ওয়াছআলহুম ‘আনিল কারইয়াতিল্লাতী ক-নাত হা-দিরতাল বাহর । ইযইয়া‘দূ না ফিছছাবতি ইয তা’তীহিম হীতা-নুহুম ইয়াওমা ছাবতিহিম শুরর‘আওঁ ওয়া ইয়াওমা লাইয়াছবিতূনা লা-তা’তীহিম কাযা-লিকা নাবলূহুম বিমা-ক-নূইয়াফছুকূন।উচ্চারণ
আর সমুদ্রের তীরে যে জনপদটি অবস্থিত ছিল তার অবস্থা সম্পর্কেও তাদেরকে একটু জিজ্ঞেস করো। ১২২ তাদের সেই ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দাও যে, সেখানকার লোকেরা শনিবারে আল্লাহর হুকুম অমান্য করতো এবং শনিবারেই মাছেরা পানিতে ভেসে ভেসে তাদের সামনে আসতো। ১২৩ অথচ শনিবার ছাড়া অন্য দিন আসতো না। তাদের নাফরমানীর কারণে তাদেরকে আমি ক্রমাগত পরীক্ষার মধ্যে ঠেলে দিচ্ছিলাম বলেই এমনটি হতো। ১২৪ তাফহীমুল কুরআন
এবং তাদের কাছে সাগর-তীরে অবস্থিত জনপদবাসীদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস কর যখন তারা শনিবারের ব্যাপারে সীমালংঘন করত, #%৮৯%# যখন তাদের (সাগরের) মাছ শনিবার দিন তো পানিতে ভেসে ভেসে তাদের সামনে আসত; আর যখন তারা শনিবার উদযাপন করত না, (অর্থাৎ অন্যান্য দিনে) তা আসত না। এভাবে আমি তাদেরকে তাদের উপর্যুপরি অবাধ্যতার কারণে পরীক্ষা করেছিলাম। #%৯০%#মুফতী তাকী উসমানী
আর তাদেরকে সেই জনপদের অবস্থাও জিজ্ঞেস কর যা সমুদ্রের তীরে অবস্থিত ছিল। যখন তারা শনিবারের আদেশ লংঘন করেছিল। শনিবার উদযাপনের দিন মাছ পানিতে ভেসে তাদের নিকট আসত, কিন্তু যেদিন তারা শনিবার উদযাপন করতনা, সেদিন ওগুলি তাদের কাছে আসতনা, এভাবে আমি তাদের নাফরমানীর কারণে তাদেরকে পরীক্ষা করেছিলাম।মুজিবুর রহমান
আর তাদের কাছে সে জনপদের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞেস কর যা ছিল নদীর তীরে অবস্থিত। যখন শনিবার দিনের নির্দেশের ব্যাপারে সীমাতিক্রম করতে লাগল, যখন আসতে লাগল মাছগুলো তাদের কাছে শনিবার দিন পানির উপর, আর যেদিন শনিবার হত না, আসত না। এভাবে আমি তাদেরকে পরীক্ষা করেছি। কারণ, তারা ছিল নাফরমান।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তাদেরকে সমুদ্রতীরবর্তী জনপদবাসীদের সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা কর, তারা শনিবারের সীমালংঘন করত; শনিবার উদ্যাপনের দিন মাছ পানিতে ভেসে তাদের নিকট আসত। কিন্তু যেদিন তারা শনিবার উদ্যাপন করত না সেদিন তারা তাদের নিকট আসত না। এইভাবে আমি তাদেরকে পরীক্ষা করেছিলাম, যে কারণে তারা সত্য ত্যাগ করত। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর তাদের কাছে জিজ্ঞেস কর সাগরের নিকটে অবস্থিত জনপদটি* সম্পর্কে, যখন তারা শনিবারে সীমালংঘন করত। যখন তাদের কাছে শনিবারে তাদের মাছগুলো ভেসে আসত। আর যেদিন তারা শনিবার যাপন করত না, সেদিন তাদের কাছে আসত না। এভাবে আমি তাদেরকে পরীক্ষা করতাম। কারণ তারা পাপাচার করত।আল-বায়ান
তাদেরকে জিজ্ঞেস কর ঐ জনবসতি সম্পর্কে যা সমুদ্রের উপকূলে বিদ্যমান ছিল। তারা শনিবারের সীমালঙ্ঘন করেছিল। শনিবার পালনের দিন মাছগুলো প্রকাশ্যতঃ তাদের নিকটে আসত। আর যেদিন শনিবারের অনুষ্ঠান থাকত না সেদিন সেগুলো আসত না। এটা হত এজন্য যে, তারা অবাধ্যতায় লিপ্ত থাকার কারণে তাদেরকে পরীক্ষায় ফেলে দিয়েছিলাম।তাইসিরুল
আর তাদের জিজ্ঞাসা করো সেই জনবসতি সন্বন্ধে যারা ছিল সমুদ্রের কিনারে। স্মরণ করো! তারা সব্বাতের উল্লঙ্ঘন করেছিল, কারণ তাদের মাছগুলো তাদের কাছে আসতো তাদের সাব্বাতের দিনে ঝাঁকে-ঝাঁকে, আর যেদিন তারা সব্বাত পালন করতো না তারা তাদের কাছে আসতো না। এইভাবে আমরা তাদের নিয়ন্ত্রিত করেছিলাম, কেননা তারা পাপাচার করে চলতো।মাওলানা জহুরুল হক
১২২
বিশেষজ্ঞদের অধিকাংশের মতে এ স্থানটি ছিল ‘আয়লা’, ‘আয়লাত’ বা ‘আয়লুত’। ইসরাঈলের ইহুদী রাষ্ট্র বর্তমানে এখানে এ নামে একটি বন্দর নির্মাণ করেছে। এর কাছেই রয়েছে জর্দানের বিখ্যাত বন্দর আকাবা। লোহিত সাগরের যে শাখাটি সিনাই উপদ্বীপের পূর্ব উপকূল ও আরবের পশ্চিম উপকূলের মাঝখানে একটি লম্বা উপসাগরের মত দেখায়, তার ঠিক শেষ মাথায় এ স্থানটি অবস্থিত। বনী ইসরাঈলের উত্থানযুগে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র ছিল। হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম এ শহরেই তাঁর লোহিত সাগরের সামরিক ও বাণিজ্যিক নৌবহরের কেন্দ্র স্থাপন করেছিলেন।
এখানে যে ঘটনাটির দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে ইহুদীদের পবিত্র গ্রন্থসমূহে আমরা তার কোন উল্লেখ পাই না। তাদের ইতিহাসও এ প্রসঙ্গে নীরব। কিন্তু কুরআন মজীদে যেভাবে এ ঘটনাটিকে এখানে ও সূরা বাকারায় বর্ণনা করা হয়েছে, তা থেকে পরিষ্কার প্রতীয়মান হয় যে, কুরআন নাযিলের সময় বনী ইসরাঈলীরা সাধারণভাবে এ ঘটনাটি সম্পর্কে ভালভাবেই অবগত ছিল। এটি একটি প্রমাণিত সত্য যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিরোধিতার প্রশ্নে যেখানে মদীনার ইহুদীরা কোন একটি সুযোগও হাতছাড়া হতে দিতো না সেখানে কুরআনের এ বর্ণনার বিরুদ্ধে তারা আদৌ কোন আপত্তিই তোলেনি।
১২৩
কুরআনে ‘সাব্ত’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। 'সাব্ত' মানে শনিবার। বনী ইসরাঈলীদের জন্য এ দিনটিকে পবিত্র দিন গণ্য করা হয়েছিল। মহান আল্লাহ এ দিনটিকে নিজের ও বনী ইসরাঈলীদের সন্তান-সন্তুতিদের মধ্যে সম্পাদিত পুরুষানুক্রমিক স্থায়ী অঙ্গীকার গণ্য করে তাকীদ করেছিলেন যে, এ দিন কোন পার্থিব কাজ করা যাবে না, ঘরে আগুন পর্যন্ত জ্বালানো যাবে না, গৃহপালিত পশু এমন কি চাকর-বাকর-দাসদাসীদের থেকেও কোন সেবা করা চলবে না এবং যে ব্যক্তি এ নিয়ম লংঘন করবে তাকে হত্যা করা হবে। কিন্তু উত্তরকালে বনী ইসরাঈল প্রকাশ্যে এ আইনের বিরোধিতা করতে থাকে। ইয়ারমিয়াহ (যিরমিয়) নবীর আমলে (যিনি খৃষ্টপূর্ব ৬২৮ ও ৫৮৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে বেঁচে ছিলেন)। লোকেরা খাস জেরুজালেমের সিংহ দরজাগুলো দিয়ে মালপত্র নিয়ে চলাফেরা করতো। এতে ঐ নবী ইহুদীদেকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, তোমরা যদি এভাবে প্রকাশ্যে শরীয়াতের বিরুদ্ধাচারণ করা থেকে বিরত না হও তাহলে জেরুজালেমে আগুন লাগিয়ে দেয়া হবে। (যিরমিয় ১৭: ২১-২৭) হযরত হিযকিঈল (যিহিস্কেল) নবীও এ একই অভিযোগ করেন। তাঁর আমল ছিল খৃষ্টপূর্ব ৫৯৫ ও ৫৩৬ এর মধ্যবর্তী সময়ে। তাঁর গ্রন্থে শনিবারের অবমাননাকে ইহুদীদের একটি মস্তবড় জাতীয় অপরাধ গণ্য করা হযেছে। (যিহিস্কেল ২০: ১২-২৪) এসব উদ্ধৃতি থেকে অনুমান করা যেতে পারে, কুরআন মজিদ এখানে যে ঘটনাটির কথা বলছে সেটিও সম্ভবত এ একই যুগের ঘটনা।
১২৪
মানুষকে পরীক্ষা করার জন্য মহান আল্লাহ যেসব পদ্ধতি অবলম্বন করে থাকেন তার মধ্যে এও একটি পদ্ধতি যে, যখন কোন ব্যক্তি বা দলের মধ্যে আনুগত্য বিচ্যুতি ও নাফরমানীর প্রবণতা বাড়তে থাকে, তখন তাকে আরো বেশী করে নাফরমানী করার সুযোগ দেয়া হয়। যেন তার যেসব প্রবণতা ভেতরে লুকিয়ে থাকে সেগুলো পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়ে যায় এবং যেসব অপরাধে সে নিজেকে কুলষিত করতে চায়, কেবলমাত্র সুযোগের অভাবে সে সেগুলো থেকে বিরত থেকে না যায়।
এ ঘটনাও সংক্ষেপে সূরা বাকারায় (২ : ৬৫-৬৬) গত হয়েছে। ঘটনার সার-সংক্ষেপ এই যে, আরবী ও হিব্রু ভাষায় শনিবারকে ‘সাব্ত’ বলে। ইয়াহুদীদের জন্য এ দিনটিকে একটি পবিত্র ও মর্যাদাপূর্ণ দিন সাব্যস্ত করা হয়েছিল। এ দিন তাদের জন্য জীবিকা উপার্জনমূলক যে-কোনও কাজ-কর্ম নিষিদ্ধ ছিল। এস্থলে যে ইয়াহুদীদের কথা বলা হচ্ছে, (খুব সম্ভব তারা হযরত দাঊদ আলাইহিস সালামের আমলে) কোন এক সাগর-উপকূলে বাস করত এবং মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করত। তাদের জন্য শনিবার মাছ ধরা জায়েয ছিল না। প্রথম দিকে তারা ছল-চাতুরী করে এ বিধান অমান্য করেছিল। পরবর্তীকালে প্রকাশ্যেই এ দিন মাছ ধরা শুরু করে দিল। কিছু সংখ্যক ভালো লোক তাদেরকে এ কাজ করতে নিষেধ করল ও তাদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করল, কিন্তু তারা তাতে কর্ণপাত করল না। পরিশেষে তাদের উপর শাস্তি আপতিত হল এবং তাদের আকৃতি বিকৃত করে তাদেরকে বানর বানিয়ে দেওয়া হল। সূরা বাকারার বর্ণনা দ্বারা বোঝা যায়, এ ঘটনা যদিও বর্তমান বাইবেলে পাওয়া যায় না, কিন্তু আরবের ইয়াহুদীগণ এটা ভালো করেই জানত।
১৬৩. আর তাদেরকে সাগর তীরের জনপদবাসী(১) সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করুন, যখন তারা শনিবারে সীমালংঘন করত; যখন শনিবার পালনের দিন মাছ পানিতে ভেসে তাদের কাছে আসত। কিন্তু যেদিন তারা শনিবার পালন করত না, সেদিন তা তাদের কাছে আসত না। এভাবে আমরা তাদেরকে পরীক্ষা করতাম, কারণ তারা ফাসেকী করত।
(১) ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, এ জনপদটি সাগর তীরে ছিল। মদীনা ও মিশরের মাঝামাঝি। যাকে ‘আইলা’ বলা হত। (তাবারী) বর্তমানে এটাকে ‘ঈলাত’ বলা হয়। (আত-তাফসীরুস সহীহ)
(১৬৩) সাগর সৈকতে অবস্থিত জনপদ(1) সম্বন্ধে তাদেরকে(2) জিজ্ঞাসা কর, তারা শনিবারে সীমালংঘন করত। যখন উক্ত শনিবারে তাদের কাছে পানির উপর মাছ ভেসে আসত এবং শনিবার ভিন্ন অন্য দিন আসত না। তারা অবাধ্য ছিল বলেই আমি এভাবে তাদের পরীক্ষা নিই।(3)
(1) এই জনবসতিটি সঠিক কোন শহর বা গ্রাম ছিল সে সম্পর্কে মতভেদ আছে। কেউ কেউ বলেন আইলাহ, কেউ বলেন ত্বাবারিয়্যাহ, কেউ ঈলিয়া, আবার কেউ বলেন শাম দেশের কোন এক জনপদ; যা সমূদ্রতীরে অবস্থিত ছিল। মুফাসসিরদের অধিক মত আইলার দিকে। যা মাদয়্যান ও ত্বূর পাহাড়ের মধ্যবর্তী লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত।
(2) وسئلهم এ هم (তাদের) সর্বনাম দ্বারা ইয়াহুদীদের বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ, ইয়াহুদীদেরকে জিজ্ঞাসা কর। এখানে ইয়াহুদীদেরকে এই বলা উদ্দেশ্য যে, এই ঘটনার জ্ঞান নবী (সাঃ)-এরও আছে, যা তাঁর সত্য নবী হওয়ার কথা প্রমাণ করে। কারণ আল্লাহর পক্ষ হতে অহী না হলে তিনি সে ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারতেন না।
(3) حيتان শব্দটি حوت এর বহুবচন, شرع শব্দটি شارع এর বহুবচন, যার অর্থ হল, এমন মাছ যা পানির উপরি ভাগে ভেসে ওঠে। এখানে ইয়াহুদীদের ঐ ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে, যাতে তাদের শনিবার দিন মাছ শিকার করতে নিষেধ করা হয়েছিল। কিন্তু পরীক্ষার জন্য শনিবার দিন বেশি বেশি মাছ পানির উপর ভেসে উঠত। আর এদিন পার হলে এমনটি আর হত না। শেষ পর্যন্ত ইয়াহুদীরা এক চালাকি অবলম্বন করে আল্লাহর আদেশ লংঘন করল। তারা সমুদ্র সংলগ্নে খাল খনন করেছিল, ফলে শনিবার তাতে মাছ প্রবেশ করে ফেঁসে যেত। অতঃপর শনিবার গত হলেই তা শিকার করত।