ভূমিকা
ওয়ারফারিন সোডিয়াম একটি অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট বা রক্ত থেকে পাতলা ওষুধ যা শিরা এবং ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা করতে ব্যবহৃত হয়। এটি রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি কমাতে বা থ্রম্বোইম্বোলিজম নামে পরিচিত একটি বিপজ্জনক অবস্থার বিকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি মৌখিক ট্যাবলেট আকারে দেওয়া হয়।
এর কাজ
Warfarin Sodium রক্তের জমাট বাঁধা যেমন ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস (DVT) এবং পালমোনারি এমবোলিজম (ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধা) এবং সেইসাথে অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশনে আক্রান্ত ব্যক্তিদের স্ট্রোক এবং অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি কমাতে ব্যবহার করা হয় যা হার্টের ভালভের সমস্যা দ্বারা সৃষ্ট নয়। . ওয়ারফারিন সোডিয়াম অস্ত্রোপচার পরবর্তী ক্ষেত্রে রক্তের জমাট বাঁধা প্রতিরোধ করতে ব্যবহার করা যেতে পারে। ওয়ারফারিন সোডিয়ামের অন্যান্য ব্যবহারের মধ্যে রয়েছে হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইলিওর বা পেরিফেরাল ভাস্কুলার রোগ প্রতিরোধ। ওয়ারফারিন সোডিয়াম চিকিৎসক দ্বারা নির্ধারিত অন্যান্য অবস্থার জন্যও ব্যবহার করা যেতে পারে।
কিভাবে কাজ করে
ওয়ারফারিন সোডিয়াম লিভারের এনজাইম ভিটামিন কে ইপোক্সাইড রিডাক্টেসের ক্রিয়াকে অবরুদ্ধ করে, যার ফলে কার্যকরী ভিটামিন কে থেকে এর প্রাপ্যতা হ্রাস পায় এবং ভিটামিন কে থেকে নির্ভর জমাট বাঁধার কারণগুলির সংশ্লেষণ হ্রাস পায়। এটি ভিটামিন কে থেকে নির্ভর জমাট বাঁধার কারণগুলিকে তাদের সক্রিয় আকারে রূপান্তর হ্রাস করে। এটি জমাট বাঁধার কারণগুলির গুণমান এবং পরিমাণ হ্রাস করে, যা অ্যান্টিকোয়ুলেশনের দিকে পরিচালিত করে।
কাজ করতে কতক্ষণ সময় লাগে?
ওয়ারফারিন সোডিয়াম প্রভাব দেখাতে শুরু করতে সাধারণত ১ থেকে ২ দিন সময় লাগে। ব্যক্তির চিকিৎসা অবস্থার উপর নির্ভর করে এটি আরও বেশি সময় নিতে পারে।
শোষণ
ওয়ারফারিন সোডিয়াম গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ট্র্যাক্ট থেকে ভালভাবে শোষিত হয়, যার পরম জৈব উপলব্ধতা ৬০ থেকে ৮০%। মৌখিক মাত্রা গ্রহণের ১ থেকে ৪ ঘন্টার মধ্যে সর্বোচ্চ মাত্রা পৌঁছে যায়।
নির্মূলের পথ
ওয়ারফারিন সোডিয়াম প্রাথমিকভাবে বায়োট্রান্সফরমেশন এবং এর বিপাকীয় রেনাল নির্মূলের মাধ্যমে নির্মূল হয়, যার আনুমানিক নির্মূল অর্ধ জীবন ৩২ থেকে ৩৮ ঘন্টা।
মাত্রা
প্রাথমিকভাবে যখনই সম্ভব তখনই বেসলাইন প্রোথ্রম্বিন টাইম নির্ধারন করা প্রয়োজন, তবে তার জন্য প্রাথমিক মাত্রা গ্রহণ বিলম্বিত করা উচিত নয়।প্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে: ওয়ারফারিন থেকে এর প্রাথমিক মাত্রা দৈনিক ১০ মিগ্রা করে দুই দিন। পরবর্তীতে মেইন্টেন্যান্স মাত্রা প্রোথ্রম্বিন টাইম যা আই.এন.আর. (ইন্টারন্যাশনাল নরমালাইজড রেশিও) হিসেবে প্রকাশ করা হয়, এর ওপর নির্ভর করে। পরবর্তীতে মেইন্টেন্যান্স যাত্রা সাধারণতঃ ৩ থেকে ৯ মি.গ্রা. দৈনিক যা প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে গ্রহন করা হয়। মেইন্টেন্যান্স মাত্রা প্রয়োগ স্থগিত রাখা হয় যখন প্রোথ্রম্বিন টাইম অত্যধিক প্রলম্বিত হয়। একবার মেইন্টেন্যান্স মাত্রা নির্ধারন হয়ে গেলে তা সাধারণতঃ পরিবর্তন করার প্রয়োজন হয়না। জরুরী ক্ষেত্রে এন্টিকোয়াগুলেন্ট থেরাপী হেপারিন এবং ওয়ারফারিন একত্রে প্রয়োগের মাধ্যমে শুরু করা উচিত। যেখানে প্রয়োজনটা অতি জরুরী নয় যেমন, থ্রম্বোএম্বোলাইজম থেকে এর সম্ভাবনা অথবা ঝুঁকি রয়েছে সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র ওয়ারফারিন এর সাহায্যে চিকিৎসা শুরু করা যেতে পারে। নিয়মিত বিরতিতে কন্ট্রোল টেস্ট করতে হবে ও ওয়ারফারিন থেকে এর মাত্রা পুনঃনির্ধারন করতে হবে টেস্ট থেকে এর ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে।
শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার: ১৮ বছরের নীচে বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তথাপি শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহারের নজির রয়েছে এবং প্রাথমিক মাত্রা সাধারণতঃ ০.১ মি.গ্রা./কেজি/দিন যা পরবর্তীতে প্রাপ্ত বয়স্কদের অনুরূপ আই.এন.আর. অর্জনের লক্ষ্যে নির্ধারিত হয়ে থাকে।
মাত্রাটি ব্যক্তির প্রয়োজনীয় প্রভাব, চিকিৎসার অবস্থা এবং চিকিৎসার প্রতিক্রিয়ার উপর ভিত্তি করে সামঞ্জস্য করা উচিত। ওয়ারফারিন সোডিয়াম ট্যাবলেট বিভিন্ন শক্তিতে পাওয়া যায় থেকে ২mg, ৩mg, এবং ৫mg। ওয়ারফারিন সোডিয়াম শুরু করা বেশিরভাগ লোকের দৈনিক ২ মিলিগ্রাম থেকে ৫ মিলিগ্রাম প্রয়োজন, দিনে একবার মুখে নেওয়া।
সেবনবিধি
ওয়ারফারিন সোডিয়াম ট্যাবলেট মুখে এক গ্লাস পানির সাথে খেতে হবে, সাধারণত দিনে একবার। এটি খাবারের সাথে বা খাবার ছাড়াই নেওয়া যেতে পারে। ওয়ারফারিন প্রতিদিন একই সময়ে গ্রহণ করা উচিত, শরীরে মাদকের একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ মাত্রা বজায় রাখতে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ওয়ারফারিন সোডিয়ামের সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হল মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, বমি, পেটে ব্যথা, চুল পড়া এবং রক্তশূন্যতা। অন্যান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলির মধ্যে রয়েছে ফুসকুড়ি, আমবাত, চুলকানি, শ্বাস নিতে অসুবিধা, মুখ, গলা, জিহ্বা, ঠোঁট বা চোখ ফুলে যাওয়া এবং শ্বাসকষ্ট। কদাচিৎ, ওয়ারফারিন সোডিয়াম লিভারের ক্ষতি করতে পারে।}
বিষাক্ততা
ওয়ারফারিন সোডিয়াম এর অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট প্রভাবের কারণে গুরুতর রক্তপাত এবং হেমাটোমা গঠনের সাথে যুক্ত। ওয়ারফারিন সোডিয়ামের দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহার লক্ষণীয় বা উপসর্গহীন লিভারের ক্ষতি হতে পারে।
সতর্কতা
ওয়ারফারিন সোডিয়াম গ্রহণকারী রোগীদের নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত এবং ওষুধটি অন্যান্য অঙ্গগুলির কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করছে না তা নিশ্চিত করার জন্য নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করা উচিত।
মিথস্ক্রিয়া
ওয়ারফারিন সোডিয়াম অন্যান্য ওষুধের সাথে যোগাযোগ করতে পারে যেমন অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিফাঙ্গাল, ননস্টেরয়েডাল অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি ড্রাগস (এনএসএআইডি), অ্যান্টিসাইকোটিকস, অ্যান্টিডিপ্রেসেন্টস এবং অন্যান্য অনেক ওষুধ। অতএব, অন্যান্য ওষুধের সাথে ওয়ারফারিন সোডিয়াম গ্রহণ করার আগে একজন চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করা গুরুত্বপূর্ণ। উপরন্তু, এটি খাদ্যতালিকাগত সম্পূরক এবং ভেষজ ওষুধের সাথে যোগাযোগ করতে পারে।
রোগ মিথস্ক্রিয়া
ওয়ারফারিন সোডিয়াম অন্যান্য চিকিৎসা অবস্থার সাথে যোগাযোগ করতে পারে যেমন তীব্র অসুস্থতা, লিভার এবং কিডনি রোগ, আসন্ন/সাম্প্রতিক অস্ত্রোপচার, খিঁচুনি এবং হরমোনের ভারসাম্যহীনতা। ওয়ারফারিন সোডিয়াম গ্রহণ করার আগে চিকিৎসককে চিকিৎসার অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া
অ্যালকোহল, নিকোটিন, মারিজুয়ানা এবং ক্যাফিনের মতো পদার্থগুলি ওয়ারফারিন সোডিয়ামের সাথে যোগাযোগ করতে পারে এবং অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট প্রভাবকে প্রভাবিত করতে পারে। ওয়ারফারিন সোডিয়াম গ্রহণ করার আগে কোন ওষুধ ব্যবহারের পরিকল্পনা সম্পর্কে চিকিৎসককে অবহিত করা গুরুত্বপূর্ণ। উপরন্তু, অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন, এবং নেপ্রোক্সেন থেকে এর মতো ওষুধগুলিও ওয়ারফারিন সোডিয়ামের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে এবং অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট প্রভাবকে পরিবর্তন করতে পারে। অতএব, ওয়ারফারিন সোডিয়াম গ্রহণ করার আগে যে কোনও ওষুধ ব্যবহারের পরিকল্পনা সম্পর্কে চিকিৎসককে অবহিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
খাদ্য মিথস্ক্রিয়া
ওয়ারফারিন সোডিয়াম কিছু খাবারের সাথে যোগাযোগ করতে পারে যেমন ক্র্যানবেরি জুস, রসুন, হলুদ, ভিটামিন কে এবং ই। এটি দুগ্ধজাত দ্রব্য, সবুজ শাকসবজি এবং লিভারের মতো কিছু মাংসের সাথেও যোগাযোগ করতে পারে। অতএব, Warfarin Sodium গ্রহণ করার আগে চিকিৎসককে যেকোনো খাদ্য পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
গর্ভাবস্থার ব্যবহার
গর্ভবতী এবং বুকের দুধ খাওয়ানো মহিলাদের উপর Warfarin Sodium থেকে এর প্রভাব পর্যাপ্তভাবে অধ্যয়ন করা হয়নি। এটি গর্ভাবস্থায় গ্রহণ করলে জন্মগত ত্রুটি হতে পারে। অতএব, গর্ভবতী বা গর্ভবতী হওয়ার পরিকল্পনা করলে Warfarin Sodium গ্রহণ করার আগে চিকিৎসককে জানানো গুরুত্বপূর্ণ।
স্তন্যদানকালে ব্যবহার
ওয়ারফারিন সোডিয়াম বুকের দুধ খাওয়ানো মহিলাদের দ্বারা নেওয়া উচিত নয়, কারণ এটি বুকের দুধের মধ্য দিয়ে যাবে এবং শিশুর ক্ষতি করতে পারে। অতএব, বুকের দুধ খাওয়ানো হলে Warfarin Sodium খাওয়ার আগে চিকিৎসককে জানানো জরুরি।
মাত্রাধিক্যতা
ওয়ারফারিন সোডিয়ামের একটি তীব্র মাত্রাতিরিক্ত মাত্রা গুরুতর রক্তপাত এবং বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা এবং শ্বাসকষ্টের মতো অন্যান্য উপসর্গের কারণ হতে পারে। Warfarin Sodium এর অতিরিক্ত মাত্রায় সন্দেহ হলে অবিলম্বে চিকিৎসা সহায়তা চাওয়া উচিত।
বিরোধীতা
Warfarin Sodium এর প্রতি পরিচিত অতি সংবেদনশীলতা, সক্রিয় রক্তপাত, গুরুতর হিপ্পোক্যাম্পাস, অনিয়ন্ত্রিত/আনসেন্সরড হাইপারটেনশন, তীব্র সংক্রমণ, পূর্ব থেকে বিদ্যমান লিভার ও কিডনি রোগ এবং গর্ভাবস্থায় এবং স্তন্যপান করানোর সময় ব্যবহার করা হয়।
ব্যবহারের দিকনির্দেশনা
ওয়ারফারিন সোডিয়াম চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করা উচিত। প্রস্তাবিত মাত্রা অতিক্রম করা বা এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। রক্তপ্রবাহে ওষুধের সুসংগত মাত্রা বজায় রাখার জন্য প্রতিদিন একই সময়ে ওয়ারফারিন সোডিয়াম গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
সংরক্ষণ
ওয়ারফারিন সোডিয়াম ট্যাবলেটগুলি একটি পরিবেষ্টিত তাপমাত্রায়, ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে এবং শিশু এবং পোষা প্রাণীর নাগালের বাইরে সংরক্ষণ করা উচিত।
বিস্তারের আয়তন
ওয়ারফারিন সোডিয়ামের বিস্তারের পরিমাণ প্রায় ০.১৭L/kg।
অর্ধ জীবন
ওয়ারফারিন সোডিয়ামের নির্মূল অর্ধ জীবন ৩২ থেকে ৩৮ ঘন্টা।
ক্লিয়ারেন্স
ওয়ারফারিন সোডিয়ামের ক্লিয়ারেন্স প্রায় ১২L/h।