وَقَالَ مُوسَىٰ يَٰفِرۡعَوۡنُ إِنِّي رَسُولٞ مِّن رَّبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ

ওয়া ক-লা মুছা-ইয়া-ফির‘আওনুইন্নী রছূলুম মির রব্বিল ‘আ-লামীন।উচ্চারণ

মূসা বললোঃ “হে ফেরাউন! ৮৫ আমি বিশ্বজাহানের প্রভুর নিকট থেকে প্রেরিত। তাফহীমুল কুরআন

মূসা বলেছিল, হে ফির‘আউন! নিশ্চয়ই আমি রাব্বুল আলামীনের পক্ষ হতে একজন রাসূল।মুফতী তাকী উসমানী

মূসা বললঃ হে ফির‘আউন! আমি বিশ্বের রবের একজন রাসূল।মুজিবুর রহমান

আর মূসা বললেন, হে ফেরাউন, আমি বিশ্ব-পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত রসূল।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

মূসা বলল, ‘হে ফির‘আওন! আমি তো জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট হতে প্রেরিত। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মূসা বলল, ‘হে ফির‘আউন, আমি তো সকল সৃষ্টির রবের পক্ষ থেকে রাসূল।’আল-বায়ান

মূসা বলেছিল, হে ফির‘আওন! আমি বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রেরিত রসূল।তাইসিরুল

আর মূসা বললেন -- "হে ফিরআউন, নিঃসন্দেহ আমি বিশ্বজগতের প্রভুর তরফ থেকে একজন রসূল, --মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৮৫

ফেরাউন শব্দের অর্থ “সূর্য দেবতার সন্তান।” প্রাচীন কালে মিসরীয়রা সূর্যকে তাদের মহাদেব বা প্রধান দেবতা মনে করতো। এ অর্থে তারা তাকে বলতো (রাও)। ফেরাউন এ ‘রাও’ এর সাথে সম্পর্কযুক্ত ছিল। মিসরীয়দের বিশ্বাস অনুযায়ী কোন শাসনকর্তার সার্বভৌম ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের অধিকারী হতে হলে তাকে ‘রাও’ এর শারীরিক অবতার এবং তার দুনিয়াবী প্রতিনিধি হওয়া অপরিহার্য ছিল। এ জন্যই যতগুলো রাজ পরিবার মিসরের শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে, তাদের প্রত্যেকেই নিজেকে সূর্য বংশীয় হিসেবে পেশ করেছে। শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবার পর প্রত্যেকটি শাসক নিজেদের জন্য ফেরাউন (ফারাও) উপাধি গ্রহণ করে দেশবাসীর সামনে একথা প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেছে যে, আমি-ই তোমাদের প্রধান রব বা মহাদেব।

এখানেও একথাটিও মনে রাখতে হবে যে, কুরআন মজীদে হযরত মূসার ঘটনা বর্ণনা প্রসঙ্গে দুজন ফেরাউনের কথা বলা হয়েছে। একজন ফেরাউনের আমলে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন এবং তার গৃহে প্রতিপালিত হন। আর দ্বিতীয় জনের কাছে তিনি ইসলামের দাওয়াত ও বনী ইসরাঈলের মুক্তির দাবী নিয়ে উপস্থিত হন এবং এ দ্বিতীয় ফেরাউনই অবশেষে জলমগ্ন হয়। বর্তমান যুগের গবেষকদের অধিকাংশের মতে, প্রথম ফেরাউন ছিল দ্বিতীয় রামেসাস। তার শাসনকাল ছিল ১২৯২ থেকে ১২২৫ খৃষ্টপূর্বাব্দে। আর এখানে উল্লেখিত দ্বিতীয় ফেরাউন ছিল “মিনফাতা” বা “মিনফাতাহ।” পিতা দ্বিতীয় রামেসাসের জীবনকালেই সে শাসন কর্তৃত্বে অংশগ্রহণ করে এবং পিতার মৃত্যুর পর পুরোপুরি রাষ্ট্র ক্ষমতার অধিকারী হয়। এ ধারণা বাহ্যত সন্দেহযুক্ত মনে হচ্ছে। কারণ ইসরাঈলী ইতিহাসের হিসেব অনুযায়ী হযরত মূসা (আ) ইন্তিকাল করেন ১২৭২ খৃস্টপূর্বাব্দে। তবুও যা হোক আমাদের মনে রাখতে হবে, এগুলো নেহাত ঐতিহাসিক ধারণা ও আন্দাজ-অনুমান আর মিসরীয়, ইসরাঈলী ও খৃস্টীয় পঞ্জিকার সাহায্যে একেবারে নির্ভুল সময়কালের হিসেব করা কঠিন।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

১০৪. আর মূসা বললেন, হে ফিরআউন(১), নিশ্চয় আমি সৃষ্টিকুলের রবের কাছ থেকে প্রেরিত।

(১) মিসরীয় শাসকরা শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবার পর প্রত্যেকটি শাসক নিজেদের জন্য “ফিরআউন” (ফারাও) উপাধি গ্রহণ করে দেশবাসীর সামনে একথা প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেছে যে, আমি-ই তোমাদের প্রধান রব বা মহাদেব। পরবর্তীতে ফিরআউন শব্দটি অহংকার দাম্ভিক অর্থে ব্যবহৃত হতে থাকে। কেউ যদি অহংকারী ও দাম্ভিকতা প্রদর্শন করে তখন বলা হয়, تَفَرْعَنَ فُلاَنٌ বা অমুক দাম্ভিকতা, অহংকার ও সীমালঙ্ঘনের চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। (কাশশাফ) কোন কোন মুফাসসির বলেন, প্রত্যেক চক্রান্তকারী ও ষড়যন্ত্রকারীকে تَفَرْعَنَ বলা হয়। (ফাতহুল কাদীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১০৪) মূসা বলল, ‘হে ফিরআউন! আমি বিশ্ব প্রতিপালকের নিকট হতে প্রেরিত (রসূল)।