আফামান আছছাছা বুনইয়া-নাহূ‘আলা-তাকওয়া-মিনাল্লা-হি ওয়া রিদাওয়া-নিন খাইরুন আম্মান আছছাআ বুনইয়া-নাহূ‘আলা-শাফা-জুরুফিন হা-রিন ফানহা-র বিহী ফী না-রি জাহান্নামা ওয়াল্লা-হু লা-ইয়াহদিল কাওমাজ্জা-লিমীন।উচ্চারণ
তাহলে তুমি কি মনে করো, যে ব্যক্তি আল্লাহ ভীতি ও তার সন্তুষ্টি অর্জনের উপর নিজের ইমারতের ভিত্তি স্থাপন করলো সে ভাল, না যে ব্যক্তি তার ইমারতের ভিত উঠালো একটি পতাকার স্থিতিহীন ফাঁপা প্রান্তের ওপর ১০৩ এবং তা তাকে নিয়ে সোজা জাহান্নামের আগুনে গিয়ে পড়লো? এ ধরনের জালেমদের কে আল্লাহ কখনো সোজা পথ দেখান না। ১০৪ তাফহীমুল কুরআন
আচ্ছা, সেই ব্যক্তি উত্তম, যে আল্লাহ ভীতি ও তাঁর সন্তুষ্টির উপর নিজ গৃহের ভিত্তি স্থাপন করেছে, না সেই ব্যক্তি, যে তার গৃহের ভিত্তি স্থাপন করে এক খাদের পতনোন্মুখ কিনারায়, #%৯১%# ফলে সেটি তাকে নিয়ে জাহান্নামের আগুনে পতিত হয়? আল্লাহ জালেম সম্প্রদায়কে হিদায়াতপ্রাপ্ত করেন না।মুফতী তাকী উসমানী
তাহলে কোন্ ব্যক্তি উত্তম, যে ব্যক্তি স্বীয় ইমারাতের ভিত্তি আল্লাহভীতির উপর এবং তাঁর সন্তুষ্টির উপর স্থাপন করেছে অথবা সেই ব্যক্তি যে স্বীয় ইমারাতের ভিত্তি স্থাপন করেছে কোন গহবরের কিনারায়, যা ধ্বসে পড়ার উপক্রম, অতঃপর তা তাকে নিয়ে জাহান্নামের আগুনে পতিত হয়? আর আল্লাহ এমন যালিমদেরকে (ধর্মের) জ্ঞান দান করেননা।মুজিবুর রহমান
যে ব্যাক্তি স্বীয় গৃহের ভিত্তি রেখেছে কোন গর্তের কিনারায় যা ধ্বসে পড়ার নিকটবর্তী এবং অতঃপর তা ওকে নিয়ে দোযখের আগুনে পতিত হয়। আর আল্লাহ জালেমদের পথ দেখান না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
যে ব্যক্তি তার গৃহের ভিত্তি আল্লাহ্ভীতি ও আল্লাহ্ র সন্তুষ্টির ওপর স্থাপন করে সে উত্তম, না ঐ ব্যক্তি উত্তম যে তার গৃহের ভিত্তি স্থাপন করে এক খাদের ধসোন্মুখ কিনারায়, ফলে যা এটাকেসহ জাহান্নামের অগ্নিতে পতিত হয় ? আল্লাহ্ জালিম সম্প্রদায়কে পথ প্রদর্শন করেন না। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যে তার গৃহের ভিত্তি আল্লাহর তাকওয়া ও সন্তুষ্টির উপর প্রতিষ্ঠা করল, সে কি উত্তম না ঐ ব্যক্তি যে তার গৃহের ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করেছে এক গর্তের পতনোন্মুখ কিনারায়? অতঃপর তাকে নিয়ে তা ধসে পড়ল জাহান্নামের আগুনে। আর আল্লাহ যালিম কওমকে হিদায়াত দেন না।আল-বায়ান
কে উত্তম যে তার ভিত্তি আল্লাহভীরুতা ও আল্লাহর সন্তুষ্টির উপর স্থাপন করে সে, না ঐ ব্যক্তি যে তার ভিত্তি স্থাপন করে পতনোম্মুখ একটি ধসের কিনারায় যা তাকে নিয়ে জাহান্নামের আগুনে ধসে পড়বে? আল্লাহ যালিমদের সঠিক পথে পরিচালিত করেন না।তাইসিরুল
আচ্ছা! যে তা’হলে তার ভিত্তি গড়েছে আল্লাহ্র প্রতি ধর্মনিষ্ঠতা ও সন্তষ্টির উপরে সে-ই ভালো, না যে তার ভিত্তি স্থাপন করেছে পতনপ্রায় ধসের কিনারার উপরে, ফলে তা তাকে নিয়ে ভেঙে পড়লো জাহান্নামের আগুনে? আর আল্লাহ্ পথ দেখান না অন্যায়কারী লোকদের।মাওলানা জহুরুল হক
১০৩
এখানে কুরআনের মূল শব্দ হচ্ছে,جرف(জুরুফ)। আরবী ভাষায় সাগর বা নদীর এমন কিনারাকে জুরুফ বলা হয় স্রোতের টানে যার তলা থেকে মাটি সরে গেছে এবং ওপরের অংশ কোন বুনিয়াদ ও নির্ভর ছাড়াই দাঁড়িয়ে আছে। যারা আল্লাহকে ভয় না করা এবং তার সন্তুষ্টির পরোয়া না করার ওপর নিজেদের কার্যক্রমের ভিত গড়ে তোলে, তাদের জীবন গঠনকে এখানে এমন একটি ইমারতের সাথে তুলনা করা হয়েছে। যা এমনি ধরনের একটি অন্তঃসরা শূন্য অস্থিতিশীল সাগর কিনারে নির্মাণ করা হয়েছে। এটি একটি নজিরবিহীন উপমা। এর চাইতে সুন্দরভাবে এ অবস্থার আর কোন চিত্র, আকা সম্ভব নয়। এর সমগ্র অন্তর্নিহিত তাৎপর্য অনুধাবন করতে হলে বুঝে নিতে হবে যে, দুনিয়ার জীবনের যে উপরিভাগের ওপর মু’মিন, মুনাফিক কাফের, সৎকর্মশীল, দুষ্কৃতকারী তথা সমস্ত মানুষ কাজ করে, তা মাটির উপরিভাগের স্তরের মতো যার ওপর দুনিয়ার সমস্ত ইমারত নির্মাণ করা হয়ে থাকে। এ স্তরের মধ্যে কোন স্থায়িত্ব ও স্থিতিশীলতা নেই। বরং এর নীচে নিরেট জমি বিদ্যমান থাকার ওপরই এর স্থিতিশীলতা নির্ভর করে। যে স্তরের নীচের মাটির কোন জিনিসের যেমন নদীর পানির তোড়ে ভেসে গেছে তার ওপর যদি কোন মানুষ (যে মাটির প্রকৃত অবস্থা জানে না) বাহ্যিক অবস্থায় প্রতারিত হয়ে নিজের গৃহ নির্মাণ করে তাহলে তা তার গৃহসহ ধ্বসে পড়বে এবং সে কেবল নিজেই ধ্বংস হবে না। বরং এ অস্থিতিশীল ভিতের ওপর নির্ভর করে নিজের জীবনের যা কিছু পুঁজিপাট্রা সে সংশ্লিষ্ট গৃহের মধ্যে জমা করেছিল সবই এ সাথে ধ্বংস হয়ে যাবে। দুনিয়ার জীবনের এ বাহ্যিক স্তরটিরও এ উপমাটির সাথে হুবহু মিল রয়েছে। এ স্তরটির ওপরই আমরা সবাই আমাদের জীবনের যাবতীয় কার্যক্রমের ইমারত নির্মাণ করি। অথচ এর নিজের কোন স্থিতি ও স্থায়িত্ব নেই। বরং আল্লাহর ভয়তার সামনে জবাবদিহির অনুভূতি এবং তার ইচ্ছা ও মর্জি মতো চলার শক্ত ও নিরেট পাথর খণ্ড তার নীচে বসানো থাকে, এরই ওপর তার মজবুতী ও স্থিতিশীলতা নির্ভর করে। যে অজ্ঞ ও অপরিণামদর্শী মানুষ নিছক দুনিয়ার জীবনের বাহ্যিক দিকের ওপর ভরসা করে আল্লাহর ভয়ে ভীত না হয়ে এবং তার সন্তোষ লাভের পরোয়া না করে দুনিয়ায় কাজ করে যায় সে আসলে নিজের জীবন গঠনের বুনিয়াদ নীচে থেকেই অন্তঃসার শূন্য করে দেয়। তার শেষ পরিণতি এছাড়া আর কিছুই নয়, যে ভিত্তিহীন যে উপরি স্তরের ওপর সে তার সারা জীবনের সঞ্চয় জমা করেছে। একদিকে অকস্মাৎ তা ধ্বসে পড়বে এবং তাকে তার জীবনের সমস্ত সম্পদসহ ধ্বংস ও বরবাদ করে দেবে।
১০৪
সোজা পথ অর্থাৎ যে পথে মানুষ সফলকাম হয় এবং যে পথে অগ্রসর হয়ে সে যথার্থ সাফল্যের মনযিলে পৌঁছে যায়।
কুরআন মাজীদে এস্থলে جرف শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। এটা কোন ভূমি, টিলা বা পাহাড়ের সেই অংশকে বলে, যার তলদেশ পানির ঢল ও স্রোতে ক্ষয়ে গিয়ে খোঁড়ল মত হয়ে গেছে। ফলে উপরের মাটি যে-কোন সময় ধসে যেতে পারে।
১০৯. যে ব্যক্তি তার ঘরের ভিত্তি আল্লাহর তাকওয়া ও সন্তুষ্টির উপর স্থাপন করে সে উত্তম, না ঐ ব্যক্তি উত্তম যে তার ঘরের ভিত্তি স্থাপন করে এক খাদের ধ্বংসোন্মুখ কিনারে, ফলে যা তাকেসহ জাহান্নামের আগুনে গিয়ে পড়ে? আর আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে হেদায়াত দেন না।
(১০৯) তবে কি সে ব্যক্তি উত্তম, যে নিজ ইমারতের ভিত্তি আল্লাহভীতি ও তাঁর সন্তুষ্টির উপর স্থাপন করেছে অথবা সেই ব্যক্তি, যে স্বীয় ইমারতের ভিত্তি স্থাপন করেছে কোন পতনমুখী গর্তের কিনারায়, অতঃপর তা তাকে নিয়ে জাহান্নামের আগুনে পতিত হয়?(1) আর আল্লাহ অত্যাচারী সম্প্রদায়কে পথ দেখান না।
(1) এই আয়াতে মু’মিন ও মুনাফিকদের আমলের উদাহরণ বর্ণনা করা হয়েছে। মু’মিনদের আমল আল্লাহ-ভীতির ভিত্তিতে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের নিমিত্তে হয়। আর মুনাফিক্বদের আমল লোক প্রদর্শন ও উদ্দেশ্য-ভ্রষ্টতার উপর ভিত্তি করে হয়। যা ভূমির সেই অংশের মত যার তলদেশ দিয়ে উপত্যকার পানি প্রবাহিত হয় এবং সেখানকার মাটিকে নিজের সাথে বয়ে নিয়ে যায়। ফলে সেই অংশের তলদেশ ফাঁকা হয়ে যায়। বিদিত যে, তার উপর কোন ঘর নির্মাণ করলে অতি সত্ত্বর তা ভেঙ্গে পড়বে। সেই মুনাফিকদের মসজিদ নির্মাণের কাজও অনুরূপ, যা তাদের নিয়ে জাহান্নামে পতিত হবে।