كَيۡفَ وَإِن يَظۡهَرُواْ عَلَيۡكُمۡ لَا يَرۡقُبُواْ فِيكُمۡ إِلّٗا وَلَا ذِمَّةٗۚ يُرۡضُونَكُم بِأَفۡوَٰهِهِمۡ وَتَأۡبَىٰ قُلُوبُهُمۡ وَأَكۡثَرُهُمۡ فَٰسِقُونَ,

কাইফা ওয়া ইয়ঁইয়াজহারূ‘আলাইকুম লা-ইয়ারকুবূফীকুম ইল্লাওঁ ওয়ালা-যিম্মাতাইঁ ইউরদূ নাকুম বিআফওয়া-হিহিম ওয়া তা’বা-কুলূবুহুম ওয়া আকছারুহুম ফা-ছিকূন।উচ্চারণ

তবে তাদের ছাড়া অন্য মুশরিকদের জন্য নিরাপত্তা চুক্তি কেমন করে হতে পারে, যখন তাদের অবস্থা হচ্ছে এই যে, তারা তোমাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ লাভ করতে পরলে তোমাদের ব্যাপারে কোন আত্মীয়তার পরোয়া করবে না এবং কোন অঙ্গীকারের দায়িত্বও নেবে না। তারা মুখের কথায় তোমাদের সন্তুষ্ট করে কিন্তু তাদের মন তা অস্বীকার করে। ১০ আর তাদের অধিকাংশই ফাসেক। ১১ তাফহীমুল কুরআন

(কিন্তু অন্য মুশরিকদের সাথে) কেমন করে (চুক্তি বলবৎ থাকবে), যখন (তাদের অবস্থা হল), তারা কখনও তোমাদের উপর বিজয়ী হলে তোমাদের ব্যাপারে কোনওরূপ আত্মীয়তার মর্যাদা দেয় না এবং অঙ্গীকারেরও না। তারা মুখে তোমাদেরকে সন্তুষ্ট রাখতে চায়, অথচ তাদের অন্তর তা অস্বীকার করে। তাদের অধিকাংশই অবাধ্য।মুফতী তাকী উসমানী

কি করে চুক্তি রক্ষা হবে, যদি অবস্থা এই হয় যে, তারা যদি তোমাদের উপর প্রাধান্য লাভ করে তাহলে তোমাদের আত্মীয়তার মর্যাদাও রক্ষা করবেনা এবং অঙ্গীকারেরও না। তারা তোমাদেরকে নিজেদের মুখের কথায় সন্তুষ্ট রাখে, কিন্তু তাদের অন্তরসমূহ অস্বীকার করে, আর তাদের অধিকাংশ লোকই ফাসিক ।মুজিবুর রহমান

কিরূপে? তারা তোমাদের উপর জয়ী হলে তোমাদের আত্নীয়তার ও অঙ্গীকারের কোন মর্যাদা দেবে না। তারা মুখে তোমাদের সন্তুষ্ট করে, কিন্তু তাদের অন্তরসমূহ তা অস্বীকার করে, আর তাদের অধিকাংশ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

কেমন করে থাকবে ? তারা যদি তোমাদের ওপর জয়ী হয়, তবে তারা তোমাদের আত্মীয়তার ও অঙ্গীকারের কোন মর্যাদা দিবে না; তারা মুখে তোমাদেরকে সন্তুষ্ট রাখে; কিন্তু তাদের হৃদয় তা অস্বীকার করে; তাদের অধিকাংশ সত্যত্যাগী। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কীভাবে থাকবে (মুশরিকদের জন্য অঙ্গীকার)? অথচ তারা যদি তোমাদের উপর জয়ী হয়, তাহলে তারা তোমাদের আত্মীয়তা ও অঙ্গীকারের ব্যাপারে লক্ষ্য রাখে না। তারা তাদের মুখের (কথা) দ্বারা তোমাদেরকে সন্তুষ্ট করে, কিন্তু তাদের অন্তর তা অস্বীকার করে। আর তাদের অধিকাংশ ফাসিক।আল-বায়ান

কীভাবে (চুক্তি থাকতে পারে) যদি তারা তোমাদেরকে পরাজিত করতে পারে তাহলে তারা তোমাদের সঙ্গে না আত্মীয়তার মর্যাদা দেয়, আর না ওয়াদা-অঙ্গীকারের; তারা তাদের মুখের কথায় তোমাদেরকে সন্তুষ্ট রাখতে চায় কিন্তু তাদের অন্তর তা অস্বীকার করে, তাদের অধিকাংশই সত্যত্যাগী অপরাধী।তাইসিরুল

কেমন ক’রে যখন তারা যদি তোমাদের পিঠে চড়তে পারে তবে তারা তোমাদের সঙ্গে আ‌ত্মীয়তার বা চুক্তির বন্ধন মানবে না? তারা তোমাদের খুশী রাখতে চায় তাদের মুখ দিয়ে, কিন্তু তাদের হৃদয় অস্বীকার করে, আর তাদের অধিকাংশই দুষ্কৃতিকারী।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১০

অর্থাৎ বাহ্যত তারা চুক্তির শর্তাবলী নির্ণয় করে কিন্তু মনে থাকে তাদের চুক্তি ভঙ্গ করার কুমতলব। অভিজ্ঞতা থেকে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। অর্থাৎ দেখা গেছে, যখনই তারা কোন চুক্তি করেছে, ভঙ্গ করার জন্যই তা করেছে।

১১

অর্থাৎ তারা এমন লোক, যাদের নৈতিক দায়িত্বের কোন অনুভূতি নেই এবং নৈতিক বিধি-নিষেধ ভঙ্গ করতেও তারা কখনো কুণ্ঠিত বা শঙ্কিত হয় না।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

৮. কেমন করে চুক্তি বলবৎ থাকবে? অথচ তারা যদি তোমাদের উপর জয়ী হয়, তবে তারা তোমাদের আত্মীয়তার ও অঙ্গীকারের কোন মর্যাদা দেবে না; তারা মুখে তোমাদেরকে সন্তুষ্ট রাখে; কিন্তু তাদের হৃদয় তা অস্বীকার করে; আর তাদের অধিকাংশই ফাসেক।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৮) কেমন করে (তাদের চুক্তি বলবৎ থাকবে)? অথচ অবস্থা এই যে, তারা যদি তোমাদের উপর বিজয় লাভ করে, তাহলে তোমাদের আত্মীয়তা ও অঙ্গীকারের কোন মর্যাদা দেবে না, (1) তারা মুখে তোমাদেরকে সন্তুষ্ট করে, কিন্তু তাদের হৃদয় তা অস্বীকার করে। বস্তুতঃ তাদের অধিকাংশই সত্যত্যাগী।

(1) كَيف (কেমন করে?) শব্দটি পুনরায় তাকীদের জন্য নেতিবাচক অর্থে ব্যবহার হয়েছে। إِلّ অর্থ হল আত্মীয়তা এবং ذِمَّة শব্দের অর্থ হল অঙ্গীকার। অর্থাৎ, সেই মুশরিকদের মুখের কথার কি দাম আছে, যাদের অবস্থা এই যে, যদি তারা তোমাদের উপর বিজয় লাভ করে, তাহলে কোন আত্মীয়তা ও অঙ্গীকার রক্ষা করবে না। কোন কোন মুফাসসিরগণের নিকট প্রথম كَيف (বাক্য) মুশরিকদের এবং দ্বিতীয় كَيف (বাক্য) ইয়াহুদীদের প্রতি ইঙ্গিত করে বলা হয়েছে। কেননা, পরবর্তী আয়াতে গুণ বর্ণনা করে বলা হয়েছে যে, তারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে সামান্য মূল্যের বিনিময়ে বিক্রি করে। আর এই অভ্যাস ইয়াহুদীদেরই ছিল।