user-avatar

sohelmahmud

◯ sohelmahmud

প্রিয় ভাই! আপনার এই প্রশ্নই আপনার গুনাহ ভীতির প্রমাণ। আপনি কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। এবং এমন পাপ আর যেন না হয় সেজ্ন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হোন। মহান আল্লাহ আপনাকে তাওফীক দান করুন। আমীন। 

যাহোক আপনার প্রশ্নের উত্তর হলো- আপনি উক্ত মোবাইল ফোন নিয়ে মসজিদে যেতে পারবেন। আর হ্যাঁ, কুরআন তেলাওয়াত অবশ্যই শুনতে পারবেন। কারণ পর্ণ ছবির পরিবর্তে এখন তো বেশি বেশি কুরআন শুনা ও তেলাওয়াত করাই কাম্য। তাই কোন সমস্যা নাই।

স্বাধীনতার গান

একাত্তরের কালো রাতের বুলেটের আঘাত

ক্ষত করেছে কত মায়ের কোল কত বোনের হাত।

বেয়নটের আঘাতে আহত হয়েছে আমার ভাই

আমার কত বোন দিয়েছে প্রাণ তার ইয়োত্তা নাই।

স্বাধিনতা তবু তুমি আমার প্রিয় সুঘ্রাণ

তোমার জন্য যদিও ঝরেছে লক্ষ তাজা প্রাণ।

স্বাধীনতা তুমি আমার গর্ব; তুমি আমার অহংকার

তোমাই আমি করবো স্মরণ পুরো জীবনভর।

এটি ফারসী শব্দ।

ইসলামী শরীয়তে এ ধরনের কোন দুআ নেই। তবে বিপদে পড়লে নামায ও দুআর মাধ্যমে দুআ করার কথা কুরআনে বলা হয়েছে। তাছাড়া আপনি ইয়া শাফিয়াল আমরায ইশফি মারযানা ওয়া মারযাল মুসলিমীন পড়তে পারেন। ধন্যবাদ।

ইসলামী শরীয়তে এ ধরনের কোন দুআ নেই। তবে বিপদে পড়লে নামায ও দুআর মাধ্যমে দুআ করার কথা কুরআনে বলা হয়েছে। তাছাড়া আপনি ইয়া শাফিয়াল আমরায ইশফি মারযানা ওয়া মারযাল মুসলিমীন পড়তে পারেন। ধন্যবাদ।

মেসওয়াক ব্যবহারের ইহকালীন-পরকালীন উপকারীতাসমূত: 

হাদীসে এসেছে। নবী সা. ইরশাদ করেন, মেসওয়াক মুখের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মাধ্যম ও আল্লাহর সন্তুষ্টির উপায়। -নাসায়ী শরীফ, হাদীস নং ৫

আরো কিছু উপকারীতা-
১) মিসওয়াক করার মধ্যমে আল্লাহর রিজামন্দি হাসিল হয়।
২) দারিদ্র্যতা দূর হয়ে।
৩) সচ্ছলতা আসে এবং উপার্জন বাড়ে।
৪) পাকস্থলী ঠিক থাকে।
৫) শরীর শক্তিশালী হয়। 
৬) স্মরণশক্তি ও জ্ঞান বাড়ে। ৭) অন্তর পবিত্র হয়।
৮) সৌন্দর্য বাড়ে।
 ৯) ফিরিশতা তার সঙ্গে মুসাফাহা করেন।
 ১০) নামাজে বের হলে সম্মান করেন, নামাজ আদায় করে বের হলে আরশ বহনকারী ফিরিশতারা তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
১১) শয়তান অসন্তুষ্ট হয়। 
১২) ফুলসিরাত বিজলীর ন্যায় দ্রুত পার হবেন  
১৩) ডান হাতে আমলনামা পাবে।
১৪) ইবাদতে শক্তি পাবে। 
১৫) মৃত্যুর সময় কালিমা নসিব হবে।
১৬) জান্নাতের দরজা খুলে দেয়া হবে।
১৭) জাহান্নামের দরজা বন্ধ করা দেয়া হবে। 
১৮) পূত-পবিত্র হয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিবে।
১৯) দাঁতের মাড়ি শক্ত হয়।
২০) মুখের দুরগন্ধ দূর হয় ইত্যাদি।

হ্যাঁ আপনার এ কাজ পাপ বলে বিবেচিত হবে। কারণ কারো অনুমতি ব্যতীত কারো সম্পদ ব্যবহার করা ইসলামী শরীয়ত মতে হারাম। হাদীসে এসেছে, কারো সম্পদ তার অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার বৈদ নয়।”

চাই এতে যার সম্পদ ব্যবহার করা হচ্ছে ক্ষতি কম হোক বা বেশি হোক। আশা করি বোঝেছেন। ধন্যবাদ।

ইসলামে কোন পর নারী-পুরুষের এমন আচারণ সম্পূর্ণ হারাম। কারণ পবিত্র ইসলামে কোন বিবাহ বন্ধন ছাড়া এ ধরনের বিষয় বৈধভাবে সম্পাদন করার কোন উপায় নেই। ধন্যবাদ।

এসেম নামের অর্থ হলো- নাম

সিজ্জিন শব্দটির অর্থ হলো- অনন্ত, তীব্র, গর্ত, নথি, খাতা ইত্যাদি।

তাব্বাত এটির অর্থ হলো- মেয়েটি ধ্বংস প্রাপ্ত হোক। ধন্যাবাদ।

মারূফ শব্দটির অর্থ হলো- পরিচিত। ধন্যবাদ।

শায়খা এটি শায়খুন আরবী শব্দের স্ত্রী লিংগ যার অর্থ হলো- বৃদ্ধা। ধন্যবাদ।

যাকিয়া শব্দটির অর্থ হলো- মেধাবিনী।

জান্নাতুল ফেরদাউস অর্থ- স্বর্গের উদ্যান। ধন্যবাদ।

মুহাম্মদের বাংলা অর্থ- প্রশংসিত। ধন্যবাদ।

ইসলামী শরীয়তে রাসূল সা. এর আনুগত্যের পাশাপাশি সাহাবায়ে কেরামের আনুগত্যও বিধিত। অর্থাৎ তাদেরও অনুসরণ করা যায়।এ কারণে জুমার নামাযের দ্বিতীয় আজান দেওয়া প্রচলন রাসূল যুগে না থাকলেও উসমান গনী রা. এর যামানা থেকে এর উপর আমল চলে আসছে। এবং সে যামানায় থাকা কোন সাহাবী তার বিরোধীতা করেন নি। হাদীসে এসেছে-সায়েব বিন ইয়াযীদ রা. বলেন, জুমার দিন রাসূল সা., আবু বকর ও উমর রা. এর যুগে যখন ইমাম মিম্বরে বসতেন তখন প্রথম আযান দেওয়া হত৷ অতঃপর যখন মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল তখন উসমান রা. যাওরাত(বাজারের এলাকায়) দ্বিতীয় আযান বৃদ্ধি করেন। -সহীহ বুখারী, হা. নং ৯১২, সুনানে তিরিমিযি, হা. নং ৫১৬। 

আশা করি উত্তর পেয়েছেন। ধন্যবাদ।

প্রেম করা না জায়েয এটা আপনি নিজেও জানেন। সাথে সাথে একথা জানুন যে, অন্যায় কাজে কারো আনুগত্য করাও হারাম। তাই মেয়েটির মন ভাঙ্গবে সে জন্যে তার মন রক্ষার্থে তার প্রপোজ রক্ষা করা আপনার জন্য হারাম। হাদীসে এসেছে। রাসূল সা. ইরশাদ করেন, স্রষ্টার অবাধ্যতা করে কারো আনুগত্য করা বৈধ নয়। তাই মেয়েটির মন ভাঙ্গলে আপনার কোন গুনাহ হবে না। বরং দুটি মানুষ গুনাহগার হওয়া থেকে বেঁচে যাবে। ধন্যবাদ।

কাবলার জুমা ও বা’দাল জুমা চার রাকাত নামাজ আদায় করতে হয়। নিম্মে এ নিয়ে আলোচনা করা হলো-

(ক) কাবলাল জুমআ‘:মূলত হাদীস ও আছার সামনে রাখলে বোঝা যায়, জুমআ’র আগের সুন্নাত বা কাবলাল জুমআ’ নামায দুই প্রকারের :

এক. সুন্নাতে যায়িদাহ বা নফল, যার যত রাকাত ইচ্ছা পড়তে পারে। যেমন, সালমান ফারসী (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- কোনো পুরুষ যখন জুমআ’র দিন গোসল করে, সাধ্যমত পবিত্রতা অর্জন করে, তেল ব্যবহার করে বা ঘরে যে সুগন্ধি আছে তা ব্যবহার করে, এরপর (জুমআ’র  জন্য) বের হয় এবং (বসার জন্য) দুই জনকে আলাদা করে না, এরপর তাওফীক মতো নামায পড়ে এবং ইমাম যখন কথা বলে তখন চুপ থাকে, তাহলে অন্য জুমআ’ পর্যন্ত তার (গুনাহ) মাফ করা হয়।(সহীহ বুখারী, হাদীস : ৮৮৩; মুসনাদে আহমদ ৮/৪৩ (২৩৭১০); সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস : ২৭৭৬)

দুই. সুন্নতে মুআক্কাদাহ, যার রাকাত-সংখ্যা (চার রাকাত এক সালামে) নির্ধারিত। হাদীস, আছার ও সাহাবায়ে কেরামের আমল দ্বারা এটি প্রমাণিত। যেমন-১.হযরত আবু আইয়ুব আনসারী (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য হেলে যাওয়ার পর চার রাকাত নামায পড়তেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এটা কিসের নামায, যা আপনি নিয়মিত পড়েন? তিনি বললেন, এটি এমন একটি সময়, যখন আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়। আর আমি পছন্দ করি, যেন এ সময় আমার কোনো নেক আমল উপরে ওঠে। তখন আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এর প্রতি রাকাতে কি সূরা মিলাতে হবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলাম, এই নামায কি এক সালামে না দুই সালামে? তিনি উত্তর দিলেন, এক সালামে। (তিরমিযী ১/৭৭; আবু দাউদ ১/১৮০)

ইমাম তিরমিযী (রাহ.) হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।এই হাদীস থেকে জানা গেল, সূর্য ঢলার পর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা (কোনো দিন বাদ দেওয়া ছাড়া) চার রাকাত পড়তেন। জুমআ’র দিনসহ সপ্তাহের সকল দিন এই হাদীসের আওতাভুক্ত। নতুবা সর্বদা পড়া হয় না। তাছাড়া এ চার রাকাতের যে কারণ বর্ণনা করা হয়েছে তা জুমআ’র দিনেও রয়েছে।

২.সহীহ সনদে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত আছে যে,  তিনি জুমআর নামাযের আগে চার রাকাত নামায পড়তেন। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৩/২৪৭; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৪/১১৪)

৩.আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) শুধু নিজে চার রাকাত পড়তেন  এমন নয়, তিনি অন্যদেরও চার রাকাত কাবলাল জুমআ’ পড়ার আদেশ দিতেন। তাঁর বিশিষ্ট শাগরিদ আবু আব্দুর রহমান আসসুলামী রাহ.-এর বর্ণনা : আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) আমাদেরকে জুমআ’র আগে চার রাকাত এবং জুমআ’র পরে চার রাকাত পড়ার আদেশ করতেন। পরে যখন আলী রা. আগমন করলেন তখন তিনি আমাদেরকে জুমআ’র পরে প্রথমে দুই রাকাত এরপর চার রাকাত পড়ার আদেশ করেন।(মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক খন্ড ৩, পৃ. ২৪৭)

নফল নামাযের বিষয়ে উৎসাহ দেওয়া যায়, আদেশ দেওয়া যায় না। আদেশ করার অর্থ, এই নামায অন্তত সুন্নতে মুয়াক্কাদা, যেমন পরের চার রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদাহ।

এ বর্ণনার সনদ সহীহ ও মুত্তাছিল। এই বর্ণনায় লক্ষণীয় বিষয় এই যে, খলীফায়ে রাশিদ আলী ইবনে আবী তালিব (রা.) যখন কুফায় এসে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর শিক্ষা দেখলেন এবং তাঁর আদেশ সম্পর্কে অবগত হলেন তখন তিনি কাবলাল জুমআ’র বিষয়ে কোনো পরিবর্তন করেননি, শুধু বা’দাল জুমা চার রাকাতের সাথে আরো দুই রাকাত যোগ করার আদেশ করেছেন। ফলে পরবর্তী সময়ে ইমাম আবু ইউসুফ (রাহ.)সহ আরো অনেক ইমামের নিকটে, জুমআ’র পরের সুন্নত সর্বমোট ছয় রাকাত। এ থেকেও প্রমাণিত হয় খলীফায়ে রাশিদ আলী ইবনে আবী তালিব (রা.)-এর নিকটেও কাবলাল জুমআ’র সুন্নত চার রাকাত।

৪. জাবালা ইবনে সুহাইম রাহ. সহীহ সনদে আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা. ) থেকে বর্ণনা করেন,  ‘তিনি জুমআ’র আগে চার রাকাত পড়তেন। মাঝে সালাম ফেরাতেন না।’ (শরহু মাআনিল আছার, তহাবী পৃ. ১৬৪-১৬৫ আছারুস সুনান পৃ. ৩০২ফাতহুল বারী৫/৫৩৯)আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. জুমআ’র আগে দীর্ঘসময় নামায পড়তেন। কিন্তু উপরের বর্ণনায় চার রাকাতকে আলাদা করে এজন্যই উল্লেখ করা হয়েছে যে, তা সুন্নতে মুআক্কাদাহ।

৫.খাইরুল কুরূনে সাহাবা-তাবেয়ীনের সাধারণ আমল এটিই ছিল। তাবেয়ী আমর ইবনে সায়ীদ ইবনুল আস রাহ. (৭০হি.) বলেন, ‘আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণকে দেখতাম, জুমআ’র দিন সূর্য যখন ঢলে যেত তখন তাঁরা দাড়িয়ে যেতেন এবং চার রাকাত পড়তেন।’

সাহাবা-তাবেয়ীনের এই সাধারণ কর্মধারা প্রমাণ করে, জুমআ’র আগে নফল নামাযের রাকাত-সংখ্যা যদিও নির্ধারিত নয়, প্রত্যেকে নিজ নিজ ইচ্ছা ও অভিরুচি অনুযায়ী পড়বে। তবে এসময় চার রাকাত নামাযের বিশেষ গুরুত্ব ছিল। আর তা পড়া হত সূর্য ঢলে যাওয়ার পর দ্বিতীয় আযানের আগে।

আর আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-এর ঐ চার রাকাতের আদেশ দেওয়া এবং খলীফায়ে রাশেদের তাঁর সাথে একমত থাকা, বলাই বাহুল্য, নিছক ইজতিহাদের ভিত্তিতে হতে পারে না। এ কারণে তাঁর এই হুকুম ‘‘মারফূ হুকমী’’ হাদীসের অন্তর্ভুক্ত।যারা দাবি করেন কোনো হাদীসেই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জুমআ’র আগে নামায পড়া প্রমাণিত নয়-না ঘরে, না মসজিদে, তাদের দাবি সত্য নয়। যদি তা সত্যও হত তবুও উপরোক্ত আছর, সাহাবা-তাবেয়ীনের ব্যাপক রীতি এবং উপরে উল্লেখিত ‘মারফূ হুকমী’ একথা প্রমাণে যথেষ্ট হত যে, জুমআ’র আগে চার রাকাত সুন্নতে রাতিবা (মুআক্কাদাহ) রয়েছে।

ইমাম ইবনে রজব রাহ. লিখেছেন, ‘এ বিষয়ে ইজমা আছে যে, জুমআ’র আগে সূর্য ঢলার পর নামায পড়া একটি উত্তম আমল।’ মতপার্থক্য শুধু এখানে যে, ঐ নামায জোহরের আগের সুন্নতের মতো সুন্নতে রাতিবা, না আসরের আগের নামাযের মতো মুস্তাহাব। অধিকাংশ ইমামের মতে তা সুন্নতে রাতিবা (মুআক্কাদাহ)। আওযায়ী, সুফিয়ান ছাওরী, আবু হানীফা ও তাঁর সঙ্গীদের সিদ্ধান্ত এটাই। ইমাম আহমদ রাহ.-এর বক্তব্য থেকেও তা-ই প্রকাশিত। তবে শাফেয়ী মাযহাবের পরবর্তী অনেক ফকীহ বলেছেন, তা মুস্তাহাব, সুন্নতে রাতিবা নয়।(ফাতহুল বারী, ইবনে রজব, খ. ৫, পৃ. ৫৪১, ৫৪২-৫৪৩)

(খ) বা‘দাল জুমআ‘: বা’দাল জুমআ’ বা জুমআ’র পরের  চার রাকাত সুন্নাতে মুআক্কাদাহ। পরের চার রাকাত সুন্নতের সঙ্গে আরও দুই রাকাত নামাজ পড়া উত্তম।

১.আবূ হুরায়রা (রা.) বলেছেন,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- ”তোমাদের কেউ যখন জুমআ’ (ফরজ) পড়ে তখন সে যেন ‘বা’দাল জুমআ’ চার রাকাত পড়ে নেয়।” সুহায়ল (রাহ.) বলেন, ত্বরা থাকলে মসজিদে দুই রাকাত, ঘরে ফিরে দুই রাকাত পড়ো।(মুসলিম শরীফ, হাদীস নং ৮৮১)

২.আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)এর বিশিষ্ট শাগরিদ আবু আব্দুর রহমান আসসুলামী রাহ.-এর বর্ণনা : আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) আমাদেরকে জুমআ’র আগে চার রাকাত এবং জুমআ’র পরে চার রাকাত পড়ার আদেশ করতেন। পরে যখন আলী রা. আগমন করলেন তখন তিনি আমাদেরকে জুমআ’র পরে প্রথমে দুই রাকাত এরপর চার রাকাত পড়ার আদেশ করেন।(মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক খন্ড ৩, পৃ. ২৪৭)

৩. হযরত ইবনে উমর (রা.) সম্পর্কে আতা (রহ.) বলেছেন, তিনি যখন মক্কা শরীফে অবস্থান করতেন এবং জুমআ’র নামায পড়তেন, তখন সামনে অগ্রসর হয়ে দুই রাকাত পড়তেন, এরপর আরেকটু অগ্রসর হয়ে চার রাকাত পড়তেন। আর যখন মদীনা শরীফে জুমআ আদায় করতেন তখন ঘরে ফিরে গিয়ে দুই রাকাত পড়তেন। মসজিদে পড়তেননা। তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  এমনই করতেন।(আবূ দাউদ শরীফ, হাদীস নং ১১৩০; আল্লামা ইরাকী বলেছেন, এর সনদ সহীহ)

৪. আতা (রহ.) বলেন,  তিনি হযরত ইবনে উমর রা.কে দেখেছেন, তিনি জুমআর নামাযের পর মুসল্লা থেকে একটু সরে গিয়ে দুই রাকাত পড়লেন। এরপর আরেকটু সরে চার রাকাত পড়লেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি আতা র.কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি হযরত ইবনে উমর রা. কে কতবার এমন করতে দেখেছেন? তিনি বললেন, অনেকবার।(আবূ দাউদ শরীফ, হাদীস নং ১১৩৩)
৫.ইবরাহীম নাখায়ী (রহ.) বলেন,  ”সাহাবায়ে কেরাম কাবলাল জুমআ চার রাকাত, বা’দাল জুমআ চার রাকাত পড়তেন।”
(মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং  ৫৪০৫,৫৪২২)

এজন্যই হাফেজ ইবনে তায়মিয়া (রহ.) বলেছেন, ”নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  থেকে সহীহ সনদে এসেছে, তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি বা’দাল জুমআ পড়বে, সে যেন চার রাকাত পড়ে। আর অনেক সাহাবী  থেকে ছয় রাকাতের কথাও বর্ণিত রয়েছে।”

কোন ব্যক্তি মৃত্যু বরণকালে তার অবৈধভাবে কামান সম্পদ রেখে গেলে তার উত্তরাধিকারীগণের জন্য যা করণীয় সে সম্পর্কে নিচে আলোকপাত করা হলো-

অবৈদ সম্পদ দু ধরনের-

এক. ইসলামী শরীয়ত কর্তৃক অবৈধ তবে তা  দাতার সন্তুষ্টি চিত্তে নেয়া হয়েছে। যেমন: নাচ, গান ইত্যাদির মাধ্যমে অর্জিত উপার্জন।

দুই. ইসলামী শরীয়ত কর্তৃক অবৈধ এবং তার দাতারও সন্তুষ্টি নেই। বরং অন্যায়ভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। যেমন: চুরি-ডাকাতির মাধ্যমে অর্জিত কামায়।

প্রথম প্রকার সম্পদের বিধান হলো- সেগুলো সাওয়াবের নিয়ত করা ব্যতীত কোন জাকাত ভোগে সক্ষম ব্যক্তিকে সদকা করে দিতে হবে।

দ্বিতীয় প্রকার সম্পদের বিধান হলো- সেগুলো মূল মালিকের কাছে, মূল মালিক না পাওয়া গেলে তা উত্তরাধিকারীগণের নিকট পৌঁছে দিতে হবে। যদি এটি সম্ভবপর না হয়। তাহলে মূল মালিকের নামে সদকা করে দিতে হবে।

উল্লেখ্য,  ইসলামে হালাল কামায় রুজগার এবং হালাল সম্পদের গুরত্ব অপরিসীম। বান্দার জান্নাত লাভ, ইহকালীন ও পরকালীন শান্তি অনেকাংশে এর উপর নির্ভরশীল। হাসীস শরীফে এসেছে। নবী সা. ইরশাদ করেন, হারাম সম্পদ দ্বারা প্রতি পালিত শরীর জান্নাতে প্রবেশ করবে না। অন্য হাদীসে আছে, বান্দার দুআও  হারাম ভক্ষণের কারণে তথা হারাম সম্পদের কারণে আটকে যায়, কবূল হয় না। তাছাড়া বান্দার হক অনেক বড় মারত্মক বিষয়। কারণ  হক সম্পর্কীত পাপের ক্ষমা এক মাত্র বান্দার সাথে সম্পৃক্ত।  তা ক্ষমা করা বা না করার পূর্ণি এখতিয়ার বান্দার উপর ন্যাস্ত। তাই যত দ্রুত সম্ভব আপনি উক্ত সম্প ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। মহান আল্লাহ আপনার জন্য সৎকাজে উত্তম সহায়ক হয়ে যান। আমীন।

সূত্র: ফাতাওয়া শামী: ৭/৩০১, বজলূল মাজহুদ: ১/৩৭,  শরহু ফিকহিল আকবার: ১৯৪, ফাতাওয়া আলমগীরী: ৫/৩৪৯, আল-মুহিতুল বুরহানী: ৮/৬৩, আল-বহরুর রায়েক: ৮/১১৪, মাজমাউল আনহুর: ৪/৮২-৮৩, রদ্দুল মুহতার: ২/২৯১, ৭/৪৯০, মালে হারাম: ২১৬।