ওয়া ইযক-লাত উম্মাতুম মিনহুম লিমা তা‘ইজূনা কাওমানিল্লা-হু মুহলিকুহুম আও মু‘আযযিবুহুম ‘আযা-বান শাদীদান ক-লূমা‘যিরতান ইলা-রব্বিকুম ওয়া লা‘আল্লাহুম ইয়াত্তাকূন।উচ্চারণ
আর তাদের একথাও স্মরণ করিয়ে দাও, যখন তাদের একটি দল অন্য দলকে বলেছিল, “তোমরা এমন লোকদের উপদেশ দিচ্ছো কেন যাদেরকে আল্লাহ ধ্বংস করবেন বা কঠোর শাস্তি দেবেন?” জবাবে তারা বলেছিল, “এসব কিছু এ জন্যই করছি যেন আমরা তোমাদের রবের সামনে নিজেদের ওযর পেশ করতে পারি এবং এ আশায় করছি যে, হয়তো এ লোকেরা তাঁর নাফরমানী করা ছেড়ে দেবে।” তাফহীমুল কুরআন
এবং (তাদেরকে সেই সময়ের কথা স্মরণ করিয়ে দাও) যখন তাদেরই একটি দল (অন্য দলকে) বলেছিল, তোমরা এমন সব লোককে কেন উপদেশ দিচ্ছ, যাদেরকে আল্লাহ ধ্বংস করে ফেলবেন কিংবা কঠোর শাস্তি দিবেন? #%৯১%# তারা বলল, (আমরা এটা করছি) তোমাদের প্রতিপালকের নিকট দায়িত্বমুক্ত হওয়ার জন্য এবং (এ উপদেশ দ্বারা) হতে পারে, তারা তাকওয়া অবলম্বন করবে। #%৯২%#মুফতী তাকী উসমানী
যখন তাদের একদল লোক অপর দলের নিকট বলেছিলঃ ঐ জাতিকে তোমরা কেন উপদেশ দিচ্ছ যাদেরকে আল্লাহ ধ্বংস করবেন অথবা কঠিন শাস্তি দিবেন? তারা উত্তরে বললঃ তোমাদের রবের নিকট দোষমুক্তির জন্য এবং এই আশা করছি যে, হয়তো তারা তাঁকে ভয় করবে।মুজিবুর রহমান
আর যখন তাদের মধ্যে থেকে এক সম্প্রদায় বলল, কেন সে লোকদের সদুপদেশ দিচ্ছেন, যাদেরকে আল্লাহ ধ্বংস করে দিতে চান কিংবা আযাব দিতে চান কঠিন আযাব? সে বললঃ তোমাদের পালনকর্তার সামনে দোষ ফুরাবার জন্য এবং এজন্য যেন তারা ভীত হয়।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
স্মরণ কর, তাদের একদল বলেছিল, ‘আল্লাহ্ যাদেরকে ধ্বংস করবেন কিংবা কঠোর শাস্তি দিবেন, তোমরা তাদেরকে সদুপদেশ দাও কেন ?’ তারা বলেছিল, ‘তোমাদের প্রতিপালকের নিকট দায়িত্বমুক্তির জন্যে এবং যাতে তারা সাবধান হয় এজন্যে।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর স্মরণ কর, যখন তাদের একদল বলল, ‘তোমরা কেন উপদেশ দিচ্ছ এমন কওমকে, যাদেরকে আল্লাহ ধ্বংস করবেন অথবা কঠিন আযাব দেবেন’? তারা বলল, ‘তোমাদের রবের নিকট ওযর পেশ করার উদ্দেশ্যে। আশা করা যায় তারা সাবধান হবে’।আল-বায়ান
স্মরণ কর, যখন তাদের একদল বলেছিল- ‘তোমরা এমন লোকদেরকে কেন নাসীহাত করছ যাদেরকে আল্লাহ ধ্বংস করবেন অথবা কঠিন শাস্তি দিবেন’। নাসীহাতকারীগণ বলেছিল, ‘তোমাদের প্রতিপালকের নিকট (দায়িত্ব পালন না করার) অভিযোগ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য আর তারা যাতে তাক্বওয়া অবলম্বন করে।’তাইসিরুল
আর যখন তাদের মধ্যের একটি দল বললে -- "কেন তোমরা সেই লোকদের উপদেশ দিচ্ছ আল্লাহ্ যাদের ধ্বংস করতে যাচ্ছেন অথবা কঠোর শাস্তিতে শাস্তি দিতে যাচ্ছেন"? তাঁরা বললেন -- "তোমাদের প্রভুর কাছে দোষমুক্ত হবার জন্য, আর যাতে তারা ধর্মপরায়ণতা অবলন্বন করে।"মাওলানা জহুরুল হক
মূলত তারা তিন দলে বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল। (ক) একদল তো ক্রমাগত নাফরমানী করে যাচ্ছিল; (খ) দ্বিতীয় দল তাদের, যারা প্রথম দিকে তাদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তারা যখন মানল না, তখন হতাশ হয়ে বোঝানো ছেড়ে দিল; আর (গ) তৃতীয় দলটি তাদের, যারা হতাশ না হয়ে তাদেরকে অবিরাম উপদেশ দিতে থাকল। এই তৃতীয় দলকে দ্বিতীয় দলের লোক বলল, এরা যখন ক্রমাগত নাফরমানী করে যাচ্ছে, তখন বোঝা যায় আল্লাহ তাআলার শাস্তি তাদের জন্য অবধারিত। কাজেই তাদেরকে বুঝিয়ে সময় নষ্ট করার কোনও অর্থ হয় না।
১৬৪. আর স্মরণ করুন, যখন তাদের একদল বলেছিল, আল্লাহ যাদেরকে ধ্বংস করবেন কিংবা কঠোর শাস্তি দেবেন, তোমরা তাদেরকে সদুপদেশ দাও কেন? তারা বলেছিল, ‘তোমাদের রবের কাছে দায়িত্ব-মুক্তির জন্য এবং যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করে, এজন্য।
(১৬৪) আর স্মরণ কর, যখন তাদের একদল বলেছিল, ‘আল্লাহ যাদেরকে ধ্বংস করবেন কিংবা কঠোর শাস্তি দেবেন তোমরা তাদেরকে সদুপদেশ দাও কেন?’(1) তারা বলেছিল, ‘তোমাদের প্রতিপালকের নিকট দোষ মুক্তির জন্য এবং যাতে তারা সাবধান হয় এ জন্য।’
(1) এই একদল বলতে সৎলোকের ঐ দলকে বুঝানো হয়েছে, যারা ঐ ধোঁকার কৌশল অবলম্বন করেনি এবং কৌশল অবলম্বনকারীদেরকে বুঝাতে বুঝাতে নিরাশ হয়ে পড়েছিল। এ ছাড়াও অন্য কিছু লোক ছিল, যারা তাদেরকে উপদেশ দান করত। সৎলোকের এই দল তাদেরকে বলত, এমন লোকেদেরকে উপদেশ দিয়ে কি লাভ, যাদের ভাগ্যে রয়েছে ধ্বংস ও আল্লাহর আযাব? অথবা এই দল বলতে ঐ সকল সীমালংঘনকারী আল্লাহর অবাধ্যদেরকে বুঝানো হয়েছে, যখন তাদেরকে উপদেশ দানকারীরা উপদেশ দিত, তখন তারা বলত যে, যখন তোমাদের ধারণায় আমাদের ভাগ্যে ধ্বংস ও আল্লাহর আযাবই আছে, তাহলে আমাদেরকে উপদেশ দাও কেন? তারা উত্তরে বলত প্রথমতঃ প্রতিপালকের নিকট ওযর পেশ করার জন্য, যাতে আমরাও আল্লাহর পাকড়াও হতে বাঁচতে পারি। কারণ, পাপ করতে দেখা এবং বাধা দেওয়ার চেষ্টা না করাও এক পাপ। যার উপর আল্লাহর পাকড়াও হতে পারে। আর দ্বিতীয়তঃ হয়ত বা লোকেরা আল্লাহর আদেশ লংঘন করা হতে বিরত থাকতে পারে। প্রথম ব্যাখ্যার দিক দিয়ে তিনটি দল হয়ঃ (ক) আল্লাহর অবাধ্য ও শিকারকারী দল। (খ) এমন দল যারা শিকারকারীও ছিল না ও নিষেধকারীও ছিল না। (গ) এমন দল যারা অবাধ্য ছিল না; বরং সীমালংঘনকারীদের উপদেশ দিত। দ্বিতীয় ব্যাখ্যার দিক দিয়ে দুটি দলের কথা বুঝা যায়ঃ প্রথম সীমালংঘনকারীদের এবং দ্বিতীয় নিষেধকারীদের দল।