আমার নানার দুই স্ত্রী ও পাচঁ জন মেয়ে আছে। এখন ২য় স্ত্রীর দুই মেয়ে আমার নানা থেকে হেবা নিয়ে নিছে। কিন্তু আমার নানা হেবা দিতে রাজি ছিল না জোর করে হেবা নিছে, এখন নানাকে ওদের বাড়ি থেকে বের হতে দিচ্ছে না, এখন কি করলে হেবা বাতিল করতে পারবো।
3317 views

2 Answers

দখল হস্তান্তরে পূর্বেই কেবল হেবা দলিল বাতিল করা যায়।


নিম্নলিখিত ক্ষেত্রগুলো বিদ্যমান

থাকিলে, হেবা দলিল বাতিল

করা যায় না।

(১)হেবাকৃত সম্পত্তির দাতা-

গ্রহীতা স্বামী বা স্ত্রী হইলে,

(২)গ্রহীতা মৃত্যূবরণ করিলে,

(৩)দাতা-গ্রহীতার মধ্যে বিবাহ

অযোগ্য সম্পর্ক বিদ্যমান থাকিলে,

(৪)হেবাকৃত সম্পত্তি গ্রতীতা কর্তৃক

বিক্রি বা হস্তান্তরিত হয়ে গেলে,

(৫)হেবাকৃত সম্পত্তি বিলীন বা ধ্বংস

হয়ে গেলে,

(৬)হেবাকৃত সম্পত্তির মূল্য

বেড়ে গেলে,

(৭)হেবাকৃত সম্পত্তির প্রকৃতি সম্পূর্ণ

পরিবর্তন হয়ে গেলে,

(৮)হেবা'টি 'হেবা বিল

এওয়াজ' (বিনিময়ে দান)

হয়ে থাকিলে হেবা দলিল বাতিল

করা যায় না।

উল্লেখিত ক্ষেত্র গুলো বিদ্যমান

না থাকিলে আদালতের মাধ্যমেও

হেবা দলিল বাতিল করা যায়।
3317 views

হেবা অর্থ দান, উপহার। অতএব হেবাকে তখনই হেবা বলা হবে যখন তা স্বইচ্ছায় দান করা হয়,অতএব যদি কেউ স্বইচ্ছায় দান  না করে তবে তা দানই হবেনা,( যেমন আপনার দাদার ঘটনা) সুতরাং এখন তিনি চাইলে তার বস্তুটি জোরপূর্বক বা আদালতের মাধ্যমে ফিরত  আনতে পারবেন।

 আর স্বইচ্ছায় দান   করলে তা ফেরত নেওয়ার ক্ষেত্রে  ইমাম শাফেয়ী, আহমদ ও মালিকের মত হলো শুধু পিতা কর্তৃক তার পুত্রকে দান করা বস্তুু পুত্রের নিকট থেকে ফিরত নিতে পারবে, এছাড়া অন্য কারো নিকট থেকে দান ফিরত নিতে পারবেনা।  

পক্ষান্তরে ইমাম আবু হানিফার মতে নিমোক্ত সাতটি বিষয় থাকলে দান ফিরত নেওয়া যাবেনা। যথাঃ

(১)হেবাকৃত সম্পত্তির দাতা- 
গ্রহীতা স্বামী বা স্ত্রী হইলে, 
(২)গ্রহীতা মৃত্যূবরণ করিলে, 
(৩)দাতা-গ্রহীতার মধ্যে নিকট আত্মীয়তার 
 সম্পর্ক বিদ্যমান থাকিলে, 
(৪)হেবাকৃত সম্পত্তি গ্রতীতা কর্তৃক 
বিক্রি বা হস্তান্তরিত হয়ে গেলে, 
(৫)হেবাকৃত সম্পত্তি বিলীন বা ধ্বংস 
হয়ে গেলে,

(৬)হেবাকৃত সম্পত্তির প্রকৃতি সম্পূর্ণ 
পরিবর্তন হয়ে গেলে, 
(৭)হেবা'টি 'হেবা বিল 
এওয়াজ' (বিনিময় দিয়ে দেওয়া হলে ) 
হয়ে থাকিলে। 

অতএব  উপরোক্ত বিষয়গুলো না থাকলে দানকারীতার দান বিচারকের মাধ্যমে বা দানগ্রহণকারীর সন্তুষ্টির মাধ্যমে  দান ফিরত নিতে পারবে। 

সুত্রঃ বুখারী শরীফ। মুসলিম শরীফ, তিরমিজি শরীফ । আল মাফাতিহ পৃষ্ঠা২৩৯ । 


   

3317 views

Related Questions