ওয়া ইযইউরীকুমূহুম ইযিলতাকাইতুম ফীআ‘ইউনিকুম কালীলাওঁ ওয়া ইউকালিল্লুকুম ফীআ‘ইউনিহিম লিয়াকদিইয়াল্লা-হু আমরন ক-না মাফ‘ঊলাওঁ ওয়া ইলাল্লা-হি তুরজা‘উল উমূর।উচ্চারণ
আর স্মরণ করো, যখন সামনাসামনি যুদ্ধের সময় আল্লাহ তোমাদের দৃষ্টিতে শত্রুদের সামান্য সংখ্যক দেখিয়েছেন এবং তাদের দৃষ্টিতেও তোমাদের কম করে দেখিয়েছেন, যাতে যে বিষয়টি অনিবার্য ছিল তাকে আল্লাহ প্রকাশ্যে নিয়ে আসেন এবং শেষ পর্যন্ত সমস্ত বিষয় আল্লাহর দিকেই ফিরে যায়। তাফহীমুল কুরআন
এবং (সেই সময়কে স্মরণ কর), যখন তোমরা একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিলে, তখন আল্লাহ তোমাদের চোখে তাদের সংখ্যা অল্প দেখাচ্ছিলেন এবং তাদের চোখে তোমাদেরকে অল্প দেখাচ্ছিলেন, #%৩২%# যাতে যে কাজ সংঘটিত হওয়ার ছিল, আল্লাহ তা সম্পন্ন করে দেখান। যাবতীয় বিষয় আল্লাহরই দিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।মুফতী তাকী উসমানী
আরও স্মরণ কর, যা ঘটানোর ছিল, চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন করার জন্য যখন দু’দল মুখোমুখী দন্ডায়মান হয়েছিল তখন তোমাদের দৃষ্টিতে ওদের সংখ্যা খুব অল্প দেখাচ্ছিল, আর ওদের চোখেও তোমাদেরকে খুব স্বল্প সংখ্যক পরিদৃষ্ট হচ্ছিল, সমস্ত বিষয় ও সমস্যাই আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করে।মুজিবুর রহমান
আর যখন তোমাদেরকে দেখালেন সে সৈন্যদল মোকাবেলার সময় তোমাদের চোখে অল্প এবং তোমাদেরকে দেখালেন তাদের চোখে বেশী, যাতে আল্লাহ সে কাজ করে নিতে পারেন যা ছিল নির্ধারিত। আর সব কাজই আল্লাহর নিকট গিয়ে পৌছায়।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
স্মরণ কর, তোমরা যখন পরস্পরের সম্মুখীন হয়েছিলে তখন তিনি তাদেরকে তোমাদের দৃষ্টিতে স্বল্পসংখ্যক দেখিয়েছিলেন এবং তোমাদেরকে তাদের দৃষ্টিতে স্বল্পসংখ্যক দেখিয়েছিলেন, যা ঘটিবার ছিল তা সম্পন্ন করার জন্যে। সমস্ত বিষয় আল্লাহ্ র দিকেই প্রত্যাবর্তিত হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর যখন তোমরা মুখোমুখি হয়েছিলে, তিনি তোমাদের চোখে তাদেরকে স্বল্প দেখিয়েছিলেন এবং তাদের চোখেও তোমাদেরকে স্বল্প দেখিয়েছিলেন যাতে আল্লাহ সম্পন্ন করেন এমন কাজ যা হওয়ারই ছিল এবং আল্লাহর দিকেই সকল বিষয় ফেরানো হবে।আল-বায়ান
স্মরণ কর, যখন তোমরা পরস্পরের সম্মুখীন হয়েছিলে তখন তিনি তোমাদের চোখে তাদেরকে স্বল্প সংখ্যক দেখিয়েছিলেন এবং তাদের চোখে তোমাদেরকে স্বল্প সংখ্যক দেখিয়েছিলেন সেই ব্যাপারটি সম্পন্ন করার জন্য যা ছিল পূর্ব স্থিরীকৃত। যাবতীয় বিষয় (অবশেষে) আল্লাহরই নিকট ফিরে আসে।তাইসিরুল
আর স্মরণ করো! তিনি তোমাদের কাছে তাদের দেখিয়ে-ছিলেন, যখন তোমরা মুখোমুখি হয়েছিলে, তোমাদের চোখে অল্পসংখ্যক, আর তিনি তোমাদের করেছিলেন স্বল্পসংখ্যক তাদের চোখে, এইজন্য যেন আল্লাহ্ ব্যাপার একটা ঘটাতে পারেন যা ঘটেই গেছে। আর আল্লাহ্র কাছেই সব ব্যাপার ফিরিয়ে আনা হয়।মাওলানা জহুরুল হক
এটা সেই স্বপ্ন নয়; বরং জাগ্রত অবস্থার কথা। উভয় পক্ষ যখন একে অন্যের সম্মুখীন, ঠিক তখনই এটা ঘটেছিল। তখন আল্লাহ তাআলা মুসলিমদের অন্তরে এমন এক অবস্থার সৃষ্টি করে দেন, যদ্দরুণ কাফেরদের সেই বিশাল ও শক্তিশালী বাহিনীকেও তাদের কাছে অত্যন্ত মামুলি মনে হচ্ছিল।
৪৪. আর স্মরণ কর, যখন তোমরা পরস্পরের সম্মুখীন হয়েছিলে তখন তিনি তাদেরকে তোমাদের দৃষ্টিতে স্বল্প সংখ্যক দেখিয়েছিলেন(১) এবং তোমাদেরকে তাদের দৃষ্টিতে স্বল্প সংখ্যক দেখিয়েছিলেন, যাতে আল্লাহ সম্পন্ন করেন এমন কাজ যা ঘটারই ছিল। আর আল্লাহর দিকেই সব বিষয় প্রত্যাবর্তন করা হয়।
(১) আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ বলেন, বদরের দিন কাফেরদেরকে আমাদের দৃষ্টিতে কম করে দেখানো হয়েছিল। এমনকি আমার পাশের লোককে বলছিলাম যে, তুমি তাদের সংখ্যা সত্তর দেখতে পাও? সে বললঃ আমি একশত দেখতে পাচ্ছি। আব্দুল্লাহ বলেনঃ শেষে আমরা তাদের একজনকে বন্দী করে জিজ্ঞাসা করলে সে তাদের সংখ্যা এক হাজার বলে জানায়। (তাবারী)
(৪৪)স্মরণ কর, যখন তোমরা পরস্পরের সম্মুখীন হয়েছিলে, তখন তিনি তাদেরকে তোমাদের দৃষ্টিতে স্বল্প-সংখ্যক দেখিয়েছিলেন এবং তোমাদেরকেও তাদের দৃষ্টিতে স্বল্প-সংখ্যক দেখিয়েছিলেন; (1) যাতে যা ঘটার ছিল তা তিনি সম্পন্ন করেন। (2) আর সব বিষয় আল্লাহরই দিকে প্রত্যাবর্তিত হয়ে থাকে।
(1) যাতে সেই কাফেররাও তোমাদের ভয়ে পিছু হটে না যায়। প্রথম ঘটনাটি ছিল স্বপ্নের। আর এটা ঠিক লড়াইয়ের সময় দেখানো হয়েছিল, যেমন কুরআনের শব্দাবলী হতে এ কথা স্পষ্ট হয়। পরন্তু এই ব্যাপারটি শুরুর দিকে ছিল। কিন্তু যখন পূর্ণভাবে লড়াই আরম্ভ হয়ে গেল তখন কাফেররা মুসলিমদেরকে নিজেদের দ্বিগুণ দেখতে পেল; যেমন সূরা আলে ইমরানের ১৩নং আয়াত থেকে সে কথা জানা যায়। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরে সংখ্যা বেশী দেখাবার হিকমত এই ছিল যে, যাতে অধিক সংখ্যা দেখে তাদের অন্তরে মুসলিমদের ত্রাস ও ভীতি সঞ্চার হয় এবং তার ফলে কাফেরদের মধ্যে কাপুরুষতা, ভীরুতা ও নিরুদ্যমতা এসে যায়। আর এর বিপরীত প্রথমে কম সংখ্যা দেখানোতে হিকমত এটাই ছিল যে, তারা যেন যুদ্ধ থেকে দূরে সরে না পড়ে।
(2) এসবের উদ্দেশ্য ছিল যে, আল্লাহ তাআলা যে ফায়সালা করে রেখেছিলেন তা পূরণ হয়ে যায়। এই জন্য তিনি তার কারণ ও উপকরণ সৃষ্টি করে দিলেন।