। (দেখুন, সূরা ইউসুফঃ ১০১, সূরা ইউনুসঃ ৮৪) বরং মূসা আলাইহিস সালামের উপর ঈমান গ্রহণকারী জাদুকরগণ, রাণী বিলকিস, ঈসা আলাইহিস সালামের হাওয়ারীগণ এরা সবাই তাদের দ্বীনকে ইসলাম বলে জানিয়েছেন। (দেখুনঃ সূরা আল-আরাফঃ ১২৬, সূরা আন-নামলঃ ৪৪, সূরা আল-মায়েদাহঃ ৪৪, ১১১)
এমনকি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকেও আল্লাহ তা'আলা এ দ্বীনের অনুসারী হওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেছেনঃ “বলুন, আমার সালাত, আমার ইবাদাত, আমার জীবন ও আমার মরণ জগতসমূহের রব আল্লাহরই উদ্দেশ্যে। তার কোন শরীক নেই এবং আমি এরই জন্য আদেশপ্রাপ্ত হয়েছি এবং আমিই প্রথম মুসলিম।” (সূরা আল-আনআমঃ ১৬২, ১৬৩) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমরা নবীগোষ্ঠি বৈমাত্রেয় ভাই, আমাদের দ্বীন একই’। (বুখারীঃ ৩৪৪৩, মুসলিমঃ ২৩৬৫)
(৭২) অতঃপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তাহলে আমি তো তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না।(1) আমার পারিশ্রমিক তো শুধু আল্লাহরই যিম্মায় রয়েছে। আর আমাকে হুকুম করা হয়েছে যে, আমি যেন আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম)দের অন্তর্ভুক্ত থাকি।’ (2)
(1) (আমি তো তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না) যে, তার কারণে তোমরা এই অপবাদ দিতে পারবে যে, নবুওয়াতের দাবীদার হয়ে আমার উদ্দেশ্য ধন-সম্পদ অর্জন করা।
(2) নূহ (আঃ)-এর এই কথা দ্বারাও জানা গেল যে, সকল আম্বিয়াগণের দ্বীন ইসলামই ছিল। যদিও শরীয়তের নিয়ম-নীতি ভিন্ন ও তরীকা বিভিন্ন ছিল। যেমন (لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجا) المائدة-৪৮ দ্বারা বুঝা যায়। কিন্তু সকলের দ্বীন ছিল ইসলাম। দেখুনঃ সূরা নামল ৪৪, ৯১, সূরা বাক্বারাহ ১৩১-১৩২, সূরা ইউসুফ ১০১, সূরা ইউনুস ৮৪, সূরা আ’রাফ ১২৬, সূরা মাইদাহ ৪৮, ১১১ এবং সূরা আনআম ১৬২-১৬৩নং আয়াত।