أَوَلَمۡ يَتَفَكَّرُواْۗ مَا بِصَاحِبِهِم مِّن جِنَّةٍۚ إِنۡ هُوَ إِلَّا نَذِيرٞ مُّبِينٌ

আওয়ালাম ইয়াতাফাক্কারূ মা-বিসা-হিবিহিম মিন জিন্নাতিন ইন হুওয়া ইল্লা-নাযীরুম মুবীন।উচ্চারণ

তারা কি কখনো চিন্তা করে না, তাদের সাথীর ওপর উন্মাদনার কোন প্রভাব নেই? সে তো একজন সতর্ককারী মাত্র, (অশুভ পরিণতির উদ্ভব হবার আগেই) সুস্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিচ্ছি। তাফহীমুল কুরআন

তবে কি তারা চিন্তা করেনি যে, তাদের এই সহচর (অর্থাৎ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মধ্যে উন্মাদগ্রস্ততার কিছু নেই। সে তো কেবল এক সুস্পষ্ট সতর্ককারী। #%১০৪%#মুফতী তাকী উসমানী

তারা কি এটা চিন্তা করেনা যে, তাদের সঙ্গী পাগল নয়? সে নিছক একজন সুস্পষ্ট ভয় প্রদর্শনকারী!মুজিবুর রহমান

তারা কি লক্ষ্য করেনি যে, তাদের সঙ্গী লোকটির মস্তিষ্কে কোন বিকৃতি নেই? তিনি তো ভীতি প্রদর্শনকারী প্রকৃষ্টভাবে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা কি চিন্তা করে না যে, তাদের সহচর আদৌ উন্মাদ নয়; সে তো এক স্পষ্ট সতর্ককারী। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তারা কি চিন্তা করেনি যে, তাদের সঙ্গীর মধ্যে কোন মস্তিষ্ক বিকৃতি নেই; সে তো স্পষ্ট সতর্ককারী।আল-বায়ান

তারা কি চিন্তা-ভাবনা করে না সে তাদের সঙ্গী (আমার রসূল) তো উম্মাদ নয়, সে তো প্রকাশ্য এক সতর্ককারী।তাইসিরুল

তারা কি চিন্তা করে না? তাদের সহচরের মধ্যে কোনো পাগলামি নেই। বাস্তবে তিনি তো এক সুস্পষ্ট সতর্ককারী।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

মক্কার মুশরিকগণ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নবী বলে তো স্বীকার করতই না, উপরন্তু অনেক সময় তাকে উন্মাদ আবার কখনও কবি বা যাদুকর সাব্যস্ত করত (নাউযুবিল্লাহ)। এ আয়াত জানাচ্ছে, যারা আলটপ্কা কথা বলতে অভ্যস্ত কেবল তারাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে এ জাতীয় কথা বলতে পারে। সামান্য একটু চিন্তা করলেই তাদের কাছে এসব অভিযোগের অসারতা স্পষ্ট হয়ে যেত।

তাফসীরে জাকারিয়া

১৮৪. তারা কি চিন্তা করে না যে, তাদের সাথী মোটেই উন্মাদ নন(১); তিনি তো এক স্পষ্ট সতর্ককারী।

(১) সাথী বলতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বুঝানো হয়েছে। (ইবন কাসীর) অন্য আয়াতেও আল্লাহ্ তা'আলা এ ঘোষণা দিয়েছেন, “আর তোমাদের সাথী উন্মাদ নন” (আত-তাকওয়ীর: ২২) আরও বলেন, “বলুন, আমি তোমাদেরকে একটি বিষয়ে উপদেশ দিচ্ছিঃ তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে দু-দুজন অথবা এক-একজন করে দাঁড়াও, তারপর তোমরা চিন্তা করে দেখ—তোমাদের সাথীর মধ্যে কোন উন্মাদন নেই। আসন্ন কঠিন শাস্তি সম্পর্কে তিনি তোমাদের জন্য একজন সতর্ককারী মাত্র।” (সাবা: ৪৬) অর্থাৎ তিনি তাদের মধ্যেই জন্মলাভ করেন। তাদের মধ্যে বসবাস করেন। শৈশব থেকে যৌবন এবং যৌবন থেকে বার্ধক্যে পদার্পন করেন। নবুওয়াত লাভের পূর্বে সমগ্র জাতি তাকে একজন অত্যন্ত শান্ত-শিষ্ট-ভারসাম্যপূর্ণ স্বভাব প্রকৃতি ও সুস্থ মন-মগজধারী মানুষ বলে জানতো।

নবুওয়াত লাভের পর যে-ই তিনি মানুষের কাছে আল্লাহর দাওয়াত পৌছাতে শুরু করলেন, অমনি তাকে পাগল বলা আরম্ভ হয়ে গেল। একথা সুস্পষ্ট, নবী হওয়ার আগে তিনি যেসব কথা বলতেন সেগুলোর জন্য তাকে পাগল বলা হয়নি বরং নবী হওয়ার পর তিনি যেসব কথা প্রচার করতে থাকেন সেগুলোর জন্য তাকে পাগল বলা হতে থাকে। তাই এখানে বলা হচ্ছে, তারা কি কখনো ভেবে দেখেছে, যে কথাগুলো তিনি বলছেন তার মধ্যে কোনটি পাগলামির কথা? কোন কথাটি অর্থহীন, ভিত্তিহীন ও অযৌক্তিক? যদি তারা চিন্তা করতো তাহলে তারা নিজেরাই বুঝতে পারতো যে, শিরকের মতবাদ খণ্ডন, তাওহীদের প্রমাণ, রবের বন্দেগীর দাওয়াত এবং মানুষের দায়িত্ব পালন ও জবাবদিহি সম্পর্কে তাদের সাথী তাদেরকে যা কিছু বুঝাচ্ছেন তা কোন পাগলের কথা নয়। তার স্বভাব ও চরিত্র সবচেয়ে উন্নত। তার কথা সবচেয়ে সুন্দর। তিনি তো শুধু কল্যাণের দিকেই আহবান করেন। অন্যায় ও অকল্যাণ থেকেই শুধু নিষেধ করেন। (সা'দী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১৮৪) তারা কি চিন্তা করে না যে, তাদের সঙ্গী (নবী) উন্মাদ নয়, সে তো এক স্পষ্ট সতর্ককারী। (1)

(1) صاحب (সঙ্গী) বলতে নবী (সাঃ)-কে বুঝানো হয়েছে। যাঁর সম্পর্কে মুশরিকরা কখনও যাদুকর, কখনো বা পাগল বলত। (নাউযু বিল্লাহ) মহান আল্লাহ বলেন, এ হল তোমাদের চিন্তা-ভাবনা না করার ফল। সে তো আমার বার্তাবাহক, যে আমার আদেশ পৌঁছিয়ে থাকে এবং যারা তা হতে উদাসীন ও বৈমুখ থাকে, তাদের জন্য সতর্ককারী।