লাহুমুল বুশর-ফিল হায়া-তিদ দুনইয়া-ওয়াফিল আ-খিরতি লা-তাবদীলা লিকালিমাতিল্লা-হি যা-লিকা হুওয়াল ফাওঝুল ‘আজীম।উচ্চারণ
দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জীবনে তাদের জন্য শুধু সুসংবাদই রয়েছে। আল্লাহর কথার পরিবর্তন নেই। এটিই মহাসাফল্য। তাফহীমুল কুরআন
তাদের দুনিয়ার জীবনেও সুসংবাদ আছে #%৩৫%# এবং আখেরাতেও। আল্লাহর কথায় কোনও পরিবর্তন হয় না। এটাই মহাসাফল্য।মুফতী তাকী উসমানী
তাদের জন্য সুসংবাদ রয়েছে পার্থিব জীবনে এবং পরকালেও। আল্লাহর বাক্যসমূহে কোন পরিবর্তন হয়না; এটা হচ্ছে বিরাট সফলতা।মুজিবুর রহমান
তাদের জন্য সুসংবাদ পার্থিব জীবনে ও পরকালীন জীবনে। আল্লাহর কথার কখনো হের-ফের হয় না। এটাই হল মহা সফলতা।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তাদের জন্যে আছে সুসংবাদ দুনিয়ার জীবনে ও আখিরাতে, আল্লাহ্ র বাণীর কোন পরিবর্তন নেই ; এটাই মহাসাফল্য। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তাদের জন্যই সুসংবাদ দুনিয়াবী জীবনে এবং আখিরাতে। আল্লাহর বাণীসমূহের কোন পরিবর্তন নেই। এটিই মহাসফলতা।আল-বায়ান
তাদের জন্য সুসংবাদ দুনিয়ার জীবনে আর আখেরাতেও। আল্লাহর কথার কোন হেরফের হয় না, এটাই হল বিরাট সাফল্য।তাইসিরুল
তাদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ এই পৃথিবীর জীবনে এবং পরকালে। আল্লাহ্র বাণীর কোনো পরিবর্তন নেই, -- এটিই হচ্ছে মহা সাফল্য।মাওলানা জহুরুল হক
দুনিয়ার জীবনে তাদের সুসংবাদলাভ হয় বিভিন্নভাবে, যেমন নবীগণের মাধ্যমে শোনানো হয়েছে যে, আখিরাতে তাদের কোন ভয় থাকবে না, মৃত্যুকালে ফিরিশতাগণ তাদেরকে বলে, তোমরা জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ কর ... (হা-মীম-সাজদার ৩০-৩১), তাদেরকে অথবা তাদের সম্পর্কে অন্যকে ভালো-ভালো স্বপ্ন দেখানো হয়, তাদের বিভিন্ন বিষয়ে আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ হতে বিশেষ সাহায্য করা হয়, মানুষের মাঝে তাদেরকে সমাদৃত করা হয় এবং তাদের সুখ্যাতি ছড়িয়ে দেওয়া হয় ইত্যাদি (-অনুবাদক, তাফসীরে উছমানী থেকে সংক্ষেপিত)।
৬৪. তাদের জন্যই আছে সুসংবাদ দুনিয়ার জীবনে ও আখিরাতে(১), আল্লাহর বাণীর কোন পরিবর্তন নেই(২); সেটাই মহাসাফল্য।
(১) এখানে আল্লাহর অলীদের জন্য দুনিয়ার সুসংবাদ বলতে যা বুঝানো হয়েছে তা সম্পর্কে বিভিন্ন হাদীসে এসেছে যে, তা হলো “কোন মুসলিম তার জন্য কোন ভাল স্বপ্ন দেখা বা তার জন্য অন্য কেউ কোন ভাল স্বপ্ন দেখা।” (মুসলিমঃ ২৬৪২, মুসনাদে আহমাদ ৫/৩১৫, ৬/৪৪৫, তিরমিযীঃ ২২৭৩, ২২৭৫, ইবনে মাজাহঃ ৩৮৯৮) কোন কোন হাদীসে এসেছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “যখন সময় (কিয়ামত) নিকটবর্তী হবে তখন মুসলিম ব্যক্তির স্বপ্ন প্রায় সত্য হবে। তোমাদের মধ্যে যে বেশী সত্যবাদি তার স্বপ্নও বেশী সত্য। মুসলিম ব্যক্তির স্বপ্ন নবুওয়াতের পয়তাল্লিশ ভাগের একভাগ। স্বপ্ন তিন প্রকারঃ সৎ স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ। আরেক প্রকার স্বপ্ন হচ্ছে শয়তানের পুঞ্জিভূত করা বিষয়াদি। অন্য আরেক প্রকার স্বপ্ন আছে যা কোন ব্যক্তির নিজের সাথে কৃত কথাবার্তা। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যদি কেউ অপছন্দনীয় কিছু দেখে সে যেন উঠে সালাত আদায় করে এবং কাউকে না বলে।” (বুখারীঃ ৭০১৭, মুসলিমঃ ২২৬৩) অন্য বর্ণনায় এসেছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, মুবাশশিরাত ব্যতীত নবুওয়তের আর কিছু বাকী নেই। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেনঃ মুবাশশিরাত কি? তিনি বললেনঃ সৎস্বপ্ন।” (মুসলিমঃ ৪৭৯)
অবশ্য কোন কোন মুফাসসিরের মতে এখানে দুনিয়ার সুসংবাদ বলতে মুমিন বান্দাদের মৃত্যুর সময় তারা যে জান্নাত ও রহমতের ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে উত্তম আচরণ পেয়ে থাকেন তাই বুঝানো হয়েছে। (তাবারী) যেমন সুরা ফুসসিলাতের ৩০–৩২ নং আয়াতে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে। অনুরূপভাবে বারা ইবনে আযেব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত এক বড় হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুকালীন সময়ে মৃত্যু পথযাত্রী ব্যক্তি কি কি দেখতে পায় এবং তার কি অবস্থা হয় তা বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে। (দেখুনঃ মুসনাদে আহমাদঃ ৪/২৮৭–২৮৮, আবু দাউদঃ ৪৭৫৩) মূলতঃ উভয় তাফসীরই বিশুদ্ধ। এতে কোন স্ববিরোধিতা নেই।
আর আখেরাতে সুসংবাদ হচ্ছে জান্নাত ও উত্তম ব্যবহার। যা কুরআনের বিভিন্ন আয়াত ও রাসূলের বিভিন্ন হাদীসে বিস্তারিত এসেছে। যেমন আল্লাহ্ তাআলা বলেনঃ “তাদেরকে (হাশরের মাঠের) কঠিন ভীতিকর অবস্থা পেরেশান করবে না, আর ফেরেশতাগণ তাদের সাক্ষাৎ করে বলবে, এটা তো ঐ দিন যার ওয়াদা তোমাদের করা হতো।” (সূরা আল-আম্বিয়াঃ ১০৩) অন্য আয়াতে আল্লাহ্ তাআলা বলেনঃ “সেদিন আপনি দেখবেন মুমিন নর-নারীদের সামনে ও ডানে তাদের জ্যোতি ছুটতে থাকবে। বলা হবে, আজ তোমাদের জন্য সুসংবাদ জান্নাতের, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেখানে তোমরা স্থায়ী হবে, এটাই মহাসাফল্য। (সূরা আল-হাদীদঃ ১২)
(২) অর্থাৎ উপরে আল্লাহ্ তা'আলা মুমিন মুত্তাকীদের সাথে যে ওয়াদা করেছেন তা কখনো পরিবর্তনশীল নয়। এটা স্থায়ী অঙ্গীকার। (কুরতুবী)
(৬৪) তাদের জন্য সুসংবাদ রয়েছে পার্থিব জীবনে(1) এবং পরকালেও; আল্লাহর বাণীসমূহের কোন পরিবর্তন নেই; এটাই হচ্ছে বিরাট সফলতা।
(1) পার্থিব সুসংবাদ বলতে সত্য স্বপ্নকে বুঝানো হয়েছে অথবা সেই সুসংবাদকে বুঝানো হয়েছে যা মৃত্যুর সময় ফিরিশতাগণ একজন মু’মিনকে দিয়ে থাকেন, যেমন কুরআন ও হাদীসে এর প্রমাণ পাওয়া যায়।