وَأَمۡطَرۡنَا عَلَيۡهِم مَّطَرٗاۖ فَٱنظُرۡ كَيۡفَ كَانَ عَٰقِبَةُ ٱلۡمُجۡرِمِينَ

ওয়া আমতারনা-‘আলাইহিম মাতারন ফানজু র কাইফা ক-না ‘আ-কিবাতুল মুজ রিমীন।উচ্চারণ

এবং এ সম্প্রদায়ের ওপর বৃষ্টি বর্ষণ করি। ৬৭ তারপর সেই অপরাধীদের কী পরিণাম হয়েছিল দেখো। ৬৮ তাফহীমুল কুরআন

আর আমি তাদের উপর (পাথরের) প্রচণ্ড বৃষ্টি বর্ষণ করলাম। সুতরাং দেখ, সে অপরাধীদের পরিণাম কেমন (ভয়াবহ) হয়েছিল।মুফতী তাকী উসমানী

অতঃপর আমি তাদের উপর মুষলধারে বারিপাত ঘটালাম, অতঃপর লক্ষ্য কর, অপরাধী লোকদের পরিণাম কি হয়েছিল।মুজিবুর রহমান

অতএব, দেখ গোনাহগারদের পরিণতি কেমন হয়েছে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি তাদের ওপর ভীষণভাবে বৃষ্টি বর্ষণ করেছিলাম। সুতরাং অপরাধীদের পরিণাম কী হয়েছিল তা লক্ষ্য কর। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর আমি তাদের উপর বর্ষণ করেছিলাম বৃষ্টি। সুতরাং দেখ, অপরাধীদের পরিণতি কিরূপ ছিল।আল-বায়ান

তাদের উপর এক পাথরের বৃষ্টি বর্ষিয়ে দিলাম। তারপর দেখ, অপরাধীদের পরিণতি কী হয়েছিল!তাইসিরুল

আর তাদের উপরে আমরা বর্ষণ করেছিলাম এক বর্ষণ। অতএব দেখো, অপরাধীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল?মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৬৭

বৃষ্টি মানে এখানে পানি-বৃষ্টি নয় বরং পাথর-বৃষ্টি। কুরআনের অন্যান্য স্থানে এ কথাটি সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে। তাছাড়া কুরআনে একথাও বলা হয়েছে যে, তাদের জনপদসমূহ উল্টিয়ে দিয়ে তাদেরকে ধ্বংস করে দেয়া হয়।

৬৮

এখানে এবং কুরআনের আরো বিভিন্ন স্থানে কেবল এতটুকুন বলা হয়েছে যে, লূত জাতি একটি অতি জঘন্য ও নোংরা পাপ কাজের অনুশীলন করে যাচ্ছিল এবং এ ধরনের পাপ কাজের পরিণামে এ জাতির ওপর আল্লাহর গযব নেমে আসে। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশনা থেকে আমরা একথা জানতে পেরেছি যে, এটি এমন একটি অপরাধ, সমাজ অঙ্গনকে যার কলুষমুক্ত রাখার চেষ্টা করা ইসলামী রাষ্ট্রের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত এবং এ ধরনের অপরাধকারীদেরকে কঠোর শাস্তি দেয়া উচিত। এ প্রসঙ্গে নবী ﷺ থেকে যে সমস্ত হাদীস বর্ণিত হয়েছে তার কোনটিতে বলা হয়েছেঃاقْتُلُوا الْفَاعِلَ وَالْمَفْعُولَ بِهِ (এ অপরাধকারী ও যার সাথে সে অপরাধ করেছে তাদের উভয়কে হত্যা করো)। আবার কোনটিতে এর ওপর এতটুকু বৃদ্ধি করা হয়েছেঃ

أُحْصِنَااَولَم يَحصَنًا(বিবাহিত হোক বা অবিবাহিত)। আবার কোথাও এও বলা হয়েছেঃ فَارْجُمُوا الْأَعْلَى وَالْأَسْفَلَ(ওপরের ও নীচের উভয়কে পাথর মেরে হত্যা করো)। কিন্তু যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে এ ধরনের কোন মামলা আসেনি তাই এর শাস্তি কিভাবে দেয়া হবে, তা অকাট্যভাবে চিহ্নিত হতে পারেনি। সাহাবীগণের মধ্যে হযরত আলীর (রা.) মতে অপরাধীকে তরবারীর আঘাতে হত্যা করতে হবে এবং কবরস্থ করার পরিবর্তে তার লাশ পুড়িয়ে ফেলতে হবে। হযরত আবু বকর (রা.) এ মত সমর্থন করেন। হযরত উমর (রা.) ও হযরত উসমানের (রা.) মতে কোন পতনোন্মুখ ইমারতের নীচে তাকে দাঁড় করিয়ে দিয়ে ইমারতটিকে তার ওপর ধ্বসিয়ে দিতে হবে। এ ব্যাপারে ইবনে আব্বাসের (রা.) ফতোয়া হচ্ছে, মহল্লার সবচেয়ে উঁচু বাড়ির ছাদ থেকে তাকে পা উপরের দিকে এবং মাথা নিচের দিকে করে নিক্ষেপ করতে এবং এই সঙ্গে উপর থেকে তার ওপর পাথর নিক্ষেপ করতে হবে। ফকীহদের মধ্যে ইমাম শাফেঈ (র) বলেন, অপরাধী ও যার সাথে অপরাধ করা হয়েছে তারা বিবাহিত হোক বা অবিবাহিত, তাদের উভয়কে হত্যা করা ওয়াজিব। শা'বী, যুহরী, মালিক ও আহমদ (রাহেমাহুল্লাহ) মতে তাদের শাস্তি হচ্ছে রজম অর্থাৎ পাথর মেরে হত্যা করা। সাঈদ ইবনুল মুসাইয়েব, আতা, হাসান বসরী, ইবরাহীম নাখঈ, সুফিয়ান সওরী ও আওযাঈর (রাহেমাহুমুল্লাহর) মতে যিনার অপরাধে যে শাস্তি দেয়া হয় এ অপরাধে সেই একই শাস্তি দেয়া হবে। অর্থাৎ অবিবাহিতকে একশত বেত্রাঘাত করে দেশ থেকে বহিস্কার করা হবে এবং বিবাহিতকে রজম করা হবে। ইমাম আবু হানিফার (র) মতে, তার ওপর কোন দণ্ডবিধি নির্ধারিত নেই বরং এ কাজটি এমন যে, সরকার তার বিরুদ্ধে অবস্থা ও প্রয়োজন অনুপাতে যে কোন শিক্ষণীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন। এর সমর্থনে ইমাম শাফেঈর একটি বক্তব্যও পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য যে, কোন ব্যক্তির তার নিজের স্ত্রীর সাথেও লূত জাতির কুকর্ম করা চূড়ান্তভাবে হারাম। আবু দাউদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ উক্তি উদ্বৃত হয়েছেঃ مَلْعُونٌ مَنْ أَتَى امْرَأَتَهُ فِى دُبُرِهَا(যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর পশ্চাদ্দেশে যৌন কার্য করে সে অভিশপ্ত)। ইবনে মাজাহ ও মুসনাদে আহমদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ বানী উদ্বৃত হয়েছেঃ لاَ يَنْظُرُ اللَّهُ إِلَى رَجُلٍ جَامَعَ امْرَأَتَهُ فِى دُبُرِهَا(যে ব্যক্তি নিজের স্ত্রীর পশ্চাদ্দেশে যৌন সঙ্গমে লিপ্ত হয়, আল্লাহ‌ কিয়ামতের দিন তার প্রতি দৃষ্টিপাত করবেন না)। ইমাম তিরমিযী তাঁর আর একটি নির্দেশ উদ্ধৃত করেছেন। তাতে বলা হয়েছেঃ

من أَتَى حَائِضًا أَوِ امْرَأَةً فِى دُبُرِهَا أَوْ كَاهِنًا فَصدقه كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ

“যে ব্যক্তি ঋতুবতী অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করে অথবা নিজের স্ত্রীর পশ্চাদ্দেশে যৌন কার্য করে বা কোন গণকের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, সে মুহাম্মাদের ﷺ প্রতি অবতীর্ণ বিধান অস্বীকার করে।”

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

৮৪. আর আমরা তাদের উপর ভীষণভাবে বৃষ্টি বর্ষণ করেছিলাম। কাজেই দেখুন, অপরাধীদের পরিণাম কিরূপ হয়েছিল।(১)

(১) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমার উম্মতের জন্য সবচেয়ে বেশী ভয় পাচ্ছি যে, তারা লুতের জাতির কাজ করে বসবে’। (তিরমিযীঃ ১৪৫৭) অন্য বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো জন্য যবেহ করে আল্লাহ তাকে লা'নত করেছেন, যে ব্যক্তি যমীনের সীমানা পরিবর্তন করে তাকে আল্লাহ লা'নত করেছেন, যে ব্যক্তি কোন অন্ধ ব্যক্তিকে পথ ভুলিয়ে দেয় তাকে আল্লাহ লা'নত করেছেন, যে ব্যক্তি পিতা-মাতাকে গালি দেয় আল্লাহ তাকে লা'নত করেছেন, যে ব্যক্তি তার আপন মনিব ব্যতীত অন্য কাউকে মনিব বানায় আল্লাহ তাকে লা'নত করেছেন, আর যে ব্যক্তি লুতের জাতির কাজ করে তাকেও আল্লাহ লা'নত করেছেন, আর যে ব্যক্তি লুতের জাতির কাজ করে তাকেও আল্লাহ লা'নত করেছেন, আর যে ব্যক্তি লুতের জাতির কাজ করে তাকেও আল্লাহ লা'নত করেছেন। (মুসনাদে আহমাদঃ ১/৩০৯)

অন্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কাউকে তোমরা লুত জাতির কাজ করতে দেখ তবে যে এ কাজ করছে এবং যার সাথে করা হচ্ছে উভয়কে হত্যা কর। (আবু দাউদঃ ৪৪৬২)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৮৪) তাদের উপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করেছিলাম,(1) সুতরাং অপরাধীদের পরিণাম কী হয়েছিল, তা লক্ষ্য কর। (2)

(1) অথবা তাদের উপর এক প্রকার বৃষ্টি বর্ষণ করেছিলাম। এই বিশেষ ধরনের মুষলধারে বৃষ্টি কি ছিল? পাথরের বৃষ্টি। যেমন, অন্যত্র বলেন, {وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهَا حِجَارَةً مِنْ سِجِّيلٍ مَنْضُودٍ} অর্থাৎ, তার উপর ক্রমাগত ঝামা পাথর বর্ষণ করলাম। (সূরা হূদ ৮২) এর আগে বলেছেন, {جَعَلْنَا عَالِيَهَا سَافِلَهَا} অর্থাৎ, আমি উক্ত জনপদের উপরি ভাগকে নীচে করে দিলাম।

(2) অর্থাৎ, হে মুহাম্মাদ! দেখ, যারা প্রকাশ্যে আল্লাহর অবাধ্যতা করে এবং নবীদেরকে মিথ্যাজ্ঞান করে তাদের পরিণাম কি হয়?