وَمَا وَجَدۡنَا لِأَكۡثَرِهِم مِّنۡ عَهۡدٖۖ وَإِن وَجَدۡنَآ أَكۡثَرَهُمۡ لَفَٰسِقِينَ

ওয়া মা-ওয়াজাদনা-লিআকছারিহিম মিন ‘আহদিওঁ ওয়া ইওঁ ওয়াজাদনা আকছারহুম লাফা-ছিকীন।উচ্চারণ

তাদের অধিকাংশের মধ্যে আমি অঙ্গীকার পালনের মনোভাব পাইনি। বরং অধিকাংশকেই পেয়েছি ফাসেক ও নাফরমান। ৮২ তাফহীমুল কুরআন

আমি তাদের অধিকাংশের ভেতরই অঙ্গীকার নিষ্ঠা পাইনি। #%৫৮%# প্রকৃতপক্ষে আমি তাদের অধিকাংশকেই পেয়েছি অবাধ্য।মুফতী তাকী উসমানী

আমি তাদের অধিকাংশকে অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারীরূপে পাইনি, তবে তাদের অধিকাংশকে পাপাচারী রূপে পেয়েছি।মুজিবুর রহমান

আর তাদের অধিকাংশ লোককেই আমি প্রতিজ্ঞা বাস্তবায়নকারীরূপে পাইনি; বরং তাদের অধিকাংশকে পেয়েছি হুকুম অমান্যকারী।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি তাদের অধিকাংশকে প্রতিশ্রুতি পালনকারী পাই নাই; বরং তাদের অধিকাংশকে তো পাপাচারীই পেয়েছি। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর তাদের অধিকাংশ লোককে আমি অঙ্গীকার রক্ষাকারী পাইনি। বরং তাদের অধিকাংশকে আমি ফাসিক-ই পেয়েছি।আল-বায়ান

তাদের অধিকাংশকেই আমি প্রতিশ্রুতি পালনকারী পাইনি, বরং অধিকাংশকে ফাসিকই পেয়েছি।তাইসিরুল

আর তাদের বেশিরভাগের মধ্যে আমরা প্রতি‌শ্রুতি পালনের কিছুই পাই নি, বরং তাদের অধিকাংশকে অবশ্যই পেয়েছি ডাহা অসৎকর্মা।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৮২

কারোর মধ্যে অঙ্গীকার পালনের মনোভাব পাইনি"-অর্থাৎ কোন ধরনের অঙ্গীকার পালনের পরোয়াই তাদের নেই। আল্লাহর পালিত বান্দা হবার কারণে জন্মগতভাবে প্রত্যেকটি মানুষ আল্লাহর সাথে যে অঙ্গীকারে আবদ্ধ, তা প্রতিপালনের কোন পরোয়াই তাদের নেই। তারা সামাজিক অঙ্গীকার পালনেরও কোন পরোয়া করে না। মানব সমাজের একজন সদস্য হিসেবে প্রত্যেক ব্যক্তি যার সাথে একটি সুদৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ, অন্যদিকে নিজের বিপদ-আপদ ও দুঃখ-কষ্টের মুহূর্তগুলোতে অথবা কোন সদিচ্ছা ও মহৎ বাসনা পোষনের মুহূর্তে মানুষ ব্যক্তিগতভাবে আল্লাহর সাথে যে অঙ্গীকারে আবদ্ধ হয়, তাও তারা পালন করে না। এ তিন ধরনের অঙ্গীকার ভঙ্গ করাকে এখানে ফাসেকী বলা হয়েছে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ তাদেরকে যে স্বভাবধর্ম তথা আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের মানসিকতার উপর সৃষ্টি করা হয়েছিল এবং যার প্রতিশ্রুতি তাদের থেকে রূহানী জগতে নেওয়া হয়েছিল, তা রক্ষার কোন ইচ্ছা ও আগ্রহ তাদের মধ্যে পরিলক্ষিত হয়নি। এমনিভাবে মসিবতকালে তারা যে ঈমান আনার ও ভালো মানুষ হয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করে এবং পারস্পরিক কাজ-কর্ম ও লেনদেনের ক্ষেত্রে যে সব অঙ্গীকারে আবদ্ধ হয়, তা রক্ষারও কোন গরজ তাদের মধ্যে দেখা যায়নি; বরং সকল ক্ষেত্রেই তারা কেবল অবাধ্যতাই করেছে। (-অনুবাদক)

তাফসীরে জাকারিয়া

১০২. আর আমরা তাদের অধিকাংশকে প্রতিশ্রুতি পালনকারী পাইনি; বরং আমরা তাদের অধিকাংশকে তো ফাসেকই পেয়েছি।(১)

(১) অর্থাৎ কোন ধরনের অঙ্গীকার পালনের পরোয়াই তাদের নেই। আল্লাহর পালিত বান্দা হবার কারণে জন্মগতভাবে প্রত্যেকটি মানুষ আল্লাহর সাথে যে অংগীকারে আবদ্ধ, তা প্রতিপালনের কোন পরোয়াই তাদের নেই। তারা সামাজিক অঙ্গীকার পালনেরও কোন পরোয়া করে না, মানব সমাজের একজন সদস্য হিসেবে প্রত্যেক ব্যক্তি যার সাথে একটি সুদৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ অন্যদিকে নিজের বিপদ-আপদ ও দুঃখ কষ্টের মুহুর্তগুলোতে অথবা কোন সদিচ্ছা ও মহৎ বাসনা পোষণের মুহুর্তে মানুষ ব্যক্তিগতভাবে আল্লাহর সাথে যে অংগীকারে আবদ্ধ হয়, তাও তারা পালন করে না। এ ধরনের অঙ্গীকার ভঙ্গ করাকে এখানে ফাসেকী বলা হয়েছে। (সা'দী) কোন কোন মুফাসসিরের মতে, এখানে অঙ্গীকার বলে সে অঙ্গীকারই উদ্দেশ্য যা আল্লাহ্ তাআলা আদমের পিঠে মানুষ থেকে নিয়েছিলেন। (আত-তাফসীরুস সহীহ)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১০২) আমি তাদের অধিকাংশকে প্রতিশ্রুতি পালনকারীরূপে পাইনি,(1) বরং তাদের অধিকাংশকে সত্যত্যাগী রূপেই পেয়েছি।

(1) এখান থেকে কেউ কেউ ‘রূহ’ বা আত্মা-জগতে যে অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছিল, তা বুঝিয়েছেন। আবার কেউ বলেন, আযাব বা শাস্তি দূর করার জন্য নবীদের সঙ্গে তারা যে অঙ্গীকার করত, তা বুঝানো হয়েছে। আবার কেউ সাধারণ অঙ্গীকার অর্থ নিয়েছেন; যা তারা এক অপরের সঙ্গে করত। এই অঙ্গীকার ভঙ্গ যে ধরণের হোক, তা ফিসক (পাপাচার) বলে গণ্য।