ওয়াতলু ‘আলাইহিম নাবাআল্লাযী আ-তাইনা-হুআ-য়া-তিনা-ফানছালাখা মিনহাফাআতবা‘আহুশশাইতা-নুফাক-না মিনাল গা-বীন।উচ্চারণ
আর হে মুহাম্মাদ! এদের সামনে সেই ব্যক্তির অবস্থা বর্ণনা করো, যাকে আমি দান করেছিলাম আমার আয়াতের জ্ঞান। ১৩৮ কিন্তু সে তা যথাযথভাবে মেনে চলা থেকে দূরে সরে যায়। অবশেষে শয়তান তার পিছনে লাগে। শেষ পর্যন্ত সে বিপথগামীদের অন্তর্ভুক্ত হয়েই যায়। তাফহীমুল কুরআন
এবং (হে রাসূল!) তাদেরকে সেই ব্যক্তির ঘটনা পড়ে শোনাও, যাকে আমি আমার নিদর্শনাবলী দিয়েছিলাম, কিন্তু সে তা সম্পূর্ণ বর্জন করে। ফলে শয়তান তার পিছু নেয়। পরিণামে সে পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। #%৯৮%#মুফতী তাকী উসমানী
তুমি এদেরকে সেই ব্যক্তির বৃত্তান্ত শুনিয়ে দাও, যাকে আমি নিদর্শন দান করেছিলাম, কিন্তু সে উহা বর্জন করে। ফলে শাইতান তার পিছনে লেগে যায়, আর সে পথভ্রষ্টদের মধ্যে শামিল হয়ে যায়।মুজিবুর রহমান
আর আপনি তাদেরকে শুনিয়ে দিন, সে লোকের অবস্থা, যাকে আমি নিজের নিদর্শনসমূহ দান করেছিলাম, অথচ সে তা পরিহার করে বেরিয়ে গেছে। আর তার পেছনে লেগেছে শয়তান, ফলে সে পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে পড়েছে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তাদেরকে ঐ ব্যক্তির বৃত্তান্ত পড়ে শোনাও যাকে আমি দিয়েছিলাম নিদর্শন, তারপর সে তাকে বর্জন করে, পরে শয়তান তার পিছনে লাগে, আর সে বিপথগামীদের অন্তর্ভুক্ত হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর তুমি তাদের উপর সে ব্যক্তির সংবাদ পাঠ কর, যাকে আমি আমার আয়াতসমূহ দিয়েছিলাম। অতঃপর সে তা হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল এবং শয়তান তার পেছনে লেগেছিল। ফলে সে বিপথগামীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গিয়েছিল।আল-বায়ান
তাদেরকে ঐ লোকের সংবাদ পড়ে শোনাও যাকে আমি আমার নিদর্শনসমূহ প্রদান করেছিলাম। কিন্তু সে সেগুলোকে এড়িয়ে যায়। অতঃপর শয়ত্বান তাকে অনুসরণ করে, ফলে সে পথভ্রষ্টদের দলে শামিল হয়ে যায়।তাইসিরুল
আর তাদের কাছে পাঠ করো ওর বৃত্তান্ত যাকে আমরা আমাদের নির্দেশাবলী প্রদান করেছিলাম, কিন্তু সে সে-সব থেকে গুটিয়ে নেয়, সেজন্য শয়তান তার পিছু নেয়, কাজেই সে বিপথ-গামীদের অন্তর্ভুক্ত হয়।মাওলানা জহুরুল হক
১৩৮
এ বাক্যটিতে কোন এক নির্দিষ্ট ব্যক্তির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে মনে হয়। কিন্তু আল্লাহ ও তাঁর রসূলের উৎকৃষ্টতম নৈতিক মানও এক্ষেত্রে প্রণিধানযোগ্য। তাঁর যখনই কারোর কোন দুষ্কৃতির উদাহরণ দেন তখন দোষটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন না। বরং তার ব্যক্তিত্বকে উহ্য রেখে শুধুমাত্র তার দোষটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। এভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অবমাননা ও লাঞ্ছনা ছাড়াই আসল উদ্দেশ্য সফল হয়ে যায়। তাই যে ব্যক্তির দৃষ্টান্ত এখানে পেশ করা হয়েছে, কুরআন ও হাদীসের কোথাও তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। মুফাসসিরগণ রসূলের যুগের এবং তাঁর পূর্ববর্তী যুগের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে এ দৃষ্টান্তের লক্ষ্য বলে চিহ্নিত করেছেন। কেউ বাল’আম ইবনে বাউরার নাম নিয়েছেন। কেউ নিয়েছেন উমাইয়া ইবনে আবীস সালতের নাম। আবার কেউ বলেছেন, এ ব্যক্তি ছিল সাইফী ইবনুর রাহেব। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে উদাহরণ হিসেবে যে বিশেষ ব্যক্তির ভূমিকা এখানে পেশ করা হয়েছে, সে তো পর্দান্তরালেই রয়ে গেছে। তবে যে ব্যক্তিই এ ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে তার ব্যাপারে এ উদাহরণটি প্রযোজ্য হবেই।
সাধারণভাবে মুফাসসিরগণ বলেন, এ আয়াতে বালআম ইবনে বাউরার প্রতি ইশারা করা হয়েছে। বালআম ছিল ফিলিস্তিনের মাওআব অঞ্চলের এক প্রসিদ্ধ আবেদ ও সংসারবিমুখ (যাহেদ) ব্যক্তি। কথিত আছে, তার দোয়া খুব বেশি কবুল হত। তার সময়ে সে অঞ্চলটি মূর্তিপূজারীদের দখলে ছিল। ফির‘আউন ডুবে মরার পর হযরত মূসা আলাইহিস সালাম বনী ইসরাঈলের বাহিনী নিয়ে সে এলাকায় আক্রমণ করতে চাইলেন এবং সে উদ্দেশ্যে তিনি নিজ বাহিনী নিয়ে মাওআবের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেলেন। এ সময় সেখানকার বাদশাহ বালআমকে বলল, সে যেন মূসা আলাইহিস সালাম যাতে ধ্বংস হয়ে যান সে লক্ষ্যে বদদোয়া করে। প্রথম দিকে সে তা করতে রাজি ছিল না, কিন্তু বাদশাহ তাকে মোটা অংকের উৎকোচ দিলে শেষ পর্যন্ত রাজি হয়ে গেল। কিন্তু সে যখন বদদোয়া করতে শুরু করল, তখন তার মুখে বদদোয়ার বিপরীতে হযরত মূসা আলাইহিস সালামের যাতে কল্যাণ হয়, সেই অর্থের শব্দাবলী উচ্চারিত হল। এ অবস্থা দেখে বালআম বাদশাহকে পরামর্শ দিল, তার সৈন্যরা যেন তাদের নারীদেরকে বনী ইসরাঈলের তাঁবুতে পাঠিয়ে দেয়। তাহলে তারা ব্যভিচারে লিপ্ত হয়ে পড়বে আর ব্যভিচারের বৈশিষ্ট্যই হল, তা আল্লাহ তাআলার ক্রোধের কারণ হয়ে যায়। ফলে আল্লাহ তাআলার অসন্তুষ্টির কারণে বনী ইসরাঈল তাঁর রহমত থেকে মাহরূম হয়ে যাবে। তার এ পরামর্শ মত কাজ করা হল এবং বনী ইসরাঈল ব্যভিচারে লিপ্ত হয়ে পড়ল। ফলে আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি নারাজ হয়ে গেলেন। শাস্তিস্বরূপ তাদের মধ্যে প্লেগের মহামারী দেখা দিল। বাইবেলেও এ ঘটনা বিস্তারিতভাবে বর্ণিত আছে (দেখুন, শুমারী, পরিচ্ছেদ ২২-২৫ এবং ৩১:১৬)। কুরআন মাজীদ এস্থলে যে ব্যক্তির দিকে ইঙ্গিত করেছে তার নামও উল্লেখ করেনি এবং সে আল্লাহ তাআলার হুকুম অমান্য করে কিভাবে নিজ কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করেছিল তাও ব্যাখ্যা করেনি। উপরে যে ঘটনা উদ্ধৃত করা হল, তাও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত নয়। কাজেই আয়াতে যে সেই ব্যক্তিকেই বোঝানো উদ্দেশ্য এটা নিশ্চিত করে বলা কঠিন। কিন্তু তা বলতে না পারলেও কুরআন মাজীদের মূল উদ্দেশ্য যেহেতু সেই ব্যক্তিকে সনাক্তকরণের উপর নির্ভরশীল নয়, তাই এতে কোন সমস্যা নেই। বস্তুত এস্থলে উদ্দেশ্য এই সবক দেওয়া যে, আল্লাহ তাআলা যাকে ইলম ও ইবাদতের মহা সৌভাগ্য দান করেন, তার উচিত অন্যদের তুলনায় বেশি সাবধানতা ও তাকওয়া অবলম্বন করা। এরূপ ব্যক্তি যদি আল্লাহ তাআলার আয়াতের বিপরীতে নিজের অবৈধ কামনা-বাসনা পূরণের পেছনে পড়ে, তবে দুনিয়া ও আখিরাতে তার পরিণতি হয় ভয়াবহ।
১৭৫. আর তাদেরকে ঐ ব্যক্তির বৃত্তান্ত পড়ে শুনান(১) যাকে আমরা দিয়েছিলাম নিদর্শনসমূহ, তারপর সে তা হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, অতঃপর শয়তান তার পিছনে লাগে, আর সে বিপথগামীদের অন্তর্ভুক্ত হয়।
(১) এ আয়াতে কোন নির্দিষ্ট এক ব্যক্তির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে মনে হয়। মুফাসসিরগণ রাসূলের যুগের এবং তাঁর পূর্ববর্তী যুগের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে এ দৃষ্টান্তের লক্ষ্য বলে চিহ্নিত করেছেন। ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু ‘বাল’আম ইবন আবার’ এর নাম নিয়েছেন। (আত-তাফসীরুস সহীহ) আবদুল্লাহ ইবন আমর নিয়েছেন উমাইয়া ইবন আবীস সালতের নাম। (আত-তাফসীরুস সহীহ) ইবন আব্বাস বলেন, এ ব্যক্তি ছিল সাইফ ইবনুর রাহেব। (ইবন কাসীর) কিন্তু প্রকৃতপক্ষে উদাহরণ হিসেবে যে বিশেষ ব্যক্তির ভূমিকা এখানে পেশ করা হয়েছে সে তো পর্দারন্তরালেই রয়ে গেছে। তবে যে ব্যক্তিই এ ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে তার ব্যাপারে এ উদাহরণটি প্রযোজ্য হবেই।
তবে বিখ্যাত ঘটনা হচ্ছে যে, তখনকার দিনে এক লোক ছিল যার দোআ কবুল হত। যখন মূসা আলাইহিস সালাম শক্তিশালী লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বের হলেন। তখন লোকেরা তার কাছে এসে বলল, তোমার দোআ তো কবুল হয়, সুতরাং তুমি মূসার বিরুদ্ধে দোআ কর। সে বলল, আমি যদি মূসার বিরুদ্ধে দোআ করি, তবে আমার দুনিয়া ও আখেরাত সবই যাবে। কিন্তু তারা তাকে ছাড়ল না। শেষ পর্যন্ত সে দোআ করল। কিন্তু আল্লাহ্ তা'আলা তার দোআ কবুল হওয়ার সুযোগ রহিত করে দিলেন। (ইবন কাসীর)
(১৭৫) তাদেরকে ঐ ব্যক্তির বৃত্তান্ত পড়ে শোনাও, যাকে আমি আমার আয়াতসমূহ দান করেছিলাম, অতঃপর সে সেগুলিকে বর্জন করে, তারপর শয়তান তার পিছনে লাগে, ফলে সে বিপথগামীদের অন্তর্ভুক্ত হয়। (1)
(1) ব্যাখ্যাকারীগণ এটিকে এক নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য বলেছেন, যে আল্লাহর কিতাবের জ্ঞান রাখত; কিন্তু পরে পার্থিব ভোগ-বিলাস ও শয়তানের পিছে পড়ে পথভ্রষ্ট হয়ে যায়। তবে নির্দিষ্ট ব্যক্তি কে ছিল? তা সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়। অতএব এ ব্যাপারে কষ্ট করার প্রয়োজন নেই। এটি সাধারণ ব্যাপার, এমন মানুষ প্রত্যেক জাতি ও প্রত্যেক যুগে জন্ম নেয়। যে ব্যক্তিই এ রকম হবে তাকে এর দলভুক্ত করা হবে।