فَأَرۡسَلۡنَا عَلَيۡهِمُ ٱلطُّوفَانَ وَٱلۡجَرَادَ وَٱلۡقُمَّلَ وَٱلضَّفَادِعَ وَٱلدَّمَ ءَايَٰتٖ مُّفَصَّلَٰتٖ فَٱسۡتَكۡبَرُواْ وَكَانُواْ قَوۡمٗا مُّجۡرِمِينَ

ফাআরছালনা-‘আলাইহিমুততূফা-না ওয়াল জার-দা ওয়াল কুম্মালা ওয়াদ্দাফা-দি‘আ ওয়াদ্দামা আ-য়া-তিম মুফাসসালা-তিন ফাছতাকবারূওয়া ক-নূকাওমাম মুজরিমীন।উচ্চারণ

অবশেষে আমি তাদের ওপর দুর্যোগ পাঠালাম, ৯৫ পংগপাল ছেড়ে দিলাম, উকুন ৯৬ ছড়িয়ে দিলাম, ব্যাঙের উপদ্রব সৃষ্টি করলাম এবং রক্ত বর্ষণ করলাম। এসব নিদর্শন আলাদা আলাদা করে দেখালাম। কিন্তু তারা অহংকারে মেতে রইলো এবং তারা ছিল বড়ই অপরাধ প্রবণ সম্প্রদায়। তাফহীমুল কুরআন

সুতরাং আমি তাদের উপর পৃথক-পৃথক নিদর্শনরূপে ছেড়ে দেই প্লাবন, পঙ্গপাল, ঘুণপোকা, ব্যাঙ ও রক্ত। #%৬৫%# তথাপি তারা অহংকার প্রদর্শন করে। বস্তুত তারা ছিল এক অপরাধী সম্প্রদায়।মুফতী তাকী উসমানী

অতঃপর আমি তাদের উপর প্লাবণ, পঙ্গপাল, উকুন, ব্যাঙ ও রক্ত ধারার শাস্তি পাঠিয়ে ক্লিষ্ট করি, ওগুলি ছিল আমার সুস্পষ্ট নিদর্শন, কিন্তু তারা শেষ পর্যন্ত দাম্ভিকতা ও অহংকারেই মেতে রইল, তারা ছিল একটি অপরাধী জাতি।মুজিবুর রহমান

সুতরাং আমি তাদের উপর পাঠিয়ে দিলাম তুফান, পঙ্গপাল, উকুন, ব্যাঙ ও রক্ত প্রভৃতি বহুবিধ নিদর্শন একের পর এক। তারপরেও তারা গর্ব করতে থাকল। বস্তুতঃ তারা ছিল অপরাধপ্রবণ।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এরপর আমি তাদেরকে প্লাবন, পঙ্গপাল, উকুন, ভেক ও রক্ত দিয়ে ক্লিষ্ট করি। এইগুলি স্পষ্ট নিদর্শন ; কিন্তু তারা দাম্ভিকই থেকে গেল; আর তারা ছিল এক অপরাধী সম্প্রদায়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সুতরাং আমি তাদের বিরুদ্ধে বিস্তারিত নিদর্শনাবলী হিসাবে পাঠালাম তুফান, পঙ্গপাল, উকুন, ব্যাঙ ও রক্ত। তার পরেও তারা অহঙ্কার করল। আর তারা ছিল এক অপরাধী কওম।আল-বায়ান

অতঃপর আমি তাদের উপর প্লাবন, পঙ্গপাল, উকুন, ব্যাঙ ও রক্তের বিপদ পাঠিয়েছিলাম সুস্পষ্ট নিদর্শন হিসেবে, কিন্তু তারা ঔদ্ধত্য প্রকাশ করল। তারা ছিল এক অপরাধী জাতি।তাইসিরুল

তারপর আমরা তাদের উপরে পাঠালাম সুদূর প্রসারিত মৃত্যু, আর পঙ্গপাল ও উকুন, আর বেঙ ও রক্ত -- বিশদভাবে বর্ণিত নিদর্শনাবলী, কিন্তু তারা অহংকার করেছিল এবং তারা ছিল একটি অপরাধী সম্প্রদায়।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৯৫

সম্ভবত এখানে বৃষ্টিজনিত দুর্যোগ বুঝানো হয়েছে। বৃষ্টির সাথে শিলাও বর্ষিত হয়েছিল। যদিও অন্য ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগও হতে পারে কিন্তু বাইবেলে শিলাবৃষ্টি জনিত দুর্যোগের কথা বলা হয়েছে। তাই এখানে এ অর্থটিকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছি।

৯৬

এখানে মূল শব্দ হচ্ছে قُمَّلَ(কুম্মালু)। এর কয়েকটি অর্থ হয়। যেমন উকুন, ছোট মাছি, ছোট পংগপাল, মশা, ঘুণ ইত্যাদি। সম্ভবত এ বহু অর্থবোধ শব্দটি ব্যবহার করার কারণ হচ্ছে এই যে, একই সঙ্গে উকুন ও মশা মানুষের ওপর এবং ঘুণ খাদ্য শস্যের ওপর আক্রমণ করে থাকবে। (তুলনামূলক পাঠের জন্য দেখুন বাইবেলের যাত্রা পুস্তক ৭-১২ অধ্যায়। এছাড়াও সূরা যুখরুফ-এর ৪৩ টীকাটিও দেখুন)।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এগুলো ছিল বিভিন্ন রকমের আযাব। ফির‘আউনী সম্প্রদায়ের উপর এগুলো একের পর এক আসতে থাকে। প্রথমে আসল বন্যা, যাতে তাদের ফসল নষ্ট হয়ে গেল। অতঃপর তারা যখন ঈমান আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে হযরত মূসা আলাইহিস সালামকে দিয়ে দোয়া করাল, তখন পুনরায় ফসল জন্মাল। কিন্তু তারা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করল। ঈমান আনল না। তখন পঙ্গপাল এসে সেই ফসল বরবাদ করে দিল। আবারও সেই প্রতিশ্রুতি দিল, ফলে বিপদ দূর হল এবং সাচ্ছন্দ্য ফিরে আসল। কিন্তু এবারও তারা ঈমান না এনে নিশ্চিন্তে বসে থাকল। ফলে তাদের শস্যে ঘুণ দেখা দিল। এবারও একই কাহিনীর পুনরাবৃত্তি করল। অতঃপর তাদের উপর বিপুল পরিমাণ ব্যাঙ ছেড়ে দেওয়া হল, যা খাবার পাত্রে লাফিয়ে পড়ে সব খাবার নষ্ট করে দিত। অন্যদিকে খাবার পানিতে রক্ত দেখা যেতে লাগল। ফলে তাদের পানি পান করা দুঃসাধ্য হয়ে গেল।

তাফসীরে জাকারিয়া

১৩৩. অতঃপর আমরা তাদের উপর তুফান, পঙ্গপাল, উকুন, ব্যাঙ ও রক্ত বিস্তারিত নিদর্শন হিসেবে প্রেরণ করি। এরপরও তারা অহংকার করল। আর তারা ছিল এক অপরাধী সম্প্রদায়।(১)

(১) ফিরআউনের জাদুকরদের সাথে সংঘটিত সে ঐতিহাসিক ঘটনার পরও মূসা 'আলাইহিস সালাম দীর্ঘ দিন যাবৎ মিসরে অবস্থান করে সেখানকার অধিবাসীদেরকে আল্লাহর বাণী শুনান এবং সত্য ও সরল পথের দিকে আহবান করতে থাকেন। এ সময়ে আল্লাহ্ তা'আলা মূসা আলাইহিস সালামকে নয়টি নিদর্শন দান করেছিলেন। এগুলোর উদ্দেশ্য ছিল ফিরআউনের সম্প্রদায়কে সতর্ক করে সত্য পথে আনা। আলোচ্য আয়াতে এই নয়টি নিদর্শন সম্পর্কেই বলা হয়েছে।

এই নয়টি নিদর্শনের মধ্যে প্রথম দুটি অর্থাৎ লাঠির সাপে পরিণত হওয়া এবং হাতের শুভ্রতা ফিরআউনের দরবারে প্রকাশিত হয়। আর এগুলোর মাধ্যমেই জাদুকরদের বিরুদ্ধে মূসা আলাইহিস সালাম জয়লাভ করেন। তারপরের একটি নিদর্শন যার আলোচনা পূর্ববর্তী আয়াতে করা হয়েছে তা ছিল ফিরআউনের সম্প্রদায়ের হঠকারিতা ও দুরাচরণের ফলে দুর্ভিক্ষের আগমন।

যাতে তাদের ক্ষেতের ফসল এবং বাগ-বাগিচার উৎপাদন চরমভাবে হ্রাস পেয়েছিল। ফলে এরা অত্যন্ত ব্যাকুল হয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত মূসা আলাইহিস সালামের মাধ্যমে দুর্ভিক্ষ থেকে মুক্তিলাভের দোআ করায়। কিন্তু দুর্ভিক্ষ রহিত হয়ে গেলে পুনরায় নিজেদের ঔদ্ধত্যে লিপ্ত হয় এবং বলতে শুরু করে যে, এই দুর্ভিক্ষ তো মূসা আলাইহিস সালামের সঙ্গী-সাথীদের অলক্ষণের দরুনই আপতিত হয়েছিল। আর এখন যে দুর্ভিক্ষ রহিত হয়েছে, তা হল আমাদের সুকৃতির স্বাভাবিক ফলশ্রুতি। এমনটিই তো আমাদের প্রাপ্য।

তারপর আল্লাহ্ তা'আলা মূসা আলাইহিস সালামকে আরো ছয়টি এমন নিদর্শন দেন যার উদ্দেশ্য ছিল ফিরআউনের সম্প্রদায়কে সৎপথে নিয়ে আসা। আল্লাহ বলেনঃ অতঃপর আমি তাদের উপর পাঠিয়েছি তুফান, পঙ্গপাল, ঘুন পোকা, ব্যাঙ এবং রক্ত। এতে ফিরআউনের সম্প্রদায়ের উপর আপতিত পাঁচ রকমের আযাবের কথা আলোচিত হয়েছে।

এসব আযাবে অসহ্য হয়ে সবাই মূসা আলাইহিস সালামের কাছে পাকাপাকি ওয়াদা করল যে, তারা এ সমস্ত আযাব থেকে মুক্তি পেলে মূসা আলাইহিস সালামের উপর ঈমান আনবে। মূসা আলাইহিস সালাম দোআ করলেন, ফলে তারা এ সমস্ত আযাব থেকে মুক্তি পেল। কিন্তু যে জাতির উপর আল্লাহর আযাব চেপে থাকে, তাদের বুদ্ধি-বিবেচনা, জ্ঞান-চেতনা কোন কাজই করে না। কাজেই এ ঘটনার পরেও আযাব থেকে মুক্তি পেয়ে এরা আবারও নিজেদের হঠকারিতায় আঁকড়ে বসল এবং ঈমান আনতে অস্বীকার করল।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১৩৩) অতঃপর আমি তাদেরকে প্লাবন, পঙ্গপাল, উকুন, ব্যাঙ ও রক্ত দ্বারা ক্লিষ্ট করি; এগুলি ছিল স্পষ্ট নিদর্শন।(1) কিন্তু তারা দাম্ভিকই রয়ে গেল, আর তারা ছিল এক অপরাধী সম্প্রদায়।

(1) طوفان (তুফান) বলতে বন্যা, প্লাবন, প্রচুর বৃষ্টিপাত, যাতে প্রতিটি জিনিস ডুবে যায়। অথবা অধিক মৃত্যু বোঝানো হয়েছে, যাতে প্রতিটি ঘরে মাতম শুরু হয়। جراد পঙ্গপালকে বলে। ফসলের উপর পঙ্গপালের আক্রমণ ও অনিষ্টকারিতা সর্বজন-বিদিত। এই সমস্ত পঙ্গপাল তাদের ফসল ও ফলাদি খেয়ে শেষ করে ফেলত। قُمَّل উকুন যা মানুষের দেহ, পোশাক বা চুলে পাওয়া যায়। অথবা ঘুণ পোকা যা শস্যের অধিক অংশ খেয়ে নষ্ট করে দেয়। উকুনকে মানুষ ঘৃণা করে। আর বেশি পরিমাণে হলে মানুষ পেরেশান হয়ে যায়। আবার তা যদি শাস্তি স্বরূপ হয়, তাহলে তার কষ্ট অনুমেয়। অনুরূপ ঘুণ পোকা মানুষের রুযী ও আর্থিক পরিকাঠামো ভেঙ্গে ফেলার জন্য যথেষ্ট। ضفادع ضفدعة এর বহুবচন। যার অর্থ ব্যাঙ। যা পানিতে খাল ও ডোবায় জন্মায়। এই সমস্ত ব্যাঙ তাদের খাবারে, বিছানায়, গুদামজাত শস্যে এসে উপস্থিত হত; মোটকথা চারিদিকে শুধু ব্যাঙ আর ব্যাঙই নজরে আসত। যার কারণে তাদের খাওয়া, পান করা, শোয়া, আরাম করা সব হারাম হয়ে গিয়েছিল। دَم (রক্ত) এর অর্থ পানি রক্তে পরিণত হওয়া। ফলে তাদের পানি পান করা অসম্ভব হয়ে পড়ত। কেউ কেউ রক্ত বলতে নাক দিয়ে ঝরা রক্ত বুঝিয়েছেন। অর্থাৎ, প্রত্যেক ব্যক্তির নাক দিয়ে রক্ত ঝরার রোগ শুরু হয়। آيات مفصلات এগুলি স্পষ্ট ও আলাদা আলাদা মু’জিযা ছিল; যা সময়ের ব্যবধানে তাদের উপর এসেছিল।