লা-ইঝা-লুবুনইয়া-নুহুমুল্লাযী বানাও রীবাতান ফী কুলূবিহিম ইল্লা-আন তাকাত্তা‘আ কুলূবুহুম ওয়াল্লা-হু ‘আলীমুন হাকীম।উচ্চারণ
তারা এই যে ইমারত নির্মাণ করেছে এটা সবসময় তাদের মনে সন্দেহের কারণ হয়ে থাকবে (যার বের হয়ে যাওয়ার আর কোন উপায়ই এখন নেই) যে পর্যন্ত না তাদের অন্তর ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। ১০৫ আল্লাহ অত্যন্তসচেতন, জ্ঞানী ও সর্বজ্ঞ। তাফহীমুল কুরআন
তারা যে ইমারত তৈরি করেছিল, তা তাদের অন্তরে নিরন্তর সন্দেহ হয়ে থাকবে, যে পর্যন্ত না তাদের অন্তর ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে যায়। #%৯২%# আল্লাহ পরিপূর্ণ জ্ঞানের অধিকারী, পরিপূর্ণ হিকমতের অধিকারী।মুফতী তাকী উসমানী
তাদের এই ইমারাত যা তারা নির্মাণ করেছে, তা সদা তাদের মনে খট্কা সৃষ্টি করতে থাকবে, যে পর্যন্ত তাদের অন্তরই ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়, আর আল্লাহ হচ্ছেন মহাজ্ঞানী।মুজিবুর রহমান
তাদের নির্মিত গৃহটি তাদের অন্তরে সদা সন্দেহের উদ্রেক করে যাবে যে পর্যন্ত না তাদের অন্তরগুলো চৌচির হয়ে যায়। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ প্রজ্ঞাময়।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এদের গৃহ যা এরা নির্মাণ করেছে তা তাদের অন্তরে সন্দেহের কারণ হয়ে থাকবে। যে পর্যন্ত না এদের অন্তর ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তাদের নির্মিত গৃহ, তাদের অন্তরে সন্দেহের কারণ হয়ে থাকবে, যে পর্যন্ত না তাদের হৃদয় টুকরো টুকরো হয়ে যায়। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।আল-বায়ান
তাদের তৈরি ঘরটি তাদের অন্তরে সদা-সর্বদা সন্দেহের উদ্রেক করে যাবে যে পর্যন্ত না তাদের হৃদয়গুলো ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যায়। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, মহা প্রজ্ঞাময়।তাইসিরুল
তাদের যে ভবন তারা বানিয়েছে তা তাদের হৃদয়ে অশান্তি সৃষ্টি থেকে বিরত হবে না, যদি না তাদের হৃদয় কুটি কুটি করা হয়। আর আল্লাহ্ সর্বজ্ঞাতা, পরমজ্ঞানী।মাওলানা জহুরুল হক
১০৫
অর্থাৎ তারা মুনাফিক সুলভ ধোঁকা ও প্রতারণার বিরাট অপরাধ করে নিজেদের অন্তরকে চিরকালের জন্য ঈমানী যোগ্যতা থেকে বঞ্চিত করেছে। বেঈমানী ও নাফরমানীর রোগ তাদের অন্তরের অন্তঃস্থলে অনুপ্রবেশ করেছে। যতদিন তাদের এ অন্তর থাকবে ততদিন এ রোগ ও সেখানে অবস্থান করবে। আল্লাহর হুকুম অমান্য করার জন্য যে ব্যক্তি প্রকাশ্যে মন্দির নির্মাণ করে অথবা তার দ্বীনের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য ব্যারিকেড ও ঘাটি তৈরী করে তার হেদায়াত ও কোন না কোন সময় সম্ভব। কারণ তার মধ্যে স্পষ্টবাদিতা, আন্তরিকতা ও নৈতিক সাহসের সূক্ষ্মতার উপাদান মৌলীক ভাবে সংরক্ষিত রয়েছে। আর এ উপাদান সত্য ও ন্যায়ের পক্ষাবলম্বন করার জন্য ঠিক তেমনিভাবে কাজে লেগে যেমন মিথ্যা ও অন্যায়ের পক্ষাবলম্বন করার জন্য কাজে লাগে। কিন্তু যে কাপুরুষ, মিথ্যুক ও প্রতারক আল্লাহর নাফরমাণী ও হুকুম অমান্য করার জন্য মসজিদে নির্মাণ করে এবং আল্লাহর দ্বীনের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আল্লাহর প্রশস্তির প্রতারণামূলক পেষাক পরিধান করে, মুনাফিকীর ঘুণে তার চরিত্র কুরে কুরে খেয়ে ফেলেছে। আন্তরিকতার সাথে ঈমানের বোঝা বহন করার ক্ষমতা সে কোথা থেকে পাবে?
মুনাফিকরা যে ইমারত তৈরি করেছিল, সে সম্পর্কে ১০৭ নং আয়াতে জানানো উদ্দেশ্য ছিল যে, তারা সেটি তৈরি করেছিল মসজিদের নামে। তাদের দাবী ছিল সেটি মসজিদ। এ কারণেই সেখানে ইমারতটির জন্য মসজিদ শব্দই ব্যবহার করা হয়েছিল। কিন্তু এ আয়াতে সেটির স্বরূপ উন্মোচন করা হয়েছে। তাই এখানে সেটিকে ইমারত বলা হয়েছে, মসজিদ বলা হয়নি। কেননা বাস্তবে সেটি মসজিদ ছিলই না। তার প্রতিষ্ঠাতাগণ মূলত কাফের ছিল এবং প্রতিষ্ঠাও করেছিল ইসলামের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে। এ কারণেই সেটিকে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনও মুসলিম মসজিদ নির্মাণ করলে তা জ্বালানো জায়েয হয় না। এ আয়াতে বলা হয়েছে, ‘ইমারতটি তাদের অন্তরে নিরন্তর সন্দেহ সৃষ্টি করতে থাকবে’। এর অর্থ, সেটি ভস্মিভূত করার ফলে মুনাফিকদের কাছেও এটা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, তাদের ষড়যন্ত্রের বিষয়টা মুসলিমদের কাছে ফাঁস হয়ে গেছে। সুতরাং তারা নিজেদের ভবিষ্যত সম্পর্কে সর্বদা সন্দেহে নিপতিত থাকবে যে, না জানি মুসলিমগণ আমাদের সঙ্গে কি রকম ব্যবহার করে! তাদের এই সংশয়জনিত অবস্থার অবসান কেবল সেই সময়ই হবে, যখন তাদের অন্তর ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে যাবে, অর্থাৎ তাদের মৃত্যু ঘটবে।
১১০. তাদের ঘর যা তারা নির্মাণ করেছে তা তাদের অন্তরে সন্দেহের কারণ হয়ে থাকবে- যে পর্যন্ত না তাদের অন্তর ছিন্ন-বিছিন্ন হয়ে যায়। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
(১১০) তাদের এই ইমারত যা তারা নির্মাণ করেছে, তা সদা তাদের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করতে থাকবে, যে পর্যন্ত না তাদের হৃদয় ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।(1) আর আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।
(1) ‘অন্তর ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়’ এর অর্থ হল, মারা যায়। অর্থাৎ মৃত্যু পর্যন্ত এই গৃহ তাদের অন্তরে আরো বেশি সন্দেহ ও মুনাফিকী সৃষ্টি করার কারণ হয়ে থাকবে। যেমন বাছুর পূজারীদের হৃদয়-মনে বাছুর-প্রীতি জমে বসেছিল।