وَلَوۡ عَلِمَ ٱللَّهُ فِيهِمۡ خَيۡرٗا لَّأَسۡمَعَهُمۡۖ وَلَوۡ أَسۡمَعَهُمۡ لَتَوَلَّواْ وَّهُم مُّعۡرِضُونَ

ওয়া লাও ‘আলিমাল্লা-হু ফীহিম খাইরল লাআছমা‘আহুম ওয়া লাও আছমা‘আহুম লাতাওয়াল্লাওঁ ওয়া হুম মু‘রিদূন।উচ্চারণ

যদি আল্লাহ‌ জানতেন, এদের মধ্যে সামান্য পরিমাণও কল্যাণ আছে তাহলে নিশ্চয়ই তিনি তাদেরকে শুনতে উদ্বুদ্ধ করতেন। (কিন্তু কল্যাণ ছাড়া) যদি তিনি তাদের শুনাতেন তাহলে তারা নির্লিপ্ততার সাথে মুখ ফিরিয়ে নিতো। ১৮ তাফহীমুল কুরআন

আল্লাহর যদি জানা থাকত তাদের মধ্যে কোন কল্যাণ আছে, তবে তিনি তাদেরকে অবশ্যই শোনার তাওফীক দিতেন, কিন্তু (তাদের মধ্যে যেহেতু কোন কল্যাণ নেই, তাই) তাদের শোনার তাওফীক দিলেও তারা মুখ ফিরিয়ে পালাবে। #%১২%#মুফতী তাকী উসমানী

আল্লাহ যদি জানতেন যে, তাদের মধ্যে কল্যাণকর কিছু নিহিত রয়েছে তাহলে অবশ্যই তিনি তাদেরকে শোনার তাওফীক দিতেন, তিনি যদি তাদেরকে শোনাতেন তাহলেও তারা উপেক্ষা করে মুখ ফিরিয়ে অন্য দিকে চলে যেত।মুজিবুর রহমান

বস্তুতঃ আল্লাহ যদি তাদের মধ্যে কিছুমাত্র শুভ চিন্তা জানতেন, তবে তাদেরকে শুনিয়ে দিতেন। আর এখনই যদি তাদের শুনিয়ে দেন, তবে তারা মুখ ঘুরিয়ে পালিয়ে যাবে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আল্লাহ্ যদি তাদের মধ্যে ভাল কিছু দেখতেন তবে তিনি তাদেরকেও শুনাতেন, কিন্তু তিনি তাদেরকে শুনালেও তারা উপেক্ষা করে মুখ ফিরাত। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর আল্লাহ যদি তাদের মধ্যে কোন কল্যাণ জানতেন তাহলে অবশ্যই তাদেরকে শুনাতেন। আর যদি শুনাতেন তাহলেও তারা মুখ ফিরিয়ে নিত, এমতাবস্থায় যে, তারা উপেক্ষাকারী।আল-বায়ান

আল্লাহ যদি দেখতেন যে, তাদের মধ্যে কোন ভাল গুণ নিহিত আছে তবে তিনি তাদেরকে শুনবার তাওফীক দিতেন। আর (গুণ না থাকা অবস্থায়) তিনি যদি তাদেরকে শুনতে দিতেন তাহলে তারা উপেক্ষা করে মুখ ফিরিয়ে নিত।তাইসিরুল

আর আল্লাহ্ যদি তাদের মধ্যে ভালো কিছু জানতেন তবে তিনি আলবৎ তাদের শোনাতেন। কিন্তু যদিও তিনি তাদের শোনাতেন তবু তারা ফিরে যেতো, যেহেতু তারা বিমুখ।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১৮

অর্থাৎ যখন তাদের মধ্যে সত্যপ্রিয়তা ও সত্যের জন্য কাজ করার আবেগ ও প্রেরণা নেই, তখন তাদের যদি আদেশ পালন করার জন্য যুদ্ধে যেতে উদ্বুদ্ধ করাও হতো, তাহলেও তারা এ আসন্ন বিপদ দেখেই অবলীলাক্রমে পালিয়ে যেতো। এ অবস্থায় তাদের সঙ্গ তোমাদের জন্য কল্যাণকর হবার পরিবর্তে ক্ষতিকর প্রমাণিত হতো।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

‘কল্যাণ’ দ্বারা সত্যের অনুসন্ধিৎসা বোঝানো হয়েছে। আর পূর্বে বলা হয়েছে যে, ‘শোনা’ দ্বারা বোঝানো উদ্দেশ্য ‘উপলব্ধি করা’। এ আয়াত দ্বারা একটি গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব জানা গেল। তা এই যে, সত্য বোঝার ও মানার তাওফীক আল্লাহ তাআলা কেবল তাকেই দান করেন, যার অন্তরে সত্যের অনুসন্ধিৎসা আছে। যদি কোনও ব্যক্তি সত্য জানার আগ্রহই না রাখে এবং সে এই ভেবে গাফলতির জীবন যাপন করে যে, আমি যা করছি সঠিক করছি, কারও কাছে আমার কিছু শেখার প্রয়োজন নেই, তবে প্রথমত সে সত্য-সঠিক কথা বুঝতেই পারে না, আর কখনও বুঝে আসলেও সে তা গ্রহণ করতে প্রস্তুত হয় না; বরং অহংকার বশে তা থেকে যথারীতি মুখ ফিরিয়ে রাখে।

তাফসীরে জাকারিয়া

২৩. আর আল্লাহ যদি তাদের মধ্যে ভাল কিছু আছে জানতেন তবে তিনি তাদেরকে শুনাতেন। কিন্তু তিনি তাদেরকে শুনালেও তারা উপেক্ষা করে মুখ ফিরিয়ে নিত।(১)

(১) অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা যদি তাদের মধ্যে সামান্যতম কল্যাণকর দিক তথা সৎচিন্তা দেখতেন, তবে তাদের বিশ্বাস সহকারে শোনার সামর্থ্য দান করতেন কিন্তু বর্তমান সত্যানুরাগ না থাকা অবস্থায় যদি আল্লাহ তা'আলা সত্য ও ন্যায় কথা তাদেরকে শুনিয়ে দেন, তাহলে তারা অনীহাভরে তা থেকে বিমুখতা অবলম্বন করবে। তাদের এ বিমুখতা এ কারণে হবে না যে, তারা দ্বীনের মধ্যে কোন আপত্তিকর বিষয় দেখতে পেয়েছে, সে জন্যই তা গ্রহণ করেনি; বরং প্রকৃতপক্ষে তারা সত্যের বিষয়ে কোন লক্ষ্যই করেনি। এর দ্বারা বোঝা গেল যে, আল্লাহ্ তা'আলা শুধু তাকেই ঈমান থেকে বঞ্চিত করেন যার মধ্যে কোন কল্যাণ অবশিষ্ট নেই, যে পবিত্র হতে চায় না, যার কোন ভাল কথা কোন ফল দেয় না। আর এতে রয়েছে বিরাট হিকমত ও রহস্য। (সা’দী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২৩) আল্লাহ যদি তাদের মধ্যে ভাল কিছু জানতেন, তাহলে তিনি তাদেরকে শোনাতেন।(1) কিন্তু তিনি তাদেরকে শোনালেও তারা উপেক্ষা করে মুখ ফেরাত। (2)

(1) অর্থাৎ, তাদের শোনাকে ফলপ্রসূ করে তাদেরকে সঠিক বুঝ দান করতেন, যাতে তারা সত্য গ্রহণ করে নিত। কিন্তু যেহেতু তাদের মধ্যে কল্যাণ অর্থাৎ, সত্যের সন্ধানই নেই, সেহেতু তারা সঠিক বুঝ হতে বঞ্চিত।

(2) প্রথম শোনা হতে লাভদায়ক শোনা (অর্থাৎ, মানা), আর দ্বিতীয় শোনা হতে কেবল সাধারণ শোনা বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ, মহান আল্লাহ যদি সত্য কথা শুনিয়েও থাকেন, তবুও যেহেতু তাদের মধ্যে সত্যের অনুসন্ধান নেই, সেহেতু তারা পুনরায় তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।