ওয়া লাও আন্না লিকুল্লি নাফছিন জালামাত মা-ফিল আরদিলাফতাদাত বিহী ওয়া আছাররুন নাদা-মাতা লাম্মা-রআউল ‘আযা-বা ওয়া কুদিয়া বাইনাহুম বিলকিছতি ওয়া হুম লা-ইউজলামূন।উচ্চারণ

আল্লাহর নাফরমানী করেছে এমন প্রতিটি ব্যক্তির কাছে যদি সারা দুনিয়ার ধন-দৌলত থাকতো তাহলে সেই আযাব থেকে বাঁচার বিনিময়ে সে তা দিতে উদ্যত হতো। যখন তারা এ আযাব দেখবে তখন তারা মনে মনে পস্তাতে থাকবে। ৫৯ কিন্তু তাদের মধ্যে পূর্ণ ইনসাফ সহকারে ফায়সালা করা হবে, তাদের প্রতি কোন জুলুম হবে না। শোনো, আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সব আল্লাহরই। তাফহীমুল কুরআন

যে ব্যক্তিই জুলুমে লিপ্ত হয়েছে, তার যদি পৃথিবীতে যা-কিছু আছে সবই হয়ে যায়, তবে সে নিজ মুক্তির বিনিময়ে তা দিয়ে দেবে এবং তারা যখন শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে তখন নিজ অনুতাপ লুকাতে চাবে। #%৩১%# ন্যায়বিচারের সাথে তাদের মীমাংসা হবে এবং তাদের প্রতি জুলুম করা হবে না।মুফতী তাকী উসমানী

আর যদি প্রত্যেক মুশরিকের কাছে এই পরিমাণ (মাল) থাকে যে, তা সমগ্র পৃথিবীর সম পরিমাণ হয় তাহলে সে তা দান করেও নিজের প্রাণ রক্ষা করতে চাবে; এবং যখন তারা আযাব দেখতে পাবে তখন (নিজেদের) অনুশোচনা প্রকাশ করতে সক্ষম হবেনা, আর তাদের ফাইসালা করা হবে ন্যায়ভাবে এবং তাদের প্রতি অবিচার করা হবেনা।মুজিবুর রহমান

বস্তুতঃ যদি প্রত্যেক গোনাহগারের কাছে এত পরিমাণ থাকে যা আছে সমগ্র যমীনের মাঝে, আর অবশ্যই যদি সেগুলো নিজের মুক্তির বিনিময়ে দিতে চাইবে আর গোপনে গোপনে অনুতাপ করবে, যখন আযাব দেখবে। বস্তুতঃ তাদের জন্য সিদ্ধান্ত হবে ন্যায়সঙ্গত এবং তাদের উপর জুলম হবে না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

প্রত্যেক সীমালংঘনকারীই পৃথিবীতে যা কিছু আছে তা যদি তার হত তবে সে মুক্তির বিনিময়ে তা দিয়ে দিত ; আর যখন এরা শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে তখন মনস্তাপ গোপন করবে। এদের মীমাংসা ন্যায়বিচারের সঙ্গে করা হবে আর এদের প্রতি জুলুম করা হবে না। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর যমীনে যা রয়েছে, তা যদি যুলম করেছে এমন প্রত্যেক ব্যক্তির হয়ে যায়, তবে তা সে মুক্তিপণ হিসেবে দিয়ে দেবে এবং তারা লজ্জা গোপন করবে, যখন তারা আযাব দেখবে। আর তাদের মধ্যে ন্যায়ভিত্তিক ফয়সালা করা হবে এবং তাদেরকে যুলম করা হবে না।আল-বায়ান

যুলম করেছে এমন প্রত্যেকেই দুনিয়াতে যা কিছু আছে যদি তা সব তার হত তবে সে বিনিময়ে তা প্রদান করে ‘আযাব হতে বাঁচতে চাইত। তারা যখন ‘আযাব প্রত্যক্ষ করবে তখন মনের দুঃখ-তাপ গোপন করবে। ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে তাদের ব্যাপারে ফায়সালা করা হবে। তাদের প্রতি কোন প্রকার যুলম করা হবে না।তাইসিরুল

আর প্রতিটি লোকের, যে অন্যায় করেছে, তার যদি হতো পৃথিবীতে যা কিছু আছে সে অবশ্যই সেগুলো দিয়ে মুক্তি চাইত। আর তারা অনুতাপ অনুভব করবে যখন তারা শাস্তি দেখতে পাবে, কিন্তু তাদের সন্বন্ধে মীমাংসা করা হয়েছে ন্যায়সঙ্গত ভাবে, আর তাদের জুলুম করা হবে না।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৫৯

সারা জীবন তারা যে জিনিসটিকে মিথ্যা বলতে থাকে, যাকে মিথ্যা মনে করে সারাটি জীবন ভুল কাজে ব্যয় করে এবং যার সংবাদ দানকারী পয়গম্বরদেরকে বিভিন্নভাবে দোষারোপ করতে থাকে, সেই জিনিসটি যখন তাদের সমস্ত প্রত্যাশাকে গুড়িয়ে দিয়ে অকস্মাৎ সামনে এসে দাঁড়াবে তখন তাদের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাবে। এটিই যেহেতু যথার্থ সত্য ছিল তাই তারা দুনিয়ায় যা কিছু করে এসেছে তা পরিণাম এখন কি হওয়া উচিত তা তাদের বিবেকই তাদেরকে জানিয়ে দেবে। নিজের কৃতকর্মের হাত থেকে বাঁচার কোন পথ থাকে না। মুখ বন্ধ হয়ে যাবে। লজ্জায় ও আক্ষেপে অন্তর ভিতরে ভিতরেই দমে যাবে। আন্দাজ ও অনুমানের ব্যবসায়ে যে ব্যক্তিতার সমস্ত পুঁজি ঢেলে দিয়েছে এবং কোন শুভাকাংখীর কথা মেনে নেয়নি সে দেউলিয়া হয়ে যাবার পর তার নিজের ছাড়া আর কার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারে?

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ তাদের ধারণা ও কল্পনার বাইরে যখন বিভীষিকাময় শাস্তি চাক্ষুস দেখতে পাবে, তখন এমনই ভীত-বিহ্বল হয়ে পড়বে যে, তারা এমনকি কান্নার কথাও ভুলে যাবে, চিৎকার পর্যন্ত করতে পারবে না। বিলকুল নির্বাক-নিথর হয়ে যাবে। একেই ‘অনুতাপ লুকানো’ শব্দে ব্যক্ত করা হয়েছে। অথবা এর অর্থ, অনুসারীরা দোষারোপ করবে এই ভয়ে কাফিরদের নেতৃবর্গ তাদের সামনে নিজেদের অনুতাপ-আক্ষেপের কথা প্রকাশ করবে না। কিন্তু এটা তাদের স্থায়ী অবস্থা নয়। এক সময় টিকতে না পেরে বলে উঠবে, ‘হায়, আল্লাহর প্রতি আমার কর্তব্যে যে অবহেলা আমি করেছি, সেজন্য আফসোস! (যুমার ৩৯ : ৫৬) এবং বলবে, ‘হায় দুর্ভোগ আমি এ ব্যাপারে বড় উদাসীন ছিলাম’ (সূরা আম্বিয়া ২১ : ৯৭)। -অনুবাদক

তাফসীরে জাকারিয়া

৫৪. আর যমীনে যা রয়েছে, তা যদি প্রত্যেক যুলুমকারী(১) ব্যক্তির হয়ে যায়, তবে সে মুক্তির বিনিময়ে সেসব দিয়ে দেবে এবং অনুতাপ গোপন করবে যখন তারা শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে। আর দের মীমাংসা ন্যায়ভিত্তিক করা হবে এবং তাদের প্রতি যুলুম করা হবে না।(২)

(১) এখানে যুলুম বলতে শির্ক ও কুফর বোঝানো হয়েছে। মুয়াসসার কারণ, শির্ক হচ্ছে সবচেয়ে বড় যুলম। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, নিশ্চয় শির্ক হচ্ছে বড় যুলুম। (সূরা লুকমান: ১৩)

(২) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেয়ামতের দিন কাফেরদেরকে উপস্থিত করে বলা হবেঃ যদি তোমার নিকট পৃথিবীর সমান পরিমান স্বর্ণ থাকে, তাহলে কি তুমি এর বিনিময়ে এ শাস্তি থেকে মুক্তি কামনা করবে? তখন তারা বলবেঃ হ্যাঁ, তাকে বলা হবে যে, তোমার নিকট এর চেয়েও সহজ জিনিস চাওয়া হয়েছিল... আমার সাথে আর কাউকে শরীক না করতে কিন্তু তুমি তা মানতে রাজি হওনি। (বুখারীঃ ৬৫৩৮)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৫৪) আর যদি প্রত্যেক যালেমের কাছে পৃথিবীর সমপরিমাণ (মাল) থাকে, তাহলে সে তা মুক্তিপণ দিয়েও নিজের প্রাণ রক্ষা করতে উদ্যত হবে।(1) যখন তারা আযাব দেখতে পাবে তখন (নিজেদের) মনস্তাপকে গোপন রাখবে। আর তাদের ফায়সালা করা হবে ন্যায়ভাবে এবং তাদের প্রতি অবিচার করা হবে না।

(1) অর্থাৎ পৃথিবীর সমস্ত প্রকার সম্পদ দিয়েও যদি তারা শাস্তি থেকে রক্ষা পায়, তবে তা দেওয়ার জন্য তৈরী হয়ে যাবে। কিন্তু সেখানে মানুষের নিকট থাকবেই বা কি? উদ্দেশ্য হল যে, শাস্তি থেকে রক্ষার কোন পথই থাকবে না।