إِذۡ يُرِيكَهُمُ ٱللَّهُ فِي مَنَامِكَ قَلِيلٗاۖ وَلَوۡ أَرَىٰكَهُمۡ كَثِيرٗا لَّفَشِلۡتُمۡ وَلَتَنَٰزَعۡتُمۡ فِي ٱلۡأَمۡرِ وَلَٰكِنَّ ٱللَّهَ سَلَّمَۚ إِنَّهُۥ عَلِيمُۢ بِذَاتِ ٱلصُّدُورِ

ইয ইউরীকাহুমুল্লা -হু ফী মানা-মিকা কালীলাওঁ ওয়া লাও আর-কাহুম কাছীরল লাফাশিলতুম ওয়ালা তানা-ঝা‘তুম ফিল আমরি ওয়ালা-কিন্নাল্লা-হা ছাল্লামা ইন্নাহূ ‘আলীমুম বিযা-তিসসুদূ র।উচ্চারণ

আর স্মরণ করো সে সময়ের কথা, যখন হে নবী, আল্লাহ‌ তোমার স্বপ্নের মধ্যে তাদেরকে সামান্য সংখক দেখাচ্ছিলেন। ৩৬ যদি তিনি তোমাকে তাদের সংখ্যা বেশী দেখিয়ে দিতেন তাহলে নিশ্চয়ই তোমরা সাহস হারিয়ে ফেলতে এবং যুদ্ধ করার ব্যাপারে ঝগড়া শুরু করে দিতে। কিন্তু আল্লাহই তোমাদের এ থেকে রক্ষা করেছেন। অবশ্যি তিনি মনের অবস্থাও জানেন। তাফহীমুল কুরআন

(হে নবী! স্মরণ কর), যখন আল্লাহ তোমাকে স্বপ্নে তাদের (অর্থাৎ শত্রুদের) সংখ্যা কম দেখাচ্ছিলেন। #%৩১%# তোমাকে যদি তাদের সংখ্যা বেশি দেখাতেন, তবে (হে মুসলিমগণ!) তোমরা সাহস হারাতে এবং এ বিষয়ে তোমাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হত, কিন্তু আল্লাহ (তোমাদেরকে তা থেকে) রক্ষা করলেন। নিশ্চয়ই তিনি অন্তরের গুপ্ত কথাসমূহও ভালোভাবে জানেন।মুফতী তাকী উসমানী

আর স্মরণ কর, যখন আল্লাহ তোমাকে স্বপ্নযোগে ওদের সংখ্যা অল্প দেখিয়েছিলেন, যদি তোমাকে তাদের সংখ্যা অধিক দেখাতেন তাহলে তোমরা সাহস হারিয়ে ফেলতে এবং যুদ্ধ সম্পর্কে তোমাদের মধ্যে মতানৈক্য সৃষ্টি হত, কিন্তু আল্লাহ তোমাদেরকে রক্ষা করেছেন। অন্তরে যা কিছু আছে সে সম্পর্কে তিনি সবিশেষ অবহিত।মুজিবুর রহমান

আল্লাহ যখন তোমাকে স্বপ্নে সেসব কাফেরের পরিমাণ অল্প করে দেখালেন; বেশী করে দেখালে তোমরা কাপুরুষতা অবলম্বন করতে এবং কাজের বেলায় বিপদ সৃষ্টি করতে। কিন্তু আল্লাহ বাঁচিয়ে দিয়েছেন। তিনি অতি উত্তমভাবেই জানেন; যা কিছু অন্তরে রয়েছে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

স্মরণ কর, আল্লাহ্ তোমাকে স্বপেè দেখিয়েছিলেন যে, তারা সংখ্যায় অল্প; যদি তোমাকে দেখাতেন, তারা সংখ্যায় অধিক তবে তোমরা সাহস হারাতে আর যুদ্ধ বিষয়ে নিজেদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করতে। কিন্তু আল্লাহ্ তোমাদেরকে রক্ষা করেছিলেন আর অন্তরে যা আছে সে সম্বন্ধে তিনি বিশেষভাবে অবহিত। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন আল্লাহ তোমাকে স্বপ্নের মধ্যে তাদেরকে স্বল্প সংখ্যায় দেখিয়েছিলেন। আর তোমাকে যদি তিনি তাদেরকে বেশি সংখ্যায় দেখাতেন, তাহলে অবশ্যই তোমরা সাহসহারা হয়ে পড়তে এবং বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক করতে। কিন্তু আল্লাহ নিরাপত্তা দিয়েছেন। নিশ্চয় অন্তরে যা আছে তিনি সে সব বিষয়ে অবগত।আল-বায়ান

স্মরণ কর, আল্লাহ তোমাকে স্বপ্নের মাধ্যমে তাদের সংখ্যাকে অল্প করে দেখিয়েছিলেন, যদি তিনি তাদের সংখ্যাকে তোমার নিকট বেশি করে দেখাতেন তাহলে তোমরা অবশ্যই সাহস হারিয়ে ফেলতে আর যুদ্ধের বিষয় নিয়ে অবশ্যইঝগড়া শুরু করে দিতে। কিন্তু আল্লাহ্ই তোমাদেরকে রক্ষা করেছিলেন, অন্তরে যা আছে সে সম্পর্কে তিনি খুবই ভালভাবে অবহিত।তাইসিরুল

স্মরণ করো! আল্লাহ্ তোমার কাছে তাদের দেখিয়েছিলেন তোমার স্বরে মধ্যে অল্পসংখ্যক। আর তিনি যদি তোমার কাছে তাদের দেখাতেন বহুসংখ্যক তবে তোমরা অবশ্যই দুর্বল-চিত্ত হয়ে পড়তে এবং ব্যাপারটি সন্বন্ধে তোমরা তর্কবিতর্ক করতে, কিন্তু আল্লাহ্ রক্ষা করেছেন। নিঃসন্দেহ তিনি বিশেষভাবে অবহিত আছেন বুকের ভেতরে যা রয়েছে সে-সন্বন্ধে।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৩৬

এটা এমন এক সময়ের কথা, যখন নবী (সা.) মুসলমানদের নিয়ে মদীনা থেকে বের হচ্ছিলেন অথবা পথে কোন মনযিলে অবস্থান করছিলেন তখন কাফেরদের যথার্থ সৈন্য সংখ্যা জানা যায়নি। এ সময় নবী (সা.) স্বপ্নে কাফেরদের সেনাবাহিনী দেখলেন। তাঁর সামনে যে দৃশ্যপট পেশ করা হয় তাতে শত্রু সেনাদের সংখ্যা খুব বেশী নয় বলে তিনি অনুমান করতে পারলেন। এ স্বপ্নের বিবরণ তিনি মুসলমানদের শুনালেন। এতে মুসলমানদের হিম্মত বেড়ে গেলো এবং তারা তাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখলো।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

যুদ্ধ শুরুর আগে হানাদার কাফেরদের সংখ্যা কত তা যখন মুসলিমদের জানা ছিল না, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে স্বপ্নে দেখানো হয় যে, তাদের সংখ্যা অল্প। তিনি সে স্বপ্ন সাহাবায়ে কিরামের সামনে বর্ণনা করলেন। এতে তাদের সাহস বৃদ্ধি পায়। ইমাম রাযী (রহ.) বলেন, নবীর স্বপ্ন যেহেতু বাস্তববিরোধী হতে পারে না, তাই দৃশ্যত বোঝা যাচ্ছে তাকে সৈন্যদের একটা অংশ দেখানো হয়েছিল, তিনি সেই অংশ সম্পর্কেই জানিয়েছিলেন যে, তারা অল্পসংখ্যক। কেউ বলেন, স্বপ্নে যে জিনিস দেখানো হয়, তার সম্পর্ক থাকে উপমা জগত (আলম-ই-মিছাল)-এর সাথে। যা দেখা যায়, উদ্দেশ্য হুবহু সেটাই হয় না। এ কারণে স্বপ্নের তাবীর করার প্রয়োজন থাকে। সুতরাং স্বপ্নে যদিও গোটা বাহিনীর সংখ্যা অল্প দেখানো হয়েছিল, কিন্তু সে অল্পতার আসল ব্যাখ্যা ছিল এই যে, সৈন্য সংখ্যা বেশি হলেও তার গুরুত্ব বড় কম। এ ব্যাখ্যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জানা ছিল। সুতরাং সে দৃষ্টিতেই তিনি সাহাবায়ে কিরামের সামনে এ স্বপ্নের কথা উল্লেখ করেছিলেন, যাতে তাদের সাহস ও উদ্যম বৃদ্ধি পায়।

তাফসীরে জাকারিয়া

৪৩. স্মরণ করুন, যখন আল্লাহ আপনাকে স্বপ্নে দেখিয়েছিলেন যে, তারা সংখ্যায় কম(১); যদি আপনাকে দেখাতেন যে, তারা সংখ্যায় বেশী তবে অবশ্যই তোমরা সাহস হারাতে এবং যুদ্ধ বিষয়ে নিজেদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করতে। কিন্তু আল্লাহ তোমাদেরকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। অবশ্যই তিনি অন্তরে যা আছে সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবগত।

(১) মুফাস্‌সির মুজাহিদ রাহিমাহুল্লাহ বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাদের সংখ্যা কম করে দেখানো হয়েছিল। আর তাই তিনি সাহাবাদের কাছে বর্ণনা করেছিলেন। (তাবারী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৪৩) স্মরণ কর, যখন আল্লাহ তোমাকে স্বপ্নে তাদের সংখ্যা অল্প দেখিয়েছিলেন। যদি তোমাকে তাদের সংখ্যা অধিক দেখাতেন, তাহলে তোমরা সাহস হারাতে এবং যুদ্ধ বিষয়ে নিজেদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করতে। কিন্তু আল্লাহ তোমাদেরকে রক্ষা করেছেন। অন্তরে যা আছে সে সম্বন্ধে অবশ্যই তিনি বিশেষভাবে অবহিত।(1)

(1) আল্লাহ তাআলা নবী (সাঃ)-কে সবপ্নে কাফেরদের সংখ্যা অল্প দেখিয়েছিলেন। আর সেই সংখ্যা তিনি সাহাবাদের কাছে বর্ণনা করলেন। যার ফলে তাঁদের হিম্মত বৃদ্ধি পেয়েছিল। যদি তাঁদের তুলনায় কাফেরদের সংখ্যা বেশী দেখানো হত, তাহলে হয়তো সাহাবাগণের হিম্মত দমে যেত এবং আপোসের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হবার স‎ম্ভাবনা ছিল। কিন্তু আল্লাহ তাআলা এই দু’টি সমস্যা থেকে তাঁদেরকে বাঁচিয়ে নিলেন।