নিডাজিল
নিডাজিল একটি অ্যান্টিবায়োটিক যা বিভিন্ন ধরণের ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি নির্দিষ্ট পরজীবী সংক্রমণের চিকিৎসার জন্যও ব্যবহার করা যেতে পারে। নিডাজিল ব্যাকটেরিয়া এবং কিছু পরজীবীর বৃদ্ধি বন্ধ করে কাজ করে। এটি বিস্তৃত অন্ত্রের, মুখের এবং বিপাকীয় সংক্রমণের বিরুদ্ধে কার্যকর।
নিডাজিল এর কাজ
নিডাজিল ব্যাকটেরিয়া এবং নির্দিষ্ট পরজীবী সংক্রমণের বিস্তৃত পরিসরের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে রয়েছে: ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজিনোসিস, ট্রাইকোমোনিয়াসিস, গিয়ার্ডিয়াসিস, ড্রাকুনকুলিয়াসিস, অ্যামেবিয়াসিস এবং কিছু অ্যানেরোবিক ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ যেমন পেলভিক ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ, ফোড়া এবং আন্তঃপেটের সংক্রমণ। এটি ক্লোস্ট্রিডিয়াম ডিফিসিল থেকে সম্পর্কিত ডায়রিয়া এবং সিউডোমেমব্রানাস কোলাইটিসের চিকিৎসার জন্যও ব্যবহার করা যেতে পারে।
কিভাবে কাজ করে
নিডাজিল ব্যাকটেরিয়া এবং কিছু পরজীবী জীবের বৃদ্ধি রোধ করে কাজ করে। এটি ডিএনএ থেকে তে কাজ করে, শরীরের জেনেটিক উপাদান যা কোষের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন এবং এনজাইম তৈরির নির্দেশনা বহন করে। এটা বিশ্বাস করা হয় যে নিডাজিল ডিএনএ প্রতিলিপিতে জড়িত একটি এনজাইমের ক্রিয়াকে অবরুদ্ধ করে কাজ করে, যার ফলে ব্যাকটেরিয়া এবং পরজীবী জীবের প্রতিলিপি প্রতিরোধ করে।
কাজ করতে কতক্ষণ সময় লাগে?
মেট্রোনিডাপানির প্রভাব সাধারণত সেবনের কয়েক ঘন্টার মধ্যে দেখা যায়। ওষুধের সম্পূর্ণ প্রভাব অনুভব করার আগে এটি সাধারণত কয়েক দিন থেকে সপ্তাহ সময় নেয়।
শোষণ
মৌখিক সেবনের পরে নিডাজিল দ্রুত এবং সম্পূর্ণরূপে শোষিত হয়। সর্বোচ্চ প্লাজমা ঘনত্ব এক থেকে দুই ঘন্টার মধ্যে পৌঁছে যায়।
নির্মূলের পথ
নিডাজিল দ্রুত বিপাক এবং অন্যান্য ভাঙ্গন পণ্য আকারে শরীর থেকে নির্মূল হয়। বিপাকগুলি প্রধানত প্রস্রাবে অপরিবর্তিতভাবে এবং অল্প পরিমাণে মলের মধ্যে নির্গত হয়। নিডাজিল হেপাটিক বিপাক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েও পরিচিত।
মাত্রা
ট্রাইকোমোনিয়াসিস (প্রাপ্তবয়স্ক এবং ১০ বৎসরের উপরের বাচ্চা) থেকে- ২০০ মিঃগ্রাঃ করে ৩ বার বা ৪০০ মিঃগ্রাঃ করে ২ বার। চিকিৎসার সময়কালঃ ৭ দিন
- ৮০০ মিঃগ্রাঃ করে প্রতিদিন সকালে এবং ১ থেকে ২ গ্রাম করে প্রতি রাতে। চিকিৎসার সময়কালঃ ২ দিন
- ২ গ্রাম, একক মাত্রা হিসেবে। চিকিৎসার সময়কালঃ ১ দিন
- ৭ থেকে ১০ বৎসরঃ ১০০ মিঃগ্রাঃ করে ৩ বার
- ৩ থেকে ৭ বৎসরঃ ১০০ মিঃগ্রাঃ করে ২ বার
- ১ থেকে ৩ বৎসরঃ ৫০ মিঃগ্রাঃ করে ৩ বার
- ৮০০ মিঃগ্রাঃ করে ৩ বার। চিকিৎসার সময়কালঃ ৫ দিন
- ৭ থেকে ১০ বৎসরঃ ৪০০ মিঃগ্রাঃ করে ৩ বার
- ৩ থেকে ৭ বৎসরঃ ২০০ মিঃগ্রাঃ করে ৪ বার
- ১ থেকে ৩ বৎসরঃ ২০০ মিঃগ্রাঃ করে ৩ বার
- ৪০০ থেকে ৮০০ মিঃগ্রাঃ করে ৩ বার। চিকিৎসার সময়কালঃ ৫ থেকে ১০ দিন
- ৭ থেকে ১০ বৎসরঃ ২০০ থেকে ৪০০ মিঃগ্রাঃ করে ৩ বার
- ৩ থেকে ৭ বৎসরঃ ১০০ থেকে ২০০ মিঃগ্রাঃ করে ৪ বার
- ১ থেকে ৩ বৎসরঃ ১০০ থেকে ২০০ মিঃগ্রাঃ করে ৩ বার
- দৈনিক ২ গ্রাম করে ১ বার। চিকিৎসার সময়কালঃ ৩ দিন
- ৭ থেকে ১০ বৎসরঃ ১ গ্রাম করে ১ বার
- ৩ থেকে ৭ বৎসরঃ ৬০০ থেকে ৮০০ মিঃগ্রাঃ করে ১ বার
- ১ থেকে ৩ বৎসরঃ ৫০০ মিঃগ্রাঃ করে ১ বার
- ২০০ মিঃগ্রাঃ করে ৩ বার। চিকিৎসার সময়কালঃ ৩ দিন
- ৭ থেকে ১০ বৎসরঃ ১০০ মিঃগ্রাঃ করে ৩ বার
- ৩ থেকে ৭ বৎসরঃ ১০০ মিঃগ্রাঃ করে ২ বার
- ১ থেকে ৩ বৎসরঃ ৫০ মিঃগ্রাঃ করে ৩ বার
- ২০০ মিঃগ্রাঃ করে ৩ বার। চিকিৎসার সময়কালঃ ৩ থেকে ৭ দিন
- ৪০০ মিঃগ্রাঃ করে ২ বার। চিকিৎসার সময়কালঃ ৭ দিন
- ২ গ্রাম, একক মাত্রা হিসেবে। চিকিৎসার সময়কালঃ ১ দিন
- ৪০০ মিঃগ্রাঃ করে ৩ বার। চিকিৎসার সময়কালঃ ৭ দিন
- প্রারম্ভিক অবস্থায় ৮০০ মিঃগ্রাঃ এবং পরবর্তীতে ৪০০ মিঃগ্রাঃ করে দিনে ৩ বার। চিকিৎসার সময়কালঃ ৭ দিন
- ১ থেকে ১০ বৎসরঃ ৭.৫ মিঃগ্রাঃ/কেজি করে ৩ বার
- সার্জারির ২৪ ঘন্টা পূর্বে ৪০০ মিঃগ্রাঃ করে দিনে ৩ বার। চিকিৎসার সময়কালঃ ৭ দিন
- ১ থেকে ১০ বৎসরঃ ৭.৫ মিঃগ্রাঃ/কেজি করে ৩ বার
নিডাজিল একটি ওরাল ট্যাবলেট, টপিকাল জেল এবং ইন্ট্রাভেনাস (IV) আধান হিসাবে পাওয়া যায়। গুরুতর ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের জন্য মেট্রোনিডাপানির সাধারণ প্রাপ্তবয়স্ক মাত্রা ৭ থেকে ১০ দিনের জন্য প্রতি ৮ ঘণ্টায় ৫০০ মিলিগ্রাম।
সেবনবিধি
নিডাজিল খাবারের সাথে বা খাবার ছাড়া মৌখিকভাবে নেওয়া যেতে পারে। এটি সাধারণত দিনে দুবার খাবার বা স্ন্যাকসের সাথে নেওয়া হয়। বর্ধিত থেকে রিলিজ ট্যাবলেটগুলি খাবারের সাথে গ্রহণ করা উচিত। নিডাজিল ইন্ট্রাভেনাস (IV) ইনফিউশন বা ইনজেকশন দ্বারাও দেওয়া যেতে পারে। এটি ২ থেকে ৫ মিনিটের মধ্যে ধীরে ধীরে পরিচালনা করা উচিত।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
মেট্রোনিডাপানির সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হল বমি বমি ভাব, বমি, মাথাব্যথা, ধাতব স্বাদ, পেটে ব্যথা এবং ডায়রিয়া। অন্যান্য বিরল কিন্তু সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলির মধ্যে রয়েছে ত্বকের ফুসকুড়ি, ভার্টিগো, ঝাপসা দৃষ্টি, উদ্বেগ, অস্থিরতা, মাথা ঘোরা এবং বিভ্রান্তি।
বিষাক্ততা
নিডাজিল ভারী ধাতুর উপস্থিতিতে অত্যন্ত বিষাক্ত। কিডনি বা লিভারের রোগের ইতিহাস সহ রোগীদের ক্ষেত্রে এটি সতর্কতার সাথে এবং শুধুমাত্র একজন চিকিৎসকের নির্দেশনার সাথে ব্যবহার করা উচিত।
সতর্কতা
নিডাজিল রক্তের ব্যাধি, কিডনি বা লিভারের রোগ এবং অ্যালকোহল অপব্যবহারের ইতিহাস সহ রোগীদের সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত। এটি গর্ভবতী মহিলাদের বা নার্সিং মায়েদের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা উচিত নয়। সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার জন্য রোগীদের পর্যবেক্ষণ করা উচিত এবং যদি কিছু ঘটে থাকে তবে তাদের চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করার নির্দেশ দেওয়া উচিত।
মিথস্ক্রিয়া
নিডাজিল ওয়ারফারিন থেকে এর মতো অ্যান্টিকোয়াগুলেন্ট গ্রহণকারী রোগীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ এটি রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এছাড়াও, ক্যাফেইন, অ্যালকোহল, লিথিয়াম, ফেনাইটোইন, কার্বামাজেপাইন এবং কিছু অ্যান্টিবায়োটিক যেমন ক্লোরামফেনিকল এবং সিপ্রোফ্লক্সাসিনও মেট্রোনিডাপানির সাথে যোগাযোগ করতে পারে এবং এই ওষুধগুলি একসাথে নেওয়া হলে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
রোগ মিথস্ক্রিয়া
নিডাজিল যকৃতের রোগ, ক্রোনের রোগ এবং তন্দ্রার ইতিহাস সহ রোগীদের সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত। এটি কিডনি বা লিভারের রোগের ইতিহাস সহ রোগীদের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা উচিত নয়।
ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া
নিডাজিল অন্যান্য অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এজেন্ট যেমন এরিথ্রোমাইসিন বা ক্ল্যারিথ্রোমাইসিনের সাথে সংমিশ্রণে ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ সংমিশ্রণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলির ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে। উপরন্তু, এটি ওয়ারফারিনের মতো অ্যান্টিকোয়াগুলেন্টগুলির সাথে একত্রে ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ এটি রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। মেট্রোনিডাপানির সাথে যোগাযোগ করতে পারে এমন অন্যান্য ওষুধের মধ্যে রয়েছে লিথিয়াম, ফেনিটোইন, ক্যাফেইন, অ্যালকোহল, কার্বামাজেপাইন এবং কিছু অ্যান্টিবায়োটিক যেমন ক্লোরামফেনিকল এবং সিপ্রোফ্লক্সাসিন।
খাদ্য মিথস্ক্রিয়া
গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি কমাতে নিডাজিল খাবার বা নাস্তার সাথে নেওয়া উচিত। অ্যালকোহল বা অন্যান্য ওষুধের সাথে একত্রে ওষুধ গ্রহণ করলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
গর্ভাবস্থার ব্যবহার
টেরাটোজেনিসিটি বা ভ্রূণের বিকৃতির সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণে গর্ভবতী মহিলাদের মধ্যে নিডাজিল এড়ানো উচিত। এই জনসংখ্যার নিরাপত্তা তথ্যের অভাবের কারণে স্তন্যপান করানো মহিলাদের ক্ষেত্রেও এটি এড়ানো উচিত।
স্তন্যদানকালে ব্যবহার
এই জনসংখ্যার নিরাপত্তা তথ্যের অভাবের কারণে স্তন্যপান করানো রোগীদের ক্ষেত্রে নিডাজিল ব্যবহার করা উচিত নয়।
মাত্রাধিক্যতা
মেট্রোনিডাপানির একটি মাত্রাধিক্যতা বমি বমি ভাব, বমি, পেটে ব্যথা, কোমা এবং খিঁচুনি হতে পারে। অতিরিক্ত মাত্রার চিকিৎসা সহায়ক এবং লক্ষণীয়। কাঠকয়লা কোন অবশিষ্ট ঔষধ শোষণ করতে ব্যবহার করা যেতে পারে।
বিরোধীতা
নিডাজিল (মেট্রনিডেজল) ওষুধের প্রতি পরিচিত অতি সংবেদনশীলতা রোগীদের জন্য প্রতিলক্ষণ। এটি গর্ভবতী মহিলাদের বা নার্সিং মায়েদের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা উচিত নয়।
ব্যবহারের দিকনির্দেশনা
নিডাজিল একজন চিকিৎসকের নির্দেশ অনুসারে নেওয়া উচিত। রোগীদের উচিত ঠিক যেভাবে ওষুধ সেবন করা উচিত এবং নির্ধারিত সময়ের জন্য এটি গ্রহণ করা চালিয়ে যাওয়া উচিত। মাত্রা মিস না করা বা তাড়াতাড়ি ওষুধ খাওয়া বন্ধ করা গুরুত্বপূর্ণ।
সংরক্ষণ
নিডাজিল ঘরের তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা উচিত, সরাসরি আলো এবং আর্দ্রতা থেকে দূরে। রোগীদের ওষুধটি একটি নিরাপদ, শুষ্ক জায়গায় রাখা উচিত যেখানে শিশু এবং পোষা প্রাণী এটি অ্যাক্সেস করতে পারে না।
বিস্তারের ভলিউম
মেট্রোনিডাপানির প্রচুর পরিমাণে বিস্তার রয়েছে এবং এটি লালা, থুতু, প্রস্রাব, পিত্ত এবং মলে সনাক্ত করা হয়েছে।
অর্ধ জীবন
মেট্রোনিডাপানির নির্মূল অর্ধ জীবন সুস্থ ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৮ ঘন্টা।
ক্লিয়ারেন্স
নিডাজিল প্রাথমিকভাবে হেপাটিক বিপাকের মাধ্যমে নির্মূল হয়, তারপরে পিত্তরস নিঃসরণ হয়। এটি অক্সিডেশন এবং হাইড্রোলাইসিসের মতো অ থেকে এনজাইমেটিক পথের মাধ্যমেও বিপাকিত হয়।