ওয়া আ-খারুনা মুরজাওনা লিআমরিল্লা-হি ইম্মা-ইউ‘আযযিবুহুম ওয়া ইম্মা-ইয়াতূব ‘আলাইহিম ওয়াল্লা-হু ‘আলীমুন হাকীম।উচ্চারণ
অপর কিছু লোকের ব্যাপার এখনো আল্লাহর হুকুমের অপেক্ষায় আছে, তিনি চাইলে তাদেরকে শাস্তি দেবেন, আবার চাইলে তাদের প্রতি নতুন করে অনুগ্রহ করবেন। আল্লাহ সবকিছু জানেন তিনি জ্ঞানী ও সর্বজ্ঞ। ১০১ তাফহীমুল কুরআন
এবং অপর কিছু লোক রয়েছে, যাদের সম্পর্কে ফায়সালা মুলতবি রাখা হয়েছে আল্লাহর হুকুমের জন্য। আল্লাহ হয়ত তাদেরকে শাস্তি দেবেন অথবা তাদেরকে ক্ষমা করবেন। #%৮৮%# আল্লাহ সর্বজ্ঞ প্রজ্ঞাময়।মুফতী তাকী উসমানী
এবং আরও কতক লোক আছে যাদের ব্যাপার মুলতবী রয়েছে আল্লাহর আদেশ আসা পর্যন্ত, হয় তিনি তাদেরকে শাস্তি প্রদান করবেন, অথবা তাদের তাওবাহ কবূল করবেন, আর আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।মুজিবুর রহমান
আবার অনেক লোক রয়েছে যাদের কাজকর্ম আল্লাহর নির্দেশের উপর স্থগিত রয়েছে; তিনি হয় তাদের আযাব দেবেন না হয় তাদের ক্ষমা করে দেবেন। বস্তুতঃ আল্লাহ সব কিছুই জ্ঞাত, বিজ্ঞতাসম্পন্ন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
আর আল্লাহ্ র আদেশের প্রতীক্ষায় অপর কতকের সম্পর্কে সিদ্ধান্ত স্থগিত থাকল তিনি তাদেরকে শাস্তি দিবেন, না ক্ষমা করবেন। আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর আল্লাহর আদেশের অপেক্ষায় অপর কিছু লোকের সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেয়া হলো। তিনি তাদেরকে আযাব দেবেন নয়তো তাদের তাওবা কবূল করবেন। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।আল-বায়ান
আর কতক আল্লাহর ফায়সালার অপেক্ষায় থাকল, তিনি তাদেরকে শাস্তি দিবেন অথবা তাদের তাওবাহ কবূল করবেন; আল্লাহ সর্বজ্ঞ, বড়ই প্রজ্ঞাময়।তাইসিরুল
আর অন্যরা আল্লাহ্র বিধানের অপেক্ষায় রয়েছে, হয়তো তিনি তাদের শাস্তি দেবেন, নয়তো তাদের প্রতি ফিরবেন। আর আল্লাহ্ সর্বজ্ঞাতা, পরমজ্ঞানী।মাওলানা জহুরুল হক
১০১
এদের ব্যাপারটি ছিল সন্দেহ পূর্ণ। এদেরকে না মুনাফিক বলে চিহ্নিত করা যেতো আর না বলা যেতো গোনাহগার মু’মিন। এ দু’টি জিনিসের কোনটিরই আলামত তখনো তাদের মধ্যে পুরোপরি ফুটে উঠেনি। তাই আল্লাহ তাদের ব্যাপারটি মুলতবী রাখেন। মুলতবী রাখার অর্থ এই নয় যে, আসলে আল্লাহর কাছেও তাদের ব্যাপারটি সন্দেহ পূর্ণ ছিল। বরং এর অর্থ এই যে, কোন ব্যক্তি বা দলের ব্যাপারে মুসলমানদের নিজেদের কর্মপদ্ধতি নির্ধারণে অতিমাত্রায় তাড়াহুড়া করা চাই না। যতক্ষণ পর্যন্ত না এমন ধরনের আলামতের মাধ্যমে তার অবস্থান সুস্পষ্ট হয়ে যায়, যা অদৃশ্য জ্ঞান দিয়ে নয় বরং যুক্তি ও অনুভূতি দিয়ে পরখ করা যেতে পারে, ততক্ষণ অপেক্ষা করা উচিত।
যেই দশজন সাহাবী বিনা ওজরে কেবল অলসতাবশত তাবুকের যুদ্ধে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থেকেছিলেন, তাদের সাতজনের বৃত্তান্ত তো পেছনে বর্ণিত হয়েছে। এবার বাকি তিনজনের অবস্থা বর্ণিত হচ্ছে। এ তিনজন হলেন হযরত কাব ইবনে মালিক (রাযি.), হযরত হেলাল ইবনে উমাইয়া (রাযি.) ও হযরত মুরারা ইবনে রাবী (রাযি.)। তারা অনুতপ্ত তো হয়েছিলেন, কিন্তু হযরত আবু লুবাবা (রাযি.) ও তার সাথীগণ যে দ্রুততার সাথে তাওবা করেছিলেন, তারা অতটা দ্রুত করেননি এবং তাঁদের অনুরূপ পন্থাও তাঁরা অবলম্বন করেননি। সুতরাং তারা যখন ক্ষমা প্রার্থনার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে পৌঁছলেন, তখন তিনি তাদের ব্যাপারে ফায়সালা মূলতবী রাখলেন এবং যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে কোনও হুকুম না আসে ততক্ষণের জন্য হুকুম দিলেন, মুসলিমগণ যেন সামাজিকভাবে তাদেরকে বয়কট করে চলে। সুতরাং পঞ্চাশ দিন পর্যন্ত তাদেরকে বয়কট করে রাখা হল। অতঃপর তাদের তাওবা কবুল হল। সামনে ১১৮ নং আয়াতে তা বিস্তারিত আসছে।
১০৬. আর আল্লাহর আদেশের প্রতীক্ষায় অপর কিছু সংখ্যক সম্পর্কে সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেয়া হল—তিনি তাদেরকে শাস্তি দেবেন, না ক্ষমা করবেন।(১) আর আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
(১) এখানে পূর্বোল্লেখিত দশ জন সাহাবী যারা তাবুকের যুদ্ধে অংশ নেয়নি এবং মসজিদের স্তম্ভের সাথে নিজেদের বেঁধে নেয়নি এমন বাকী তিন জনের হুকুম রয়েছে। এ আয়াত নাযিল করে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেয়া হয়েছিল। এক বছর পর্যন্ত তাদের এ অবস্থা ছিল। তাদেরকে কি শাস্তি দেয়া হবে, নাকি তাদের তাওবা কবুল করা হবে তা তারা জানে না। (আত-তাফসীরুস সহীহ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের সমাজচ্যুত করার, এমনকি তাঁদের সাথে সালাম-দোয়ার আদান প্রদান পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। এ ব্যবস্থা নেয়ার পর তাদের অবস্থা শোধরে যায় এবং তারা এখলাসের সাথে অপরাধ স্বীকার করে তাওবাহ করে নেন। ফলে তাদের জন্য ক্ষমার আদেশ দেয়া হয়। যার আলোচনা অচিরেই আসবে।
(১০৬) আরো কতক লোক রয়েছে, যাদের ব্যাপারে (সিদ্ধান্ত) আল্লাহর আদেশ আসা পর্যন্ত স্থগিত রয়েছে;(1) হয় তিনি তাদেরকে শাস্তি প্রদান করবেন(2) অথবা তাদের তওবা কবুল করবেন।(3) আর আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।
(1) তাবুক যুদ্ধ থেকে প্রথমতঃ মুনাফিক্বরা পিছিয়ে ছিল। দ্বিতীয়তঃ এমন কিছু (মুসলিম) লোক পিছিয়ে ছিল, যাদের কোন ওজর ছিল না। তারা তাদের নিজ অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছিল; কিন্তু তাদেরকে সাথে সাথে ক্ষমা করা হয়নি; বরং তাদের ব্যাপারে আল্লাহর আদেশ আসা অবধি অপেক্ষা করা হয়েছিল। এই আয়াতে সেই শ্রেণীর লোকদের কথা আলোচিত হয়েছে। (এরা তিনজন ছিল, যাদের বর্ণনা সামনে আসবে।)
(2) যদি তারা আপন ত্রুটির উপর অটল থাকে।
(3) যদি তারা আন্তরিকভাবে খাঁটি তওবা করে নেয়।