ওয়াল্লাযীনাত তাখাযূ মাছজিদান দির-রওঁ ওয়া কুফরওঁ ওয়া তাফরীকাম বাইনাল মু’মিনীনা ওয়া ইরসা-দাল লিমান হা-রবাল্লা-হা ওয়া রছূলাহূমিন কাবলু ওয়ালাইয়াহলিফুন্না ইন আরদনাইল্লাল হুছনা- ওয়াল্লা-হু ইয়াশহাদুইন্নাহুম লাকাযিবূন।উচ্চারণ
আরো কিছু লোক আছে, যারা একটি মসজিদ নির্মাণ করেছে (সত্যের দাওয়াতকে) ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে, (আল্লাহর বন্দেগী করার পরিবর্তে) কুফরী করার জন্য মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে এবং (এ বাহ্যিক ইবাদতগাহকে) এমন এক ব্যক্তির জন্য গোপন ঘাটি বানাবার উদ্দেশ্যে যে ইতিপূর্বে আল্লাহ ও তার রসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল। তারা অবশই কসম খেয়ে বলবে, ভালো ছাড়া আর কোন ইচ্ছাই আমাদের ছিল না। কিন্তু আল্লাহ সাক্ষী, তারা একেবারেই মিথ্যেবাদী। তাফহীমুল কুরআন
এবং (কিছু লোক এমন), যারা মসজিদ নির্মাণ করেছে (মুসলিমদের) ক্ষতিসাধন করা, কুফরী কথাবার্তা বলা, মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা এবং পূর্ব থেকে আল্লাহ ও তার রাসূলের সঙ্গে যে ব্যক্তি যুদ্ধ করেছে, #%৮৯%# তার জন্য একটি ঘাঁটির ব্যবস্থা করার উদ্দেশ্যে। তারা অবশ্যই কসম করবে যে, আমরা সদুদ্দেশ্যেই এটা করেছি। কিন্তু আল্লাহ সাক্ষ্য দেন যে, নিশ্চয়ই তারা মিথ্যুক।মুফতী তাকী উসমানী
আর কেহ কেহ এমন আছে যারা এ উদ্দেশে মাসজিদ নির্মাণ করেছে যেন তারা (ইসলামের) ক্ষতি সাধন করে এবং কুফরী কথাবার্তা বলে, আর মু’মিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে, আর ঐ ব্যক্তির অবস্থানের ব্যবস্থা করে যে এর পূর্ব হতেই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরোধী, আর তারা শপথ করে বলবে, মঙ্গল ভিন্ন আমাদের আর কোন উদ্দেশ্য নেই; আর আল্লাহ সাক্ষী আছেন যে, তারা সম্পূর্ণ মিথ্যাবাদী।মুজিবুর রহমান
আর যারা নির্মাণ করেছে মসজিদ জিদের বশে এবং কুফরীর তাড়নায় মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃস্টির উদ্দেশ্যে এবং ঐ লোকের জন্য ঘাটি স্বরূপ যে পূর্ব থেকে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে যুদ্ধ করে আসছে, আর তারা অবশ্যই শপথ করবে যে, আমরা কেবল কল্যাণই চেয়েছি। পক্ষান্তরে আল্লাহ সাক্ষী যে, তারা সবাই মিথ্যুক।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
আর যারা মসজিদ নির্মাণ করেছে ক্ষতিসাধন, কুফরী ও মু’মিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এবং ইতিপূর্বে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যে ব্যক্তি সংগ্রাম করেছে তার গোপন ঘাঁটিস্বরূপ ব্যবহারের উদ্দেশ্যে, তারা অবশ্যই শপথ করবে, ‘আমরা সদ উদ্দেশ্যে এটা করেছি’; আল্লাহ্ সাক্ষী, তারা তো মিথ্যাবাদী। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর যারা মসজিদ বানিয়েছে ক্ষতিসাধন, কুফরী ও মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এবং ইতঃপূর্বে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যে লড়াই করেছে তার ঘাঁটি হিসেবে। আর তারা অবশ্যই শপথ করবে যে, ‘আমরা কেবল ভাল চেয়েছি’। আর আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, তারা অবশ্যই মিথ্যাবাদী।আল-বায়ান
আর যারা মাসজিদ তৈরী করেছে ক্ষতিসাধন, কুফুরী আর মু’মিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশে, আর যে ব্যক্তি ইতোপূর্বে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে তার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহারের নিমিত্তে, তারা অবশ্য অবশ্যই শপথ করবে যে, আমাদের উদ্দেশ্য সৎ ব্যতীত নয়। আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে তারা অবশ্যই মিথ্যাবাদী।তাইসিরুল
আর যারা একটি মসজিদ স্থাপন করলো ক্ষতিসাধনের ও অবিশ্বাসের জন্য, আর বিশ্বাসীদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে, আর তার ঘাঁটি স্বরূপ যে এর আগে আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধে লড়াই করছিল, তারা নিশ্চয়ই হলফ করে বলবে -- "আমরা তো চেয়ছিলাম শুধু ভালো।" কিন্তু আল্লাহ্ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে তারা তো আলবৎ মিথ্যাবাদী।মাওলানা জহুরুল হক
এবার একদল চরম কুচক্রি মুনাফিক সম্পর্কে আলোচনা। তারা এক ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের ভিত্তিতে মসজিদের নামে এক ইমারত নির্মাণ করেছিল। ঘটনার বিবরণ এই যে, মদীনা মুনাওয়ারার খাযরাজ গোত্রে আবু আমির নামে এক লোক ছিল। সে খ্রিস্টান হয়ে গিয়েছিল এবং সেই শিক্ষা মত সংসার বিমুখতা ও বৈরাগ্যের জীবন যাপন করত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শুভাগমনের আগে মদীনা মুনাওয়ারার মানুষ তাকে খুব ভক্তি-শ্রদ্ধা করত। মদীনা মুনাওয়ারায় আগমনের পর মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকেও সত্য দীনের দাওয়াত দিলেন। কিন্তু সে সত্য গ্রহণ তো করলই না, উল্টো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিজের প্রতিপক্ষ জ্ঞান করল এবং সে হিসেবে তাঁর শত্রুতায় বদ্ধপরিকর হয়ে গেল। বদরের যুদ্ধ থেকে শুরু করে হুনায়নের যুদ্ধ পর্যন্ত মক্কার কাফেরদের সঙ্গে যত যুদ্ধ হয়েছে, তার সব ক’টিতেই সে কাফেরদের সমর্থন ও সহযোগিতা করেছে। পরিশেষে হুনায়নের যুদ্ধেও যখন মুসলিমদের বিজয় অর্জিত হল, তখন সে শাম চলে গেল এবং সেখান থেকে মদীনা মুনাওয়ারার মুনাফিকদেরকে চিঠি লিখল যে, আমি চেষ্টা করছি, যাতে রোমের বাদশাহ মদীনা মুনাওয়ারায় হামলা চালায় এবং মুসলিমদেরকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়। কিন্তু এর সফলতার জন্য তোমাদেরও কাজ করতে হবে। তোমরা নিজেদেরকে সংঘটিত কর, যাতে আক্রমণ করলে ভিতর থেকে তোমরা তার সহযোগিতা করতে পার। সে এই পরামর্শও দিল যে, তোমরা মসজিদের নামে একটা স্থাপনা তৈরি কর, যা বিদ্রোহের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। গোপনে সেখানে অস্ত্র-শস্ত্রও মজুদ করবে। তোমাদের পারস্পরিক শলা-পরামর্শও সেখানেই করবে। আর আমার পক্ষ থেকে কোন দূত গেলে তাকেও সেখানেই থাকতে দেবে। সুতরাং মুনাফিকগণ কুবা এলাকায় একটি ইমারত তৈরি করল। তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সমীপে আরজ করল, আমাদের মধ্যে বহু কমজোর লোক আছে। কুবার মসজিদ তাদের পক্ষে দূর হয়ে যায়। তাই তাদের সুবিধার্থে আমরা এই মসজিদটি তৈরি করেছি। আপনি কোনও এক সময় এসে এখানে নামায পড়ুন, যাতে আমরা বরকত লাভ করতে পারি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন তাবুক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তিনি বললেন, এখন তো আমি তাবুক যাচ্ছি। ফেরার পথে আল্লাহ তাআলার ইচ্ছা হলে আমি সেখানে গিয়ে নামায পড়ব। কিন্তু তাবুক থেকে ফেরার সময় তিনি যখন মদীনা মুনাওয়ারার কাছাকাছি পৌঁছলেন, তখন ‘যূ-আওয়ান’ নামক স্থানে এ আয়াত নাযিল হয় এবং এর দ্বারা তার সামনে তথাকথিত ওই মসজিদের মুখোশ খুলে দেওয়া হয়। আর তাকে নিষেধ করে দেওয়া হয়, যেন তাতে নামায না পড়েন। তিনি তখনই মালিক ইবনে দুখশুম ও মা‘ন ইবনে আদী রাযিয়াল্লাহু আনহুমা এই দুই সাহাবীকে মসজিদ নামের সে ঘাঁটিটি ধ্বংস করার জন্য পাঠিয়ে দিলেন। সুতরাং তারা গিয়ে সেটি জ্বালিয়ে ভস্ম করে দিলেন। (ইবনে জারীর, তাফসীর)
১০৭. আর যারা মসজিদ নির্মাণ করেছে ক্ষতিসাধন(১), কুফর ও মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এবং এর আগে আল্লাহ ও তার রাসূলের বিরুদ্ধে যে লড়াই করেছে তার গোপন ঘাঁটিস্বরূপ ব্যবহারের উদ্দেশ্যে(২), আর তারা অবশ্যই শপথ করবে, আমরা কেবল ভালো চেয়েছি; আর আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, অবশ্যই তারা মিথ্যাবাদী।
(১) মদীনায় আবু আমের নামের এক ব্যক্তি জাহেলী যুগে নাসারা ধর্ম গ্রহণ করে আবু ’আমের পাদ্রী নামে খ্যাত হলো। তার পুত্র ছিলেন বিখ্যাত সাহাবী হানযালা রাদিয়াল্লাহু আনহু যার লাশকে ফেরেশতাগণ গোসল দিয়েছিলেন। কিন্তু পিতা নিজের গোমরাহী ও নাসারাদের দ্বীনের উপরই ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরত করে মদীনায় উপস্থিত হলে আবু আমের তার কাছে উপস্থিত হয় এবং ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উত্থাপন করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার অভিযোগের জবাব দান করেন। কিন্তু তাতে সেই হতভাগার সান্তনা আসলো না।
তদুপরি সে বলল, আমরা দু'জনের মধ্যে যে মিথুক সে যেন অভিশপ্ত ও আত্মীয় স্বজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মৃত্যুবরণ করে। সে একথাও বলল যে, আপনার যে কোন প্রতিপক্ষের সাহায্য আমি করে যাবো। সে মতে হুনাইন যুদ্ধ পর্যন্ত সকল রণাঙ্গনে সে মুসলিমদের বিপরীতে অংশ নেয়। হাওয়াযেনের মত সুবৃহৎ শক্তিশালী গোত্রও যখন মুসলিমদের কাছে পরাজিত হলো, তখন সে নিরাশ হয়ে সিরিয়ায় চলে গেল। (বাগভী) কারণ, তখন এটি ছিল নাসারাদের কেন্দ্রস্থল।
এ ষড়যন্ত্রের শুরুতে সে মদীনার পরিচিত মুনাফিকদের কাছে চিঠি লিখে যে, “রোম সম্রাট কর্তৃক মদীনা অভিযানের চেষ্টায় আমি আছি। কিন্তু যথা সময় সম্রাটের সাহায্য হয় এমন কোন সম্মিলিত শক্তি তোমাদের থাকা চাই। এর পন্থা হলো এই যে, তোমরা মদীনায় মসজিদের নাম দিয়ে একটি গৃহ নিৰ্মাণ কর, যেন মুসলিমদের অন্তরে কোন সন্দেহ না আসে। তারপর সে গৃহে নিজেদের সংগঠিত কর এবং যতটুকু সম্ভব যুদ্ধের সাজ-সরঞ্জাম সংগ্রহ করে সেখানে রাখ এবং পারস্পরিক আলোচনা ও পরামর্শের পর মুসলিমদের বিরুদ্ধে কর্মপন্থা গ্রহণ কর। তারপর আমি রোম সম্রাটকে নিয়ে এসে মুহাম্মাদ ও তার সাথীদের উৎখাত করব।” (তাবারী)
তার এ পত্রের ভিত্তিতে বার জন মুনাফিক মদীনার কুবা মহল্লায়, যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরত করে এসে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন- সেখানে সে মুনাফিকরা আরেকটি মসজিদের ভিত্তি রাখল। (ইবন হিশাম, কুরতুবী; ইবন কাসীর প্রমুখ ঐতিহাসিক ও মুফাসসিরগণ এ বার জনের নাম উল্লেখ করেছেন) তারপর তারা মুসলিমদের প্রতারিত করার উদ্দেশ্যে সিদ্ধান্ত নিল যে, স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দ্বারা এক ওয়াক্ত সালাত সেখানে পড়াবে।
এতে মুসলিমগণ নিশ্চিত হবে যে, পুর্বনির্মিত মসজিদের মত এটিও একটি মসজিদ। এ সিদ্ধান্ত মতে তাদের এক প্রতিনিধিদল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে হাযির হয়ে আরয করে যে, কুবার বর্তমান মসজিদটি অনেক ব্যবধানে রয়েছে। দূর্বল ও অসুস্থ লোকদের সে পর্যন্ত যাওয়া দুষ্কর। এছাড়া মসজিদটি এমন প্রশস্তও নয় যে, এলাকার সকল লোকের সংকুলান হতে পারে। তাই আমরা দুর্বল লোকদের সুবিধার্থে অপর একটি মসজিদ নির্মাণ করেছি। আপনি যদি তাতে এক ওয়াক্ত সালাত আদায় করেন, তবে আমরা ধন্য হব। (বাগভী; ইবন কাসীর)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তাবুক যুদ্ধের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিলেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিলেন যে, এখন সফরের প্রস্তুতিতে আছি। ফিরে এসে সালাত আদায় করব। কিন্তু তাবুক যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে যখন তিনি মদীনার নিকটবর্তী এক স্থানে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন, তখন মসজিদে দ্বিরার সম্পর্কিত এই আয়াতগুলো নাযিল হয়। এতে মুনাফিকদের ষড়যন্ত্র ফাঁস করে দেয়া হল। আয়াতগুলো নাযিল হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতিপয় সাহাবীকে এ হুকুম দিয়ে পাঠালেন যে, এক্ষুণি গিয়ে কথিত মসজিদটি ধ্বংস কর এবং আগুন লাগিয়ে এসো। আদেশমতে তারা গিয়ে মসজিদটি সমুলে ধ্বংস করে মাটিতে মিশিয়ে দিয়ে আসলেন। (বাগভী; সীরাতে ইবন হিশাম; ইবন কাসীর)
(২) এখানে এ মাসজিদ নির্মাণের মোট চারটি উদ্দেশ্য উল্লেখ করা হয়েছে, প্রথমতঃ মুসলিমদের ক্ষতিসাধন। দ্বিতীয়তঃ কুফরী করার জন্য, তৃতীয়তঃ মুসলিমদের মাঝে বিভক্তি সৃষ্টি করা। চতুর্থতঃ সেখানে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের শক্ৰদের আশ্রয় মিলবে যেন আবু আমের আর রাহেব এবং তারা বসে বসে ষড়যন্ত্র পাকাতে পারবে। (মুয়াস্সার)
(১০৭) আর কেউ কেউ এমন আছে, যারা ক্ষতি সাধন করার উদ্দেশ্যে, কুফরী করার উদ্দেশ্যে, বিশ্বাসীদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে এবং যে ব্যক্তি ইতিপূর্বে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, তার ঘাঁটিস্বরূপ (একটি নতুন) মসজিদ নির্মাণ করেছে।(1) তারা অবশ্যই শপথ করে বলবে, ‘মঙ্গল ভিন্ন আমাদের আর কোন উদ্দেশ্য নেই।’ আর আল্লাহ সাক্ষ্য দেন যে, অবশ্যই তারা মিথ্যাবাদী।(2)
(1) এই আয়াতে মুনাফিক্বদের আরো একটি অত্যন্ত নোংরা ষড়যন্ত্রের কথা বর্ণিত হয়েছে। আর তা হলঃ- তারা একটি মসজিদ নির্মাণ করে (কুরআন উক্ত মসজিদটিকে ‘মাসজিদু য্বিরার’ নামে অভিহিত করেছে)। তারা নবী (সাঃ)-কে বুঝাতে চায় যে, বৃষ্টি, ঠান্ডা ইত্যাদির সময়ে দুর্বল ও অসুস্থ লোকদের দূরে (মসজিদে ক্বুবায়) যেতে বড় কষ্ট হয়। ফলে তাদের সুবিধার্থে আমরা অপর একটি মসজিদ নির্মাণ করেছি। আপনি সেখানে গিয়ে নামায পড়েন, যাতে আমরা বরকত লাভে ধন্য হই। নবী (সাঃ) তখন তাবুক অভিযানে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলেন। তিনি যুদ্ধ থেকে ফিরে আসার পর নামায পড়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন। কিন্তু ফিরার পথে আল্লাহ তাআলা অহী দ্বারা মুনাফিকদের প্রকৃত উদ্দেশ্য ফাঁস করে দিলেন। তাঁকে সতর্ক করে দেওয়া হল যে, আসলে এই মসজিদ তারা মুসলিমদের ক্ষতিসাধন, কুফরীর প্রচার, মুসলিমদের মাঝে বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলের শত্রুদের জন্য আশ্রয়স্থল বানাবার উদ্দেশ্যে নির্মাণ করেছে।
(2) অর্থাৎ, মিথ্যা শপথ করে তারা নবী (সাঃ)-কে প্রতারিত করতে চেয়েছিল। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাঁকে তাদের চক্রান্ত ও প্রতারণা থেকে রক্ষা করলেন এবং বলে দিলেন যে, এদের উদ্দেশ্য সৎ নয় এবং তারা যা প্রকাশ করছে তাতে তারা মিথ্যুক।