কুলমাইঁ ইয়ারঝুকুকুম মিনাছছামাই ওয়াল আরদি আম্মাইঁ ইয়ামলিকুছছাম‘আ ওয়াল আবসা-র ওয়া মাইঁ ইউখরিজুল হাইইয়া মিনাল মাইয়িতি ওয়া ইউখরিজুল মাইয়িতা মিনাল হাইয়ি ওয়ামাইঁ ইউদাব্বিরুল আমর ফাছাইয়াকূলূনাল্লা-হু ফাকুল আফালাতাত্তাকূন।উচ্চারণ

তাদেরকে জিজ্ঞেস করো, “কে তোমাদের আকাশ ও পৃথিবী থেকে রিযিক দেয়? এই শুনার ও দেখার শক্তি কার কর্তৃত্বে আছে? কে প্রাণহীন থেকে সজীবকে এবং সজীব থেকে প্রাণহীনকে বের করে? কে চালাচ্ছে এই বিশ্ব ব্যবস্থাপনা?” তারা নিশ্চয়ই বলবে, আল্লাহ। বলো, তবুও কি তোমরা (সত্যের বিরোধী পথে চলার ব্যাপারে। ) সতর্ক হচ্ছো না? তাফহীমুল কুরআন

(হে নবী! মুশরিকদেরকে) বলে দাও, কে তোমাদেরকে আসমান ও যমীন থেকে রিযক সরবরাহ করেন? অথবা কে শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তির মালিক? এবং কে মৃত হতে জীবিতকে এবং জীবিত থেকে মৃতকে বের করেন? এবং কে যাবতীয় বিষয় নিয়ন্ত্রণ করেন? তারা বলবে, আল্লাহ! #%২১%# বল, তবুও কি তোমরা আল্লাহকে ভয় করবে না?মুফতী তাকী উসমানী

তুমি বলঃ তিনি কে, যিনি তোমাদেরকে আসমান ও যমীন হতে রিয্ক পৌঁছিয়ে থাকেন? অথবা কে তিনি, যিনি কর্ণ ও চক্ষুসমূহের উপর পূর্ণ অধিকার রাখেন? আর তিনি কে, যিনি জীবন্তকে প্রাণহীন হতে বের করেন, আর প্রাণহীনকে জীবন্ত হতে বের করেন? আর তিনি কে যিনি সমস্ত কাজ পরিচালনা করেন? তখন অবশ্যই তারা বলবেঃ আল্লাহ! অতএব তুমি বলঃ তাহলে কেন তোমরা (শির্‌ক হতে) নিবৃত্ত থাকছনা?মুজিবুর রহমান

তুমি জিজ্ঞেস কর, কে রুযী দান করে তোমাদেরকে আসমান থেকে ও যমীন থেকে, কিংবা কে তোমাদের কান ও চোখের মালিক? তাছাড়া কে জীবিতকে মৃতের ভেতর থেকে বের করেন এবং কেইবা মৃতকে জীবিতের মধ্য থেকে বের করেন? কে করেন কর্ম সম্পাদনের ব্যবস্থাপনা? তখন তারা বলে উঠবে, আল্লাহ! তখন তুমি বলো তারপরেও ভয় করছ না?মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

বল, ‘কে তোমাদেরকে আকাশ ও পৃথিবী হতে জীবনোপকরণ সরবরাহ করে বা শোনার ও দেখার কার কর্তৃত্বাধীন, জীবিতকে মৃত হতে কে বের করে আর মৃতকে জীবিত হতে কে বের করে এবং সকল বিষয় কে নিয়ন্ত্রণ করে ? তখন তারা বলবে, ‘আল্লাহ্’। বল, ‘তবুও কি তোমরা সাবধান হবে না ?’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘আসমান ও যমীন থেকে কে তোমাদের রিয্ক দেন? অথবা কে (তোমাদের) শ্রবণ ও দৃষ্টিসমূহের মালিক? আর কে মৃত থেকে জীবিতকে বের করেন আর জীবিত থেকে মৃতকে বের করেন? কে সব বিষয় পরিচালনা করেন’? তখন তারা অবশ্যই বলবে, ‘আল্লাহ’। সুতরাং, তুমি বল, ‘তারপরও কি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করবে না’?আল-বায়ান

তাদের জিজ্ঞেস কর, ‘আকাশ আর যমীন হতে কে তাদের জীবিকার ব্যবস্থা করে? কিংবা শ্রবণশক্তি ও দর্শনশক্তি কার মালিকানাধীন? আর মৃত থেকে জীবিতকে কে বের করেন আর কে মৃতকে জীবিত থেকে বের করেন? যাবতীয় বিষয়ের শাসন ও নিয়ন্ত্রণ কার অধীনস্থ?’ তারা বলে উঠবে, ‘‘আল্লাহ’’। তাহলে তাদেরকে বল, ‘তবুও তোমরা তাক্বওয়াহ অবলম্বন করবে না?’তাইসিরুল

বলো -- "কে তোমাদের জীবিকা দান করে মহাকাশমন্ডল ও পৃথিবী থেকে? অথবা শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি কার কর্তৃত্বাধীন? আর কে মৃত থেকে জীবিতকে নির্গত করে ও জীবিত থেকে মৃতকে নির্গত করে? আর কে বিষয়-আশয় নিয়ন্ত্রণ করে?" তখন তারা বলবে -- "আল্লাহ্‌।" তাহলে বলো -- "তবে কেন তোমরা ধর্মপরায়ণতা অবলন্বন করো না?"মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

আরব মুশরিকগণ স্বীকার করত যে, সমগ্র সৃষ্টি জগতের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাআলাই। কিন্তু সেই সঙ্গে তাদের বিশ্বাস ছিল, আল্লাহ তাআলা তার অধিকাংশ এখতিয়ার তাদের দেব-দেবীদের হাতে ছেড়ে দিয়েছেন। কাজেই তাদের দেব-দেবীগণ আল্লাহ তাআলার শরীক। তাদেরকে খুশী রাখতে হলে তাদের পূজা-অর্চনা করতে হবে। এ আয়াত বলছে, তোমরা নিজেরাই যখন স্বীকার করছ আল্লাহ তাআলাই এসব কাজ করেন, তখন অন্য কারও ইবাদত করা কেমন বুদ্ধির কাজ হল?

তাফসীরে জাকারিয়া

৩১. বলুন, কে তোমাদেরকে আসমান ও যমীন থেকে জীবনোপকরুণ সরবরাহ করেন অথবা শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি কার কর্তৃত্বাধীন(১), জীবিতকে মৃত থেকে কে বের করেন এবং মৃতকে জীবিত হতে কে বের করেন এবং সব বিষয় কে নিয়ন্ত্রণ করেন? তখন তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ। সুতরাং বলুন, ‘তবুও কি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করবে না?(২)

(১) অর্থাৎ যিনি তোমাদেরকে শোনার শক্তি ও দেখার শক্তি দান করেছেন তিনি যদি ইচ্ছে করেন সেগুলোকে নিয়ে যেতে পারেন। সেগুলো তোমাদের থেকে ছিনিয়ে নিতে পারেন। (ইবন কাসীর) অন্য আয়াতেও আল্লাহ বলেছেন, “বলুন, তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদেরকে দিয়েছেন শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও অন্তঃকরণ।” (সূরা আল-মুলক; ২৩) আরও বলেন, “বলুন, তোমরা কি ভেবে দেখেছ, আল্লাহ যদি তোমাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নেন এবং তোমাদের হৃদয় মোহর করে দেন তবে আল্লাহ ছাড়া আর কোন প্রকৃত ইলাহ আছে যে তোমাদের এগুলো ফিরিয়ে দেবে? (সূরা আল-আনআমঃ ৪৬)

(২) আল্লাহ্ তা'আলা এ আয়াতসমূহে মুশরিকদের উপর প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত করছেন যে, তাদেরই স্বীকৃতি মোতাবেক যদি তিনি আল্লাহই একমাত্র রব হয়ে থাকেন, তবে একমাত্র তার ইবাদত কেন করা হবে না? তাই তিনি বলছেন যে, কে তোমাদেরকে আসমান ও যমীন থেকে জীবনোপকরণ সরবরাহ করেন? অর্থাৎ কে আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে তার ক্ষমতায় যমীন ফাটিয়ে তা থেকে বের করে আনেন, “নিশ্চয় আমরা প্রচুর বারি বর্ষণ করি, তারপর আমরা যমীনকে যথাযথভাবে বিদীর্ণ করি, অতঃপর তাতে আমরা উৎপন্ন করি শস্য; আংগুর, শাক-সবজি, অনেক গাছবিশিষ্ট উদ্যান, ফল এবং গবাদি খাদ্য (সূরা আবাসাঃ ২৫–৩১) তিনি ছাড়া কি আর কোন ইলাহ আছে? এ প্রশ্নের উত্তরে তারা অবশ্যই বলবে যে, এটা শুধু আল্লাহই করে থাকেন। অন্য আয়াতেও আল্লাহ বলেন, “এমন কে আছে, যে তোমাদেরকে রিযক দান করবে, যদি তিনি তার রিযক বন্ধ করে দেন? (সূরা আল-মুলকঃ ২১)।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৩১) তুমি বল, ‘তোমাদেরকে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী হতে রুযী দান করে কে? অথবা কর্ণ ও চক্ষুসমূহের মালিক কে? আর মৃত হতে জীবন্ত এবং জীবন্ত হতে মৃত বের করে কে? আর সকল বিষয় নিয়ন্ত্রণ করে কে?’ তারা বলবে, ‘আল্লাহ।’(1) অতএব তুমি বল, ‘তাহলে কেন তোমরা সাবধান হও না?’

(1) এই আয়াত দ্বারাও পরিষ্কার বুঝা যায় যে, মুশরিকরা আল্লাহ তাআলাকে মালিক, সৃষ্টিকর্তা, প্রতিপালক এবং তাঁকে বিশ্ব-পরিচালক হিসাবে স্বীকার করত। কিন্তু স্বীকারের পরেও যেহেতু তারা তাঁর একতত্ত্ববাদে অন্যদেরকে শরীক করত, তার ফলে আল্লাহ তাআলা তাদেরকে জাহান্নামের জালানী বলে ঘোষণা দিয়েছেন। বর্তমানে অনেক ঈমানের দাবীদারও উক্ত তওহীদে উলুহিয়্যার অস্বীকারকারী। ‘‘তাদের অন্তরগুলি পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ।’’ আল্লাহ তাদেরকে হিদায়াত করুন। আমীন।