وَلَا تَقۡعُدُواْ بِكُلِّ صِرَٰطٖ تُوعِدُونَ وَتَصُدُّونَ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ مَنۡ ءَامَنَ بِهِۦ وَتَبۡغُونَهَا عِوَجٗاۚ وَٱذۡكُرُوٓاْ إِذۡ كُنتُمۡ قَلِيلٗا فَكَثَّرَكُمۡۖ وَٱنظُرُواْ كَيۡفَ كَانَ عَٰقِبَةُ ٱلۡمُفۡسِدِينَ

ওয়ালা-তাক‘উদূবিকুল্লি সির-তিন তূ‘ইদূ না ওয়া তাসূদ্দূনা ‘আন ছাবীলিল্লা-হি মান আমানা বিহী ওয়া তাবগূনাহা-‘ইওয়াজাওঁ ওয়াযকুরূইযকুনতুম কালীলান ফাকাছছারকুম ওয়ানজু রূকাইফা ক-না ‘আ-কিবাতুল মুফছিদীন।উচ্চারণ

আর লোকদেরকে ভীত সন্ত্রস্ত করার, ঈমানদারদেরকে আল্লাহর পথে চলতে বাধা দেবার এবং সোজা পথকে বাঁকা করার জন্য (জীবনের) প্রতিটি পথে লুটেরা হয়ে বসে থেকো না। স্মরণ করো, সেই সময়ের কথা যখন তোমরা ছিলে স্বল্প সংখ্যক। তারপর আল্লাহ‌ তোমাদের সংখ্যা বাড়িয়ে দেন। আর বিপর্যয় সৃষ্টিকারীরা কোন ধরনের পরিণামের সম্মুখীন হয়েছে তা একবার চোখ মেলে তাকিয়ে দেখো। তাফহীমুল কুরআন

(মানুষকে) ধমকানোর জন্য এবং যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে তাদেরকে আল্লাহর পথে বাধা দান ও তাতে বক্রতা সন্ধানের উদ্দেশ্যে পথে-ঘাটে বসে থাকবে না। স্মরণ কর, যখন তোমরা অল্প ছিলে, অতঃপর আল্লাহ তোমাদের সমৃদ্ধি দিলেন #%৪৯%# এবং লক্ষ্য কর, অশান্তি সৃষ্টিকারীদের পরিণাম কী হয়েছে।মুফতী তাকী উসমানী

আর (জীবনের) প্রতিটি পথে এমনিভাবে দস্যি হয়ে যেওনা যে, ঈমানদার লোকদেরকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও আল্লাহর পথ হতে বিরত রাখতে থাকবে এবং সহজ সরল পথকে বক্র করায় ব্যস্ত থাকবে। ঐ অবস্থানটির কথা স্মরণ কর, যখন তোমরা সংখ্যায় স্বল্প ছিলে, অতঃপর তিনি (আল্লাহ) তোমাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করে দিলেন, আর এই জগতে বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পরিণতি কি হয়েছে তা জ্ঞানচক্ষু খুলে লক্ষ্য কর।মুজিবুর রহমান

তোমরা পথে ঘাটে এ কারণে বসে থেকো না যে, আল্লাহ বিশ্বাসীদেরকে হুমকি দিবে, আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করবে এবং তাতে বক্রতা অনুসন্ধান করবে। স্মরণ কর, যখন তোমরা সংখ্যায় অল্প ছিলে অতঃপর আল্লাহ তোমাদেরকে অধিক করেছেন এবং লক্ষ্য কর কিরূপ অশুভ পরিণতি হয়েছে অনর্থকারীদের।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

‘তাঁর প্রতি যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে ভয় প্রদর্শনের জন্যে তোমরা কোন পথে বসে থাকবে না, আল্লাহ্ র পথে তাদেরকে বাধা দিবে না আর এতে বক্রতা অনুসন্ধান করবে না।’ স্মরণ কর, ‘তোমরা যখন সংখ্যায় কম ছিলে, আল্লাহ্ তখন তোমাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করেছেন আর বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পরিণাম কিরূপ ছিল, তা লক্ষ্য কর। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আর যারা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছে তাদেরকে ভয় দেখাতে, আল্লাহর পথ থেকে বাধা দিতে এবং তাতে বক্রতা অনুসন্ধান করতে তোমরা প্রতিটি পথে বসে থেকো না’। আর স্মরণ কর, যখন তোমরা ছিলে কম, অতঃপর তিনি তোমাদেরকে অধিক করেছেন এবং দেখ, কিরূপ হয়েছে ফাসাদকারীদের পরিণতি।আল-বায়ান

‘যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে ভয় দেখানোর জন্য আর আল্লাহর পথ থেকে বাধা দেয়ার জন্য প্রতিটি পথে পাহারা বসিও না, আর তাতে (অর্থাৎ আল্লাহর সহজ-সরল পথে) বক্রতা অনুসন্ধান কর না।’ স্মরণ কর, ‘তোমরা সংখ্যায় অল্প ছিলে, অতঃপর আল্লাহ তোমাদেরকে সংখ্যাধিক্য করে দিয়েছেন। লক্ষ্য কর, বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পরিণতি কী হয়েছিল।’তাইসিরুল

"আর প্রত্যেক রাস্তায় ওত পেতে থেকো না ভয় দেখিয়ে, আর আল্লাহ্‌র পথ থেকে তাকে ফিরিয়ে নিতে যে তাঁর প্রতি ঈমান এনেছে, আর তাকে কুটিল করতে যেও না। আর স্মরণ করো -- যখন তোমরা অল্প ছিলে, তখন তিনি তোমাদের বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। অতএব দেখো, কি হয়েছিল বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পরিণাম!মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এর দ্বারা জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও অর্থ-সম্পদের প্রাচুর্য উভয়ই বোঝানো হয়েছে।

তাফসীরে জাকারিয়া

৮৬. আর তার প্রতি যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে ভয় দেখানোর জন্য, আল্লাহর পথ থেকে বাধা দিতে এবং তাতে বক্রতা অনুসন্ধান করতে তোমরা প্রতিটি পথে বসে থেকো না। আর স্মরণ কর, তোমরা যখন সংখ্যায় কম ছিলে, আল্লাহ তখন তোমাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করেছেন এবং বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পরিণাম কিরূপ ছিল, তা লক্ষ্য কর।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৮৬) আর তোমরা এই উদ্দেশ্যে পথে পথে বসে থেকো না যে, তোমরা বিশ্বাসীগণকে ভীতি প্রদর্শন করবে, আল্লাহর পথে তাদেরকে বাধা দেবে এবং ওতে বক্রতা (দোষ-ত্রুটি) অনুসন্ধান করবে।(1) স্মরণ কর, তোমরা যখন সংখ্যায় কম ছিলে, আল্লাহ তখন তোমাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করেছেন। আর বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পরিণাম কিরূপ ছিল, তা লক্ষ্য কর।

(1) আল্লাহর রাস্তা থেকে মানুষকে রোধ করার জন্য তাতে বক্রতা অনুসন্ধান করা প্রত্যেক যুগের অবাধ্যজনদের কাছে বড় পছন্দনীয় কাজ ছিল। আর এর দৃষ্টান্ত বর্তমানে আধুনিক এবং পাশ্চাত্যের অন্ধ অনুকরণকারী লোকদের মাঝে দেখা যায়। أَعَاذَنَا اللهُ مِنْهُ। এ ছাড়াও রাস্তায় বসার আরো কয়েকটি অর্থ বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন, লোকদের কষ্ট দেওয়ার জন্য বসা। সাধারণতঃ দুষ্ট প্রকৃতিক লোকদের এই অভ্যাস হয়। অথবা শুআইব (আঃ)-এর কাছে যাওয়ার পথগুলোতে বসা। যাতে তাঁর কাছে যারা যায়, তাদেরকে যেতে বাধা দেয় এবং তাঁর ব্যাপারে তাদের মনে খারাপ ধারণা ঢুকিয়ে দেয়; যেমন মক্কার কুরাইশরা করত। কিংবা দ্বীনের পথগুলোতে বসা এবং এ পথের পথিকদের বাধা দেওয়া। এইভাবে লুণ্ঠনের জন্য ঘাঁটিতে বসে থাকা এবং আগমন ও প্রত্যাগমনকারীদের মাল-ধন লুটে নেওয়া। অথবা কারো কারো নিকট কর আদায় করার জন্য তাদের রাস্তায় বসা। ইমাম শাওকানী (রঃ) বলেন, প্রত্যেক অর্থই সঠিক হতে পারে। কেননা, এটাও হতে পারে যে, এ সব কিছুই তারা করত। (ফাতহুল ক্বাদীর)