1 Answers
আপনি যখন কোন চাকরীর জন্য আবেদন করবেন ঠিক সেই সময় থেকে শুরু করে চাকরীতে যোগদান পর্যন্ত পুরোটাই একটি চলমান প্রক্রিয়া। ১০টি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সবগুল ধাপ। ১। আবেদনপত্র আহ্বান আবেদনপত্র-ই কোনো প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ। সাধারণত প্রতিষ্ঠান তার চাহিদা মোতাবেক বিভিন্ন মাধ্যমে আবেদন পত্রের আহবান জানায়। সেই বিজ্ঞপ্তি থেকে আপনি কোন প্রতিষ্ঠানে যেতে ইচ্ছুক তা বেছে নিয়ে আবেদন পত্র জমা দিতে হবে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অনলাইন ভিত্তিক, ইমেইল বা চিঠির মাধ্যমে আবেদন পত্র জমা দেয়ার ব্যবস্থা রাখে। এছাড়াও, প্রতিষ্ঠান আবেদনের প্রতি ধাপে ধাপে আবেদনের নির্দেশক দিয়ে থাকে যে, কোনো মাধ্যমগুলোতে কীভাবে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। ২। আবেদনপত্র বাছাই প্রক্রিয়া আপনি যখন আবেদন করবেন তখন উক্ত প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ প্রক্রিয়ার আওতায় চলে আসবেন। প্রতিষ্ঠানের নিকট নির্দিষ্ট সময়ে আবেদনপত্র জমা পড়লে নিয়োগ কমিটি তা যাচাই-বাছাই শুরু করে। কমিটি প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত শর্তকে মানদণ্ড হিসেবে নিয়ে আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই করতে থাকে। তারা যাচাই করে যে, আবেদনকারী পরবর্তী ধাপে যাওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন কি না। ৩। প্রার্থীদের মেধা যাচাই মেধা যাচাই প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠান চাকরী প্রার্থীদের বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় মেধা যাচাই করে থাকে। আবেদনপত্রের বাছাইকৃত প্রার্থীরাই এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারেন। প্রতিষ্ঠান সাধারণত কাজের ধরণ অনুসারে প্রার্থীদের মেধা যাচাই করে থাকে। যেমন ধরুন কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ কর্মী নিয়োগে কম্পিউটার সম্পর্কিত প্রশ্নে মেধা যাচাই হয়ে থাকে। আবার হিসাব রক্ষক কর্মীর জন্য হিসাব সম্পর্কিত জ্ঞানে মেধা যাচাই হয়ে থাকে। ৪। সাক্ষাতকার পর্ব প্রার্থী বাছাই এর ক্ষেত্রে সাক্ষাতকার পর্ব হল নিয়োগ প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ। নিয়োগ প্রক্রিয়ার এই ধাপে প্রতিষ্ঠান তাদের প্রত্যাশিত প্রার্থীকে সরাসরি মুখোমুখি হয়ে যাচাই-বাছাই এর সুযোগ পায়। সাধারণত, সাক্ষাতকার পর্বের জন্য প্রতিষ্ঠান কয়েকজন সদস্যের কমিটি গঠন করে। তারা প্রত্যক্ষভাবে প্রার্থীদের ব্যক্তিত্ব, ধ্যান-ধারণা ও মানসিক ও শারিরিক সক্ষমতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা লাভ করে। যা একজন সঠিক প্রার্থী বাছাই এর জন্য সবচেয়ে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। ৫। স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রতিষ্ঠান যখন কোনো একজন কর্মীকে দীর্ঘ সময়ের জন্য নিয়োগ দিতে চায় তখন সেই আবেদনকারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরী হয়ে পড়ে। কারণ দীর্ঘ মেয়াদে সেবা পেতে হলে সুস্থ সবল থাকা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে আবেদনকারীর শারীরিক পরীক্ষা করতে পারে। প্রার্থী দুরারোগ্য কোনো ব্যাধিতে আক্রান্ত কিনা কিংবা মাদকাসক্ত কিনা ইত্যাদি নিরিক্ষণের জন্য স্বাস্থ্য প্রক্রিয়া চলে। এটি প্রতিষ্ঠানের অন্যসব প্রক্রিয়ার মত একটি অন্যতম আনুষ্ঠানিক ধাপ। ৬। পরিচয় নিরীক্ষণ পর্ব প্রার্থী বাছাই এর ক্ষেত্রে আবেদনকারীর পরিচয় যাচাই চলমান প্রক্রিয়ারই একটি অংশ। আবেদনকারী তার আবেদনপত্রে যে পরিচয় প্রদান করে তা মূলত পুরোপুরি গ্রহনযোগ্য হয় না যতক্ষণ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান সরাসরি কোনো মাধ্যমের দ্বারা তার সঠিক পরিচয়ের সত্যতা পায়। তাই প্রতিষ্ঠানের বাছাইকৃত প্রার্থীকে নিয়োগের আগে তারা প্রার্থীর পরিচয় প্রতক্ষ্যভাবে অনুসন্ধান করে। ৭। আর্থিক অবস্থা বিবরণী পর্যালোচনা প্রতিষ্ঠান তার বাছাইকৃত প্রার্থী নিয়োগের আগে তার আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে অনুসন্ধান চালায়। যাতে করে প্রতিষ্ঠান সেই কর্মী দ্বারা কখনই ক্ষতির মুখে না পড়ে। এছাড়াও প্রতিষ্ঠান তার সামাজিক অবস্থান সম্পর্কেও ভালো ধারণা রাখার চেষ্টা করে। তাই প্রতিষ্ঠান তার পারিবারিক পরিচয়, স্থায়ী ঠিকানা ইত্যাদি সম্পর্কে ভালো ভাবে অনুসন্ধান চালায় এবং তা সংরক্ষণ করে। এছাড়া, তার অর্থ সঞ্চয় বা ঋণের সম্পর্কেও তথ্য নিয়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ৮। প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই আবেদনপত্রের শর্ত অনুযায়ী প্রার্থী তার শিক্ষাগত যোগ্যতা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা পূর্ব কাজের অভিজ্ঞতা প্রদান করে থাকে। প্রার্থীর এই যোগ্যতাগুলো যথাযথ প্রতিষ্ঠান অনুমোদন দিয়ে থাকে। প্রার্থী বাছাই এর জন্য সে প্রতিষ্ঠান প্রার্থীর এই প্রাসঙ্গিক তথ্যগুলোর সঠিক পরীক্ষা করে। যাতে প্রার্থী নিয়োগ স্বচ্ছ ও এতে কোনো ভুল-ত্রুটি না থাকে। ৯। চাকরী প্রস্তাবনা এতসব চলমান প্রক্রিয়ায় প্রার্থী নিয়োগের যাচাই-বাছাই শেষে প্রতিষ্ঠান তার যোগ্য প্রার্থীকে বাছাই করে নেয়। প্রতিষ্ঠান তার বাছাই করা প্রার্থীকে চাকরীর প্রস্তাব প্রদান করে। এরপরই প্রার্থী তা গ্রহণ করার আগে প্রতিষ্ঠানের সাথে তার আয় সম্পর্কিত আলাপ-আলোচনা সেরে ফেলে। এছাড়াও সে অন্যান্য সুযোগ সুবিধা সম্পর্কে আলোচনা করে নেয়। প্রতিষ্ঠান এবং প্রার্থীর মাঝে এসব বিষয়ে যদি আপোষ হয়ে যায় তবে প্রার্থী চাকরীর প্রস্তাব গ্রহণ করে। আর তা না হলে অর্থাৎ প্রতিষ্ঠান প্রার্থীর চাহিদা পূরণ করতে না পারলে সে প্রার্থী চাকরীর প্রস্তাবকে ফিরিয়ে দিতে পারবেন। ১০। নিয়োগ প্রজ্ঞাপন নিয়োগ প্রক্রিয়ার সর্বশেষ প্রক্রিয়াটি হল নিয়োগ প্রজ্ঞাপন। প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ কমিটি সকল প্রকার যাচাই-বাছাই শেষে প্রতিষ্ঠানের কাছে তাদের প্রার্থীর নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে। প্রতিষ্ঠানের পরিচালক কমিটি সেই সুপারিশকে নিয়োগের জন্য অনুমতি দেয়। বাছাই করা প্রার্থী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চাকরীতে যোগদানের আনুসাঙ্গিক কাগজ-পত্র পেয়ে থাকে। আনুষ্ঠানিকভাবে সেই প্রার্থী কাগজ-পত্র পূরণ করে জমা দেয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মী হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy