كَيۡفَ يَكُونُ لِلۡمُشۡرِكِينَ عَهۡدٌ عِندَ ٱللَّهِ وَعِندَ رَسُولِهِۦٓ إِلَّا ٱلَّذِينَ عَٰهَدتُّمۡ عِندَ ٱلۡمَسۡجِدِ ٱلۡحَرَامِۖ فَمَا ٱسۡتَقَٰمُواْ لَكُمۡ فَٱسۡتَقِيمُواْ لَهُمۡۚ إِنَّ ٱللَّهَ يُحِبُّ ٱلۡمُتَّقِينَ,

কাইফা ইয়াকূনুলিলমুশরিকীনা ‘আহদুন ‘ইনদাল্লা-হি ওয়া ‘ইনদা রছূলিহীইল্লাল্লাযীনা ‘আহাত্তুম ‘ইনদাল মাছজিদিল হার-মি ফামাছতাক-মূলাকুম ফাছতাকীমূলাহুম ইন্নাল্লা-হা ইউহিব্বুল মুত্তাকীন।উচ্চারণ

মুশরিকদের জন্য আল্লাহ‌ ও তাঁর রসূলের কাছে কোন নিরাপত্তার অঙ্গীকার কেমন করে হাতে পারে? তবে যাদের সাথে তোমরা চুক্তি সম্পাদন করেছিলে মসজিদে হারামের কাছে তাদের কথা স্বতন্ত্র। কাজেই যতক্ষণ তারা তোমাদের জন্য সোজা-সরল থাকে ততক্ষণ তোমরাও তাদের জন্য সোজা-সরল থাকো। কারণ আল্লাহ‌ মুত্তাকীদেরকে পছন্দ করেন। তাফহীমুল কুরআন

মুশরিকদের জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কাছে কোন চুক্তি কি করে বলবৎ থাকতে পারে? তবে মসজিদুল হারামের নিকটে তোমরা যাদের সাথে চুক্তি সম্পন্ন করেছ, তারা যতক্ষণ তোমাদের সাথে সোজা থাকবে, তোমরাও তাদের সাথে সোজা থাকবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাকীদেরকে পছন্দ করেন।মুফতী তাকী উসমানী

এই (কুরাইশ) মুশরিকদের অঙ্গীকার আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিকট কি রূপে (বলবৎ) থাকবে যদি না তাদের সাথে তোমরা মাসজিদুল হারামের সন্নিকটে অঙ্গীকার নিয়ে থাক? অতএব যে পর্যন্ত তারা তোমাদের সাথে সরলভাবে থাকে, তোমরাও তাদের সাথে সরলভাবে থাকবে, নিঃসন্দেহে আল্লাহ সংযমশীলদের পছন্দ করেন।মুজিবুর রহমান

মুশরিকদের চুক্তি আল্লাহর নিকট ও তাঁর রসূলের নিকট কিরূপে বলবৎ থাকবে। তবে যাদের সাথে তোমরা চুক্তি সম্পাদন করেছ মসজিদুল-হারামের নিকট। অতএব, যে পর্যন্ত তারা তোমাদের জন্যে সরল থাকে, তোমরাও তাদের জন্য সরল থাক। নিঃসন্দেহের আল্লাহ সাবধানীদের পছন্দ করেন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের নিকট মুশরিকদের চুক্তি কি করে বলবৎ থাকবে ? তবে যাদের সঙ্গে মসজিদুল হারামের সন্নিকটে তোমরা পারস্পরিক চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছিলে, যাবৎ তারা তোমাদের চুক্তিতে স্থির থাকবে তোমরাও তাদের চুক্তিতে স্থির থাকবে; নিশ্চয়ই আল্লাহ্ মুত্তাকীদেরকে পছন্দকরেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কীভাবে মুশরিকদের জন্য অঙ্গীকার থাকবে আল্লাহর কাছে ও তাঁর রাসূলের কাছে? অবশ্য যাদের সাথে মসজিদে হারামে তোমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছ তাদের কথা আলাদা। অতএব যতক্ষণ তারা তোমাদের জন্য ঠিক থাকে, ততক্ষণ তোমরাও তাদের জন্য ঠিক থাক। নিশ্চয় আল্লাহ মুত্তাকীদের ভালবাসেন।আল-বায়ান

আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সঙ্গে মুশরিকদের চুক্তি কী করে কার্যকর থাকতে পারে? অবশ্য ঐসব লোক ছাড়া যাদের সঙ্গে তোমরা মাসজিদুল হারামের নিকট চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলে; তারা যদ্দিন তোমাদের সঙ্গে চুক্তি ঠিক রাখে, তোমরাও তাদের সঙ্গে কৃত চুক্তিতে দৃঢ় থাক। নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাকীদের ভালবাসেন।তাইসিরুল

কেমন ক’রে মুশরিকদের জন্য আল্লাহ্‌র সঙ্গে ও তাঁর রসূলের সঙ্গে চুক্তি হতে পারে, তাদের সম্পর্কে ছাড়া যাদের সঙ্গে তোমরা চুক্তি করেছিলে পবিত্র মসজিদের নিকটে? সুতরাং যতক্ষণ তারা তোমাদের প্রতি কায়েম থাকবে ততক্ষণ তোমরাও তাদের প্রতি কায়েম রইবে। নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ ধর্মপরায়ণদের ভালোবাসেন।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

অর্থাৎ নবী কিনানাহ, বনী খুযাআহ ও বনী দ্বামরাহ।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এতটুকু কথা স্পষ্ট যে, ৭ থেকে ১৬নং পর্যন্ত আয়াতসমূহে কুরাইশ কাফেরদের সম্পর্কে আলোচনা হয়েছে এবং তাদের কর্তৃক চুক্তি ভঙ্গের কথা বর্ণিত হয়েছে। আর মুসলিমদেরকে হুকুম করা হয়েছে, তারা যেন তাদের কথায় আস্থা না রাখে। যদি তারা চুক্তি ভঙ্গ করে তবে তাদের সাথে যেন যুদ্ধ করে। তবে এ আয়াতসমূহ কখন নাযিল হয়েছিল সে সম্পর্কে মুফাসসিরগণ বিভিন্ন মত ব্যক্ত করেছেন। একদল মুফাসসির বলেন, এ আয়াতসমূহ নাযিল হয়েছিল মক্কা বিজয়ের আগে হুদায়বিয়ায়, যখন কুরাইশের সাথে মুসলিমগণ চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। এ চুক্তি বলবৎ ছিল। কিন্তু এ আয়াতসমূহে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে যে, তারা নিজেদের চুক্তিতে অবিচল থাকবে না। কাজেই তারা চুক্তিভঙ্গ করলে তাদের সাথে যুদ্ধ করবে। অতঃপর তারা পুনরায় চুক্তি সম্পাদন করতে চাইলে তাদের কথায় আস্থা রাখবে না। কেননা তারা মুখে বলে এক কথা, কিন্তু অন্তরে থাকে অন্য কিছু। তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করলে আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে সাহায্য করবেন এবং তাদেরকে করবেন লাঞ্ছিত। এভাবে যে সকল মুসলিম তাদের জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তাদের অন্তর জুড়াবে। এ তাফসীর অনুসারে এ আয়াতসমূহ সম্পর্কচ্ছেদের সেই ঘোষণার আগে নাযিল হয়েছে, যা ১ থেকে ৬নং পর্যন্ত আয়াতসমূহে বর্ণিত হয়েছে। সে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল মক্কা বিজয়ের এক বছর দু’মাস পর হিজরী ৯ সনের হজ্জের সময়। অপর একদল মুফাসসির বলেন, এ সকল আয়াত সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা দেওয়ার আগের নয়; বরং সেই সম্পর্কিত আয়াতসমূহে যে বিষয়বস্তু বর্ণিত হয়ে আসছে এ আয়াতসমূহও তারই অংশ। এতে সেই ঘোষণা দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আর তা এই যে, এসব লোক আগেই যেহেতু চুক্তি ভঙ্গ করেছে, তাই এখন আর আশা করা যায় না যে, তাদের সঙ্গে নতুন কোন চুক্তি করা হলে তারা তা রক্ষা করবে। কেননা মুসলিমদের প্রতি তাদের মনে যে বিদ্বেষ ও শত্রুতা বিরাজ করে, সে কারণে তাদের কাছে না কোনও আত্মীয়তার মূল্য আছে আর না কোনও চুক্তির। যেহেতু মক্কা বিজয়কালে ও তার পরে কুরাইশের বহু লোক ইসলাম গ্রহণ করেছিল এবং কুরাইশ কাফেরদের সাথে তাদের আত্মীয়তা ছিল, তাই কুরাইশ সম্পর্কে তাদের অন্তরে কিছুটা কোমলতা থাকা অস্বাভাবিক ছিল না। তাই এ আয়াতসমূহে তাদেরকে সতর্ক করা হচ্ছে, তারা যেন কুরাইশ কাফেরদের কথায় প্রতারিত না হয়। বরং অন্তরে যেন দৃঢ় সংকল্প রাখে, যদি কখনও তাদের সাথে যুদ্ধ করতে হয় তবে পূর্ণ শক্তি দিয়ে তাদের সাথে লড়বে। এ লেখকের কাছে একাধিক প্রমাণের ভিত্তিতে এই তাফসীরই বেশি শক্তিশালী মনে হয়। প্রথম কারণ তো এই যে, ৭ থেকে ১৬ পর্যন্ত আয়াতসমূহের প্রতি লক্ষ্য করলে দেখা যায়, সবগুলো একই বিষয়বস্তুর সাথে সম্পৃক্ত। আলোচনার ধারাবাহিকতা পর্যবেক্ষণ করলে ৭নং আয়াত সম্পর্কে এরূপ ধারণা করা কঠিন যে, এ আয়াত প্রথম ছয় আয়াতের বহু আগে নাযিল হয়েছিল। দ্বিতীয়ত ঘোষণা দানকালে হযরত আলী (রাযি.) কুরআন মাজীদর যে আয়াতসমূহ পাঠ করেছিলেন, রিওয়ায়াতসমূহে তার সংখ্যা সর্বনি¤œ দশ এবং সর্বোচ্চ চল্লিশ বলা হয়েছে। (দেখুন আদ-দুররুল মানছুর, ৪র্থ খণ্ড, ১১২ পৃষ্ঠা; আল-বিকাঈ, নাজমুদ দুরার, ৮ খণ্ড, ৩৬৬ পৃষ্ঠা)। আর নাসায়ী শরীফের এক রিওয়ায়াতে যে আছে ‘তিনি তা শেষ পর্যন্ত পড়লেন’ (অধ্যায় হজ্জ, পরিচ্ছেদ তারবিয়ার দিন খুতবা প্রসঙ্গ, হাদীস নং ২৯৯৩), এর অর্থ যে সমস্ত আয়াত দিয়ে তাঁকে পাঠানো হয়েছিল, তার শেষ পর্যন্ত পড়লেন। তৃতীয়ত হাফেজ ইবনে জারীর তাবারী (রহ.), আল্লামা বিকাঈ (রহ.) ও কাযী আবুস সাউদ (রহ.)-সহ বড়-বড় মুহাদ্দিস ও মুফাসসিরগণ এ আয়াতসমূহকে বারাআঃ বা সম্পর্কচ্ছেদেরই অংশ সাব্যস্ত করেছেন। তাদের মতে এতে সম্পর্কচ্ছেদের কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

তাফসীরে জাকারিয়া

৭. আল্লাহ ও তার রাসূলের কাছে মুশরিকদের চুক্তি কি করে বলবৎ থাকবে? তবে যাদের সাথে মসজিদুল হারামের সন্নিকটে(১) তোমরা পারস্পারিক চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছিলে, যতক্ষণ তারা তোমাদের চুক্তিতে স্থির থাকবে তোমরাও তাদের চুক্তিতে স্থির থাকবে(২); নিশ্চয় আল্লাহ মুত্তাকীদেরকে পছন্দ করেন।

(১) অর্থাৎ হুদায়বিয়ার দিন যে চুক্তি সাক্ষরিত হয়েছিল এখানে তাই উদ্দেশ্য নেয়া হয়েছে। (ইবন কাসীর) এখানে মাসজিদুল হারাম বলে পুরো হারাম এলাকা বুঝানো হয়েছে। কুরআনের সুরা আল-ফাত্হ এর ২৫ নং আয়াতেও মাসজিদুল হারাম বলে মক্কার পুরো হারাম এলাকা বুঝানো হয়েছে। আর হুদায়বিয়ার একাংশ হারাম এলাকার ভিতরে, যা সবচেয়ে নিকটতম হারাম এলাকা।

(২) কুরআন মজীদ মুসলিমদের তাকিদ করে যে, শক্রদের বেলায়ও ইনসাফ থেকে কোন অবস্থায় যেন বিচ্যুত না হয়। আলোচ্য আয়াতে আল্লাহ তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। যেমন, নগণ্যসংখ্যক মুশরিক ছাড়া বাকী সবাই চুক্তিভংগ করেছে। সাধারণতঃ এমতাবস্থায় বাছ-বিচার তেমন থাকে না। নির্দোষ ক্ষুদ্র দলকেও সংখ্যা গুরু অপরাধী দলের ভাগ্যই বরণ করতে হয়। কিন্তু আল্লাহ্ তা'আলা “তবে যাদের সাথে তোমরা মসজিদুল হারামের পাশে চুক্তি সম্পাদন করেছ” বলে ওদের পৃথক করে দেয়, যারা চুক্তিভংগ করেনি এবং আদেশ দেয়া হয় যে, সংখ্যাগুরু চুক্তিভংগকারী মুশরিকদের প্রতি রাগ করে এদের সাথে তোমরা চুক্তিভংগ করোনা; বরং এরা যতদিন তোমাদের প্রতি সরল ও চুক্তির উপর অবিচল থাকে, তোমরাও তাদের প্রতি সরল থাক। ওদের প্রতি আক্রোশ বশতঃ এদের কষ্ট দেবে না। আল্লাহ্ তা'আলা এ বিষয়টি অন্যত্র পরিষ্কার ব্যক্ত করেছেন, “কোন জাতির শক্রতা যেন বে-ইনসাফ হতে তোমাদের উদ্বুদ্ধ না করে। (সূরা আল-মায়েদাহঃ ৮)

অনুরূপভাবে আলোচ্য সূরা আত-তাওবাহ এর ৮ নং আয়াতের শেষে বলা হয়েছেঃ “এদের অধিকাংশই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী।” অর্থাৎ এদের মধ্যে কিছুসংখ্যক ভদ্র চিত্ত লোক চুক্তির উপর অবিচল থাকতে চায়। কিন্তু সংখ্যাগুরুর ভয়ে তারাও জড়সড়। যারা চুক্তি ভঙ্গ করেনি তারা কারা এটা নির্ধারণে কয়েকটি মত রয়েছে। ইমাম তাবারী বলেন, তারা হচ্ছে, কিনানা এর বনী বকরের কোন কোন গোষ্ঠী। যারা তাদের অঙ্গীকারে অটল ছিল। কুরাইশ ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে যা সংঘটিত হয়েছিল তাতে তাদের কোন ভূমিকা ছিল না। কারণ নবম হিজরীতে যে সময় এ ঘোষণা আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রদান করেছিলেন, তখন মক্কাতে কুরাইশ বা খুযাআতে কোন কাফের অবশিষ্ট ছিল না, আর কুরাইশ ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাঝেও আর কোন চুক্তি অবশিষ্ট ছিল না। সুতরাং বুঝা গেল যে, তারা ছিল কিনানার বনী বকরের কিছু লোক। (তাবারী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৭) আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নিকট অংশীবাদীদের চুক্তি কিরূপে বলবৎ থাকবে?(1) তবে যাদের সাথে তোমরা মাসজিদুল হারামের সন্নিকটে পারস্পরিক চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছ, তারা যতদিন তোমাদের চুক্তিতে স্থির থাকবে, তোমরা তাদের চুক্তিতে স্থির থাক। নিশ্চয় আল্লাহ সাবধানীদেরকে পছন্দ করেন। (2)

(1) এই প্রশ্নবাচক শব্দটি নেতিবাচক। অর্থাৎ, যে সকল মুশরিকদের সাথে তোমাদের চুক্তি আছে তাদের ছাড়া আর কারো চুক্তি বলবৎ থাকবে না।

(2) অর্থাৎ, চুক্তি বজায় রাখা আল্লাহর নিকট বড় পছন্দনীয় কাজ। অতএব তার প্রতি যত্ন রাখা জরুরী।