ওয়াতলু‘আলাইহিম নাবাআ নূহ । ইযক-লা লিকাওমিহী ইয়া-কাওমি ইন ক-না কাবুর ‘আলাইকুম মাক-মী ওয়া তাযকীরী বিআ-য়া-তিল্লা-হি ফা‘আলাল্লা-হি তাওয়াক্কালতু ফাআজমি‘ঊ আমরকুম ওয়া শুরকাআকুম ছুম্মা লা-ইয়াকুন আমরুকুম ‘আলাইকুম গুম্মাতান ছু ম্মাকদূ ইলাইইয়া ওয়ালা-তুনজিরূন।উচ্চারণ

তাদেরকে নূহের কথা শুনাও। ৬৯ সেই সময়ের কথা যখন সে তার কওমকে বলেছিল হে আমার কওমের লোকেরা! যদি তোমাদের মধ্যে আমার অবস্থান ও বসবাস এবং আল্লাহর আয়াত শুনিয়ে শুনিয়ে তোমাদের গাফলতি থেকে জাগিয়ে তোলা তোমাদের কাছে অসহনীয় হয়ে গিয়ে থাকে তাহলে আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করি, তোমরা নিজেদের তৈরী করা শরীকদের সঙ্গে নিয়ে একটি সম্মিলিত সিদ্ধান্ত করে নাও এবং তোমাদের সামনে যে পরিকল্পনা আছে সে সম্পর্কে খুব ভালোভাবে চিন্তা করে নাও, যাতে করে কোন একটি দিকও তোমাদের দৃষ্টির আড়ালে না থেকে যায়। তারপর আমার বিরুদ্ধে তাকে সক্রিয় করো এবং আমাকে মোটেই অবকাশ দিয়ো না ৭০ তাফহীমুল কুরআন

(হে নবী!) তাদের সামনে নূহের ঘটনা পড়ে শোনাও, যখন সে নিজ কওমকে বলেছিল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে আমার অবস্থান এবং আল্লাহর আয়াতসমূহের মাধ্যমে তোমাদেরকে সতর্ক করাটা যদি তোমাদের পক্ষে দুঃসহ হয়, তবে আমি তো আল্লাহরই উপর ভরসা করেছি। #%৩৭%# সুতরাং তোমরা তোমাদের শরীকদেরকে সঙ্গে নিয়ে (আমার বিরুদ্ধে) তোমাদের কৌশল পাকাপোক্ত করে নাও, তারপর তোমরা যে কৌশল অবলম্বন করবে তা যেন তোমাদের অন্তরে কোন দ্বিধা-দ্বন্দ্বের কারণ না হয়; বরং আমার বিরুদ্ধে তোমাদের সিদ্ধান্ত (আনন্দচিত্তে) কার্যকর করে ফেল এবং আমাকে একদম সময় দিও না।মুফতী তাকী উসমানী

আর তুমি তাদেরকে নূহের ইতিবৃত্ত পড়ে শোনাও, যখন সে নিজের কাওমকে বললঃ হে আমার কাওম! যদি তোমাদের কাছে দুর্বহ মনে হয় আমার অবস্থান এবং আল্লাহর আদেশাবলীর নাসীহাত করা, তাহলে আমারতো আল্লাহরই উপর ভরসা। সুতরাং তোমরা তোমাদের (কল্পিত) শরীকদেরকে সঙ্গে নিয়ে নিজেদের ষড়যন্ত্র মাযবূত করে নাও, অতঃপর তোমাদের সেই তদবীর (গোপন ষড়যন্ত্র) যেন তোমাদের দুশ্চিন্তার কারণ না হয়, তারপর আমার সাথে (যা করতে চাও) করে ফেল, আর আমাকে মোটেই অবকাশ দিওনা।মুজিবুর রহমান

আর তাদেরকে শুনিয়ে দাও নূহের অবস্থা যখন সে স্বীয় সম্প্রদায়কে বলল, হে আমার সম্প্রদায়, যদি তোমাদের মাঝে আমার অবস্থিতি এবং আল্লাহর আয়াতসমূহের মাধ্যমে নসীহত করা ভারী বলে মনে হয়ে থাকে, তবে আমি আল্লাহর উপর ভরসা করছি। এখন তোমরা সবাই মিলে নিজেরদের কর্ম সাব্যস্ত কর এবং এতে তোমাদের শরীকদেরকে সমবেত করে নাও, যাতে তোমাদের মাঝে নিজেদের কাজের ব্যাপারে কোন সন্দেহ-সংশয় না থাকে। অতঃপর আমার সম্পর্কে যা কিছু করার করে ফেল এবং আমাকে অব্যাহতি দিও না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এদেরকে নূহ্-এর বৃত্তান্ত শোনাও। সে তার সম্প্রদায়কে বলেছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! আমার অবস্থিতি ও আল্লাহ্ র নিদর্শন দিয়ে আমার উপদেশদান তোমাদের নিকট যদি দুঃসহ হয় তবে আমি তো আল্লাহ্ র ওপর নির্ভর করি। তোমরা যাদেরকে শরীক করেছ তৎসহ তোমাদের কর্তব্য স্থির করে নাও, পরে যেন কর্তব্য বিষয়ে তোমাদের কোন সংশয় না থাকে। আমার সম্বন্ধে তোমাদের কর্ম নিষ্পন্ন করে ফেল আর আমাকে অবকাশ দিও না। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর তাদেরকে নূহের সংবাদ পড়ে শুনাও, যখন সে তার কওমকে বলল, ‘হে আমার কওম, আমার অবস্থান এবং আল্লাহর আয়াতসমূহের মাধ্যমে আমার উপদেশ দান যদি তোমাদের কাছে ভারী মনে হয়, তবে আমি আল্লাহর উপরই তাওয়াক্কুল করলাম। সুতরাং তোমরা অভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ কর এবং (সাথে নাও) তোমাদের শরীকদের। তারপর তোমাদের বিষয়টি যেন তোমাদের নিকট অস্পষ্ট না থাকে। এরপর আমার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত কর এবং আমাকে অবকাশ দিও না’।আল-বায়ান

তাদেরকে নূহের কাহিনী পড়ে শোনাও। যখন সে তার সম্প্রদায়কে বলেছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! আমার অবস্থিতি আর আল্লাহর আয়াতসমূহ দ্বারা তোমাদের প্রতি আমার উপদেশ দান যদি তোমাদের নিকট অসহ্য মনে হয় (তাতে আমার কোন পরোয়া নেই) কারণ আমি ভরসা করি আল্লাহর উপর। তোমরা তোমাদের শরীকদেরকে নিয়ে সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ কর, পরে তোমাদের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তোমাদের মাঝে যেন অস্পষ্টতা না থাকে, অতঃপর আমার উপর তা কার্যকর কর আর আমাকে কোন অবকাশই দিও না।তাইসিরুল

আর তাদের কাছে নূহ-এর কাহিনী বর্ণনা করো। স্মরণ করো! তিনি তাঁর লোকদের বলেছিলেন -- "হে আমার সম্প্রদায়! যদি আমার বসবাস এবং আল্লাহ্‌র বাণীদ্বারা আমার উপদেশদান তোমাদের উপরে গুরুভার হয়, তাহলে আল্লাহ্‌র উপরেই আমি নির্ভর করছি, সুতরাং তোমাদের কাজের ধারা ও তোমাদের অংশীদের গুটিয়ে নাও, তারপর তোমাদের কাজের ধারায় যেন তোমাদের কোনো সংশয় না থাকে, তখন আমার দিকে তা খাটাও, এবং আমাকে বিরাম দিয় না।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৬৯

এ পর্যন্ত যে আলোচনা হয়েছে তাতে এ লোকদেরকে ন্যায়সঙ্গত যুক্তি ও হৃদয়গ্রাহী উপদেশের মাধ্যমে তাদের আকীদা-বিশ্বাস এবং চিন্তা ও পদ্ধতিতে কি কি ভুল-ভ্রান্তি আছে এবং সেগুলো ভুল কেন আর এর মোকাবিলায় সঠিক পথ কি এবং তা সঠিক কেন, একথা বুঝানো হয়েছিল। এই সহজ, সরল ও সুস্পষ্ট উপদেশের জবাবে তারা যে কর্মনীতি অবলম্বন করেছিল আলোচ্য রুকূ’তে) সে দিকে দৃষ্টি দেয়া হয়েছে। দশ বারো বছর ধরে তারা এ নীতি অবলম্বন করে আসছিল যে এ যুক্তিসঙ্গত সমালোচনা ও সঠিক পথপ্রদর্শনের ব্যাপারে চিন্তা ভাবনার মাধ্যমে নিজেদের ভুল পথ অবলম্বনের ব্যাপারটি পুনর্বিবেচনা না করে উল্টো যে ব্যক্তি নিজের কোন স্বার্থে নয় বরং তাদের ভালোর জন্য একথাগুলো পেশ করেছিলেন তার প্রাণনাশে উদ্যোগী হয়। তারা যুক্তির জবাব পাথরের সাহায্যে এবং নসিহতের জবাব গালির সাহায্যে দিয়ে চলছিল। নিজেদের লোকালয়ে এমন ব্যক্তির অস্তিত্ব তাদের কাছে ভয়ানক বিরক্তিকর বরং অসহ্যকর হয়ে উঠেছিল যিনি মিথ্যাকে মিথ্যা বলেন এবং সঠিক কথা বলার চেষ্টা করেন। তাদের দাবী ছিল, আমাদের এ অন্ধদের সমাজে যদি কোন চক্ষুষ্মান ব্যক্তি থেকে থাকে তবে সে আমাদের চোখ খুলে কানা করে দেবার পরিবর্তে তার নিজের চোখও বন্ধ করে রাখুক। নয়তো আমরা জোর করে তার চোখ কানা করে দেবো, যাতে আমাদের দেশে দৃষ্টিশক্তি নামক কোন জিনিস না থাকে। তারা এই যে কর্মনীতি অবলম্বন করেছিল এ সম্পর্কে আরো কিছু বলার পরিবর্তে আল্লাহ‌ তাঁর নবীকে হুকুম দিচ্ছেন, তাদেরকে নূহের ঘটনা শুনিয়ে দাও, এ ঘটনা থেকেই তারা তোমার ও তাদের মধ্যকার ব্যাপারটির জবাব পেয়ে যাবে।

৭০

এটা একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। বলা হচ্ছে, আমি নিজের কাজ থেকে বিরত হবো না। তোমরা আমার বিরুদ্ধে যা করতে চাও করো। আমি আল্লাহর ওপর ভরসা রাখি। (তুলনামূলক পাঠের জন্য দেখুন সূরা হুদের ৫৫ আয়াত)

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

যারা খেয়াল-খুশিমতই চলতে চায়, উপদেশদাতার উপদেশ তাদের কাছে অসহ্য বোধ হয়, ক্ষেত্রবিশেষে তাদের অস্তিত্বটাই তাদের দুঃসহ লাগে। তাই তারা তাদের কণ্ঠরোধ করেই ক্ষান্ত হয় না, তাদের জীবন নাশেরও চেষ্টা করে। হযরত নূহ ‘আলাইহিস সালামের প্রতি তাঁর সম্প্রদায় এ রকম আচরণই করেছিল। কিন্তু নিজ মিশনে নবীগণের অবিচলতা এবং আল্লাহর প্রতি তাদের আস্থা থাকে চরম পর্যায়ে। হযরত নূহ ‘আলাইহিস সালাম নিজ বক্তব্য দ্বারা তাদেরকে সে কথারই জানান দিচ্ছেন। -অনুবাদক

তাফসীরে জাকারিয়া

৭১. আর তাদেরকে নূহ-এর বৃত্তান্ত শোনান।(১) তিনি তার সম্প্রদায়কে বলেছিলেন, হে আমার সম্প্রদায়! আমার অবস্থিতি ও আল্লাহর আয়াতসমূহ দ্বারা আমার উপদেশ প্রদান তোমাদের কাছে যদি দুঃসহ হয় তবে আমি তো আল্লাহর উপর নির্ভর করি। সুতরাং তোমরা তোমাদের কর্তব্য স্থির করে নাও এবং তোমরা যাদেরকে শরীক করেছ তাদেরকেও ডাক, পরে যেন কর্তব্য বিষয়ে তোমাদের কোন অস্পষ্টতা না থাকে। তারপর আমার সম্বন্ধে তোমাদের কাজ শেষ করে ফেল এবং আমাকে অবকাশ দিও না।(২)

(১) এ পর্যন্ত যে আলোচনা হয়েছে তাতে এ লোকদেরকে ন্যায়সংগত যুক্তি ও হৃদয়গ্রাহী উপদেশের মাধ্যমে তাদের আকীদা-বিশ্বাসে কি কি ভুল-ভ্রান্তি আছে এবং সেগুলো ভুল কেন আর এর মোকাবিলায় সঠিক পথ কি এবং তা সঠিক কেন, একথা বুঝানো হয়েছিল। এখানে আল্লাহ তাঁর নবীকে হুকুম দিচ্ছেন, তাদেরকে নূহের ঘটনা শুনিয়ে দিন, এ ঘটনা থেকেই তারা আপনার ও তাদের মধ্যকার ব্যাপারটির জবাব পেয়ে যাবে। যেখানে তারা দেখতে পাবে যে, যারা কুফরিতে নিপতিত ছিল তাদেরকে কিভাবে কঠোর শাস্তি দিয়েছিলেন। (কুরতুবী) সুতরাং যারাই অনুরূপ কাজ করবে, আপনার উপর মিথ্যারোপ করবে, আপনার বিরোধিতা করবে তাদের পরিণতিও তা-ই হবে। (ইবন কাসীর)

(২) এটা একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। বলা হচ্ছে, আমি নিজের কাজ থেকে বিরত হবো না। তোমরা আমার বিরুদ্ধে যা করতে চাও করো। আমি আল্লাহর ওপর ভরসা রাখি। এ ব্যাপারে আরো দেখুন সূরা হুদের ৫৫নং আয়াত।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৭১) আর তুমি তাদেরকে নূহের বৃত্তান্ত শোনাও; যখন সে নিজের সম্প্রদায়কে বলল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! আমার অবস্থান এবং আল্লাহর নিদর্শনাবলী দ্বারা উপদেশ দেওয়া যদি তোমাদের কাছে দুঃসহ মনে হয়, তবে আমার তো আল্লাহরই উপর ভরসা। সুতরাং তোমরা তোমাদের শরীকদেরকে সঙ্গে নিয়ে নিজেদের কর্তব্য স্থির করে নাও,(1) অতঃপর তোমাদের সেই কর্তব্য-বিষয়ে যেন কোন প্রচ্ছন্নতা না থাকে।(2) তারপর আমার সাথে (যা করতে চাও তা) নিস্পন্ন করে ফেল, আর আমাকে মোটেই অবকাশ দিও না।

(1) অর্থাৎ, তোমরা যাদেরকে আল্লাহর শরীক বানিয়ে রেখেছ, তাদের সাহায্য অর্জন কর। (তোমাদের ধারণা অনুযায়ী যদি তারা তোমাদের সাহায্য করার ক্ষমতা রাখে।)

(2) غمة শব্দটির দ্বিতীয় অর্থ হল, অস্পষ্টতা ও প্রচ্ছন্নতা। অর্থাৎ আমার বিরুদ্ধে তোমাদের কর্তব্য পরিষ্কার ও স্পষ্ট হওয়া দরকার।