1 Answers

চূড়ান্ত (অ্যাকিউট) হেপাটাইটিস বি চূড়ান্ত সংক্রমণে, সহায়ক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয় যাতে রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্য পূর্বাবস্থায় ফিরে আসে। সাধারণত কোনও ওষুধের পরামর্শ দেওয়া হয় না। পর্যাপ্ত পুষ্টির ভারসাম্য, শরীরের জলে অভাব না ঘটতে দেওয়া, এবং বিশ্রামের পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা।     দীর্ঘস্থায়ী হেপাটাইটিস বি কোনও দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ সাধারণত টেনোফভির বা এন্টেক্যাভির জাতীয় অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ খেতে দেওয়া হয়। চিকিৎসার মূল উদ্দেশ্য থাকে সিরোসিসের আক্রমণের ধার এবং যকৃতের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দেওয়া। নিজের প্রতিরূপ সৃষ্টি করে ভাইরাসের বৃদ্ধি রদ করাই চিকিৎসার উদ্দেশ্য। চিকিৎসায় আরোগ্যলাভ সম্ভব নয়। কাজেই, অধিকাংশ রোগীকে জীবনভর চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হয়। জীবনশৈলী ব্যবস্থাপনা (লাইফস্টাইল ম্যানেজমেন্ট) জীবনশৈলীর একাধিক পরিবর্তনের সাহায্যে রোগীরা হেপাটাইটিস বি সংক্রমণ কার্যকরীভাবে মোকাবিলা করতে পারেন। এখানে তারই কয়েকটি উল্লেখ করা হল: ইতিমধ্যে যকৃত যদি HBV সংক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে তাহলে মদ্যপান এবং ধূমপান থেকে বিরত থাকুন। যদি আপনি কোনও ভেষজ চিকিৎসা শুরু করতে চান বা ভাইটামিনের ঘাটতি পূরণে উদ্যোগী হন তাহলে তার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, কারণ এই ধরনের বিকল্প চিকিৎসা রীতিমত যকৃতের ক্ষতি করতে পারে বা এমনকি যে সব ওষুধ গ্রহণ করছেন তাতে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সরাসরি ওষুধের দোকান থেকে কোনও ওষুধ (যেমন প্যারাসিটামল) কিনবেন না, কারণ এই ধরনের একাধিক ওষুধ যকৃতে প্রক্রিয়া করে এবং যকৃতের ক্ষতিও করতে পারে। কাঁচা, ভালভাবে রান্না না করা শেলফিশ যেমন স্ক্যালপ, মাসেল, বা ক্ল্যাম (শামুক, ঝিনুকজাতীয় প্রাণী) না খাওয়াই উচিত কারণ সেগুলিতে ভিব্রিও ভালনিফিকাস জাতীয় প্রাণীদের সাহায্যে ব্যাকটিরিয়া সংক্রমণ হয়ে থাকে, যা যকৃতের পক্ষে বিষাক্ত। রঙ করার থিনারের কড়া গন্ধ, বাড়ির তৈজসপত্র পরিষ্কার করার বা নেলপলিশ তুলে ফেলবার রাসায়নিকের গন্ধ যেন নাকে না যায়, তারা বিশেষভাবে বিষাক্ত। প্রচুর পরিমাণে সবজি, ফল, শস্যদানা যেন খাদ্যতালিকায় থাকে। বাঁধাকপি, ব্রকোলি, এবং ফুলকপি যকৃতে প্রতিশেধকের কাজ করে। বাদাম, ভূট্টা, চিনাবাদাম, জোয়ার এবং বাজরা ব্যবহারের আগে দেখে নিন তাতে ছাতা পড়েছে কিনা। ছাতা পড়ে থাকলে বুঝতে হবে তাতে ‘‘অ্যাফ্লাটক্সিন’’-এর উপস্থিতি আছে, যা যকৃতের পক্ষে ক্ষতিকর। নিয়মিত ব্যায়াম করুন। রোগের তীব্রতা অনুসারে প্রোটিন, ফ্লুইড এবং লবণ গ্রহণ এমন মাত্রায় নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে যাতে তারা যকৃতের প্রদাহ আরও বাড়িয়ে না দেয়। 

4732 views